সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

বেফাক-হাইয়ার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ফেসবুক তোলপাড় | নেটিজনরা যা বলছেন!

বেফাক-হাইয়ার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ফেসবুক তোলপাড় | নেটিজনরা যা বলছেন!

নিজেস্ব প্রতিবেদক: তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম । 

কওমী মাদরাসা সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড বেফাক ও হাইয়ার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। বেফাকের দুইর্নীতিবাজ কর্মচারী ও দ্বায়িত্বশীলদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান কওমীর ছাত্র- শিক্ষকরা। তারা বলছেন সরকারী আইন পাশের পর স্বীকৃতি প্রাপ্ত হাওয়ার পরপরই এমন পদস্খলন গোটা কওমী অঙ্গনকে লজ্জিত করছে। সরকারি নজরদারীর হয়তো এর ফলে আগামীতে কওমী মাদ্রাসায় আরো কঠোরা হতে পারে।

 

 

মোঃ রাকিব আহমদ নামে একজন কওমী অনলাইন এক্টিভিস্ট লিখেছেন, খুব বড় গলায় বলতো, বেফাক/হাইআর প্রশ্ন ফাঁস হয় না!!  আমি বলে ছিলাম যে সনদের সরকারী স্বীকৃতি নেই তার আবার প্রশ্ন ফাঁস।  তবে মজার বিষয় এখন স্বীকৃতিও হয়েছে প্রশ্ন ফাঁসও হচ্ছে।

 

মুফতী আবু তাসনিম নামে একজন ফেসবুক ইউজার লিখেছেন, “ক্বওমি মাদরাসার জন্য সত্যিই অশনিসংকেত।  প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা; তাও ‘হাইয়্যা’র!  কথাটা শুনে আজিব লাগলো বড্ড! বেলা এগারোটার দিকে ‘দাওরা’র কয়েজন ছাত্র  আমাকে বিষয়টা অবহিত করেছে। সেই সঙ্গে ফাঁস হয়ে যাওয়া আগামিকালের ‘বুখারি’-১-এর প্রশ্নের নমুনা দেখিয়েছে! এটাও শোনলাম, ‘হাইয়্যা’ কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামিকাল থেকে হতে যাওয়া সবগুলো বিষয়ের প্রশ্ন পরিবর্তন এনেছেন।  কিন্তু শুভঙ্করের ফাঁক কি বন্ধ করা হয়েছে? যে এই কাজটা করলো তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে কি?

তদন্ত করে তার বিচারের ব্যবস্থা করা হবে কি?

 

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নামে একজন ফেসবুকার লিখেছেন,অবশেষে কওমি শিক্ষাব্যাবস্থাও কলঙ্কিত। প্রশ্ন ফাঁসের হাত থেকে রক্ষা পেলোনা হায় হাইয়্যা ও বেফাক।

 

এনামুল হক লিখেছেন, “কিছু বিষয়ে কখনো আপোস চলে না। যদি সব বিষয়ে আপোস করতে শুরু করেন তবে তৈরি থাকেন, একদিন আফসোস করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার এই মহান কেন্দ্রে যদি সততা, স্বচ্ছতা, আমানতদারিতা, পেশাদারিত্ব এবং সময়োপযোগিতা না থাকে, তাহলে মানুষ এসব শিখতে আর কোথায় যাবে? সকল মানবিক গুণের আধার আমাদের মাদরাসাগুলো। কতিপয় সুযোগসন্ধানী এবং দুর্নীতিপরায়ণ মানুষের লোভের কাছে এই মহান শিক্ষাধারা কলুষিত হোক—আমরা সেটা কখনোই চাই না।

 

সিলেবাস সংস্কারের আগে বেফাক-হাইয়া সংস্কার করুন!

 

লেখক সালাউদ্দীন জাহাঙ্গীর তার ফেসবুকে লিখেছেন, “মনের মধ্যে অনেকদিন ধরে কথাটা ঘুর ঘুর করছিল, বলার ইচ্ছা হচ্ছিল না। আজকে ভাবলাম, কথাটা বলেই ফেলি— কোনো মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল হয়ে বা দায়িত্বশীল শিক্ষক হয়ে সেই একই ব্যক্তি কীভাবে একটি শিক্ষাবোর্ডের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হন—এই জিনিসটা আমার বুঝে আসে না। একজন দুজন হলে সেটা অলংকারিক পদ হিসেবে থাকতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক প্রায় সকল পদে বিভিন্ন মাদরাসার দায়িত্বশীল শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি একটা হাস্যকর এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কেন? সেটা আপনারা ইতোমধ্যে নিশ্চয় অবগত হয়েছেন। বলছি, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক আর হাইয়ার কথা। বেফাকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে বিগত বছরখানেক আগে বেফাকের ভেতরে দুর্নীতির যে ধারার কথা শুনেছিলাম, মুরব্বিদের সম্ভ্রমের ভয়ে এবং আকাবিরের সম্মানহানির লজ্জায় সেগুলো কারো কাছে বলতেও পারিনি।

আজ দেখেন, সেই বিষবৃক্ষের ফল সারা দুনিয়ার সামনে চলে এসেছে। দুনিয়ার মানুষ কথা বলছে বেফাক আর হাইয়ার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে।

 

কবি ও উপন্যাসিক সাইমুম সাদী লিখেছেন, “জানতে পারলাম প্রশ্ন ফাঁসের কারণে বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এই নিউজটি লজ্জার।

এই নিউজটি অপমানের।

এই নিউজটি মাথা হেট হয়ে যাওয়ার।

যিনি বা যারা এই কাজ করেছেন তিনি বা তারা যত জলিলুল কদর  হোন তাদেরকে চিহ্নিত করা হোক।

কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা কখনও নকলবাজীতে অভ্যস্ত না বা এমন চিন্তাও করেনা। এটাই চলে আসছে দিনের পর দিন। যুগের পর যুগ ধরে।

তাহলে এই কুকর্ম করতে গেলেন যিনি তিনি বেফাকের বা হাইয়ার কোন পর্যায়ের আকাবির! একটু জানা দরকার৷ আমাদেরকে এভাবে নিচে নামিয়ে দেওয়ার অধিকার  তার নেই।

এই ঘটনার পক্ষপাতিত্ব মুক্ত তদন্ত চাই। বেফাক ও হাইয়াকে ইঁদুর মুক্ত দেখতে চাই।

 

কওমী মাদরাসায় অধ্যয়ণ করা ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মঈনুল ইসলাম তুহিন তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, বেফাক তথা আল হাইয়াতুল উলইয়া তথা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে, দেখলাম। অভিযোগটি গুরুতর। আসুন, অভিযোগটিরে পড়া যাক।

 

আমি বলছিলাম, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকাঠামোর আওতায় আইসা মাদ্রাসাগুলিতে পলিটিকাল করাপশনের ঘটনা ঘটতেছে। স্টেট স্পন্সরড অপরাধ ও করাপশনগুলি মাদ্রাসা শিক্ষায় অনুপ্রবেশ করতেছে। যার সর্বসাম্প্রতিক ও একদম নয়া উদাহরণ এই প্রশ্নফাঁস।

বেফাক পরীক্ষা আমিও দিয়েছি। এর আগে, কখনোই আমরা বেফাক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন অভিযোগ শুনি নাই।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com