মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব আমীর সাদ কান্ধলভীর সাথে সাক্ষাৎ করে অনুভূতি জানালেন মুফতি ইজহার

বিশ্ব আমীর সাদ কান্ধলভীর সাথে সাক্ষাৎ করে অনুভূতি জানালেন মুফতি ইজহার

আজ ২২শে এপ্রিল ২০১৯ তারিখে নিযামুদ্দিন মার্কাযে বিশ্ব আমীর আল্লামা সাদ কান্ধলভীর সাথে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের মুফতিয়ে আযম মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। সকাল ১০টায় মুফতি ইজহার মার্কাজের নিয়মিত মাশোয়ারায় উপস্থিত হলে শাইখুল হাদিস আল্লামা সাদ কান্ধলভী তাঁকে ডানপাশে বসান। মাশোয়ারার শেষে প্রায় ঘন্টাখানিক উভয় হযরত মিলে উম্মতের চলমান হালত নিয়ে ভাবগম্ভীর আলোচনা করেন।

এর আগে গত ২০ তারিখ বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব মার্কাজ নিযামুদ্দীনে পৌঁছেন মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী।তার আগমনে নিযামুদ্দীন মার্কাজসহ পুরো হিন্দুস্তানে সাজসাজ রব পড়ে যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন একজন শীর্ষ আলেমের নিযামুদ্দীন আগমনকে বাংলাদেশের তাবলীগী সঙ্কট সমাধানের জন্য আশাব্যঞ্জক ও মাইলফলক হিসেবে দেখছেন দায়ী ও মুবাল্লিগগণ।

আজ মজলিসের শুরুতে আল্লামা সাদ কান্ধলভীর হাতে নিজ হাতে লেখা চিঠি ও অভিব্যক্তি তুলে দেন মুফতি ইজহার। তখন তিনি মুজাদ্দিদে মিল্লাত মুফতিয়ে আযম হযরত ফয়যুল্লাহ রহ. এর লিখিত এক সেট কিতাবও হাদিয়া পেশ করেন। এসময় মজলিসে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব আমীর আল্লামা সাদ কান্ধলভীর সুযোগ্য দ্বিতীয় পুত্র মাওলানা সাঈদ কান্ধলভী, মাওলানা মু’আয বিন নূর ও হাজ্বী বশির আহমদ শিকদার।

মজলিস শেষে মাওলানা মু’আয বিন নূরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “মুফতি সাহেব আরো কয়েকদিন দিল্লিতে অবস্থান করে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, ইনশাআল্লাহ। সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার আগে কৌশলগত কারণে আমরা বিস্তারিত কারগুজারী পেশ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করছি। দেশে ফিরে তারপর বিস্তারিত জানানো হবে, ইনশাআল্লাহ।” তবে তিনি মুফতি ইজহারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সম্বলিত বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামের সমীপে খোলা চিঠি নামে একটি বার্তা পাঠান। যা হুবহু পাঠকের খেদমতে তুলে ধরা হলোঃ

★★★★★★★★★★★★★★

الحمد لله و سلام علي عباده الذين اصطفي

أما بعد

فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم – بسم الله الرحمن الرحيم – و ذكر فإن الذكري تنفع المؤمنين

হযরতে ওলামায়ে কেরাম, বাংলাদেশ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

বা’দ সালামে মাসনূন

আপনাদের খেদমতে আমি অধম মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম আফাল্লাহু আনহুর সবিনয় আরজ হচ্ছে এই যে, প্রায় একশত বৎসর পূর্বে আমি অধমের পিতার সৌভাগ্যে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর গোলামী নছীব হওয়ার কারণে মহান আল্লাহ এই অধমকে দ্বীনের পথে আসার তাওফীক দান করেছেন। তালীম ও বৈবাহিকসূত্রে আমাকে আব্বাজান শৈশব ও যৌবনে মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ. এর খেদমতে সোপর্দ করেছেন। হযরত মরহুমের অতিমূল্যবান শেষ ১০ বৎসরের দিবারাত্রির সান্নিধ্যে থাকার মত মহা নেয়ামত আল্লাহ দান করেছেন। রক্তের বন্ধনের অতি আদরের কলিজার টুকরা নাতিনী জামাই হওয়ার সুবাদে ঐ মহান মুজাদ্দিদের তরজুমান হিসেবে কাজ করেছি ১০ বৎসর। তাঁর বয়ান লিখেছি প্রায় ১৬ বৎসর। ফয়জুল কালাম সহ হযরত মারহুমের প্রায় সকল কিতাবের অনুবাদ ও শারাহ করেছি।

কর্ম জীবনে লালখান বাজার মাদরাসার প্রতিষ্ঠা ও হাকিমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর রাজনৈতিক আমানতের বাহক হিসাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলামের খেদমত করেছি প্রায় ২৫ বৎসর। রাজনীতির এই ২৫ বৎসর ছাড়া ৭৫ বৎসর বয়সের অবশিষ্ট ৫৫ বৎসরের মধ্যে শৈশবের ১০ বৎসর বাদ দিলে আমার জীবনের প্রায় ৪৫ বৎসর সময় কেটেছে তাবলীগের মুবারক মেহনতের সঙ্গে। ১০ বৎসর বয়সে প্রথম চিল্লা দিয়েছি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তারপর ২০ বৎসর বয়সে দাওরায়ে হাদিস পড়া পর্যন্ত প্রতি রমজানে চিল্লা দিয়েছি কাকরাইলের মাশোয়ারাক্রমে। ১৯৬৭ সালে সালের সময় দিয়েছি লাহোরের রায়বেন্ডে। অতপর তালীম, তাদরীস, তাসনীফ-তালীফ, ফতওয়া, ফরায়েজ ও ওয়াজ নসীহতের ফাঁকে ফাঁকে সদা লাভলেইন ও কাকরাইলে জুড়ে ছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ।

বর্তমানে অতীব দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই যে, তাবলীগের বর্তমান আমীর হযরত মাওলানা সা’আদ সাহেব সম্পর্কে বাংলাদেশে যে তুফান চলছে, তাতে আমি আপনাদের সাথে একমত হয়ে হযরত মাওলানা সা’আদ সাহেবের ব্যপারে কটুক্তি করা ও তাকে গোমরাহ বলতে সক্ষম হইনি।

হযরত মুফতি ফয়যুল্লাহ রহ. এর সোপর্দ করা আমানত রক্ষার্থে বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে জানার চেষ্টা করেছি। উভয় পক্ষের বিস্তারিত কথা শুনেছি। উভয়পক্ষের কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি।

টঙ্গীর উভয়পক্ষের ইজতেমা পর্যন্ত আদব রক্ষা করে চলেছি। এরপর মহান আল্লাহ আমাকে স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত খিজির আলাইহিস সালামের জিয়ারত নসীব করেছেন। তার ৩দিন পর কোন আকার ছাড়া মহান আল্লাহর দিদার নসীব হয় যে, মাওলানা সা’আদ সাহেব হকের উপর আছেন। এই সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়ে আমি টঙ্গীর দুই ইজতেমাতেই শরীক হয়েছি। দ্বিতীয় ইজতেমায় নিজামুদ্দিনের ৬জন মুফতি ও মুহাদ্দিসগণের সাথে আলাদাভাবে আলোচনা করে জেনেছি, দারুল উলূম দেওবন্দের কাছে হযরত মাওলানা সা’আদ সাহেব নিজামুদ্দিনের কয়েকজন বড় বড় আলেমের প্রতিনিধিত্বে অতিবিনয়ের সহিত ৬বার রুজুনামা পাঠিয়েছেন। যা শুনে আমি পরিপূর্ণ আশ্বস্ত হয়েছি।

এরপর আমি অধম তাঁদের মাধ্যমে আমার একটি ক্ষুদ্র পত্র মুহতারাম মাওলানা সা’আদ সাহেবের নিকট পাঠিয়েছি।

অতপর স্বয়ং নিজামুদ্দিন মার্কাজে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে ও কথা বলতে সংকল্প করি। সেই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০শে এপ্রিল ২০১৯ সকাল ১১টায় দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজে পৌঁছেছি। ঐদিন মুহতারাম মাওলানা সা’আদ সাহেব সাহারানপুর ছিলেন। পরদিন রবিবার সকাল ও বিকালে ২বার সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত ও কথা হওয়ার পর আজ ২২শে এপ্রিল ২০১৯ রোজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রায় ঘন্টাব্যাপী তাঁর সঙ্গে তাবলীগের যাবতীয় বিষয়ে দীর্ঘ আলাপ হয়েছে।

দারুল উলূম দেওবন্দ (ক্বাদীম) তাঁর যাবতীয় ভুলের ব্যপারে যতবার মন্তব্য করেছেন তাঁর প্রত্যেকটি বিষয়ে তিনি মোট ৬বার রুজুনামা পাঠিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ঐ ৬ বারের রুজুনামার মধ্যে ৪টি রুজুনামায় তিনি অতি বিনয়ের সঙ্গে লিখিত আকারে বিস্তারিত ‘রুজু’ উল্লেখ করেছেন। বাকী ২টির প্রথমটি ভুপালের ইজতেমায় কয়েক লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে রুজুর কথা স্বীকার করেছেন এবং সর্বশেষ বাংলাদেশের কাকরাইলে ১২ই জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে অবরুদ্ধ থাকাবস্থায় বাদ জুমা প্রায় ২০সহস্রাধিক মানুষের সামনে সুস্পষ্ট ভাষায় রুজু করেছেন।

এইসব কথা হযরতজ্বী ও তাঁর সাথীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ হওয়ার পর আমি অধম হিন্দুস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সকল শীর্ষ আলেমগণের খেদমতে বড় বড় উলামায়ে কেরামের একটি প্রতিনিধি জামাত নিয়ে হাজির হওয়ার পরামর্শ চাইলে তিনি আমাকে অতি উৎসাহ ও গুরুত্বের সহিত সম্মতি দিয়েছেন।

সেই মতে আমি দিল্লি থেকে আগামী সপ্তাহে পবিত্র মক্কা-মদিনায় গিয়ে উপমহাদেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ জানালে তিনি খুবই খুশি প্রকাশ করেন এবং কামিয়াবির জন্য দোয়া করে দেন।পাশাপাশি অনুরোধ করেন, যেন উলামায়ে কেরামের নিকট তাঁর বর্তমান অবস্থান ও নিজামুদ্দিন মার্কাজের বিস্তারিত কারগুজারী পেশ করি। আমি অধমের মাধ্যমে তিনি আপনাদের সকলের দোয়া ও পরামর্শ চেয়েছেন। পবিত্র মক্কা-মদিনায় যাওয়ার পূর্বে চলমান সপ্তাহে ভারতের বড় বড় কয়েকজন মুরুব্বির সাথে সাক্ষাতেরও প্রোগ্রাম হয়েছে। অতপর আবার দিল্লি হয়ে বাংলাদেশে পবিত্র রমজানে মাদ্রাসার দাখেলা শেষ করে আমার ও আপনাদের সকল মুরুব্বিগণের খেদমতে হাজির হওয়ার নিয়ত করেছি।

মহান আল্লাহ এই সকল ভুল বুঝাবুঝি নিরসন করে আমাদের সবাইকে আবার ঐক্যবদ্ধ দ্বীন ও ঈমানের মেহনত করার তাওফীক দান করুন।

ইতি

অধম মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী

★★★★★★★★★★★★★★

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!