মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

একজন মুমিনের ইফতারের মুহুর্ত কেমন হওয়া চাই

একজন মুমিনের ইফতারের মুহুর্ত কেমন হওয়া চাই

পুরা রমজান মাস দোয়া কবুলের সময়। এজন্য আমাদের যত জরুরত  আছে সেগুলো বেশি করে আল্লাহ পাকের নিকট চাওয়া।

আল্লাহপাক  চান তো আমরা সেই বিষয় গুলো পেয়ে  যাব যেগুলো আমাদের জরুরত।  আর যদি নাও পাই তাহলে তো , সেই চাওয়াটা আমাদের আখেরাতের জন্য থেকে যাবে। আখেরাতে আমরা সেটা পেয়েই যাব ইনশাআল্লাহ।

হাদিসে পাকে এসেছে, বান্দা যদি দোয়া করে, হয়তো সে নগদ সেটা পেয়ে যায়,  যা সে চাইলো। হতে পারে সেটা কিছুটা বিলম্বে হবে। আর দুনিয়াতে সেই জিনিসটা যদি না পায়, যে জিনিসটা সে চাইছে ।  তাহলে সে আখেরাতে এর বিনিময়ে পেয়েই যাবে। পরকালে বান্দা এ জন্য তখন আফসোস করতে থাকবে যে,  আমার দুনিয়াতে যদি কোন দোয়াই কবুল না হইত। কবুল না হলে বেশি সুন্দর হইত।আখেরাতে ব্যাপক প্রতিধান দেখে,বান্দা এটা কামনা করবে। যাই হোক আমাদের বেশি করে দোয়া করা উচিত।

ইফতারের আগ মুহূর্তে দোয়া কবুল হওয়ার আরো বেশি সূর্বণ সুযোগ।  কিন্তু আফসোসের বিষয় আমরা অধিকাংশ মুসলমান ইফতারের আগ মুহূর্তে  ইফতারী তৈরিতে খুব বেশি মগ্ন হয়ে যাই। অনেক বেশি আইটেম তৈরি করা হয়।

মুমিনের আসল জীবন তো  আখেরাতের জীবন। এজন্য যে কামেল মোমেন তার শান হচ্ছে, সে কি দিয়ে ইফতার করবে? ভাল ভাল  আইটেম থাকতে হবে, এগুলো তার মাথায় থাকে না।

ইফতারের সময় যখন ঘনিয়ে আসে তখন সে বেশী বেশী তওবা ইস্তেগফার করতে থাকে। সে চিন্তা করে, সারাটা দিন যেভাবে রোজা রাখা উচিত ছিল, সেভাবে তো আমি পারি নাই। আল্লাহতালার নিকট তখন সে মনে মনে মাফ চাইতে থাকে, অব্যাহতভাবে মাফ চাওয়া চলতেই থাকে।

তখন সে বেশি বেশি করে আল্লাহ পাকের নিকট চাইতে থাকে, দোয়া করে থাকে। যেহেতু এটা দোয়া কবুলের সময়। ইফতার কোন আল্লাহ ওয়ালার সামনে যখন পেশ করা হয়, সে তখন খুশীতে বাগবাগ হতে থাকে। সে ভাবে, আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আমার নিকট এগুলো পাঠানো হয়েছে। এজন্য সে খুব খুশি মনে সাদামাটা যা পায় তাই সে খাওয়া শুরু করে ইফতারের সময়। আল্লাহ পাক পাঠিয়েছেন কত বড় বিষয়।

যখন সে খাবার খাচ্ছে, ইফতার করছে, সারাদিন অনাহারে থাকার পর তখনও সে আল্লাহপাকের ধ্যান খেয়ালে মগ্ন থাকে এবং  খাবারের ফাঁকে ফাঁকে আল্লাহ পাকের নিকট বিভিন্ন বিষয় চাইতে থাকে।

যত জরুরত আছে, হতে পারে নিজস্ব কোন বিষয় চাচ্ছে অথবা উম্মতের জন্য যে সকল বিষয় কল্যাণকর সেগুলো  সে চাচ্ছে। উম্মতের মধ্যে যে সকল পেরেশানী চলতেছে, সেগুলো থেকে আল্লাহ পাকের নিকট আশ্রয় চাচ্ছে। মোটকথা  সে ইফতারও করছে , দোয়াও করছে।

আল্লাহ পাক জাল্লা জালালুহু বান্দার এ আমল খুব বেশি পছন্দ করেন। আল্লাহ পাক দেখেন, সব মানুষ যখন  ইফতার খাওয়ার ভিতরে মগ্ন আছে।

মানুষ ইফতারের বিভিন্ন আইটেমের স্বাদ  চুষছে, মজা লুটছে খাবারের, এই সময় আমার এই বান্দা আমাকে ভুলে নাই। এই মজার খাবার পেয়েও সে আমাকে ভুলে নাই। এখনো সে আমাকে স্মরণ করছে, আমার নিকট সে বিভিন্ন  বিষয় চাইছে। আল্লাহ পাকের নিকট বান্দার এ আমল খুব বেশি প্রিয়।

যাহোক  ইফতারের আগ মূহুর্ত থেকে দোয়া করতে থাকা, এস্তেগফার করতে থাকা।
ইফতার যখন করতে থাকব তখনও আল্লাহ পাকের নিকট দোয়া করতে থাকা, নিজের জরুরত, উম্মতের বিভিন্ন জরুরত, এগুলো নিয়ে দোয়া করতে থাকা। এর দ্বারা আল্লাহ পাকের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় হবে,  আমল নামায় অনেক বেশি নেকি জমা হবে এবং আল্লাহ পাকের নৈকট্য আরো অনেক বেশি অর্জন হবে ইনশাআল্লাহ্।

আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রত্যেককে আমল করার জন্য তাওফিক দান করুন। গুনাহমুক্ত যিন্দেগী আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে খুব নসীব করেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!