রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১০:০৬ অপরাহ্ন

তবুও কেন ফিরে যাই পাপ পঙ্কিলতায়

তবুও কেন ফিরে যাই পাপ পঙ্কিলতায়

মাওলানা নিজামুদ্দিন মিসবাহ: তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম 

সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে আমরা যে তাকওয়া অর্জন করি অন্তত বছরের অবশিষ্ট এগারোটি মাস আমরা মুখ আর লজ্জাস্থানের হেফাজত করে জিন্দেগী পরিচালনার কথা। কিন্তু অধিকাংশের বেলায় চিত্রটি প্রায় বিপরীত।  যে ব্যক্তি সালাত আদায়ে অনিয়মিত ছিলো, রামাদ্বান মাসে সে সালাতে নিয়মিত। কিন্তু পরে আবার অনিয়মিত হয়ে পড়ে। যে ব্যক্তিটি এ মাসে প্রতিদিন কুরআান তিলাওয়াত,  নফল নামাজ, তাসবীহ পাঠ ইত্যাদি নিয়মিত আদায় করলো, বছরের অন্যান্য সময়ে তাকে আর মসজিদের ত্রিসীমায় দেখা যায়না। তার কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত নেই, তার জিহ্বা তাসবীহ পাঠে নিমগ্ন নয়।

তাহলে সিয়াম সাধনার সব শিক্ষা কি রমাদ্বান মাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

রামাদ্বান শেষ, তাকওয়াও শেষ?

অনেকগুলো কারণে আমরা রামাদ্বানের শিক্ষাগুলো পরবর্তী সময়ে নিয়মিত কাজে লাগাতে পারিনা।

শয়তানের প্রতারণা, নফসের ধোঁকাবাজি এসবের পাশাপাশি সবচে বড় কারণটি হলো আমাদের পাপ পঙ্কলতাপূর্ণ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ। এই পরিবেশের প্রভাব মানব জীবনে এতোটাই প্রবল যে, এর প্রভাবে অনেক ভালো লোকও বিগড়ে যেতে সময় লাগেনা। অথচ সমাজটা যদি তাকওয়ার আদলে গঠিত হতো, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা যদি তাকওয়া ভিত্তিক হতো, চিত্রটা হতো একেবারেই বিপরীত।  দেখা যেতো, একজন সাধারণ মানুষও তাকওয়া অর্জনে হয়ে উঠতো অসাধারণ।  এখনকার সামাজিক পরিস্থিতিতে একজন মানুষ তাকওয়ার উপর চলতে তাকে সংগ্রাম করতে হয় প্রতিনিয়ত। এ সংগ্রামে ঠিকে থাকা, জয়ী হওয়া সহজ কাজ নয়। যাদের উপর আল্লাহ তায়ালা রহম করেন খাসভাবে, এবং যে ব্যক্তি খোদাভীতির ব্যাপারে শক্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, এবং এই প্রতিশ্রুতি পালনে সদা সতর্ক থাকেন, কেবলমাত্র এমন মানুষগুলোর পক্ষেই সম্ভব হয় তাকওয়ার উপর অবিচল থাকা।

 

শুধুমাত্র খাবার ও স্ত্রী সহবাস ত্যাগের নামই রোজা নয়।।

আল্লহর রাসূল সা্ এর ইরশাদ রয়েছে, অনেক মানুষ রোজা রাখবে কিন্তু উপবাস ছাড়া তার কোন উপকার হবেনা। যারা রোজা রাখলো, কিন্তু মুখ দিয়ে অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করলো, ঝগড়ায় লিপ্ত হলো রাসূল সা্ এদের ব্যাপারে এই কথাটি বলেছেন।

তাহলে সিয়াম সাধনা কেবল মাত্র পানাহার ত্যাগ করার নামই নয়, ত্যাগ করতে হবে মুখ দিয়ে চর্চিত সকল ধরণের পাপাচার। যেমন, মিথ্যা কথা বলা, গালি দেয়া, অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করা, গীবত বা পরনিন্দা করা, চোগলখোরি, কাউকে অনর্থক দোষি সাব্যস্থ করা তোহমত দেয়া, মুখ দ্বারা কাউকে কষ্ট দেয়া, কঠোর কথা বলা ইত্যাদি। এক কথায়, মুখ দিয়ে অনিষ্টকর যতো কথা বা কাজ আছে তা পরিত্যাগ করতে হবে।

একইভাবে লজ্জাস্থান দিয়ে যতোধরণের পাপ অাছে তাও পরিত্যাগ করতে হরে। বিবাহপূর্ব সম্পর্ক বা প্রেম, কোন নারীর সঙ্গে নির্জনে সময় কাটানো, পরকিয়াসহ এসকল কাজ পরিত্যাগ করাটাও রোজার শিক্ষা।

 

রোজা রাখতে হবে অন্যান্য অঙ্গেরও।

শুধুমাত্র মুখ আর লজ্জাস্থান নয় আমাদেরকে চোখের রোজাও রাখতে হবে। চোখ দিয়ে পরনারীর প্রতি না তাকানো, অশ্লীল কোন কিছু না দেখা, সিনেমা অশ্লেষা চলচিত্র না দেখা, পর্ণোগ্রাফি না দেখা চোখের রোজার অন্তর্ভুক্ত।  অশ্লীল শব্দ শোনা থেকে নিজের কান হেফাজত করা কানের রোজা। গীবত বা পরনিন্দা শোনা থেকেও কান হেফাজত করতে হবে। গান বাদ্য থেকেও কানকে হেফাজত করা চাই। এভাবে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হেফাজত করার নাম রোজা বা সিয়াম সাধনা। এটাই সিয়াম সাধনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com