শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

কুরআন নাজিলে মাসে বাড়িয়ে দিন কুরআনের সাথে ঘনিষ্ঠতা

কুরআন নাজিলে মাসে বাড়িয়ে দিন কুরআনের সাথে ঘনিষ্ঠতা

মাওলানা নিজামুদ্দিন মিসবাহ: তাবলীগ নিউজবিডিডটকম

পবিত্র এই মাসে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। যে কুরআনের আলোয় রাসূল সাঃ একটি বর্বর জাতিকে পৃথিবীর একটি সুসভ্য জাতিতে রূপান্তরিত করলেন মাত্র তেইশ বছরের সাধনায়। এই কুরআনের ক্ষমতা অনেক। যে কোন কঠিন হৃদয় অনায়াসে কোমল থেকে কোমল হয়ে যায় কুরআনের সংস্পর্শে। কুরআনের তিলাওয়াত অশান্ত হৃদয়ে প্রশান্তি নেমে আসে। এর তিলাওয়াত ঈমানের নূর বৃদ্ধি করে দেয়। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, সর্বোত্তম যিকির হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত।

রাসূল সা্ ইরশাদ করেন, কেউ আল কুরআনের একটি অক্ষর উচ্ছারণ করলে দশটি নেকি দান করা হয়। আমি বলছিনা আলিফ লাম মীম মিলে একটি অক্ষর। বরং আলিফ একটি অক্ষর লাম একটি অক্ষর মীম একটি অক্ষর। সুতরাং কেউ যদি শুধুমাত্র আলিফ লাম মীম তিলাওয়াত করে সে ত্রিশটি সাওয়াব লাভ করবে। রাসূল সাাঃ ইরশাদ করেন, রমজান মাসে কেউ একটি নফল ইবাদাত করলে সত্তরটি নফল ইবাদাতের সাওয়াব লাভ করবে। সুতরাং রমজান মাসে যদি কেউ কুরআনের একটি হরফ তিলাওয়াত করে সে সাতশত সাওয়াব লাভ করবে।

এজন্য রমজান মাসে রুটিন করে কুরআনের তিলাওয়াত করা চাই। যারা দ্রুত তিলাওয়াত করতে পারেন না, দিনের কয়েকটি অংশে কমপক্ষে একপারা করে তিলাওয়াত করুন। যারা দ্রুত তিলাওয়াত করতে সক্ষম তারা আরো বেশী খতমে কুরআনের চেষ্টা করুন।

 

অর্থ বুঝে কুরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করা উচিৎ শিক্ষিতদেরঃ

বাংলা ইংরেজী অনুবাদসহ কুরআনের অনেক এডিশন লাইব্রেরীতে পাওয়া যায়। মোবাইলে অনেক এ্যাপসও রয়েছে কুরআনের। যারা অন্তত বাংলা পড়তে জানেন, কুরআনের কিছু অংশ হলেও অনুবাদ জানার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে আমরা নামাজে সচরাচর যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে থাকি এসবের অনুবাদ জানা থাকলে নামাজে আমাদের মনোনিবেশ আরো বেড়ে যাবে। এক একটি রমজানে এমন একেকটি ভালো উদ্যোগ দ্বারা আমরা নিজের জীবনটাকে সাজাতে পারি। এভাবে কুরআনের সাথে যদি আমাদের আত্মার বন্ধন ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে তাহলে দুনিয়ার জীবন আমাদের সুন্দর হশে উঠবে পরকালে এই কুরআন আমাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

এছাড়া এ রমজান মাসে বেশী বেশী নফল নামাজ আমরা আদায় করবো। সাহরীর জন্য ঘুম থেকে যখন জেগে উঠি, শুরুতেই অজু করে অন্তত চার রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করে নেই। এছাড়াও ইশরাক, চাশত, আওয়াবীনের নামাজগুলো আদায় করতে পারি। মসজিদে যখনই প্রবেশ করি, প্রথমেই না বসে দুরকাত তাহিয়্যাতুল ওজু আদায় করে নেই। প্রতি ওয়াক্তের নামাজের আগে ওপরে যেসব সুন্নত ও নফল নামাজ রয়েছে তা যত্নের সাথে আদায় করতে পারি।

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, তোমরা আঙ্গুলে গুনে গুনে তাসবীহ পাঠ করো, কারণ কেয়ামতের দিন এই আঙ্গুলের ঘিরাগুলো তোমাদের পক্ষে আল্লাহর কাছে সাক্ষী দিবে। রাসূল সা্ ইরশাদ করেন, যারা আল্লাহর  যিকিরের মাধ্যমে তার জিহবাকে তাজা রাখবে, কেয়ামতের দিন হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

এজন্য এই পবিত্র মাসের আমরা সম্মান করি। একটি সূবর্ণ সুঢ়োগ হিসাবে কাজে লাগাই। এমাসের প্রতিটি মূহুর্তকে ইবাদতের মাধ্যমে আমরা উদযাপন করি।

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজাগুলো ইমান ও এহতেসাবের সাথে পালন করবে, আল্লাহ তায়ালা তার অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!