শনিবার, ১৮ মে ২০১৯, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

জীবনভর মাকে সম্মান ও ভালবাসতে হবে

জীবনভর মাকে সম্মান ও ভালবাসতে হবে

অনলাইন ডেস্ক,

পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত জাতি মা। মায়ের কোনো তুলনা হয় না। মায়ের তুলনা একমাত্র মা-ই। মায়ের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে প্রতিমুহূর্তে। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোনো দিন ও সময় নেই।

পবিত্র কোরআনে মাকে যথাযথ সম্মান ও ভালোবাসার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা কেবল তারই ইবাদত করবে এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। যদি তাদের মধ্যে একজন কিংবা দুজনই তোমার নিকটে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়ে যান তখন তাদের ‘উফ’ শব্দও বলবে না এবং তাদের ধমক দেবে না। আর তাদের জন্য দয়ার মধ্য থেকে নম্রতার বাহু ঝুঁকিয়ে দাও। এবং বলবে- রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি ছগিরা’। (হে আমার পালনকর্তা! তাদের দুজনের ওপর এ রকম দয়া কর যে রকম তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন পালন করেছিলেন) (সুরা বনি ইসরাইল:২৩-২৪)

 

পৃথিবীতে আল্লাহতায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত মা। মা হচ্ছেন একজন সন্তানের পৃথিবীতে আসার মূল ও প্রধান উৎস এবং অস্তিত্ব ও বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। মা শব্দটির কোনো বিকল্প নেই একজন সন্তানের কাছে। মায়ের মায়া-মমতার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো কিছু তুলনা হয় না। মায়ের আদর এবং লালন-পালনের কষ্ট সন্তান কোনো দিন শোধ করতে পারবে না। শীত, তাপ, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা যিনি সন্তানকে শৈশবে অনুধাবন করতে দেননি তিনি হলেন মা।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) অসংখ্য হাদিসে মাকে যথাযথ সম্মানের কথা বলেছেন। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক সাহাবি রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে প্রশ্ন করলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আমি সর্বাগ্রে কার সঙ্গে সদাচরণ করব?

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তয়ে বললেন, তোমার মা। সাহাবি আবার বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সাহাবি আবার জিজ্ঞেস করলেন তারপর কে? উত্তরে তিনি বললেন, তোমার মা। সাহাবি আবার জিজ্ঞেস করলেন অতঃপর কে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার বাবা। (বোখারি)

 

হজরত তালহা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে হাজির হয়ে এক ব্যক্তি জিহাদে অংশগ্রহণের আবেদন জানাল। নবীজি (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা বেঁচে আছেন কি? লোকটি বললেন, হ্যাঁ বেঁচে আছেন। রাসুল (সা.) বললেন, যথার্থভাবে তার সেবা করো, বেহেশত তার পদতলে। (বোখারি)।

 

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, মায়া, মমতা, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন একটি বিশেষ দিনের জন্য নয়; বরং তা হোক প্রতিদিনের জন্য। মায়ের প্রতি আনুগত্য, মায়ের খেদমত, মায়ের হক আদায় ও বৃদ্ধাবস্থায় সেবাযত্ন করা এবং পরকালীন মুক্তির জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা আমাদের সবার একান্ত কর্তব্য।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!