মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

হযরতজী ইলিয়াস রহ. যেভাবে রমজান কাটাতেন

তাবলীগ নিউজ বিডিডটক।
রাত বারোটার দিকে তিনি সজাগ হয়ে যেতেন। ওই সময় সেবকরা গরম দুটি সিদ্ধ ডিম তাকে দেয়া হতো। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে তিনি ডিম দুটো খেয়ে নিতেন। তারপর তিনি তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে যেতেন। একেবারে শেষ সময়ে তিনি সাহরি খেতেন।

কান্ধালার খানদানি পরিবারের রেওয়াজ অনুযায়ী তার অভ্যাস ছিল, যা কিছু খাওয়ার ইফতারের সময়ই খেয়ে নিতেন। চায়ের তেমন একটা গুরুত্ব ছিল না। তাঁর খাবার খুবই সামান্য হতো। ইফতারের সময় একটা অথবা অর্ধেক রুটি খেয়ে নিতেন। ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ পড়তেন। মাগরিবের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নফল নামাজ পড়তেন। তার এই অভ্যাস ছোটকাল থেকেই ছিল। তবে রমজানে নফল নামাজে এত সময় নিতেন যে, ইশার নামাজের কিছুক্ষণ আগে তিনি তা শেষ করতেন। নফলের পর মসজিদে কিছু সময় রেস্ট নিতেন। প্রায় আধঘণ্টার মতো জিরিয়ে নেয়ার পর ইশার সময় হলে উঠে যেতেন। নিজেই তারাবি পড়াতেন। ওই সময় কোনো মজলিস বা কারো সঙ্গে কোনো কথা বলতেন না। তারাবি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শুয়ে যেতেন।

রাত বারোটার দিকে তিনি সজাগ হয়ে যেতেন। ওই সময় সেবকরা গরম দুটি সিদ্ধ ডিম তাকে দেয়া হতো। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে তিনি ডিম দুটো খেয়ে নিতেন। তারপর তিনি তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে যেতেন। একেবারে শেষ সময়ে তিনি সাহরি খেতেন। এমন সময় সাহরি খেতেন যে, অনেক সময় আমি নিজ চোখে দেখেছি, তিনি ডান হাতে লোকমা নিয়ে একজনকে বলতেন পানি দাও, আরেকজনকে বলতেন আজান দাও। মুয়াজিজন আজান দেয়ার জন্য ছাদে উঠতেই সঙ্গে সঙ্গে তিনি খাবার শেষ করে ফেলতেন। আর তখনই আজান শুরু হতো।

আজানের পর সময় মতোই তিনি ফজরের নামাজ আদায় করতেন। রমজানে ফজরের পর কোনো বয়ান করতেন না। মাওলানা ইউসুফ সাহেব সর্বপ্রথম তা শুরু করেন। চাচাজান ইলিয়াস রহ. ফজরের পর ইশরাক পর্যন্ত নামাজের মুসাল্লায় বসে জিকির-আজকার ও তাসবিহ-তাহলিল করতেন। ইশরাক আদায় করার পর কিছুটা ক্লান্তি অনুভব হলে কিছু সময় আরাম করতেন। তারপর মেওয়াতগামী জামাতের সঙ্গীদেরকে কিছু ইমান আমলের হেদায়াতিমূলক আলোচনা করতেন। দুপুরের দেড় দুঘণ্টা পর্যন্ত আরাম করা তার অভ্যাস ছিল। জোহরের পর রুমে চলে আসতেন এবং যে সমস্ত তাবলিগ জামাত বিদায় নেবে বা যারা সবে এসেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। আসর পর্যন্ত এ কাজের ধারাবাহিকতা চলতো। এছাড়াও রমজান মাসে কারো সবক থাকলে তাও পড়িয়ে দিতেন। আসরের পর মাগরিব পর্যন্ত উচ্চস্বরে জিকির করতেন। রমজানের সময় এ ধরনের জিকির শেষ রাতে করতেন। [আপবীতি, শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রহ]

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!