রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

হযরতজীর ঈমানের সংজ্ঞা ও অজাহাতি মূর্খতা

বিশেষ প্রতিনিধি তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

এলাকার কওমী মাদ্রাসায় গেলাম। রেগুলার যাই। উলামাদের জিয়ারত করি। তো এক উর্ধ্বতন হুযুরের কামরায় গেলাম। হুযূর বসালেন। আপ্যায়ন করলেন। হযরতজীর কথা প্রসঙ্গ আসলো। হুযূর বললেন যে তিনি দেওবন্দের ফতওয়ায় না, বরং নিজের ইলম দিয়ে যাচাই করে, তাহকীক করে সাব্যস্ত করেছেন যে সা'দ সাহেব বড় ধরণের গোমরা। উনা অনুসরণ করাই যাবে না।

হুযুরের কথা ভালো লাগলো আমার। আমি বললাম যে হযরত! আপনি এক মাত্র ব্যক্তি যিনি আমাকে বলেছেন যে, আপনি নিজে তাহকীক করেছেন। আর যত জমহুর আলেমের সাথে কথা বলেছি সবাই শুধু ওমুক, তমুকের নাম বলে।

হুযূর মাথা নাড়ালেন এবং বললেন যে উনার কাছে সা'দ সাহেবের গোমরাহীর অকাট্য প্রমাণ আছে। এবং সা'দ সাহেব যে এটি বলেছেন এটি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। কারণ এটি কোনো কাট পিস বয়ান না। এটি সা'দ সাহেবের কিতাব থেকে নেওয়া।

মনে মনে বললাম সা'দ সাহেব কিতাব লিখেছেন কবে আবার? এরপর দেখি হযরত মুন্তাখাব হাদীসের কিতাব বের করলেন। বললাম হযরত, এটি তো সা'দ সাহেবের কিতাব না। হযরত বললেন যে হ্যাঁ এটি উনার না তবে এটিতে উনার অনুবাদ এবং তরতীব করা আছে। এবং এখানের ৬ উসুলের শুরুতে যে সংজ্ঞা গুলো দেওয়া আছে তা সা'দ সাহেবের দেওয়া। বললাম হ্যাঁ তা তো ঠিক বলেছেন।

ঠিক এরপরেই হযরত এক লম্বা লেকচার মারলেন যা শুনে আমি নিজেও ভয় পেয়ে যাই।তিনি বলতে লাগলেন যে সা'দ সাহেব মনগড়া ইমানের সংজ্ঞা(দ্বীনের বিশেষ পরিভাষায় ইমান বলা হয় - রাসূলের সংবাদ বা খবর কে না দেখে একমাত্র রাসূলের উপর আস্থার কারণে নিশ্চিতরূপে মেনে নেওয়াকে) দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি এমন ইমানের সংজ্ঞা দিয়েছেন যা কোনো আলেম, সলফে সালেহীন এবং আকাইদের কোনো কিতাব সমর্থন করে না। এই ভ্রান্ত ইমানের সংজ্ঞা আকাইদের বড় কীতাব "আকায়েদে তাহাবী" , "আকায়েদে নসফী" তে ও উল্লেখ নাই। ইমানের সংজ্ঞা তো হচ্ছে মুখে স্বীকার করা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং কাজে পরিণত করা। এটাই ইমানের সংজ্ঞা। সা'দ সাহেব যেটা বলেছেন তা কোনো কিতাব বা আলেম সমর্থন করেন না। তাই ঐইটা মনগড়া কথা। তো যে লোক সবচেয়ে বড় বিষয় ইমান সম্পর্কে মনগড়া সংজ্ঞা প্রদান করে, ইমানের সংজ্ঞার ব্যাপারে বড় বড় আকাইদের কিতাব এবং উলামাদের পাশ কাটিয়ে নিজের ভ্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করে, তার থেকে ইসলামের অন্য বিষয় কীভাবে নির্ভরযোগ্য মেনে নেওয়া যায়? তাই এই কারণে উনাকে মানা যাবে না।

এরপর আমি ও চিন্তায় পড়ে গেলাম। আসলেই কি হযরতজী এই সংজ্ঞা নিজের থেকে দিয়েছেন, নাকি কিতাব থেকে নিয়েছেন। এলাকার এই হুযূর তো অনেক এলেম ওয়ালা। উনি নিশ্চয় ভুল জিনিস আমাকে বলছেন না। তাহলে কি হযরতজী ভুলের মধ্যে আছেন। এই ধরণের হাজারো চিন্তায় আমি স্থবির হয়ে গেছি। স্বাভাবিক জীবন থেকে সরে যাচ্ছি দিন দিন। তখন আল্লাহর কাছে মিনতি করলাম যাতে আমাকে সঠিক পথ দেখায়। কে সঠিক তা যেনো আমি বুঝতে পারি। দোয়া করার ২/৩ দিনের মধ্যেই আমি আল্লাহর তরফ থেকে রাহাবারি পেয়ে গেলাম। সত্য আর মিথ্যা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো।

দোয়া করার পরে একদিন আমি ফজরের নামাজের পরে তাফসিরে মারেফুল কুরআন যেটি আমি দুবাই থেকে নিয়ে এসেছিলাম, তা উল্টাতে লাগলাম। প্রথম যে পৃষ্ঠা উল্টালাম, তাতে আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। দেখলাম মোটা অক্ষরে লেখা "ইমামের সংজ্ঞা"। ভয়ে ভয়ে পড়তে লাগলাম আর দু চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো। কারণ প্রায় এক পৃষ্ঠা জুড়ে মুফতি তাকি উসমানী সাহেব দা:বা: এর আব্বা মুফতি শফী সাহেব রহ: ইমামের সংজ্ঞা নিয়ে যে আলোচনা করেছেন তাই হযরতজী মাওলানা সা'দ সাহেব ইমানের সংজ্ঞা হিসেবে মুন্তাখাব হাদীসে উল্লেখ করেছেন। আরও মজার বিষয় হলো মারেফুল কুরআনে, হযরতজীর ইমানের সংজ্ঞা কে আহলে ইসলামের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইমানের সংজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এমন কি এই সংজ্ঞা " আকায়েদে নসফী" এবং "আকায়েদে তাহাবী" কিতাবদ্বয়ে উল্লেখ আছে বলে বলেছেন মারেফুল কুরআনে।

এরপর আমি যখন উক্ত মূর্খ হুযুরের কাছে মারেফুল কুরআন পেশ করলাম এবং উনার মিথ্যা কথার ব্যাপারে জানতে চাইলাম। দেখলাম হুযূর লজ্জায় শেষ। একেবারে মাথা নিচু করে ফেললেন। আর বললেন, এই ইমানের সংজ্ঞা যে কিতাবে আছে এবং উলামায়ে কেরাম দ্বারা সমর্থিত তা উনার এলেমে ছিলো না। তো পরে আমি বললাম বাহ! আপনার এলেমে ছিলো না আর আপনি হযরতজী কে গোমরা বানায় দিলেন। এটি শুধু আপনার না বরং পুরো বর্তমান তথাকথিত জমহুর গোষ্ঠীর এই একই অবস্থা। নিজের নাই এলেম, তারা অন্য কে গোমরা বানায়। আগে নিজেদের গোমরাহী দূর করেন, তারপর অন্যের কথা ভাবিয়েন। হুযূর সব শুনলেন কিন্তু উত্তর দেওয়ার আর কোনো মুখ ছিলো না। আল্লাহর ওলীদের পিছে লাগলে, আল্লাহ এভাবেই ঘরে (মাদ্রাসায়)বসিয়ে বেইজ্জতি করাবেন। তাই সাধু! সাবধান হয়ে যাও।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com