বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব মার্কাজ নিয়ে আমি কেন কিস্তি লেখা শুরু করলাম : মাওলানা মেহবুব

মাওলানা মেহবুব,লন্ডন, উপদেষ্টা, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

একদফা মিয়াজী আব্দুর রহমান সাহেব সালের জামাতে চলতে থাকা কিছু আলেমদের রওনেগী হেদায়েত দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন: এই মেহনত এখন খুব দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে। খুব সহজেই যে কেউ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে এবং বিখ্যাত হচ্ছে। মানুষজন তার গল্প বলতে শুরু করে, প্রশংসা গাইতে শুরু করে। লোকজন বিভিন্ন হাদিয়া তোহফা দেয়া শুরু করে। এহেন উন্নতি সত্ত্বেও যদি কেউ মারকাজ এবং মারকাজের হজরতদের সাথে ভালোবাসা ও আনুগত্যের সম্পর্ক বজায় রাখে তাহলে সে তাঁদের ফয়েজ থেকে উপকৃত হতে পারবে এবং নিজেকে সজীব এবং সক্রিয় রাখতে পারবে।

মারকাজের হজরতদের উদাহরণ হল, এক ব্যক্তির মত যে ঘুড়ি উড়ায়। আর আপনাদের উদাহরণ হল ঘুড়ির মত। যদি ঘুড়ি এত উপরে পৌঁছে যায় যেন সে স্বাধীন উড়ছে, তখন যদি ঘুড়ি নিচের নাটাইওয়ালার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহই থাকতে পারে না যে, সে তৎক্ষণাৎ ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। কোথায় সে চলে যাবে, কোথায় গিয়ে আটকাবে, তার ব্যাপারে কোনই নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।

নিজামুদ্দিন আমাদের মারকাজ। কিছু হযরত তাঁদের জিন্দেগী কুরবানী দিয়ে এখানে খিদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন। তাঁরা আপনাদের দাওয়াতের বিভিন্ন তাকাজায় ব্যবহার করছেন… এর ফলাফল হল আপনারা একসময় আকাশসম উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন, মশহুর হবেন। আপনাদের নিয়ে হইচই হবে। লোকজন আপনাদের সাথে মুসাফাহা করার জন্য দৌড়ে আসবে। এ সময়ে মারকাজ এবং মারকাজের হজরতদের আপনার নজরে ছোট মনে হতে পারে, যেমন সুউচ্চ আকাশে উড্ডীয় মান ঘুড়ির চোখে জমিনের সবকিছু ছোট মনে হয়। সে সময় তাঁদের প্রতি আপনি ততটুকু নিষ্ঠাবান থাকবেন না, যতটুকু আগে ছিলেন। এরপর শিগগিরই এই নিষ্ঠা আস্তে আস্তে কমতেই থাকবে যতক্ষণ না এই বিশ্বাস আসবে যে, তারাও মানুষ, আমরাও মানুষ। মনে হবে যে তারা আমাদের মাত্র এক স্তর উপরে। এরপর এক পর্যায়ে আপনি তাদের আপনার মতোই মনে করবেন। এবং এরপর খুব শিগগিরই মনে করবেন আপনি উপরে তারা নিচে। এভাবেই অবনতি চলতে থাকবে।

কারণ আপনার নফস বলবে, “আরে তুমি একটা নামি লোক।” ( তোমার ক্যাসেট বিক্রি হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমাকে নিয়ে লোকজন হইচই করছে। ) এরপর যদি মারকাজের কেউ আপনার ভালাই ও উন্নতির জন্য সংশোধন বা শিক্ষা মূলক নির্দেশনা দেন, তখন আপনি খুবই অপছন্দের সাথে তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবেন। পরবর্তীতে আপনি তাঁদের প্রতি খোলাখুলি ভাবে ঘৃণা প্রকাশ করবেন। এক পর্যায়ে মারকাজের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মত অবস্থায় পৌঁছে যাবেন। আপনি তাঁদের দোষ তালাশ করতে লেগে যাবেন। তাহলে জেনে রাখুন আপনার ধ্বংসের ফয়সালা হয়ে গেছে। কেউ এই ফয়সালা পরিবর্তন করতে পারবে না।

১৯৭৮ সালে সেই মজলিসে আমরা ৩৭ জন ছিলাম।

আমরা মিয়াজীর সামনে ওয়াদা করে ছিলাম: “ইনশাআল্লাহ, আমরা মারকাজ এবং মারকাজের হযরতদের উপরে নিষ্ঠাবান থাকবো।” আমার আরো মনে আছে ১৯৮৫ সালে যখন আমাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল, কাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেব বারংবার বলছিলেন, “তোমার দ্বারা আজীব কাজ নেয়া হবে।” বহু বছর আমি ভাবতাম, প্রকৃত আল্লাহর ওলীগণ কখনো কখনো সরাসরি আল্লাহ থেকেই কথা বলেন। তো আমার দ্বারা কি কাজ নেয়া হবে?

এরপর, যখন এই ‘আলমী শূরা’ ফিৎনা শুরু হল এবং পরিস্থিতি খারাপ হতে লাগলো, আমি সেই কথা গুলো স্মরণ করলাম এবং উপলব্ধি করলাম:
১. আমি মিয়াজী আব্দুর রহমান সাহেবের সামনে যা ওয়াদা করেছিলাম
২. কাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের সেই কথা গুলো।
আমি দুটোই বুঝতে পারলাম। আল্লাহর দিকে রুজু হলাম, কিভাবে এই কাজ সম্পন্ন হবে। আমি স্বপ্নে দেখলাম, কলমের চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই। আমি লিখতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু বহুদিন যাবৎ বুঝতে পারছিলাম না কি লিখব, কিভাবে লিখব। (একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে) আমি ক্বিস্ত শব্দ বেছে নিলাম এবং লেখা শুরু করলাম।

আমাকে কঠোরভাবে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ভাবে হুমকি মূলক উড়ো ফোন কল, মেসেজ পেয়েছি, পেরেশানীতে পড়েছি, গালিগালাজ শুনেছি; এভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি। তা সত্ত্বেও এসব লোকের জন্য খুব দুআ করতে থেকেছি।

ভারত থেকে খুবই মশহুর একজন আলেম আমাকে মেসেজ দিয়েছেন, “আমার এক আত্মীয় আমাকে তোমার বয়ানের কিস্তি পাঠিয়েছে। আমি পড়েছি। আমি কট্টর আলমী শূরাপন্থী ছিলাম। আমি তোমার কথা ভুল প্রমাণে উদ্যত হলাম। তোমার একেকটা শব্দ খণ্ডন করতে লম্বা সময় লেগে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আমার বিবেক বলে উঠলো, সত্যকে উপেক্ষা করা মুনাফিকীর আলামত।” আমি আমার পদ্ধতি পরিবর্তন করলাম, এবং সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে এই কথা গুলো ভারতের সব আলেমদের কাছে পৌঁছাতে হবে। তাদের সবাইকে নিজামুদ্দিন নিতে হবে। এভাবে অসংখ্য আল্লাহর ওলী আমাকে উৎসাহিত করেন। আল্লাহ তাদের কবুল করেন।

তবে নিজের জীবন থেকে কারগুজারী শুনানো, এটা আসলে আমার উপর আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশ করা। যে কারো জন্য, অন্য কোন উদ্দেশ্যে এভাবে প্রচার করা ভুল।

প্রায় কয়েক শত কিস্তি লেখা হয়েছ।জানা নেই কোথায় কোথায় কারা কারা এগুলো পড়ছেন। এগুলো আমানত হিসাবে লেখা হয়েছে। ১০০% সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্র এবং রেফারেন্স গুলো সঠিক এবং যথাযথ। সহজ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। আমার কারো সাথে শত্রুতা নেই। বরং সকলেই আমার (সাথী)।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!