মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

রমজানের ৪০পারা তেলাওয়াত করতেন হযরতজীর আম্মা

মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ।

মুহতারামা “ হাফেজা ছফিয়্যাহ রহ.” ছিলেন বড় হযরতজী হযরত মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস রহ. এর আম্মা এবং শায়খুল হাদীস হযরত যাকারিয়া রহ. – এর দাদী। তিনি ছিলেন মাওলানা মুযাফ্‌ফর হুসাইন রহ. এর নাতনী। উম্মে বি আমাতুর রহমান রহ এর একমাত্র মেয়ে।

তিনি অত্যন্ত উঁচুস্তরের হাফেজে কুরআন ছিলেন। সাধারণ হাফেয তার সামনে দাঁড়াতে পারত না। বিবাহের পর প্রথম পুত্র মাওলানা ইয়াহ্‌ইয়া রহ. – এর দুধ পানের সময় তিনি কোরআন পাক হিফ্‌জ করেন। ঘরের কাজ-কর্ম তো আছেই, তাছাড়া প্রতিদিন এক মঞ্জিল করে সাত দিনে কুরআন খতম করতেন। আর রমজান মাসে প্রতিদিন এক খতম দশ পারা তেলাওয়াত করতেন।
কোরআন তেলাওয়াত ছাড়াও অন্যান্য আমলের কথা শুনলে তো চোখ বিস্ময়ে কপালে উঠবে। পুত্র মাওলানা ইয়াহ্‌ইয়া রহ. তার আম্মার দৈনিক মামূলাতের কথা বর্ণনা করছেন এভাবেঃ-
দুরুদ শরীফঃ ৫০০০ বার।
আল্লাহ্‌ শব্দঃ ৫০০০ বার।
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীমঃ ১৯০০ বার।
ইয়া মুগনীঃ ১১০০ বার।
লা হাওলা ওয়া লা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহঃ ১১০০ বার।
আল্লাহুস সামাদঃ ১১০০ বার।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহঃ ১২০০ বার।
ইয়া হ্বাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুমঃ ২০০ বার।
হ্বাসবিয়াল্লাহু ওয়া নি’ঈমাল ওয়াকীলঃ ৫০০ বার।
সুবহ্বানাল্লাহঃ ২০০ বার।
আল্‌হ্বামদুলিল্লাহঃ ২০০ বার।
আল্লাহু আকবারঃ ২০০ বার।
ইস্তিগফারঃ ৫০০ বার।
“রাব্বি ইন্নি মাগ্‌লুবুন ফাংতাসির”:১০০ বার।
“রাব্বি ইন্নি মাছ্‌ছানিইয়াদ্‌ দুর্‌রু ….:১০০ বার।
“উফাউবিদু আমরি ইলাল্লাহ”: ১০০ বার।
দুয়ায়ে ইউনুসঃ ১০০ বার।

তার সংসর্গ আর দুয়া ও মেহনতের বরকতে আশে-পাশের মহিলাদের মধ্যে দ্বীনের ব্যাপক চর্চা ছিল। তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবীহ, সব সময় হাতে তাসবীহ রাখা, মিসওয়াকের পাবন্দী করা উক্ত এলাকার মহিলাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।

উক্ত খান্দানের অন্যান্য মহিলাদের অবস্থাও ছিল অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। ঘরের মধ্যে মহিলারা সাধারণতঃ নফলের মধ্যে কুরআনের খতম করত। রমজানে মাহরামের পেছনে তারাবীহ এবং নফলে কুরআন শুনত। পুরা রমজান মাস এই খান্দানে নতুন এক শান শওকত ও আমেজ বিরাজ করত।

চতুর্দিকে তেলাওয়াত…….। কে কত বেশী খতম করবে। তারা কুরআন শরীফ খুব মজা নিয়ে নিয়ে তেলাওয়াত করত। নামাযের পর নিজ নিজ স্থানে যিকির মুরাক্বাবা চলত। নামাযে তারা এতটাই ডুবে যেতেন যে, বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলেও তারা তা টের পেতেন না।

তরজমাসহ কুরআন শরীফ পড়া, মাযাহেরে হক, মাশারিকুল আনওয়ার, হিসনে হাসীন ইত্যাদি কিতাব তাদের নিয়মিত পাঠ্য ছিল। বাড়ির যে কোন মজলিসে সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ এবং শাহ আব্দুল আযীয রহ. এর জিহাদী কারনামা আর ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা আলোচিত হয়ে থাকত। মা-দাদীরা বাচ্চাদেরকে তোতা-ময়নার ঘটনা না শুনিয়ে এসব উদ্দীপনামূলক ঘটনা শুনিয়ে তাদের দ্বীনী জজবা আর চেতনাকে আরো শাণিত করে তুলত।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে এবং আমাদের মহিলাদেরকে তৌফিক দান করুন যেন আমরা এই সকল মহান ব্যক্তিবর্গের আমালিয়াত ও জজবাকে জীবনে চলার পথে সামনে রাখতে পারি। আমীন।।।

সূত্র: হযরতজী ইলিয়াস রহ জীবনালেখ্য, সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, উৎস প্রকাশন

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!