বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

সম্পাদকীয়: আমরা যারা সাদপন্থী…

মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

বিশেষ রচনা ও সম্পাদকীয়।

“সাদপন্থী” বলে বাংলাদেশের কথিপয় আলমেরা একটি বিষয় এদেশে ব্যাপকভাবে প্রচার করছেন। আর সাদপন্থীদের উপর হামলা মামলা নির্যাতন, জর্ঘন্য অপবাদ মিথ্যাচার, জুলুম, নির্যাতন করে চলছেন প্রতিনিয়ত। কেবল ইসলামের ১৫শত বছরের ইতিহাসই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে নির্যাতনের ভয়াবহ স্টিমরোলার চালানোর ইতিহাস খোঁজে পাওয়া দুষ্কর। যদিও বাংলাদেশের জমহুরিয়াত নামক এসব আলেমের কথার সাথে সারা দুনিয়ার অন্যান্য দেশের একজন আলেম ও ইসলামী স্কলার একমত নন। আর এদেশে সাদপন্থী লাখ লাখ অনুসারী পাহাড়ের মতো হিম্মত আর ধর্য্যের সাথে এই সাইক্লোন মোকাবিলা করে সবরের অনন্য নজির স্থাপন করে যাচ্ছেন।

সাদ পন্থী বলতে তারা বুঝাচ্ছেন, শায়খুল আরব ওয়াল আজম, কুতবে দাওরান, কুতবে আলম, কুতুবুল আখতার, শায়খুল ইসলাম, আল্লামা হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধালভীর অনুসারীদের। হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভী বর্তমান সময়ের এমন একজন মহিরুহ তার নামের সাথে কেউ যদি আমাকে ট্যাগ করে সাদপন্থী বলে, তাহলে গর্ব আর ভালবাসায় আমার হৃদয় ভরে যায়!
ইচ্ছে হয়, যে আমাকে “সাদপন্থী মাওলানা” বলে সম্বোধন করল তার কপালে আবেগে একটি চুমো খাই।

“সাদপন্থী” উম্মাহর এতে বড় ও বিশাল এক জনগোষ্ঠীর নাম, যারা এক আমীরের অধিনে সাদা কালো, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, চীন রাশীয়াসহ সমগ্র পৃথিবীতে বিস্তৃত। চার মাযহাব, চার ত্বরীকা ও সালাফি বা আহলে হাদীস অনুসারী কোটি কোটি মুসলমান আজ তাদের পরিভাষায় “সাদপন্থী’। বর্তমান বিশ্বে সত্যকারের শায়খুল ইসলাম যদি একজন হওয়ার যোগ্যতা রাখেন তাহলে তিনি আল্লামা সাদ কান্ধালভী। আমরা কথিত কোন শায়খুল ইসলামের অনুসারী নই। যার সাথে উম্মাহর বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কোন পরিচয় নেই। বরং মুসলিম বিশ্বে গত কয়েক শতাব্দির ইতিহাসে এতে ব্যাপক বৃস্তিত কোন আমিরুল মুমিনিনের দ্বীনি কাজের ইমারত প্রতিষ্ঠিত হয় নি। উম্মাহর এতে বিশাল অংশ এক আমীরের হাতে বাইয়াত হয়ে ঐক্য গড়ে নি।

শায়খুল আরব ওয়াল আজম শায়খুল হাদীস আল্লামা সাদ কান্ধালভীর ইমারতের কোন দেশ নেই, সীমানা নেই, পৃথিবীর সকল দেশে, সকল জেলায় এমনকী গহীন সাগরের ভীতরে দ্বীপগুলোতে যার কেন্দ্র বা মারকাজ সারা দুনিয়ায় বিস্তৃত। একবিংশ শতাব্দিতে এতে বড় শায়খুল আরব ওয়াল আজম মনীষা বর্তমান দুনিয়াতে আরেকজন নেই। ইমাম মেহদী আঃ আসার পূর্বে এক আমীরের অধিনে সারা দুনিয়ার মুসলমানগন তার এতেয়াতে ” মাহাদীর কাফেলার সৈনিক” হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি শেষ জামানার ফেৎনায় হাবুডুবু না খেয়ে রাসুলে পাক সল্লাল্লাহুআলাইহিওয়াসাল্লামের নির্দেশের আলোকে এক আমীরের এতেয়াতে মুসলিম মিল্লাতের একমাত্র ও সর্ববৃহৎ জামাতের সাথে জুড়ে আছি। হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস ও হযরতজীর মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ রহ এর ইমারত ভিত্তিক দ্বীনি দাওয়াত এর মহান আমনতকে আমীরের আনুগত্যশীল হিসাবে আঁকড়ে আছি।

খোদা পাকের খাছ মেহেরবানী, তার দরগাহ সারা জীবন সেজদায় পড়ে থেকেতো এই শুকরিয়া আদায় করতে পারব না যে, মানুষ আমাকে “গায়ের এতেয়াতি” লকব লাগায় নি, আনুগত্যহীন/নাফরমানির তকমার সাক্ষি দেয় নি, বরং কুরআনের ভাষায় এতোয়াতি বা আনুগত্যশীল বলছে। আমি যেমন আল্লাহ পাকের খাছ কুদরতে দাওয়াতের মকবুল কাজে লেগেছি, তেমনি এই ফেৎনায় আমীর ও জামাত থেকে একটা বৃগৎ পরিমাণ দূরে সরে যাই নিয়ে তার মেহেরবানীতেই। গিবত শেকায়ত, তহমত, মসজিদ থেকে আল্লাহর রাস্তার মেহমানদের বিদায় করা ও আমীরের দোষ তালাশের কাজে খোদা লাগান নি, এটি তার খাছ মেহরাবানী ছাড়া আর কিছু নয়। আমি নিজ চোখে চাঁদ দেখার পরে যেমন জমহুরের কথা না মেনে রোজা রাখা আমার উপর ফরজ, তেমনি আমরা যারা সাদপন্থী নিজামুদ্দিন বিশ্ব মারকাজের আলো আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট। শয়তানের প্রথম কাজ ও মেহনত ছিল রিজাল বা ব্যাক্তির আনুগত্যকে অস্বীকার করা ও দোষ তালাশ করে নাফরমানী করা। শখছিয়ত নেজামের এতেয়াত অস্বীকার করে মাহবুব থেকে শয়তান খোদা পাকের মরদুদে পরিণত হয়েছে। আর কেয়ামতের আগে শয়তানের সবচেয়ে বড় ও প্রধান কাজ হবে রিজালের আনুগত্য আমীরের এতেয়াত অস্বীকার করিয়ে রাসুলের মর্যাদাবান উম্মতকে গোমরা করে।

সাদপন্থী হতে পারা আমার জীবনের জন্য পরম চাওয়া ও পাওয়ার বিষয়। কারন আমি আমার শায়েখ, আমার মুর্শিদ, আমার পীর, আমার সিপাহসালার, আমার হযরতজী শায়খুল হাদীস মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধালভীকে চিনি ও জানি।

তাঁর গোলাম হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা ও সৌভাগ্যের বিষয়। আমার গোটা খান্দান, আমার আওলাদ, আমার সম্পদ, আমার জান, আমার মাল, হযরতজী সাদ ছাহেব দামাত বারাকাতুহুমের কদম মোবারকে কুরবান করতে আমি নিঃসংকোচে প্রস্তুত। আমার আমীরকে আমি এভাবেই ভালবাসি, এভাবিই লালন করি, এমন করেই ধারণ করি। তাঁর চোখের ইশারায় আমি জীবনকে অবলীলায় বিলিয়ে দিতে সদাপ্রস্তুত।

আমি হযরতজীর আমল, তাকওয়া, রোনাজারি, সুন্নতের পাবন্দ, আকীদা- বিশ্বাস, সিরাত চর্চার সাথে পরিচিত। হযরতজী সাদ কান্ধালভীর ২৪ ঘন্টা আমল ও জিন্দেগী আমাদের চোখের সামনে। তাঁর পরহেজগারি, খোদাভীতি, কিয়ামুল লাইল, প্রশান্তিময় তারাবিহর নামাজের তেলাওয়াত, উম্মাহর দরদ, ফিকির, বেচাইনী, বুজুর্গী, কারামত, সুন্নতের পাবন্দ, এখলাস, লিল্লাহিয়ত আজ সারা দুনিয়ার লক্ষ কোটি দ্বীনের দায়ীদের চলার পথের পাথেয়।

হ্যা! আমাদের আকাবীর আসলাফগন এমনিই ছিলেন। শরিয়তের ক্ষেত্রে আমীরের আনুগত্য এমনই হতে হবে। রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সাহাবীরা এমনি ছিলেন আনুগত্যপরায়ন। পরবর্তী খলিফায়ে রাসুলদের জন্য তাবেয়ীরা এমন ভাবেই দেওয়ানা ছিলেন। সৈয়দ আহমদ বেরলভীর অনুসারীরা তাকে এভাবেই মেনে নিয়ে জীবনবাজি লাগিয়েছেন দ্বীনের জন্য। কাসেম নানুতভীর নামের বরকতের উপর যারা কাসেমী লিখেন এমনি গর্বের সাথে। মাদানী রহ এর নামের সাথে মাদানী লিখেন এটাও সেই আবেগেই।

শায়খুল হাদীস, হাফেজ, মাওলানা সা’দ কান্ধালভি হাফিজাল্লাহু একটি নাম, একটি আর্দশ। একটি চেতনা। বিশ্বব্যাপি মুসলিম উম্মাহর নব জাগরনে এক নিরব বিপ্লব। উম্মাহর মাথার উপর এক সুবিশাল এলেম ও আমালের ছায়াবৃক্ষ। উম্মতে মোহাম্মদীর এক আলোর মিনার। দিকভ্রান্ত কোটি কোটি বনি আদমের পথচলার বাতিঘর। জগতজুড়ে যার চিন্তা-চেতনা আজ ছড়িয়ে আছে জড়িয়ে আছে অগনন আল্লাহর পথের পথিকদের মাঝে। এক বিংশ শতাব্দির ইসলামের নব জাগরনে যিনি অক্লান্ত এক সিপাহসালার। যিনি গোটা উম্মতে মোহাম্মদীকে রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লামের সিরাত ও সাহাবায়ে রাযিআল্লাহু আনহুম আজমাইনদের নকশে কদমের উপর উঠানোর জন্য ১৪শত বছরের পুরানো ত্বরিকাতে উম্মতের হেদায়তের আলো প্রজ্জলন করে চলছেন।

মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী রহঃ এর হাতে গড়া এই শিষ্য আজ তারপরবর্তি সময়ে আরব আজমে দ্বীনের মহান এক খাদেম হিসাবে নিজেকে আত্মনিযোজিত করেছেন। যারা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তিন যুগ ধরে গোটা দুনিয়াতে মকবুলিয়তের সাথে দ্বীনী খেদমত গ্রহন করছেন। বিশ্বব্যাপি মুসলমানদের ঈমানী আন্দোলন, দাওয়াত ও তাবলীগের আমীর হিসাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁরদ্বারা কাজ নিচ্ছেন। সাদাসিদা জিন্দেগী আর চলনে বলনে সত্যকারের ওরাসাতুল আম্বিয়ার প্রতিচ্ছবি। ছাহাবাদের মতো সারাক্ষন যার ভিতরে উম্মাহর শান্তি, কামিয়াবী আর সফলতার ফিকির বিদ্ধমান। দাওয়াত, তালিম, তাযকিয়ার নববী সকল ধারাতে তিনি এক মহান যুগ নির্মাতা মহান রাহবার হিসাবে নিরলস সাধনা,মেহনত,মোজাহাদা করে যাচ্ছেন। যার সুফল থেকে আলহামদুলিল্লাহ গোটা দুনিয়ার মুসলমানরা উপকৃত হচ্ছেন। খাছ করে সাহাবাদের আওলাদেদের মাঝে আরব বিশ্বে মুসলমানদের মাঝে ঈমানী চেতনার জাগরন ও দাওয়াতি কাজের বিপ্লবীক অগ্রযাত্রা মাওলানা সাদ কান্ধালভির পরিশ্রমের ফসল।

আজ আমরা হানাফী হিসাবে গর্বিত কোন ফেরকা হিসাবে নয় বরং কোরআন সুন্নাহ আলোকে ইমাম আবু হানীফার দর্শনকে আমরা সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য মনে করে। এভাবে মালেকা, হাম্বলী, শাফী রহ এর অনুসারীরা স্ব স্ব ইমামকে নিয়ে মুসলমান হিসাবে চর্চা ও গর্ববোধ করেন। ইমাম দের অনুসরণ ইসলামের প্রথম যুগে ছিল না, পরবর্তীতে…
১-কুফা শহরকে কেন্দ্র করে ইমাম আবু হানিফার অনুসরণ চলতে থাকে।
২-মদিনা শহরকে কে কেন্দ্র করে ইমাম মালিক এর অনুসরণ চলতে থাকে।
৩-বাগদাদকে কেন্দ্র করে ইমাম আহম্মদ ইবনে হাম্বল এর অনুসরণ চলতে থাকে।
৪-মিশরকে কেন্দ্র করে ইমাম শাফেঈ এর অনুসরণ চলতে থাকে। এভাবে ইমাম সুফিয়ান ছাওরীর, ইমাম লাইছ ইবন সা’দ, ইমাম মুবারক, ইমাম আওযাই সহ প্রায় ১১/১২ জন মুজতাহিদ আলেমের নামে ১১/১২ টি মাযহাবের সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে চার মাযহাবের ব্যাপকতায় অন্যান্য মাজহাব বিলুপ্ত হয়ে যায়। চার মাযহাবের আলাদা আলাদা শরীয়াহ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোন মাযহাবের অনুসারীই কিন্তু ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল আর্দশ বা চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি। বরং স্ব স্ব মাযহাবের লোকজন প্রত্যেকে নিজ নিজ ইমামের অনুসারী খাটি মুসলিম হিসাবেই নিজেকে মেলে ধরেন।

এমনিভাবে তরিকতের লাইনে চার তরীকার লোকজন স্ব স্ব শায়েখের নামে পরিচয় দিতেই গর্ববোধ করেন।
১- কাদেরিয়া। এ তরীকা হযরত শায়েখ আব্দুল কাদির জিলানী রহঃ এর দিকে নিসবত করে বলা হয়।
২- চিশতিয়া। এ তরীকা হযরত শায়েখ মুঈনুদ্দীন চিশতী রহঃ এর দিকে নিসবত করা।
৩- সোহরাওয়ারদিয়া। এ তরীকা হযরত শায়েখ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহঃ এর দিকে নিসবত করে বলা হয়।
৪- নকশবন্দিয়া। এ তরীকা হযরত শায়েখ বাহাউদ্দীন নকশবন্দী রহঃ এর দিকে নিসবত করা।

এ চার সিলসিলা হাদীসের সনদের মতই তাদের শায়েখ হয়ে তাবে তাবেয়ী, তারপর তাবেয়ী, তারপর সাহাবী তারপর অবশেষে রাসূল সাঃ পর্যন্ত গিয়ে মিলেছে। এ চার তরীকার শায়েখদের ইলমী ও আমলী হালাত ছিল সর্বজনবিদিত। ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাতের কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের দিয়েছিলেন ব্যাপক পরিচিতি ও প্রসিদ্ধি। তাই পরবর্তী বুজুর্গানে দ্বীন নিজেদের নিসবত তাদের সাথে শুরু করে দেন। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে এ চার তরীকা। এমনিভাবে যুগের কোন মুজাদ্দিদ আলেমের সাথে নিজেকে তার খাদেম ও গোলাম হিসাবে পরিচয় দেয়া ইসলামের ইতিহাসে চলে আসছে। এভাবে যোগ্য কোন মনীষার নামের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা নিসন্দেহে গর্ব, অহংকার ও আল্লাহ পাকের দরবারে মকবুলিয়তের বিষয়।

আর যুগের এমন কোন মুজাদ্দেদ নেই যিনি এতে বড় মাপের হয়েছেন, যে তার নামের উপর দ্বীনের জন্য জান মাল বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়েছে আর তারা এমন নির্যাতন ও ফতোয়া বাজিতে স্বীকার হননি, ইতিহাসে এমন ঘটনা একটিও নেই।

আজ যারা সাদ পন্থী দের উপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালাচ্ছেন তারা কিন্তু ব্যাক্তি “সাদ কান্ধালভীর” বিরোধীতা করছেন না, বরং ইমারত ভিত্তিক দ্বীনি কাজের বিরুদ্ধে দ্বীন বহিভূত আমীরবিহীন শূরাইজম প্রতিষ্টার শয়তানী নেজাম বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন। যেন খেলাফে সিরাত ও সুন্নাত, খেলাফে সাহাবী, খেলাফে আকাবির আসলাম ও এটি খেলাফে তাবলীগের তিন হযরতজীর। ইমারতের বিরোধীতা করে তারা ইজমায়ে সাহাবায়ে রাঃ এর কাজের বিরোধীতা করছেন। তাই আমীর মানাই দ্বীন আর আমীর নীতির বিরোধী তাই বদদ্বীন। সাদ পন্থী মানেই সুন্নাহ ও সিরাতের পুনাঙ্গ অনুসারী এবং মুসলিম উম্মাহর একমাত্র জামাত ও আমীরের অনুসারী।

২২বছর ধরে যার হৃদয়গ্রাহী কুরআন হাদীস ভিত্তিক বয়ান শুনে আমরা জীবন সাজিয়েছি। আজ আপনি অমুক তমুক দুনিয়াদার আলেম এসে তহকীক ছাড়াই বলবেন আমি “সাদ পন্থী” বাতিল! আমি গোমরা!! সাদ ইহুদিদের দালাল!!! আর আমি আপনার কথায় কোন প্রকার তাহকীক ছাড়াই বিভ্রান্ত হয়ে আমার ঈমান, আমার আমল, আমার আখেরাতে, আমার কবর, হাশর, মিজান ও পুলসিরাতকে আমীরের বিরোধীতা করে বরবাদ করে দিব তা ভাবলেন কি করে?

যে আমীরের সিরাত ও সুন্নাহ ভিত্তিক তাকওয়াপূর্ণ বয়ান শুনতে কোটি কোটি মুসলমানের মজমা আজ জমা হচ্ছে। যেসব মজমায় আহলে হক লক্ষাধিক আলেম হাজির হচ্ছেন। দুনিয়ার সকল মাযহাবের বড়বড় আলমেরা যার এতেয়াতে করছেন। চলুন না বিরোধীতার আগে একবার নিজামুদ্দিন মারকাজে! আর কাছে থেকে দেখে আসুন যুগের মুজাদ্দিদকে।

দুনিয়াতে যদি সত্যকারের কোন মিল্লতে জমহুরিয়াত থাকে সেটি তাঁর বাপ, দাদা, পরদাদার দোয়ার বরকতে আজ মাওলানা সাদ কান্ধালভীর ইমারতের উপরই কায়েম আছে। তিনি চার ত্বরীকার শায়েখ।যার সিলসিলা রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত আছে। তিনি একজন হাদীস বিশারদ। শায়খুল হাদীস হিসাবে যার এলেমের সনদ নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত আছে। যার খান্দানের নসবনামা খলিফাতুল রাসুল হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযিঃ পর্যন্ত আছে। যার উপর আস্থা রেখে মাত্র ১৮ বছর বয়েসে খেলাফতের তাজ মাথায় পরিয়ে দিয়েছিলেন শায়খুল আরব ওয়াল আজম মুফাক্কিরে ইসলাম আল্লামা সৈয়দ আবুল হাসান আলী মিয়া নদী রহ। আমরা আজ তাঁর সেই আমানতের উপর আস্থা রাখছি “সাদ পন্থী” হিসাবে।

তার পরেও তার অনুসারীদের এবং তার উপর বাংলার জমহুরিয়াত আলেমদের এই অপপ্রচার ও নির্যাতন কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সাদপন্থী সকল দ্বীন ভাই ও সাথীদের বলব, এটিই সাদ পন্থী হিসাবে আমাদের হকের সবচেয়ে বড় আলামত ও কবুলিয়াতের লক্ষণ।

কারন, ইসলামের ইতিহাস তাই বলে। হযরত উসমান রাযিঃ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ইমাম হাসান ও হুসাইন রাযিঃ ইতিহাস সহজ যুগের সকল আহলহকগন এভাবেই কথিত জমহুরিয়াত আক্রমণ ও অপপ্রচারে শিকার হয়েছেন। কেবল মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস নয়, এই উপমহাদেশের ইতিহাসের দিকে চোঁখ দিলেও দেখা যায়, জামানার বিচক্ষন, দুরদর্শী মুজাদ্দেদ আলেমরা সবসময়ই স্বগোত্রের লোকদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। স্বগোত্রের আহলে হক আলেমদের দ্বারা বা তাদের ভুল ফতোয়া কিংবা এখতেলাফি/ মতানৈক্যের কারনে, আকাবির হযরাতদের অনেক সেরেতাজ আলেমরা কতোটা নির্মম নির্যাতিত হয়েছিলেন তা পাঠ করলে আৎকে উঠতে হয়। নির্যাতন এমনভাবে হয়েছে যে, আমীরে হিন্দ শাহ ওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দিসে দেহলভী রহ হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কাটা হয়েছিল ফতোয়া দিয়ে। তিনিই আজ আমাদের আকাবির। আমাদের এলেম ও তাসাউফের প্রধান বাতিঘর। সব আকাবিরদের সুতিকাগার থাকে ঘিরেই। এজামানায় এমন নির্যাতন কারো উপর কল্পনাও করা যায় না। সেক্ষেত্রে আজ যারা মাওলানা সাদ কান্ধালভিরর বিরোধীতা করছেন তা কিছুই না।

ইতিহাস এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সবার স্থান হয় না। যুগ-জমানা পাল্টে দেয়া ব্যক্তিরাই সেখানে স্থান পায়। এজন্য তাদের উপর দিয়ে বারোধীতার স্লাইকোন চলে। ধর্য্যের সাথে যারা এসব মোকাবিলা কনে যান, তারাই একদা ইতিহাস হন। আমরা ইতিহাসের পাতায় সে সব ইতিহাসে কেবল পড়েছি, কিন্তু আমরা এজামানায়ও এমন একজন আকাবিরকে পেয়েছি যিনি জুলুমে স্বীকার হয়েছেন তাদের মতোই। এর রাজসাক্ষি হচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। আকাবিরদের মতোই তার জীবনী এভাবে পাঠ করবে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম। শুনাতে পারব পরবর্তি প্রজন্মকে এযুগের এমন এক মজলুম মনীষার কথা।
উপমহাদেশের অন্যতম মুহাদ্দিস যফর আহমাদ উসমানী রহ:বলেন
ان الرجل لا يبلغ درجة الصديقين حتي يرميه سبعون صديقا مثله بالكفر والزندقةوهكذا سنةالله في اولياإه
মানুষ তখনই সর্বোচ্ছ বুযুর্গ হয়,যখন তার মত কম্পক্ষে আরো ৭০জন বুযুর্গ বলবে,আরে ওতো কাফের মুরতাদ।আওলিয়ায়ে কেরামের বেলায় এটিই আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম। (ই’লাউস সুনান 3/28) (মুকাদ্দমায়ে মুসনাদে ইমাম আজম 1/38)
নিজের অজ্ঞতা দূর করুন। আমি কঠিন কোন কিতাবের নাম বলছিনা, বেফাকের নেসাব ভুক্ত মেশকাত জামাতের ‘দেওবন্দ আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্য ও অবদান’ গ্রন্থ খুলে দেখেন। যারাই উম্মতের জন্য কাজ করেছেন, তাদের প্রায় সবারর বিরোদ্ধেই নানান ফতওয়া দেয়া হয়েছে। আরো শুরু থেকে দেখলে ইমাম আবু হানীফা রহ. থেকে শুরু করে ইমাম বুখারী রহ. সহ কে বাদ পড়েছেন দেখুন।
কে যেন বলেছিলেন, ওলীদের দুইটি স্তর আছে।
(১) মাকামে ওয়ীলায়াহ,
(২) মাকামে নবুওয়াহ।
যারা মাকামে ওয়ীলায়াতে থাকেন তারা সর্বজন নন্দিত হন, দুনিয়ার কুটচাল থেকে মুক্ত থেকে খানকায় বসে দ্বীনের খেদমত করেন। আর যারা মাকামে নবুওয়াতে থাকেন, তাদের জাতির বেশির ভাগ মানুষই পছন্দ করে না। কিন্তু জাতির জন্য তাদের ত্যাগই সবচেয়ে বেশি। তারা সমালোচনায় রক্তাক্ত চামড়া খুলে মেলে দেন সমালোচকদের মাথার উপর রোদের তাপ থেকে বাঁচাতে…। এমন যুগের নকীব, জামানার মুজাদ্দেদ উলামায়ে কেরাম আগেও যেমন এমন ফতোয়াতে স্বীকার হয়েছেন তেমনি আজো তারা সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। তাদের বিবরণ বিস্তারিত লিখলে বেশ বড় একখানা কিতাব লেখা যাবো।
হাদীসে ক্বুদসীতে ‘আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন ,
من عادي لي وليا فاذنته الحرب
যারা আমার কোন ওলীর সাথে সত্রুতা রাখবে ,তাদের সাথে আমার যুদ্ধ চলবে ,অতএব যাদের সাথে আল্লাহ পাকের যুদ্ব চলবে তাদের আর খয়রিয়ত নেইl
আরেকটি বর্ননা এই যে -তোমরা ঈমানদারদের দূরদৃষ্টি কে ভয় কর , কারন তারা তো আল্লাহ পাকের নূরের আলোকে দেখতে পায়l
ইতিহাস অামাদের যে চমকপ্রদ তথ্যটি দিচ্ছে তা হলো, মানুষ এসব ফতোয়াবাজ বা বিরোধীতাকারী ফরৎনাবাজ লোকদের মনে রাখেনি। কিন্তু জুলুমে শিকার ব্যক্তিগণের নাম ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করছে। শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রহ. মাওলানা কাসেম নানুতাবি রহ. মাওলানা স্যায়িদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি রহ. অাল্লামা ইকবাল রহ. মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, মাওলানা জামাল উদ্দিন আফগানী রহঃসহ অসংখ্য যুগের নকীবদের উপর উপমহাদেশে সময়ে সময়ে ভয়ংকর কুফরি ফতোয়া আরোপিত হয়েছে। তাদের উপর কে বা কোন কোন প্রতিক্রিয়াশীল ওলামা ফতোয়া দিয়ে ঘায়েল করতে চেয়েছেন সেটি অাজ অার কেউ মনে রাখেনি।

আরেক ভাবে বললে, যাদের নামই ইতিহাসে পরবর্তীতে সোনালী কালিতে লেখা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই এই পরিবেশ মোকাবেলা করেছিলেন। হুজুগী ফেৎনা আর নানান সমালোচনার কটিন পাহাড় অতিক্রম করে তারা অমর হয়েছেন। ইমাম বুখারী রহ. তো শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার কাছে যাওয়ার আর্জী পেশ করেছেন। মিশকাতের শরাহ মিরকাতুল মাফাতিহের মাকতাবায়ে রশীদিয়া সংস্করনে ইমাম বুখারীর জীবনী দেয়া আছে। সংক্ষেপে এতো সুন্দর আলোচনা আর দেখিনি। পড়ে দেখুন, চোখ দিয়ে অঝোর ধারার কান্না বের হবে।

এভাবেই। যুগে যুগে এসবই ঘটেছে। এবং ঘটবে। ফেৎনাবাজরা হারিয়ে যাবেন যুগের অন্তলোকে। আর চিন্তাশীল যুগ শেষ্ট মনীষা গন যাদের বিরোধীধীতা করা হয়েছিল, নানান বাহানা আর গায়েল করার ফতোয়া নামক হাতিয়ার ব্যবহার করে, তারাই ইতিহাসে অমর হয়ে রবেন যুগ যুগান্তরে। আকাবিরদের ইজ্জত হননের নষ্ট খেলায় মেতে উঠেছিল স্বগোত্রের লোকজন তারাই একদিন ঘৃনীত হয়ছে ইতিহাসের কাটগড়ায়।

আর যারা স্রোতের সাইক্লোন মোকাবিলায় পাহারসম ধর্য্য নিয়ে যুগের নকীব ও মুজাদ্দিদ আলেমদের আনুগত্য করে গেছেন শত আক্রমনের মোকাবিলায় তাদেরকেই আজ শ্রদ্ধা করা হয়, শ্রদ্ধা করবে আগামি পৃথিবী।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!