শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

কাকরাইলে জোর করে জুম্মা পড়ালেন ক্বারী জুবায়ের | মুসল্লীদের ক্ষোভ

কাকরাইলে জোর করে জুম্মা পড়ালেন ক্বারী জুবায়ের | মুসল্লীদের ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগনিউজ বিডিডটকম | কাকরাইলে প্রসাশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ব মার্কাজ ভারতের নিজামুদ্দীন এর আনুগত্যশীল মূলধারার তাবলীগের মুরুব্বী ও সাথীরা বর্তমানে অবস্থান করছেন। নামাজসহ সকল আমল নিজামুদ্দীনের অনুসারী তাবলীগের আলেমরাই করছেন। কিন্তু গতকাল পাকিস্থানের কথিত আলমীশুরার সদস্য, মাওলানা ক্বারী জুবায়ের সাহেব বাহির থেকে এসে জোর করোই ছাত্রদের নিয়ে গতকাল জুম্মার নামাজ পড়ান। এসময় তাবলীগের সাথী ও মুসল্লিদের মাঝে চরম অসন্তুষ্টি এবং ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়।

জানাযায়, নিজামুদ্দীন অনুসারী তাবলীগের মূলধারার সাথীরা যখন কাকরাইল মসজিদে নজম চালাবেন তখন জুবায়ের সাহেব ও তার অনুসারীরা কাকরাইল মসজিদের বাহিরে থাকবেন। এর আগে প্রসাশনের নির্দেশে কাকরাইলের শান্তিশৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে কাকরাইল মাসজিদের উভয় পক্ষের দুই মুরিব্বী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও মাওলানা ক্বারী মোহাম্মদ জুবায়েরকে মসজিদের বাহিরে থাকতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রথম থেকেই সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কাকরাইলের বাইরে অবস্থান করছেন। কিন্তু মোহাম্মদ জুবায়ের প্রসাশনের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে হেফাজতের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শুক্রবার এসে জুম্মার নামাজ পড়িয়ে বিভিন্ন ফায়সালা করতে থাকেন।

কাকরাইলের একাধিক সূত্র তাবলীগ নিউজকে জানিয়েছেন, কাকারাইলে জুম্মার নামাজের জন্য মশওয়ারায় ফায়সালাকৃত কোন স্থায়ী খতিব নেই। কিন্তু ক্বারী সাহেব কেন বারবার কাকরাইলের খতিবের পদ জোড় করে আকড়ে থাকার জন্য এমন মরিয়া হয়ে উঠেছেন,এমন প্রশ্ন হাজারো মুসল্লীর।

গতকাল কাকরাইল মাদরাসার ও বহিরাগত অসংখ্য ছাত্র নিয়ে যখন জোড় করে জুম্মার নামাজ পড়াতে কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করেন তখন সাধারন তাবলীগের সাথী ও মুসল্লীদের মাঝে এহেন আচরণে ক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। প্রকাশ্যে তার পেছনে নামাজ পড়তে মুসল্লীরা আপত্তি জানান। তারপরে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা যেন না ঘটে এব্যাপারে নিজামুদ্দিন অনুসারী তাবলীগের আহলেশুরাগন সবাইকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। নতুবা মাদরাসার ছাত্র ও মুসল্লিদের মাঝে গতকাল জুম্মার পূর্বে যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেত পারত।

গতকাল শুক্রবার কাকরাইলের নিয়মিত মশাওয়ারায় কাকরাইল মসজিদের প্রবীণ মুরুব্বী ও তাবলীগ জামাতের আহলেশুরা মাওলানা মোশাররফ হোসেন সাহেব নামাজ পড়ানোর ফায়সালা করা হয়। কিন্তু জুম্মার পূর্বক্ষণে জুবায়ের সাহেবের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করে নামাজ না পড়াতে বলা হয়।

কাকরাইলের অনেক মুকিমিন মনে করছেন, উভয়পক্ষের সমঝোতা ও কাকরাইলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করে, দেশে ধর্মীয় সংঘাত তৈরির ষড়যন্ত্র হিসাবেই জুম্মার নামাজ পড়ানোর নামে জুবায়ের সাহেবকে দিয়ে এরকম উগ্রতা প্রদর্শন ও ছাত্রদের মহড়া দেখানো হচ্ছে।

এছাড়া মুসল্লীদের অসন্তুষ্টি অবস্থায় মসজিদে ইমাম সাহেবের জোর করে নামাজ পড়ানো কতোটা শরীয়াহ সম্মত ও ইসলাম সমর্থন করে এমন প্রশ্ন কাকরাইলের হাজারো মুসল্লীর। এমন ইমামের পেছনে নামাজ পড়া কতোটা সহী হবে এমন প্রশ্ন মুসল্লিদের মূখে মূখে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!