মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

সিদ্দিকে আকবর রাযিঃ এর জীবনের অজানা অধ্যায়

সিদ্দিকে আকবর রাযিঃ এর জীবনের অজানা অধ্যায়

তাবলীগ নিউজ বডিডটকম

রাসুলে আরবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রধান সহচর স্যাইয়্যিদিনা হযরত আবুবকর সিদ্দিক রাযিঃ। রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি সবার এহসানেরর বদলা দিয়েছি, কেবল আবুবকরের এহসানেরর বদলা দেই নিয়ে, সেটি সয়ং আল্লাহ দিবেন। যেই আবুবকর রাযি জান্নাতে যাবার আগে কোন উম্মত জান্নাতে যাবে না। আটকে জান্নাত তাকে পাওয়ার জন্য্য ইস্তেকবাল হবে। রাসুলের হিযরতের কঠিন মুহূর্তের একমাত্র বিশস্ত সাথী। নবীর জীবদ্দশাতেই যিনি বিশ্বনবীর মুসল্লায় ইমামতি করবার গৌরব অর্জন করলেন। রাসুলের ইন্তেকালের পরে উম্মতের ডুবন্ত কিস্তিতে যিনি ভাসিয়ে তুললেন। সেই সিদ্দিকে আকবর, নাম্বার ওয়ান মুসলমানকে নিয়ে যেভাবে গবেষণা হতে পারত, হওয়া উচিত ছিল, তার ধারে-কাছেও নেই কেউ! হযরত আবুবকর সিদ্দিক রাযিঃ যেভাবে রাসুলের ইন্তেকালের পরে সাহাবাদের চরম সংকটময় মুহূর্তে ইসলামের হাল ধরেছিলেন, ইতিহাস সাক্ষী ইসলামের ১৪বছরের ইতিহাসে অন্তত কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে তার খান্দানের আওলাদগনই ইসলামের বিজয় কেতন উড়িয়েছেন।

এক লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি আবু বকর, যার শানে কোরআনের সাত সাতটি আয়াত-
১)ইজ আখরাজাহুল্লাজিনা কাফারু সানিয়াসনাইনি ইজহুমা ফিল গারি ইজ ইয়াকুলু লি-সাবিহি লা তাহযান, ইন্নাল্লাহা মাআনা
২)আল্লাজি যা-আ বিস সিদকি ওয়া সাদ্দাকা বিহি
৩)ওয়ামা লি-আহাদিন ইন্দাহু মিন নি’মাতিন তুযজা
৪)ইল্লাবতিগা’আ ওয়াজহি রাব্বিহিল আ’লা
৫) ওয়ালা ইয়া’তালি উলুল-ফাজলি মিনকুম
৬)ওয়া সাইয়ুজান্নাবুহাল আতকাল্লাজি য়্যূ’তি মালাহূ ইয়াতাযাক্কা
৭)লাক্বাদ সামিয়াল্লাহু্ কাওলাল্লাজিনা কা-লূ ইন্নাল্লাহা ফাকিরুউঁ ওয়া নাহনু আগনিয়া -নাযিল হয়।

যার শানে নবীজী থেকে-
-আনা মাদিনাতুল ইলমে ওয়া আবু বাকরিন আসাসুহা, -মুরূ বা-বাকরিন ফাল য়্যূসাল্লী বিন-নাস…’ এমন ৭০ থেকেও বেশি হাদিস বর্ণিত হয়, যে লোকটি নবী-হারা অসহায় এতিম উম্মতকে অভিভাবকত্ব দিয়ে বুকে আগলে রাখা সেই মানুষ, সেই আবু বকর আজ এতটাই এতিম হয়ে গেছেন যে, সাধারণ মুসলমান তো কি, উম্মতের আলেমগণ পর্যন্ত ২২ জুমাদিউস সানির মাঝে আলাদা কোনো বিশেষত্ব খুঁজে পান না! সিদ্দিকে আকবর তাদের গবেষণার কেন্দ্রে আসতে পারেন না।

বিশ্বনবীর শৈশবের সাথী, কৈশোরের সাথী, যৌবনের সাথী, বৃদ্ধাবস্থার সাথী, জীবনের পুরোটা সময় নবীর সাথে ছায়ার মত ছিলেন এই আবু বকর। রাসুলের চিন্তা, চেতনা, সুচ-ফিকির, নজরিয়া- সব কিছুর সাথে এই একজন মানুষেরই ছিল শতভাগ মিল! নবীর ভালোলাগা- মন্দ লাগাই ছিল আবু বকরের ভালোলাগা-মন্দ লাগা। এই মিল ভালবাসার অদ্বিতীয় উদাহরণ। বিবেক হয়রান হয়ে যায় যখন চোখে পড়ে আবু বকরের সাথে রাসুলের মিলগুলো কতবেশি একবিন্দুতে মিলে ছিল-দেখলে। বয়সে মিল, চলনে মিল, বলনে মিল, আচরণে মিল, সুখের বেলায় মিল, শোকের বেলায়ও মিল! জীবনে মিল, মরণে মিল, নিজেদের জীবনে মিল, সন্তানের জীবনেও মিল, এমনকি জামাইদের মাঝেও এত মিল! আমরা কখনো খুঁজে দেখি না সেগুলো? অতো সময় আমাদের নাই!!

-রাসুলের বয়স ৬৩, আবু বকরের বয়সও ৬৩!
-রাসুলের ইনতিকাল সোমবারে, আবু বকরের ইনতিকালও সোমবারে!
-রাসুলের মৃত্যু হয় দুপুরবেলা, আবু বকরের মৃত্যুও হয়েছিল দুপুরবেলা।
-ইনতিকালের ১৫ দিন আগে রাসুলের জ্বর এসেছিল, আবু বকরেরও ইনতিকালের ১৫ দিন আগেই জ্বর এসেছিল!
-ইনতিকালের চারদিন আগে রাসুলের সাকরাত শুরু হয়, আবু বকরেরও চারদিন আগে সাকরাত শুরু হয়।
-রাসুল ইনতিকালের ৪ দিন আগে মুসল্লা ছেড়েছিলেন, আবু বকরকেও ঠিক চার দিন আগেই মুসল্লা ছাড়তে হয়
-রাসুল তাঁর মুসল্লায় সেই লোককেই দাঁড় করিয়েছিলেন, উনার পরে যার খলিফা হবার কথা, অর্থাৎ আবু বকরকে, আবু বকরও তাঁর মুসল্লায় সেই লোককেই দাঁড় করিয়েছিলেন, উনার পরে যার খলিফা হবার কথা, অর্থাৎ উমরকে।
-রাসুলকে ইনতিকালের ২ বছর আগে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল, আবু বকরকেও দুই বছর আগে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল।
-রাসুলকে বিষ দিয়েছিল ইহুদিরা, আবু বকরকেও বিষ দিয়েছিল ইহুদিরা।
-রাসুলকে বিষ দিয়েছিল একটি মেয়ে, আবু বকরকেও বিষ দিয়েছিল একটি মেয়ে।
-রাসুলকে বিষ দেয়া হয়েছিল খাবারের সাথে, আবু বকরকেও বিষ দেয়া হয়েছিল খাবারের সাথে।
-রাসুলকে বিষ দেয়া হয়েছিল গোশতের সাথে, আবু বকরকেও বিষ দেয়া হয়েছিল গোশতের সাথে।
-বিষ মিশ্রিত খাবার খেয়ে রাসুলের সাথীরা সব মারা যান, রাসুলকে আল্লাহপাক বাঁচিয়ে দেন, বিষমিশ্রিত খাবার খেয়ে আবু বকরেরও সাথীরা সব মারা যান, উনাকে আল্লাহপাক বাঁচিয়ে দেন।

এখনই অবাক হবার দরকার নেই। আরো আছে। এভাবে জীবনের প্রত্যেকটি ব্যাপারে দু’জন মানুষের মধ্যে এত মিল থাকা-, আমার মনে হয় না কোনো বাক্য দিয়ে সেটার সঠিক ব্যাখ্যা করা যাবে! ———————-
-রাসুলের মেয়ে জয়নাবকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল, আবু বকরের মেয়ে আসমাকেও ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।
– রাসুলের মেয়ে আসমাকেও ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।
– রাসুলের মেয়ে ফাতেমা চাক্কি ঘুরিয়ে রুটি বানিয়েছেন, আবু বকরের মেয়ে আসমাও চাক্কি ঘুরিয়ে রুটি বানিয়েছেন।
– রাসুলের দুই জামাই হযরত আলি এবং হযরত উসমান আশারায়ে মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত, আবু বকরেরও দুই জামাই হযরত যুবায়ের এবং স্বয়ং হুজুর সা আশারায়ে মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত।
-রাসুলের নাতি হযরত হোসাইনকে শহীদ করা হয়েছিল, আবু বকরেরও নাতি আব্দুল্লাহ বিন যুবাইরকেও শহীদ করা হয়েছিল।
-রাসুলের নাতিকে শহীদ করে মাথা কেটে নেজায় লটকানো হয়েছিল, আবু বকরের নাতিরও মাথা কেটে নেজায় লটকানো হয়েছিল।
-রাসুলের নাতিকে শহীদ করার আগে তাঁর খান্দানকে জবাই করা হয়েছিল, আবু বকরের নাতিকে শহীদ করবার আগে তাঁরও খান্দানকে জবাই করা হয়েছিল।

এগুলোকে কাকতাল বলে না। এত নিখুঁত মিলকে আর যাই বলা যাক, কাকতাল বলা যায় না। এগুলো হঠাৎ মিলে যাওয়া কোনো ব্যাপার হতে পারে না। আল্লাহ-পাক যে আবু বকরকে বিশ্বনবীর সর্বোত্তম সহচর হিশেবে কবুল করে নিয়েছেন, এগুলোকে তারই প্রমাণ বলা যায়।

লক্ষ্য করি, শেষ বেলাতেও, দু’জনের বিদায় বেলাতেও কত মধুময় একাঙ্গিকতা-
-ইনতিকালের আগে হুজুর মিসওয়াক চাইলেন, আবু বকরও ইনতিকালের আগে মিসওয়াক চাইলেন।
-ইনতিকালের সময় হুজুরের মাথার সামনে আয়েশা বসেছিলেন, আবুবকরেরও ইনতিকালের সময় মাথার সামনে আয়েশাই বসা ছিলেন।
-হুজুরের মিসওয়াক আয়েশাই চিবিয়ে দিয়েছিলেন, আবু বকরের মিসওয়াকও আয়েশাই চিবিয়ে দিয়েছিলেন।
-ইনতিকালের আগ মুহূর্তে হুজুর বললেন, ‘আল্লাহুম্মা ফির রফিলিক আ’লা’, ইনতিকালের আগ মুহূর্তে আবু বকরও বললেন, ‘আল্লাহুম্মা ফির রফিলিক আ’লা’।
-দুনিয়া ছাড়ার আগে হুজুরের শেষ উচ্চারণ ছিল, ‘আস-সালাত! ‘আস-সালাত! দুনিয়া ছাড়ার আগে আবু বকরেরও শেষ উচ্চারণ ছিল, ‘আস সালাত! আস সালাত!’
-যে হুজরায় হুজুরের লাশ রাখা হয়েছিল, সেই একই হুজরায় আবু বকরেরও লাশ রাখা হয়েছিল।
-যে চার পায়ায় হুজুরকে গোসল দেয়ানো হয়, সেই একই চার-পায়ায় আবু বকরকেও গোসল দেয়ানো হয়।
-যে চাদরে হুজুরকে ঢেকে রাখা হয়েছিল সেই একই চাদরে আবু বকরকেও ঢেকে রাখা হয়েছিল।
-কিয়ামতের দিন যে হুজরা থেকে নবী উঠবেন সেই একই হুজরা থেকে আবু বকরও উঠবেন, আল্লাহু আকবার!

– কিয়ামতের দিন রাসুল যাবেন যেদিকে, দেখা যাবে আবু বকরও যাবেন সেদিকে। রাসুল যখন মাকামে মাহমুদে, আবু বকরও তখন মাকামে মাহমুদে।
-এবং সবশেষে রাসুলুল্লাহ যে জান্নাতে আবু বকরও প্রিয় বন্ধুর সাথে সেই জান্নাতে…

তথ্য, মাওলানা রশীদ জামিলের ব্লগ থেকে

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!