মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

পেট্টল ঢেলে গায়ে আগুন: অমানবিক ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়

পেট্টল ঢেলে গায়ে আগুন: অমানবিক ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়

হাফজ আব্দুর রহিম রাজন

সিনিয়র প্রতিবেদক তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

কিশোরগঞ্জে তাবলীগের মূলধারা সাথী হাফেজ আবদুর রহিমের গায়ে হেফাজত সন্ত্রাসীদের পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানোর ঘটনায় সারাদেশে নিন্দা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সারাদেশের শান্তিকামী ধর্মপ্রান মানুষ এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

চিন্তাশীল আলেমরা বলছেন, ওজাহাতি ও হেফাজতের উগ্রপন্থীদের জুলুম ও তাবলীগের সায়ীদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা আইয়ামে জাহিলিয়াতের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে।

তারা মনে করছেন ক্রমশ দেশব্যাপী কিছু বাজারী বক্তাদের উস্কানী, ধর্ম ও জিহাদের অপব্যাখ্যা এবং হেফাজত সংশ্লিষ্ট কিছু কেন্দ্রীয় নেতার চন্দনে বাংলাদেশে ধর্মীয়,সংঘাত ও পাকিস্তানের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দিচ্ছে। দ্রুত কঠোর হস্তে এদের আইনের আওতায় না আনলে সরকারে উন্বায়ন যাত্রা ও ভাবমূর্তি চরম ক্ষুর্ণ হতে পারে।

এব্যাপারে বিশিষ্ট আলেম মুফতী এহিয়া মাহমুদ বলেন, কোন জীব জানোয়ারের গায়েও আগুন দেয়া হারাম। কোন অমুসলমানদের সাথেও এমন আচরণ করা যায় না। আর একজন মুসলমানের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া এটি অনেক বড় জুলুমের কাজ। আগুনে জ্বালানো একমাত্র আল্লাহর শান। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেক এই অধিকার রাষ্ট্র ও শরীয়ত কাউকেই দেয় নি। মসজিদ থেকে মুসলমানদের বের করে দেয়া, তাবলীগের কাজে বাঁধা দেয়া এসব কোন মুসলমানের কাজ হতে পারে না।

একজন কুরআনে হাফেজের গায়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় অনলাইন অফলাইনে সারাদেশের তাবলীগের সাথীদের মাঝে চরম ক্ষোভ কাজ করছে। তাবলীগের অন্যতম মুরুব্বী, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন, মারকাজুল উঠলুম আশ-শরীয়্যাহ সাভারের মহাপরিচালক আল্লামা জিয়া বিন কাসিম বলেন, যেখানে একটি পিপড়াকে পুড়িয়া মারা ইসলামে জায়েজ নেই, সেখানে একজন দ্বীন দ্বার মুসল্লীর গায়ে মতপার্থক্যের কারণে পেট্টল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার মতো বর্বরতা আইআমে জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। এদের নাহক হওয়ার এর চেয়ে বড় দলীল আর কি হতে পারে। আমরা সন্ত্রাসীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আর সারা দেশে তাবলীগের সাথীদের উপর জাহেলি যুগের মতো বর্বর আকআক্রমণ ও তাবলীগের কাজে বাঁধা দেয়া বন্ধ না হলে দেশকে পাকিস্তান শুরাপন্থীরা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দিকে টেলে দিচ্ছেন। ধর্য্যের একটি সীমা থাকে। সেটি অতিক্রম করলে পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যাবে। আমরা আইন হাতে তুলে নিতে সাথীদের নিষেধ করছি বারবার। আশা করি প্রসাশন পূর্বের মতোই সততার সাথে মজলুম ও সত্যের পক্ষে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবেন।

জানাযায়,কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তারারির নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে কিশোরগঞ্জ তাবলীগ মারকাজের দায়িত্বশীল হাফেজ আবদুর রহিম রাজন (২৮) নামে এক যুবককে শরীরে পেট্রল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

রোববার রাতে উপজেলা সদরে সাব রেজিষ্টারের কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। রাজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে গত রবিবার আব্দুর রহিম রাজনের নিজ এলাকার মসজিদে একটি তাবলীগ জামাত এলে মাওলানা যুবাইরপন্থী হেফাজত নেতা সোহেল আহমদ ও মাহমুদুল হাসান মসজিদে জামাতটিকে থাকতে বাঁধা দেয়। এসময় তাদের সাথে আব্দুর রহিমের কথা কাটাকাটি হয় এক পর্যায়ে তারা ব্যার্থ হয়ে আব্দুর রহিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পরে তলাটা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

রাজনের মামা মো. নয়ন মিয়া জানান, আগুনে তার শরীরের অনেক অংশ পুড়ে গেছে। এমন রমজান মাসে এই নৃসংতার বিচার চাই আমি।

স্থানীয়রা জানান, তবলীগ সংশ্লিষ্ট সমস্যায় সে মাওলানা সাদের অনুসারী হওয়াতে তার সাথে তাবলীগের মাওলানা যুবাইরপন্থী হেফাজত গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল। তারই সুত্র ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় এক ব্যাবসায়ি বলেন, ‘পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানোর মত জঘন্য কাজ যারা বাংলাদেশে শুরু করেছে তাদের আদর্শের কেউ এমন কাজ করতে পারে। স্বাভাবিক কারো পক্ষে এমন অমানবিক কাজ করা সম্ভব নয়’।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শামীম মিয়া জানান, রাজনের শরীরে পেট্রোল অথবা কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার শরীরের ২০ শতাংশের ও বেশি পুড়ে গেছে।

সোমবার এঘটনায় আব্দুর রহিমের মামা মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামী করে কাটিয়াদী থানায় মামলা দায়ের করেন।পরে কাটিয়াদী থানা পুলিশ অভিযুক্ত তাবলীগের মাওলানা যুবাইর গ্রুপের সোহেল ও মাহমুদুলকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাজনের শরীরে আগুন দেয়ার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। রাতেই রাজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল ও মাহমুদুল নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, আগুনে দগ্ধ আবদুর রহিম রাজন উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জালালপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার পুত্র।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!