মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

হাফেজ কুরআনকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় চিন্তাশীল আলেমরা কি বলছেন

হাফেজ কুরআনকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় চিন্তাশীল আলেমরা কি বলছেন

আবদুল্লাহ শাকিল, বার্তা সম্পাদক, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

কিশোরগঞ্জের তাবলীগের মূলধারা সাথী হাফেজ আবদুর রহিমের গায়ে হেফাজত সন্ত্রাসীদের পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানোর ঘটনায় সারাদেশে নিন্দা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সারাদেশের শান্তিকামী ধর্মপ্রান মানুষ এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। তাবলীগের শান্তিকামী সারাদেশের সাথীদের মাঝে চরম ক্ষোভ কাজ করছে।

এবিষয়ে কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী আজিমুদ্দীন তাবলীগ নিউজ বিডিডটকমকে বলেন, বাংলাদেশে কিছু ধর্ম ব্যাবাসায়ী নিজেদের স্বার্থে ইসলামকে বারবার ব্যাবহার করছে। তাদের উগ্রপন্থী ও জঙ্গিপনার সাথে দ্বীনের কোন সম্পর্ক নেই। সেই অসুস্থ চিন্তার মানুষগুলোর ইন্দনেই সারাদেশে একের পরে একটা ভয়াবহ ধর্মীয় সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এরা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তাবলীগের কাজকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে অবশেষে গায়ে আগুন দেয়ার মতো জঘন্যতম কাজও করেছে। এদের এখনি থামানো না গেলে বাংলাদেশকে তারা আফগানিস্তান পাকিস্তান বানিয়ে ছাড়বে।

আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের সেক্রেটারী এডভোকেট রাশেদুল আলম মোল্লা বলেন, এটি ধর্মের নামে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে নেক্কারজনক কাজ। যায় আইএস দের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। একজন হাফেজের কুরআনের গায়ে আগুন দিয়ে এরা ইসলামকে কলংকিত করেছে। দেশের ভার্বমূতি রক্ষার স্বার্থে এই বকিত মস্তিস্কের লোকদের এবং তাদের যারা মডিবাই করে উস্কে দিচ্ছে সেই নেতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরী।

বিশিষ্ট লেখক ও অনলাইন একটিভিস্ট মাওলানা রুহুল আমীন সাদী (সাইমুম সাদী) বলেন, এটি একটি জঘন্যতম কাজ। এই কাজের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। কাদের ইন্দনে ধর্মের নামে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার মতো কাজ তা সুষ্ট তদন্তের দাবী রাখে। অপরাধি যেই হোক না কেন তাদের বিচার হওয়া উচিত।

মাদরাসায়ে সুফফা আল ইসলামী ঢাকার মুহতামি মুফতী শফিউল্লাহ বলেন, একজন মুসলমান এবং হাফেজ কুরআনের গায়ে হেফাজতপন্থী কিছু লোক আগুন দিল। একজন অমুসলিম জালেমকেও তো আগুনে পুড়িয়ে মারা শরিয়তে সমর্থন করে না। এরা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ইসলাম সম্পর্কে কি ম্যাসেজ পৌছে দিচ্ছে এটি সরকারকে ভাবতে হবে। এরা দ্বীনের নামে ওজাহত করে করে যায় করছে এ-র সাথে ইসলাম ও মুসলমানের কোন সম্পর্ক নেই। ক্রমবর্মান ওজাহাতি নেতাদের তাবলীগ নিয়ে উস্কানী মূলক বক্তব্য আজ এমন বর্বর কাজ করতেও উৎসাহীত করেছে তাদের উগ্রপন্থী লোকদের। তাই আমরা আশা করব যাদের উস্কানিতে এই কাজ হয়েছে তাদেরকেও প্রশাসন আইনের আওতায় আনবে।

চিন্তাশীল আলেমেদ্বীন কাকরাইল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন নারী বলেন, ওজাহাতি ও হেফাজতের উগ্রপন্থীদের জুলুম ও তাবলীগের সাথীদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা আইয়ামে জাহিলিয়াতের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে একটি বিষাক্ত প্রানীকে মারা ইসলাম ধর্মে জায়েজ নেই, সেখানে একজন হাফেজের কুরআন মুবাল্লীগ মুসল্লীর গায়ে রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ে আসার সময় পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো বর্বরতা মেনে নেয়ার মতো নয়। এই বর্বর জঙ্গিদের সম্পর্কে বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে হবে। কেবল মসজিদে তাবলীগ জামাতের লোকজনকে সহযোগীতা করার অপরাধে এমন বর্বরতা জাহেলি যুগ কেও হার মানিয়েছে। আমরা এদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

বিশিষ্ট লেখক, অনুবাদক, আলেমেদ্বীন মাওলানা নিজামুদ্দীন মিসবাহ বলেন, ক্রমশ দেশব্যাপী কিছু বাজারী বক্তাদের উস্কানী, ধর্ম ও জিহাদের অপব্যাখ্যা এবং হেফাজত সংশ্লিষ্ট কিছু কেন্দ্রীয় নেতার ইন্দনে বাংলাদেশে ধর্মীয়,সংঘাত ও পাকিস্তানের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দিচ্ছে। দ্রুত কঠোর হস্তে এদের আইনের আওতায় না আনলে সরকারে উন্বায়ন যাত্রা ও ভাবমূর্তি চরম ক্ষুর্ণ হতে পারে। নুসরাত হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গনে এমন বর্বর কাজের প্রতিবাদে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

জানাযায়,কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তারারির নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে কিশোরগঞ্জ তাবলীগ মারকাজের দায়িত্বশীল হাফেজ আবদুর রহিম রাজন (২৮) কে মসজিদে সাদপন্থী তাবলীগ জামাতের লোকজনকে সহযোগীতা করার অেরাধে শরীরে পেট্রল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

রোববার রাতে উপজেলা সদরে সাব রেজিষ্টারের কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। রাজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জুবায়েরপন্থী তাবলীগের উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীদের আগুনে তার শরীরের ৭০ভাগ অংশ পুড়ে গেছে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!