বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:২০ অপরাহ্ন

ওদের মূল টার্গেট তাবলীগকে নিশ্চিহ্ন করা

ওদের মূল টার্গেট তাবলীগকে নিশ্চিহ্ন করা

মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম মিলন, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

জামাত এসেছে মসজিদে। জমহুর পক্ষীয় জামাত। বেশীরভাগই আমার পূর্বের খাতিরের মানুষ। এর মধ্যে বেশী খাতিরের এক ভাই আমার দোকানে এসে বলছে, মিলন ভাই আপনি আলেমদের সাথে নাই, সহ্য হচ্ছে না। জীবন ভর আপনাকে আলেমদের সাথে চলতে দেখলাম। শত শত ভাঘা ভাঘা আলেমরা আপনার বন্ধু। আপনি কেন আলেম ছাড়া?
রাগ ভালই উঠছিল। হজম করলাম।

পরে ঠান্ডা মাথায় বললাম, আমি মাওলানা সাদ সাহেবের পক্ষীয় ও বিশ্ব মার্কাজ নিজামুদ্দীন এর অনুসারী হয়েও মেহনতে শক্তি পাচ্ছি না। আর আপনারা মূলছুট হয়ে কিভাবে শক্তি পাচ্ছেন? বুঝলাম না মিলন ভাই, মূল ছুট মানে? আমি বললাম, মূলছুট বুঝেন নাই ? না না ভাইজান আসলেই, বেশ কিছু দিন যাবতই আপনার কাছে আসমু আসমু বইলা আসতে পারতেছি না।

আমি বললাম, আপনারা এখনো ঐ পক্ষে কিভাবে মেহনত করতেছেন আমি বুঝিনা।
ওলামায়ে ছু’দের টার্গেট এখনো বুঝেন নাই? তাদের টার্গেট হলো, এ মেহনতকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করা।
আদম ও হাওয়া আঃ কে শয়তান কিভাবে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেছে , এ ইতিহাস আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। শয়তান কিন্তু আদম ও হাওয়া আঃ- এর চরম হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে এসেছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত উনারা জান্নাত থেকে বিতাড়িত হননি, ততক্ষণ পর্যন্ত শয়তানের শয়তানী বুঝতে পারেননি।

ছু’দের কথা হলো, মাওলানা সাদ সাহেব গোমরাহ হয়ে গেছেন!!! আসলে এটা একটা মারাত্মক কূটনীতিক চালবাজি কথা। এত সুন্দর একটা পবিত্র নছলের উপর মিথ্যা তোহমদ লাগাইলো, এটাই কিন্তু শেষ না, সাদ সাহেবকে যারা অনুসরণ করে, তারাও গোমরাহ। এখানে বড় একটা সূক্ষ্মতা হলো, বিশ্ব মার্কাজ নিজামুদ্দীনে সাদ সাহেবকে অনুসরণ করছেন দুই চারজন ছাড়া প্রবীন মুরুব্বি কমছে কম ৯৮ % । এত লম্বা সময় মেহনত করার পর যদি এত বিপুল সংখ্যক মুরুব্বি এ কাজ করতে করতে গোমরাহ হয়ে যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে এ কাজ হক নয়!!!! অথবা আগে হক থাকলেও এখন আর হক নাই !!

কাকরাইলেরও একই অবস্থা বাংলাদেশের শুরা ছিলেন ১১ জন। এদের মধ্যেও ৬ জনই সাদ সাহেবের দিকে। একেকজন মেহনত করছেন ৪০ থেকে ৫০ বছর যাবত। এতদিন মেহনত করতে করতে ইনারাও গোমরাহ!!! ইহুদীর দালাল এজেন্ট কত কি!! কেউ কেউ বেশী জজবায় কাফেরও বলে ফেলে।

আমি যদি বলি, এত বড় বড় নূর বা আলো এত দীর্ঘদিন মেহনত করার পর যদি আলু হয়ে যায়, তাহলে আমি কোন্ আলু? তাহলে এ মেহনত করে লাভ কি? নাউযুবিল্লাহ।

মূলত মেহনত করনেওয়ালা সাথী এবং সাধারণ লোকদের মধ্যে এ চিন্তা চেতনা সৃষ্টি করাই হলো ওলামায়ে ছু’দের মূল টার্গেট। আর এ ধারণা সৃষ্টি হলে অটোমেটিক এ কাজ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাবে।

আমার কথা হলো, যদি বলা হত, না, উনারা গোমরাহ হয় নাই, বরং উনাদের মধ্যে একটু মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে মনটারে মানানো যায়, ব্যাপার না, মতানৈক্য হতেই পারে। সাহাবায়ে কেরাম রাঃদের মধ্যেওতো একসময় ভুল বুঝাবুঝিতে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে গড়িয়েছিল।

ভাইজান এখনো সময় আছে, প্লিজ দেখুন, মাওলানা সাদ সাহেবের ভুল গুলো কি আসলেই ভুল? যদি নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ করেন, দেখবেন ঘটনা কি, আর আমাদের শুনানো হচ্ছে কি!

প্রশ্ন করতে পারেন, এ কাজ নষ্ট হয়ে গেলে ওলামায়ে ছু দের লাভ কি? উম্মত যত মূর্খ থাকবে ,ততই তারা উম্মতকে ধোকা দিতে পারবে, পকেট গরম করতে পারবে। এ মেহনতের দ্বারা মানুষের দ্বীনি চোখ ফুটে যায়। এ ফুটন্ত চোখে এদের ভন্ডামী খুব সহজেই ধরতে পারে।

আহা! আপনারা প্রতিশোধের জজবা নিয়ে লম্ফঝম্ফ করছেন আর ভাবছেন, এই বুঝি মক্কা জয় হয়ে গেলো!পুরোপুরিই ধোকা, অথচ এই নাপাকি জজবা পরাজয়ই ডেকে নিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য ,বাংলাদেশের অনেক সরল মনের হক্কানী ওলামায়ে কেরামও না বুঝে হুজুগে এ কালো মিশনে জড়িয়ে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ আস্তে আস্তে তারা বিষয়টি বুঝতেছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!