রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:২০ অপরাহ্ন

রোজায় শারীরিক উপকারিতা

রোজায় শারীরিক উপকারিতা

ডাঃ কামরুল ইসলাম,তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

রোজা রাখার মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট শারীরিক উপকারিতা। বিশেষ করে বছরে এক মাস অভুক্ত থাকলে তা স্বাস্থ্যরক্ষায় বেশ ভূমিকা রাখে। এ জন্য প্রাপ্তবয়স্ক সক্ষম মানুষের উচিত রোজা রাখার অভ্যাস করা।রোজা রাখা শুধু ধর্মীয় অনুভূতির জন্য নয়, স্বাস্থ্য রক্ষাতেও কার্যকরী৷ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে ভূমিকা রাখে রোজা। এর উপকারিতা সম্পর্কে জার্মানিতে একটি সমীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে, শতকরা ৫৫ জন জার্মান একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। একটি অ্যামেরিকান গবেষণা থেকে জানা যায়, রোজা রাখলে তা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

দূষিত পদার্থ বের করে দেয়
ফাস্টফুড, সাদা রুটি, পিৎসা জাতীয় তৈরি খাবার শরীরের ভেতরে ঢুকে ‘টক্সিন’ বা দূষিত পদার্থে রূপান্তরিত হয়৷ এগুলো শরীর থেকে বের হওয়া জরুরি৷ আর সে ক্ষেত্রেই কাজে আসে উপোস করা৷ সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট এবং দূষিত ও ক্ষতিকারক পদার্থগুলো বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে বের হয়ে যায়৷ তাছাড়া রোজা রাখলে অনেকটা সময় না খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণও কিছুটা কমে, ফলে গ্যাসট্রিকের ব্যাথাও কম হয়।

ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক
সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের ‘গ্লুকোজ’ বা শর্করা জাতীয় খাবারের দ্রুত ক্ষয় হয় এবং তা দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়৷ এর ফলেই ‘ইনসুলিন’-এর উৎপাদন কমে যায় এবং তা প্যানক্রিয়াসকে খানিকটা বিশ্রাম দেয়৷ গ্লুকোজ ক্ষয়ের ফলে শরীরে ‘গ্লাইক্লোজেন’ তৈরি হয় এবং ‘ব্লাডসুগার’ কমে ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক হয়।

রক্তচাপ হ্রাস করে
না খেয়ে থাকা অবস্থায় শরীরে গ্লুকোজ ও চর্বিকণাগুলোর ক্ষয় হয়ে শক্তি উৎপাদন হয় এবং ‘মেটাবলিক রেট’ কমে৷ তাছাড়া অন্যান্য হরমোনের মতো ‘স্ট্রেস হরমোন’-ও কমে, ফলে রক্তচাপও কমতে পারে৷ এছাড়াও রোজার মাসে ধূমপান কম করা হয়৷ তাই এটা ধূমপান একেবারের মতো ছেড়ে দেবারও একটা পরীক্ষা হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে৷ সারাদিন রোজা রাখলে শরীরে ‘কোলেস্টোরল’-এর পরিমাণও কিছুটা কমে, ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে।

ওজন কমে
রোজা বা সংযমের মাসে সারাদিন না খাওয়াতে পাকস্থলী কিছুটা ছোট হয় তাই ওজন কমানো হয় সহজ৷ এই অভ্যাস রোজার পরে অব্যাহত রাখলে ওজন নিয়ে আর কোনো চিন্তাই থাকে না৷ অনেক জার্মান কোনো উৎসব বা উপলক্ষ্যে বেশি খাওয়া-দাওয়ার পর অথবা বছরে এক বা দু’বার নিয়ম করে কয়েকদিন উপোস করেন৷ এই উপোসের সময় খাবারের তালিকায় থাকে সেদ্ধ শাক-সবজি, সবজির স্যুপ, গ্রিন টি, অর্থাৎ প্রচুর পানি জাতীয় খাবার৷ যা শরীরকে হালকা ও পরিষ্কার করে।

রোজার পরেও সুন্দর ও ফিট থাকুন
রোজা যেহেতু এখন গরমের সময় হচ্ছে, তাই বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়৷ তাই ইফতারের সময় ভাজা, পোড়া কম খেয়ে বিভিন্ন মৌসুমি ফল, ডাবের পানি ও তরমুজ খাওয়া স্রেয়৷ তরমুজ হার্ট, ধমনী, কিডনির জন্য খুব উপকারী৷ তাছাড়া আম, কাঁঠাল, আনারস, বাঙ্গি থাকতে পারে ইফতারের টেবিলে৷ এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন এ আর সি, যা ‘অ্যান্টি অক্সিডেন্ট’ হিসেবে কাজ করে এবং রোজার পরেও ত্বক সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখে।

ধূমপায়ীদের জন্য রোজা বেশ কষ্টকর মনে হলেও স্বাস্থ্যগত দিক থেকে রোজার অনেক উপকার রয়েছে। প্রতিবার ধূমপান করার পর ফুসফুসে একটি কালো দাগ পড়ে। এ দাগের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এক সময় ফুসফুস ঝাঁঝরা হয়ে যায়। এর থেকে উৎপত্তি হয় নানা জটিল রোগ। রমজানে ধূমপানের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এর আশঙ্কা কম থাকে। এছাড়া যারা ধূমপান পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্যও রোজা বিরাট একটি সুযোগ এনে দেয়।

রোজা কিডনিতে পাথর তৈরি প্রক্রিয়া প্রতিরোধ করে৷ কারণ, রোজায় পানাহার থেকে বিরত থাকার দ্বারা হাইপোভলিউমিক হাইপার ন্যাট্রেমিয়া হয়৷ আর রক্তে সোডিয়ামের তুলনামূলক আধিক্য ক্যালসিয়ামের কৃস্টালাইজেশনে বাধা দেয়৷ ফলে কিডনিতে পাথর তৈরি প্রক্রিয়া প্রতিহত হয়৷

রমজানে শরবত, পানীয় ও তরল খাদ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন গবেষকরা ও গবেষণাকেন্দ্র অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে রোজার ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে, রোজা মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতাসহ মানসিক শান্তি ও প্রবৃদ্ধির অপরিহার্য নিয়ামক। অর্থাৎ, রোজা সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে নিমিষেই। সব মিলিয়ে রোজা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com