মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

শিশুদের মাহে রমজান ও রোজা

শিশুদের মাহে রমজান ও রোজা

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক

বছর ঘুরে প্রতি বছর মাহে রমজান আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়। রোজা মুসলমানদের বহুল পরিচিত ও পালনীয় ইবাদাত। এ সময় মুসলিম উম্মাহ পুরো এক মাস রোজা পালন করে। রমজান হিজরি সালের নবম মাস। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। রমজান শব্দটি আরবি রমজ থেকে এসেছে। রমজ অর্থ দহন বা পোড়ানো। এ মাসে রোজা পালন করলে মানুষের মধ্য থেকে লোভ-লালসা, পাপ-পঙ্কিলতা ও হিংসা-দ্বেষ দূরীভূত হয়। আগুন যেমন কোন জিনিসকে পুড়িয়ে ফেলে, ঠিক তেমনি রোজাও মানুষের অসৎ কাজকে পুড়ে ফেলে। রোজা পালনকারী রমজানে তার যাবতীয় পাপ মুছে ফেলার সুযোগ লাভ করে। এই অর্থে এই রোজার মাসকে মাহে রমজান বলা হয়। রোজা ফারসি শব্দ। এর অর্থ উপবাস। আরবিতে রোজাকে বলা হয় সওম। সওম-এর বহুবচন সিয়াম। এর অর্থ বিরত থাকা। তাই শরিয়তের পরিভাষায় রোজা বলতে বোঝায়-সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারসহ আল্লাহর নিষিদ্ধ সকল কাজ থেকে বিরত থাকা। রোজা শুধু হজরত মুহাম্মাদ (সা)-এর উম্মত মুসলমানদের ওপরই ফরজ হয়নি, এর আগেও রোজা পালনের বিধান ছিল। শিশুদের রোজা ও করণীয় : রোজার ব্যাপারে এসেছে, রুবাই বিনতে মুআওয়েয ইবনে আফরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার সকালে মদিনার আশেপাশে আনসারদের এলাকায় (এই ঘোষণা) পাঠালেন, যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় সকাল শুরু করেছে, সে যেন তার রোজা পালন সম্পন্ন করে। আর যে ব্যক্তি বে-রোজদার হিসেবে সকাল করেছে সে যেন বাকি দিনটুকু রোজা পালন করে। এরপর থেকে আমরা আশুরার দিন রোজা পালন করতাম এবং আমাদের ছোট শিশুদেরকেও (ইনশাআল্লাহ্) রোজা রাখাতাম। আমরা (তাদের নিয়ে) মসজিদে যেতাম এবং তাদের জন্য উল দিয়ে খেলনা তৈরী করে রাখতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে সেই খেলনা দিয়ে ইফতারের সময় পর্যন্ত সান্তনা দিয়ে রাখতাম। [হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারি (নং ১৯৬০) ও মুসলিম (নং ১১৩৬)] উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রমজান মাসে এক মদ্যপকে বলেছিলেন, “তোমার জন্য আফসোস! আমাদের ছোট শিশুরা পর্যন্ত রোজাদার!” এরপর তাকে প্রহার করা শুরু করলেন। [হাদিসটি ইমাম বুখারি সনদবিহীন বাণী (মুআল্লাক) হিসেবে শিশুদের রোজা পরিচ্ছেদে সংকলন করেছেন] যে বয়সে শিশু রোজা পালনে সক্ষমতা লাভ করে সে বয়স থেকে পিতামাতা তাকে প্রশিক্ষণমূলক রোজা রাখাবেন। এটি শিশুর শারীরিক গঠনের উপর নির্ভর করে। আলেমগণের কেউ কেউ এ সময়কে ১০ বছর বয়স থেকে নির্ধারণ করেছেন। শিশুদেরকে রোজা পালনে অভ্যস্ত করে তোলার বেশকিছু পন্থা রয়েছে : বিভিন্ন উপায়ে শিশুদের রজমানের রোজা পালনে অভ্যস্ত কতে তোলা সম্ভব। নিন্মে তেমন কিছু পদ্ধতি আলোচনা করা হলো- ১। শিশুদের নিকট রোজার ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসগুলো তুলে ধরতে হবে। তাদেরকে জানাতে হবে সিয়াম পালন জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। জান্নাতের একটি দরজার নাম হচ্ছে আর-রাইয়্যান। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারগণ প্রবেশ করবে। ২। রমজান আসার পূর্বেই কিছু রোজা রাখানোর মাধ্যমে সিয়াম পালনে তাদেরকে অভ্যস্ত করে তোলা। যেমন- শাবান মাসে কয়েকটি রোজা রাখানো। যাতে তারা আকস্মিকভাবে রমজানের রোজার সম্মুখীন না হয়। ৩। প্রথমদিকে দিনের কিছু অংশে রোজা পালন করানো। ক্রমান্বয়ে সেই সময়কে বাড়িয়ে দেয়া। ৪। একেবারে শেষ সময়ে সেহেরি গ্রহণ করা। এতে করে তাদের জন্য দিনের বেলায় রোজা পালন সহজ হবে। ৫। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে তাদেরকে রোজা পালনে উৎসাহিত করা। ৬। ইফতার ও সেহেরীর সময় পরিবারের সকল সদস্যের সামনে তাদের প্রশংসা করা। যাতে তাদের মানসিক উন্নয়ন ঘটে। ৭। যার একাধিক শিশু রয়েছে তাদের মাঝে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করা। তবে খুবই সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে যাতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া শিশুটির প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করা না হয়। ৮। তাদের মধ্যে যাদের ক্ষুধা লাগবে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে অথবা বৈধ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা। এমন খেলনা যাতে পরিশ্রম করতে হয় না। যেভাবে মহান সাহাবীগণ তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রে করতেন। নির্ভরযোগ্য ইসলামী চ্যানেলগুলোতে শিশুদের উপযোগী কিছু অনুষ্ঠান রয়েছে এবং রক্ষণশীল কিছু কার্টুন সিরিজ রয়েছে। এগুলো দিয়ে তাদেরকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে। ৯। ভাল হয় যদি বাবা তার ছেলেকে মসজিদে নিয়ে যান। বিশেষতঃ আসরের সময়। যাতে সে নামাযের জামাতে হাযির থাকতে পারে। বিভিন্ন দ্বীনি ক্লাসে অংশ নিতে পারে এবং মসজিদে অবস্থান করে কোরান তিলাওয়াত ও আল্লাহ তাআলার যিকিরে রত থাকতে পারে। ১০। যেসব পরিবারের শিশুরা রোজা রাখে তাদের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য দিনে বা রাতের কিছু সময় নির্দিষ্ট করে নেয়া। যাতে তারা সিয়াম পালন অব্যাহত রাখার প্রেরণা পায়। প্রিয়ডটকম সৌজন্যে

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com