বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

সম্পাদকীয়: তিনি ছিলেন হযরতজীর মাথার উপর এক ছায়াবৃক্ষ

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ,তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান আমানত ইমারত ভিত্তিক যাবতীয় দ্বীনী কাজ পরিচালিত হওয়া, পীর মুফতী ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভী এই আমানতের একটা অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন। হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ রেখে যাওয়া ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতের মোবারক মোহনতের এই আমানতের তিনি ছিলেন মহান আধ্যাত্বিক রাহাবর। আজীবন বুকে আগলে রেখেছেন নিজামুদ্দিনওয়ালাদের তায়াল্লুক ময়াল্লার পরশ দিয়ে। বড় বড় ফেৎনার সময় সাহস, হিম্মত, দোয়া আর পরামর্শ দিয়ে এই কাজকে সহীহ রুখে রাখতে তিনি ছিলেন আড়ালে থাকা একটা মহান সিপাহসালার।

বিশেষ করে দাওয়াত ও তাবলীগের বর্তমান বিশ্ব আমীর হযরতজী শায়খুল ইসলাম মাওলানা সাদ কান্ধালভীর মাথার উপর এক সুবিশাল ছায়াবৃক্ষ। সাথীরা জানিয়েছেন, গতকাল তাঁর ইন্তেকালের খবর পেয়ে হযরতজী এতে বেশি কেঁদেছেন যে, সাথীরা কখনো তাকে এত কাদঁতে দেখেনি কখনো। প্রতি শুক্রবারে হযরতজী কান্ধালায় শায়খের সোহবতে যেতেন।

রাসুলে পাক সা.এর মহান এই আমানতকে এমনভাবে বুঝেছিলেন হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাযি: যে, রাসুলের ইন্তেকালের চেয়ে কঠিন কোন অবস্থা যায় নি উম্মতের উপর, সেই হাতলেও তিনদিন নবিজীর লাশ মোবারক দাফন না করে আগে উম্মতের জিম্মাদার বা আমীর ঠিক করেছিলেন। তিনিও আমাদের আকাবিরদের এই আমানতকে এভাবেই বুঝেছিলেন। ভারতের ৯৫ভাগ আলেম মুফতী ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভীর কথাকে সম্মান করেন। তিনি উলামাদের এভাবেই নিজামুদ্দিনের সাথে আগলে ছিলেন।

হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ মৃত্যুর আগে এই কাজের আমীর ঠিক করে গিয়েছেন। এই ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতি কাজকে দুনিয়া থেকে মুছে দিতে বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দিন বিরোধী বাতিল অপশক্তির নীল নকশা ও কালো ছায়া একশত বছর ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। হত্যা খুন সহ এমন কোন কাজ নেই যা, তারা নিজামুদ্দিন মারকাজিয়ত ও ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতি কাজকে ধ্বংস করতে করে যায় নি।যার সর্বশেষ প্রকাশ্যরূপ ২০১৫ সালের পাকি কথিত আলী আশুরার এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীল নকশা। তিনি নিজামুদ্দিন বিরোধী সকল ফেৎনার বিরুদ্ধে হিমালয়ের মতো ছিলেন এক সুবিশাল ব্যাক্তিত্ব। গত নভেম্বরে সর্বশেষ তাকে দেখতে আমি অধম (লেখক) কান্ধালায় গিয়েছিলাম। সারাদিন শতশত মানুষ তার দোয়া নিতে গোটা ভারত থেকে তার দরবারে আসত। আসতেন গরীব দিন হুজুর থেকে শীর্ষ আলমেরা এমনকি দেশের ভিন্নধর্মী সবোর্চ্চ নীতিনির্ধারকগন। এমনটিই ছিল ভারতজুড়ে তার আধ্যাত্বিকতার সুমহান প্রভাব।

হযরতজী মাওলানা ইউসুফ কান্ধালভী রহ এর এতিম নাতি, মাওলানা হারুন কান্ধালভী রহ এর অবুজ পিতৃহারা বালক, তার আপন বড় ভাই মাওলানা ইজহারুল হাসান কান্ধালভীর নাতিকে তাদের মৃত্যুর পরে আপন নাতির মতোই নিজ সন্তানদের সাথে তিনি আগলে রেখেছেন, তরবিয়ত দিয়েছেন। বিশেষ করে মুফাক্কিরে ইসলাম আল্লামা সৈয়দ আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী রহ এর ইন্তেকালের পরে তিনি খেলাফত ও ত্বরীকতের মুকুট নতুন করে আবার আলী মিয়ার খলিফা মাওলানা সাদ সাহেবের মাথার উপর পরিয়ে দেন।

চলমান আলমী শূরার ফিৎনা শুরু হবার পর থেকেই মাওলানা সাদ সাহেবকে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছেন। ভারতের বড় বড় আলেমদের নিয়ে একাধিকবার মাওলানা সাদ কান্ধালভীর ইমারতকে সমর্থন দিতে নিজামুদ্দীন মারকাজে অবস্থান করেন। সম্প্রতি মাওলানা সাদ সাহেব জামাত বারাকাতুহুম কারো সাথে ইসলাহী সম্পর্কে কায়েম করেন নি, এমন একটা মিথ্যা কথা খবিসি আলমি শুরার পক্ষ থেকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিলে, তিনি তাঁর দস্তখতসহ নিজ খলিফাদের তালিকা পুনঃপ্রকাশ করেন। এই তালিকায় মাওলানা সাদ সাহেব দামাত বারকাতুহুম এর নাম সাত নম্বরে রয়েছে। এবং জীবিতদের মধ্যে একটা নাম্বারে।

তিনি উলামায়ে কেরাম, জেয়ারতে গেলে সবসময় বলতেন, “মাওলনা সাদ সাহেবের সাথে সার্বক্ষণিক আল্লাহর সাহায্য রয়েছে।” তিনি আরো বলেন, মাওলানা সাদের চেহারার একদিকে হরতজী ইউসুফ আরেক পাশে মাওলানা ইলিয়াছ রহ এর হুবহু মিল। আমিতো দেখি, এ যেন দুই হযরতের রুহুনীয়ত ও দাওয়াতের শক্তি মিলিত হয়ে মাওলানা সাদ হয়ে হাজির হয়েছেন।

তিনি বর্তমান হাতে আরো ভবিষ্যৎদানী করে গেছেন, নিজামুদ্দিনই মারকাজ থাকবে। এখান থেকে যেন কাটা পড়বে দাওয়াতের কাজ থেকে সেই মাহরুম হবে। তিনি আরো বলতেন, এই হালত আশাই এই কাজ সহি রোখের উপর উঠার ও সাহাবাদের নকশা কদমের উপর চলার মকবুলিয়তের আলামত। মাকামে যত উচা হবে, হালত ও পরিক্ষা সেই মাপের হবে। এটি সাহাবাদের সময়ও হয়েছে এখনও হচ্ছে। এই হালতে ইস্তেকামাতের সাথে আমীরকে আঁকড়ে থাকাই দ্বীন। যে আঁকড়ে থাকবে ফেৎনা থেকে বেঁচে যাবে। আর যেন বাগাওতি করবে সে হারিয়ে যাবে।

প্রবীন বুজুর্গ, ‘ওয়ালিউল্লাহ বাগান’ এর শতবর্ষী মনীষা, হযরত আব্দুল কাদির রায়পুরী রহ এর একমাত্র জীবিত খলিফা মাওলানা ইফতিখারুল হাসান কান্ধলভি হাফিযাহুল্লাহ। (যিনি হযরতজী মাওলানা সাদ সাহেবকে খেলাফতি দিয়েছেন) ও হযরতজী ইলিয়াস রহ সর্বশেষ বেঁচে থাকা শাগরেদি খাছদের অন্যতম এই মহান বুজুর্গ ছিলেন কুতুবে আখতার, সাহেবে কাশফ ও চার তরীকার খেলাফত প্রাপ্ত পীর। আল্লাহ তায়ালা হযরতের কবিরকে নূর দিয়ে ভরে দিন, তার পরিবার ও হযরতজীকে সবরে জামিল নসিব করুন। আমিন

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!