সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৯ অপরাহ্ন

জনসমুদ্রে শায়খের জানাজা পড়ালেন হযরতজী

মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী,কান্ধালা থেকে, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

ভারতের খ্যাতিমান আলেমেদ্বীন, পীর হযরত মাওলানা মুফতী শায়খুল হাদীস ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভী (১০৪)  রহ এর জানাজা আজ সম্পন্ন হয়েছে।  জানাজায় কয়েক লক্ষ মুসলমান ও ভারতবর্ষের বিপুল সংখ্যক আলেম উলামা, পীর মাশায়েখ শরীক হয়েছেন। জানাজা শেষে তাকে মাকবারায়ে কান্ধালায় সমাহিত করা হয়েছে।

জানাজা নামাজের ইমামতি:
মুফতী ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভীর স্মরনকালের  এই সর্ববৃহৎ জানাজার নামাজ গতকাল কে পড়াবেন এ নিয়ে ভারতজুড়ে জল্পনা কল্পনার শেষ ছিল না। মাশায়েখে কান্ধালা ও কুল হিন্দের বড়বড় উলামা মাশায়েখ গতকালই তার ইন্তেকালের খবর পেয়ে কান্ধালায় শোক জানাতে হাজির হন। গতকাল বাদ এশা এনিয়ে পরামর্শ বসেন কান্ধালার বুজুর্গানে কেরাম। তখন তার বড় ছাহেবজাদা প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, মুয়াররিখুল হিন্দ মাওলানা নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভী বলেন, আব্বার সবচেয়ে মহব্বতের শাগরেদ ও খলিফা তাবলীগের বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভী।  আমরা তিন ভাই ( সবাই বড় আলেম ও মুফতী) এবং দুলাভাই (শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রহ এর ছাহেবজাদা)  পীরে কামেল আল্লামা তলহা কান্ধালভী চাচ্ছি আব্বার জানাজা যেন আমীরে তাবলীগ জামাত হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভী হাফিজাল্লাহু পড়ান। তখন পুরো কান্ধালার ও কুল হিন্দের সকল উলামায়ে কেরাম তাতে ঐক্যমত ও সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

জানাজার পূর্ব মুহুর্তে হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভী

যখন এই মাশওয়ারা হয়, বিশ্ব আমীর, কান্ধালা খান্দানের মাথার তাজ, কুতবে আলম মাওলানা সাদ কান্ধালভী তখন গাড়িতে। নিজামুদ্দিন মারকাজে তারাবির নামাজ পড়িয়ে স্বপরিবারে কান্ধালায় আসেন গভীর রাতে। আবারো পীর তলহা কান্ধালভী দামাত বারাকাতুহুম আপন শশুরের এবং আল্লামা নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভী দামাত বারাকাতুহুম পিতার জানাজার নামাজ নিজে না পড়িয়ে বিশ্ব আমীরকে দিয়ে পড়িয়ে, হযরতজীর প্রতি কান্ধালার খান্দানের সকলের পূর্ণ সমর্থন, আস্থা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য উম্মাহর সামনে পুনরায় পেশ করলেন।

জানাজায় লাখো মানুষের জনসমুদ্র:
গতকাল রাত থেকেই গোটা ভারত থেকে আলেম উলামা ও মুসলমানদের স্রোত আসতে থাকে।শেষ রাত থেকে দিল্লী, উত্তরপ্রদেশ, মোজাফফর নগর, শাহী মুরাদাবাদ, লক্ষ্নোসহ নানান স্থান থেকে বিশেষ ট্টেনের ব্যাবস্থা করে রেল মন্ত্রনালয়। ভারত ছাড়াও ইউরোপ আমেরিকা, আরব, আফ্রিকা, বাংলাদেশ, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে  হাজারো মুসল্লী জানাজায় শরিক হন। সকাল থেকে কান্ধালার মহাসড়কে ছিল জনসমুদ্র।

ভীরের কারনে জানাজা দেরীতে শুরু হয়:
সকসল ৮টায় মরহুম শায়খের লাশ বাসা থেকে বের করা হয়। মাদরাসা ও ঈদগাহ ময়দান বাড়ি থেকে ৫মিনিটের পায়ে হাটা পথ। কিন্তু ভীরের জন্য  আনতে সময় লাগে দেড় ঘন্টার বেশি।

জানাজায় পুলিশ ও বিজিপি মোতায়ন:
অতিরিক্ত ভীর সামাল দিতে রাজ্য সরকার গতকাল রাত থেকেই কয়েক প্লাটুন পুলিশ মোতায়ান করে। সকালে সে ভীর জনসমুদ্রে রূপ নিলে স্থানীয় জেলা প্রসাশক কয়েক প্লাটুন বিজিপি মোতায়ন করে। তবুও একনজর পীর ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভীকে একনজর দেখার জন্য মানুষের ভীর সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহীনিকে।

শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতে জানাজা:
মাওলানা আব্দুল কাদির রায়পুরী ও মাওলানা ইলিয়াস রহ এর সর্বশেষ খলিফা পীর মুফতী ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভীর জানাজার নামাজে, দারুল উলুম দেওবন্দ, দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ,  মাজহারুল উলুম শাহরানপুর, শাহী মোরাদাবাদ, নদওয়াতুল উলামাসহ ভারতের শতশত দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার আলকম উলামাগন উপস্থিত ছিলেন। (জানাজায় উপস্থীত উলামাদের নাম দিয়ে আলাদা সংবাদ পাঠানো হবে)

মাকবারায়ে কান্ধালায় সমাহিত করা হয়:
হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভীর ইমামতিতে সকাল ১১টায় জানাজার নামাজ শেষে মাদরাসায়ে কান্ধালার পাশে অবস্থিত ‘মাকবারায়ে কান্ধালায়” মুফতী ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভীকে সমাহিত করা হয়। দ্বীনের এই মহান আমানতকে তারই পূর্বপুরুষের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। হযরতজী নিজ হাতে চোখের পানি আর দোয়া পড়তে পড়তে নিজ শায়েখ ও পীরকে কবরের মাঝে রাখেন। এসময় জনসমুদ্রে সবার চোখে পানি লক্ষ্য করা যায়।

কবর থেকে খুশবো:
পীর মুফতী ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভীর লাশ কবরে রাখার সাথে সাথে কবর থেকে খুশবো বের হতে থাকে। তখন কবরের মাটি নেয়ার জন্য লোকজন পাগলপারা হয়ে যায়। পরে পুলিশ বিশেষ ব্যাবস্থায় কবরের পাহারা ও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ভীরের কারনে অচল হয়ে পড়ে মহাসড়ক:
জানাজার নামাজ শেষে ঐপরিমান জনজাট মহাসড়কে তৈরি হয় যে তা ছুটতে বিকাল ৫টা বেজে যায়। ফলে হাজার হাজার উলামায়ে কেরাম এখনো কান্ধালায় অবস্থান করছেন।  কান্ধালাবাসী শতশত লোক মিলে আজ তাদের জন্য ইফতার ও খাবারের ব্যাবস্থা করতে দেখা যায়।

বঙ্গানুবাদ ও সম্পাদনায়: সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!