মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

যেভাবে বর্বর কায়দায় নির্মমভাবে হত্যা করা হল হাফেজ আঃ রহিমকে

যেভাবে বর্বর কায়দায় নির্মমভাবে হত্যা করা হল হাফেজ আঃ রহিমকে

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর তাবলীগের জিম্মাদার হাফেজ আবদুর রহিম রাজন(২৭) টানা ২২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন। সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুর রহিম রাজন পৌর সদরের পূর্বপাড়া মহল্লার প্রবাসী মস্তোফা মিয়ার ছেলে। রাজনের মামা মানিক মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা গেছে।

এর আগে গত ১৯ মে রমজানের রাতে তারাবির নামাজের পর তাবলীগের পাকিস্থান শুরাপন্থী হেফাজত সমর্থক সন্ত্রাসীরা কাটিয়াদী থানা থেকে ৫০ গজ দূরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের পিছনের গলিতে রাজনের গায়ে পেট্টোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কটিয়াদী হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। রাজন তাবলীগ জামাতের নিজামুদ্দিন মারকাজের অনুসারী ছিলেন। এ ঘটনায় রাজনের মামা মামুনুর রশিদ নয়ন তাবলীগ জামাতের যোবায়েরপন্থী সুমন, সুহেল ও কলিকসহ আরও ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে কটিয়াদী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এদের দুজন এখন কারাগারে।

রাজন হাসপাতালে নিজেই জবানবন্দি দিয়েছেন,কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদী থানায় নিজামুদ্দিন বিশ্ব মারর্কাজের অনুসারী মূলধারা একটা তাবলীগের সাথীর গায়ে পেট্রল ঢেলে হত্যার করে, হেফাজতপন্থী পাকিস্থানী কথিত শুরার সমর্থক সন্ত্রাসীরা।

কিশোরগঞ্জ তাবলীগ মারকাজের জিম্মাদার সাথী আব্দুর রহিম রাজন নিজ মহল্লায় একটুও তাবলীগের জামাত এলে তাদের ইস্তেকবাল করেন। তখন মসজিদে তাবলীগ জামাতকে থাকতে বাঁধা দেয় পাকিশুরাপন্থী হেফাজত সমর্থক সোহেল আহমদ ও মাহমুদুল হাসান। এতে তারা ব্যার্থ হয়ে আব্দুর রহিমের উপর ক্ষিপ্ত হন।

সে রাতে তারাবির নামাজ পড়তে আব্দুর রহিন যখন মসজিদে যাচ্ছিলেন, তখন সোহেল, মাহমুদুলসহ কয়েকজন তাকে পথরোধ করে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আব্দুর রহিম তখন মাটিতে গড়াগড়ি করে চিৎকার করলে হেফাজতপন্থী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তিনি তখন গড়াগড়ি করে পাশের নর্দমায় ঝাপ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে আব্দুর রহিমকে স্থানীয় মুসল্লিরা উদ্ধার করে কাটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কম্প্রেলেক্সে নিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। আবদুর রহিমের শারিরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ডাক্তার থাকে তৎকানীক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এঘটনায় অনলাইন অফলাইনে তাবলীগের সাথীদের মাঝে চরম ক্ষোভ কাজ করছে। রাজনের মৃত্যুতে সারাদেশের তাবলীগের সায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাবলীগের অন্যতম মুরুব্বী, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন, মারকাজুল উলুম আশ-শরীয়্যাহ সাভারের মহাপরিচালক আল্লামা জিয়া বিন কাসিম বলেন, যেখানে একটি পিপড়াকে পুড়িয়া মারা ইসলামে জায়েজ নেই, সেখানে একজন দ্বীন দ্বার মুসল্লীর গায়ে মতপার্থক্যের কারণে পেট্টল ঢেলে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা আইআমে জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। এদের না’হক হওয়ার এর চেয়ে বড় দলীল আর কি হতে পারে। আমরা সন্ত্রাসীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আর সারা দেশে তাবলীগের সাথীদের উপর জাহেলি যুগের মতো বর্বর আকআক্রমণ ও তাবলীগের কাজে বাঁধা দেয়া বন্ধ না হলে দেশকে পাকিস্তান শুরাপন্থীরা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দিকে টেলে দিচ্ছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!