বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

আরো দুই ওজাহাতি জঙ্গী গ্রেপ্তার | রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

আরো দুই ওজাহাতি জঙ্গী গ্রেপ্তার | রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

হাফজ আব্দুর রহিম রাজন

স্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

হাফেজ আব্দুর রহিম রাজনের মৃত্যুর ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে স্থানীয় জালালপুর জামে মসজিদের ইমাম ও কটিয়াদি তাবলিগ জামাতের আমির মাওলানা কাওছার মিয়া এবং বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শামা মো. ইকবাল হায়াৎ। এ নিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হলো।

কিন্তু রাজনের গায়ে পেট্রল ঢালার মূল উস্কানীদাতা ওজাহাতি লিডাররা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যুবায়েরপন্থীদের প্রধান মাওলানা যুবায়ের আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল। এতেই ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এডভোকেট সেলিম উদ্দিন বলেন, কাউকে পুড়িয়ে হত্যা করা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীদের কাজ। এর পিছনে কোন প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন থাকতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ থাকলো।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজন ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা তাবলিগ জামাত মার্কাজের একজন সক্রিয় কর্মী। গত ১৯ মে রাতে কটিয়াদী উপজেলা সদরের কলামহল জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে কটিয়াদী সদরে মধ্যপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরেন। পরে মসজিদে অবস্থানরত তাবলিগ জামাতের প্রয়োজনে রাত পৌনে ১১টার দিকে পুনরায় বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদের উদ্দেশে রওনা হন। বাসা থেকে বের হয়ে কিছুদূর এগুতেই পাঁচ যুবক রাজনকে ধরে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এ সময় তিনি চিৎকার করে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে পাশের একটি ড্রেনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আর্তচিৎকার শুনে তাঁর পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে ঐ রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকরা রাজনের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার কথা বলে সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জানান।
অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার সময় স্বজনদের কাছে রাজন তাঁর শরীরে আগুন লাগানোর বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
তাঁর সূত্র ধরে একদিন পর ২১ মে রাজনের মামা মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে কটিয়াদি থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ মাহমুদুল হাসান ও সোহেল মিয়া নামের এজাহারভুক্ত দুজনকে আটক করে। বর্তমানে ওই দুজন কিশোরগঞ্জ কারাগারে আছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজনের সঙ্গে অবস্থান করা তাবলিগ কর্মী এস এম সোহেল রানা জানান, রাজন ছিল ভারতের মাওলানা সাদের অনুসারী একজন তাবলিগ কর্মী। তাই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে পকিস্তানের সমর্থক মাওলানা জুবায়েরপন্থীরা তাঁকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সূত্রঃ এনটিভি

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!