মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

হেফাজতীদের ইজতেমায় বাঁধাঃ একটি সুগভীর চাক্রান্ত

হেফাজতীদের ইজতেমায় বাঁধাঃ একটি সুগভীর চাক্রান্ত

শামীম হামিদ, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

ইজতেমায় মুসলমানদের মধ্যে একধরনের ইসলামী ভাব গাম্ভীর্য সৃষ্টি হয়। মানুষ যেন এক সুতায় বাধা পড়ে। সমাজের সকল ধরনের মানুষই ইজতেমার দ্বারা প্রভাবিত হয়। এমন কি বিধর্মীগণও। এরই একটা নমুনা আমরা ঢাকা ইজতেমায় ইতিমধ্যেই দেখেছি। এছাড়া যারা এই ইজতেমার বিরোধিতা করেছিলেন তারাও অনেকে এই ইজতেমায় শরীক হয়েছেন। এভাবে ইজতেমা ইসলামের চিরন্তন ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের এক নমুনা। এর দ্বারা সবার মধ্যে সার্বজনীন ও সর্বাত্মক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। যাকে পরিভাষায় ইজতেমাইয়াত বলা হয়।

ইজতেমায় আসলে মানুষ কিছু দ্বীনী কথা শুনার সুযোগ পায়। কিছু যিকির, নামাজ, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি আমলে শরীক হবার সুযোগ পায়। আজ কাল তো আল্লাহ মাফ করেন, আল্লাহর কথা শুনার সুযোগই হয় না। এমনও অনেক দিন কেটে যায় যে সারা দিনে একবারও আল্লাহ শব্দটি মুখ থেকে উচ্চারিত হয় না। কিছু মানুষ আছে যারা জীবনে একবারও কোন দ্বীনী মজলিস দেখেনি।

যে লোক গুলো ইজতেমায় এসেছেন তারা একেবারেই সাধারণ মানুষ। তারা এত সব বিরোধ বুঝেন না। দিল্লিও চিনেন না। তারা নির্ভেজাল আল্লাহর নাম নিতেই এসেছেন। যারা এসেছেন ইজতেমা না হলে হয়তো বাজারে বা কোন আড্ডায় অথবা অনৈসলামিক কোন বিনোদনে তাদের সময় কেটে যেত। অনেকের হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এমনকি জুমাও পড়া হত না। তাই এই ইজতেমাটি না হলে দ্বীনের কি ফায়দা হাসিল হত? তাই এই বাধা প্ৰদান করার দ্বারা তারা শুধুই সাধারণ মানুষের হাসির খোরাক হয়েছেন। বিরক্তির কারণ হয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের মর্যাদাও চরম ভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষের সাথে তাদের দুরত্ব হয়েছে। তাই তাদের এহেন কর্মকান্ড দ্বীনের ক্ষতি বৈ কোন লাভ বয়ে আনেনি।

ইজতেমা মূলত কোন জমা হওয়া বয়ান শোনার নাম নয়। দ্বীনের তাকাজা পূরণ করার জন্যই ইজতেমা কায়েম করা হয়। মানুষজন বিভিন্ন স্থান থেকে এসে একত্রিত হবে এবং দ্বীনের তাকাজা নিয়ে আবার ছড়িয়ে পড়বে। এরই নাম ইজতেমা। এই মুহূর্তে মুসলমানদের ঐক্য তথা ইজতেমাইয়াতই বিশ্বজুড়ে এক নম্বর তাকাজা।

কিন্তু দুঃখজনক ইজতেমাইয়াতের বিপরীতে কিছু লোক জমহুরিয়াত কায়েম করতে চায়। সার্বজনীন ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের বিপরীতে এক বিশেষ অভিজাত শ্রেণীর মতামত সবার উপরে চাপিয়ে দিতে চায়। উম্মতকে এক করার পরিবর্তে তারা আলেম আওয়াম দুই ভাগ করে এক বিশেষ শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। অন্যান্য শ্রেণীর মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়।

এটা করতে গিয়ে শাসক শ্রেণীকে চাপ দেয়া, ব্ল্যাকমেইল করা, ধর্মীয় কানুনের অপব্যাখ্যা করা সবই করছেন। এ যেন ব্রাহ্মণ্যবাদের হুবহু অনুরূপ। সর্বশেষ তারা পথ আটকানো, ময়দান ভাঙচুর, মুসুল্লীদের মারধোর, গালাগালির মত ন্যাক্কারজনক কাজও করেছেন যা সম্পূর্ণ ইসলামী শিষ্টাচার বহির্ভূত। ইতিমধ্যেই মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরীর নেতৃত্বে হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা এর মঞ্চায়ন দেখেছি। কিন্তু ইজতেমা ঠিকই হয়ে যাচ্ছে।

ইজতেমার উদ্দেশ্য পরিষ্কার, এটা লোক জড়ো করে শো ডাউন অথবা চাঁদা কালেকশন নয় বরং সাধারন মানুষকে আখেরাতমূখি করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম দিকের ইজতেমা তথা দ্বীনের তাকাজার নিমিত্তে জড়ো হওয়া এমন দুরদুরান্তেই হত। অল্প কিছু লোকই জমা হত সেখানে। আকাবার জমায়েত গুলোতে কতই আর লোক ছিল? তারও আগে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে যে জমায়েত হত তাতেও খুব বেশি লোক হত না। তার যে মেলা বা বাজারগুলোতে অনেক বেশি লোক জমা হত কিন্তু তা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই জমায়েত বা ইজতেমাগুলো থেকে দ্বীনের তাকাজা ঠিকই পূরণ হত। আমাদের ইজতেমার মাকসাদও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই ইজতেমার অনুরূপ।

জেলা ইজতেমা নিয়ে জমহুরিয়াত আতঙ্ক কটছেনা। এটা খুবই স্বাভাবিক। উম্মতের ঐক্য মুসলমানদের শত্রুদের জন্য বরাবরই আতঙ্কের কারণ। নিঃসন্দেহে মুসলমানদের ইজতেমাইয়াত তথা ঐক্য বিরোধী এই জমহুরিয়াতের পিছনে ইসলাম বিরোধী কোন শক্তি কাজ করছে। তারাই আমাদের ইসলামপ্রিয় উলামাকেরামদের ব্ল্যাকমেইল করে তাদের এমন মহান মেহনতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

হে আম্বিয়াদের ওয়ারিশের দাবিদারগণ! আপনারা কি জঙ্গলের হিংস্র বাঘের চেয়েও বধির হয়ে গেলেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বাঘের দিলে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল। আপনাদের দিল কি বাঘের চেয়েও কঠিন এবং রহমশূন্য হয়ে গেছে?

এভাবে আমাদের কথিত জমহুরগণ যতই বিরোধিতা করবেন ততই তারা সাধারণ মানুষের কাছে নগ্ন হবেন। মানুষের শ্ৰদ্ধা হারাবেন। মেহনতের মধ্যে সাময়িক যে অস্থিরতা চলছে এটা আজ হোক কাল হল, দুদিন পরে হোক মিটে যাবে এব্যাপারে আমাদের পূর্ণ ইয়াকীন রয়েছে। কিছু কিছু উলামাকেরামদের ভুল বুঝাবুঝি ও বাড়াবাড়ির কারণে দেশের আপামর আলেম সমাজের যে অবর্ণনীয় ক্ষতি হতে চলেছে তা কোনদিনই পূরণ হবার নয়।

সারাদেশে এবছর ৩৫টি জেলা ইজতেমা শেষ হয়েছে কতিপয় হেফাজতীদের বাঁধারমূখে। এমাসে আরো ১৪টি ইজতেমা হবে ইনশআাল্লাহ। একটি ইজতেমাও তারা বন্ধ করতে না পারলেও জেলা ইজতেমা নিয়ে মিছিল মিটিং মারধর অবরোধ নেক্কারজনক সবাই কাজই করে যাচ্ছেন। প্রশ্ন হলো এ-ই জেলা ইজতেমাকে তারা এতে ভয় পায় কেন। তাদের কলিজায় একেকটি ইজতেমা টেটা/ ফিকল বৃদ্ধ করে যেন। এটিই মুনাফেকদের বড় আলামত। দ্বীনের কাজ হতে দেখলে তাদের গান জ্বালা করে এবং হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

মূলতঃ এটা সুনিশ্চিত বাতিলের একটি চক্রান্ত। এর উদ্দেশ্য হল আমাদের ইসলাম প্রিয় আলেম সমাজকে হাসির পাত্র বানানো, তাদের স্থায়ী মর্যাদাহানী করা এবং সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বিলুপ্ত করা। এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সাথে আলেমদের একটি স্থায়ী দূরত্ব পয়দা করা। এভাবে বারবার ভুল করতে থাকলে এক পর্যায়ে মানুষ আর তাদের কথা নিবে না। তারা বলবে হুযুর আপনারা তো তখন এই এই কথাও বলেছিলেন। মানুষ এখন অনেক সচেতন। বারবার ভুল করলে পরে হক কথাও মানুষ আর নিতে চাইবে না। আর বাতিল এটাই চাচ্ছে। এভাবে এসবের পরিণামে দ্বীনের যে কি পরিমাণ ক্ষতি সাধন হবে তা আল্লাহই মালুম। তখন কপাল চাপড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।এ কথাটি যত তাড়াতাড়ি আমাদের শ্ৰদ্ধাভাজন আলেমগণ উপলব্ধি করতে পারবেন ততই মঙ্গল।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!