মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

“মিথ্যুক ওলীপুরী” শব্দ চয়নে স্যোসাল মিডিয়ায় তোলপাড়!

“মিথ্যুক ওলীপুরী” শব্দ চয়নে স্যোসাল মিডিয়ায় তোলপাড়!

বিশেষ প্রতিনিধি, তাবলীগ নিউজ বিডি.কম

দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের একজন প্রথম সারির আলেমের জঘন্য মিথ্যাচার নিয়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জনসম্মুখে তার এতে বড় মিথ্যাচার এবং অনলাইনে সেই ভিডিও ভাইরাল হলে, তার মিথ্যা, উদ্ভট, জঘন্য, বানোয়াট, কল্পনাপ্রসূত এবং মিথ্যা কথা বলা দেখে গোটা দেশের মানুষ বিস্মিত হয়েছে। মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী নামে এই ওজাহাতি বক্তার মিথ্যা বলা দেখে খোদ হেফাজতে ইসলাম ও তাদের নিয়ন্ত্রিত ওজাহাতি অঙ্গনেও সমালোচনার ঝড় বইছে। তার জলজ্যান্ত মিথ্যাচার দেখে আলেম সমাজ হতবাক। বিস্মিত তার অনুসারীরাও।

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গতকাল থেকে তার ছবি ও উদ্ভট বয়ানের ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা যায়। তখন অধিকাংশ অনলাইন এক্টিভিস্টকে তার নামের আগে “মিথ্যুক ওলীপুরী” লিখতে দেখা যায়।

তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা ইজতেমা বন্ধ করার দাবীতে নুরুল ইসলাম ওলীপুরীর নেতৃত্বে একটি মানববন্ধনে ওলীপুরী বলেন, (১)”সাদ তাবলীগ জামাতের কেউ নন! (২) সাদ এক চিল্লাও দেয় নি!! (৩) সাদ তাবলীগের দিল্লীর মারকাজ জোড়ে দখল করে রেখেছে!!! এরকম উদ্ভট জঘন্য মিথ্যাচার করে সাধারণ জনগনকে উত্তেজিত করে তিনি ইজতেমা বন্ধের চেষ্টা করেন।

কিন্তু তার সকল প্রচেষ্টা ও শক্তি প্রদের্শনের পরেও গতকাল বুধবার বাদ যোহর পূর্বের নির্ধারিত স্থানে যথাসময় থেকে হাজার হাজার মুসল্লীর বাধভাঙ্গা স্রোতে ভরপুর মজমায় ইজতেমা চলছে। ভারতের দেওবন্দ ও সাহরানপুর থেকে আসা তাবলীগের উলামায়ে কেরাম বয়ান করছেন। ওলীপুরী এই মিথ্যা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠে।

মুফতী এহিয়া মাহমুদ কাসেমী লিখেন, ” আলেমদের একটি প্রদীপ ছিল, তা মিথ্যা বলে বলে ধপ করে সেটিও নিভে গেল” প্রসঙ্গ ওলীপুরী মিথ্যাচার।

রফিকুল ইসলাম,নামে একটা অনলাইন লেখক লিখেছেন, আপনি প্রতিবাদ করুন সুন্দর ভাষায়। আপনি সমালোচনা করুন সত্য দিয়ে, আপনি আন্দোলন করুন ভদ্র কথা বলে। কী দরকার ছিল মাওলানা ওলীপুরী মিথ্যা বলে মানুষকে উত্তেজিত করার? জনগনতো এ-ই মিথ্যাচারকে প্রত্যাখ্যান করলো। কজন অন্ধ মৌলভী ছাড়া জনগন আপনার মানববন্ধন আসে নিয়ে। ছি ছি করছে। অপর দিকে যথার্থসময়ে হাজার হাজার জনগনের উপস্থিত জেলা ইজতেমা চলছে। গ্রাম থেকে লাটি সোটা নিয়ে এসে ইজতেমা ঘেরাও করার ভয়ংকর ঘোষনা দিলেও একজন জনগন আপনার ডাকে সারা দেয়নি আর অনুসারীরাও সাহস পায় নি। যদি আপনার মতোই আপনার মিথ্যুক অনুসারীরা ইজতেমা স্থলে না এসে, না দেখে অনলাইনে ইজতেমা বন্ধ বলে মিথ্যাচার করছে। আর আসবে কি করে? সব সময়তো পাশে তুরাগ নদী থাকে না!

মাওলানা জায়েদ আহমদ লিখেন, সাদ সাহেব তাবলীগের কেউ না
হলে, ২২বছর তাবলীগের বিশ্ব ইজতেমার বয়ান করলেন কিভাবে? কতবড় বাটপার আরও মিথ্যাুক হলে সূর্যের মতো স্পষ্ট জিনিসকে দেখে বলা যায়, এখন রাত!ছি “মিথ্যুক ওলীপুরী” একটু লজ্জা করাতো উচিত ছিল? আল্লাহর লানত এই মিথ্যাবাদীর উপর। তিনি যেসব মিথ্যাচার করছেন আমরা কিভাবে তাকে অনুসরণ করে জমহুরিয়াত মিথ্যার অংশিদারের পাপ গলায় নিবো। মাওলানা সাদ সাহেব জীবনে একটি ছোট মিথ্যা কথা বলেছেন কেউ কি দেখাতে পারবে?

সুহৃদ সাকী নামে একজন জনপ্রিয় অনলাইন একটিভিস্ট লিখেন, কথাটা মনে হয় হাছাই কইছে। কারণ দিল্লীর নিযামুদ্দীন মারকায ছিলো ওলীপুরীর বাপদাদার সম্পদ। সাদ সাব মাওলানা ইলিয়াছ রহ, মাওলানা ইউসুফ রহ্ ও মাওলানা এনামুল হাসান রহ্ এর মতো জগদ্বিখ্যাত সন্ত্রাসী দ্বারা সাদ সাবের জন্মের বহু আগেই দখল করিয়েছেন। দ্বিতীয়ত মাওলানা ওলীপুরী এ পর্যন্ত তিরাশি সাল তাবলীগে সময় লাগিয়েছেন। এতো দীর্ঘ সময় ছিল্লানীর (ছিল্লায় সময় লাগানোর সংক্ষিপ্ত রূপ) মধ্যে তিনি কোন দিন সাদ সাবকে তাবলীগে সময় দিতে দেখেননি। চশমা লাগিয়েও তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।

মাওলানা নুরুল ইসলাম কাসেমী বলেন, সারাদেশে এমনকি খোদ দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মাহফিলে প্রধান বক্তার আসন অলঙ্কৃত করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী। বাংলাদেশের জমহুর আলেমদের প্রধান মুখপাত্র ধরা হয়ে তাকে। কওমী মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের কাছে, মুনাজিরে আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত ও তরজুমানে আকাবির উপাধিতে তিনি ভূষিত। দেশের কওমী আলেমদের অন্যতম প্রধান অনুসরণীয় এ-ই ব্যাক্তি যখন বানোয়াট মিথ্যাচার বাজারে মাইক দিয়ে সাপ্লাই করেন তখন অন্য আলেমদের অধ:পতনের হিসাবটি সহজে আজ চোখের সামনে ফুটে উঠে। আজ থেকে তিনি “মিথ্যাুক ওলীপুরী” নামেই সম্বোধন হবেন গোটা জাতির কাছে।

আব্দুল মুকিত নামে একজন ফেসবুকের লিখেন,
ঘটনা ১ – সা’দ সাহেব জীবনে এক চিল্লাও দেয় নাই।
প্রশ্নঃ – কে বলছে?
উত্তরঃ ওলিপুরি হুজুর বলছে।
ঘটনা ২ – ওলিপুরি গাঞ্জা খায়।
প্রশ্নঃ কে বলছে?
উত্তরঃ এক গাঞ্জাখোর বলছে। :p

সিদ্ধান্তঃ গাঞ্জাখোরের কথার যেমন ভিত্তি নাই, তেমনি ওলিপুরির কথারও ভিত্তি নাই।

শাহাদত হোসেন নামে আইডিতে লেখা হয়, ওলীপুরী সাহেব তাহকিক ছাড়া এ কথা কি ভাবে বলে ছি ছি ছি। আমাদের অহংকার ছিল ওনি এখন আমার লজ্জা হচ্ছে ওনার কথা শুনে। ওনি এমন মিথ্যা কথা কিভাবে বলতে পারলো? হুজুর আপনি আমাদের অহংকার আপনি একটু তাহকিক করুন মুনাফেকের মিনাফেকী তো আপনাকেও প্রভাবান্নিত করে ফেলেছে। আল্লাহর ওয়াস্তে একটু তাহকিক করুন। মুনাফেকের মুনাফেকীতে আপনি পা বাড়াবেন না। মিথ্যাচার বাজারে ছেড়ে আপনার আখেরাত বরবাদ করবেন না।আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন। আমিন

মইনুল হক লিখেছেন,”ওলীপুরীর কাছ থেকে ফেরেশতারা ১ মাইল দূরে অবস্থান করছে। কারণ,মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে,তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা ১মাইল দূরে চলে যায়!
[সহীহ বুখারীঃ৫৫৯০]

মুফতী আবু উমায়ের লিখেছেন, মাওলানা ওলীপুরী তার শান অনুযায়ী কথা বলা দরকার ছিল। মিথ্যা না বলেওতো ভিন্ন মতের প্রতিবাদ করা যায়। আপনার সাথে আমার নীতিগত মিল নেই, আপনি যৌক্তিক কথা বলুন। জঘন্য মিথ্যা বলার কি দরকার? তাহলে জাতি ওলীপুরীর মতো একজন মিথ্যাবাদি আলেমকে কিভাবে অনুসরণ করবে? মাওঃ সা’দ সাহেব যতো সফর করছে, তার হিসাব করতে গেলে ওলিপুরির এক চিল্লা সময় লাগবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!