মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

ওলীপুরীর ইজতেমা বিরোধীতার হাকীকত! পাশে তুরাগ নদী ছিল না…

ওলীপুরীর ইজতেমা বিরোধীতার হাকীকত! পাশে তুরাগ নদী ছিল না…

বিশেষ প্রতিনিধি,

(১)
মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী নেতৃত্বে ইজতেমা বিরোধীদের কথিত বিশাল মানববন্ধন সাধারণ মুসলমান প্রত্যাখ্যান করেছে। হবিগঞ্জ মূলত আলেম উলামার চরণভুমি। জেলায় শত শত কওমী মাদরাসা। সব মাদরাসা থেকে একজন করে মানববন্ধনে এলেও ৫শতাধিক আলেমই আসার কথা। সেখানে ওলীপুরীর বিশাল! মানববন্ধনে তার মাদরাসার সকল ছাত্র শিক্ষক মিলেও ৮০জন ছিল না।

(২)
হবিগঞ্জের উলামদের ‘সারেতাজ’ আল্লামা তাফাজ্জুল হক দাঃ বাঃ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি খলিফায়ে মদনী আল্লামা আব্দুল মুমিনসহ শীর্ষ কোন আলেম, তাদের সমর্থকবৃন্দ, মাদরাসার ছাত্র উস্তাদ এবং পরিবারের কেউ মিথ্যুক ফেৎনাবাজ ওলীপুরীর ইজতেমা বন্ধের আহ্বানে সাড়া দেন নি। বরং ঘৃনার ভরে এই নেক্কারজনক কাজকে প্রত্যাখান করেছেন।

(৩)
ইজতেমার তিনদিন আগে মূলধারার সাথীরা দোয়া নিতে আল্লামা তাফাজ্জুল হক সাহেবের কাছে গেলে তিনি হাত তুলে সাথীদের নিয়ে ইজতেমার কামিয়াবীর জন্য দীর্ঘ দোয়া করে দেন। এছাড়া শায়খুল হাদীস আল্লামা মনির উদ্দীন, শায়খুল হাদীস আল্লামা মকবুল হোসাইন, শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল মালিক দা বা. এর মতো কোন প্রবীন আলেম ওলীপুরীর এই উগ্রতা ও জঙ্গীপনাকে সময়র্থন করেন নি। এছাড়া হবিগঞ্জের শীর্ষ আলেমদের সাথে বেয়াদবী, আল্লামা তাফাজ্জুল হকের বিরুদ্ধে ওলীপুরী ষড়যন্ত্র, আলাদা বোর্ড গঠন ও সংগ্রাম পরিষদ ছিন্তাইয়ের হীন চেষ্টা সর্বজন স্বীকৃত। ওলীপুরীর উগ্রতার ও বেয়াদবীর কারনে খোদ কওমীর স্থানীয় শীর্ষ আলেমদের সাথে তার যোজন যোজন দূরত্ব। আল্লামা তাফাজ্জুল হক সাহেবতো তার ছায়াও দেখতে পারেন না বেয়াদবীর করণে। ফলে তাবলীগ ও ইজতেমা বিরোধী তার সকল অপ্রচেষ্টা মাঠে মারা যায়। জেলার গায়ের এতেয়াতিরা দুই শুরা মাওলানা আব্দুস সামাদ ও প্রফেসার সৈয়দ মহসিন আলীও ওলীপুরীর ঘৃনীত এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন নি ও সাড়া দেন নি।

(৪)
সাধারণ মুসলমান দ্বীনদ্বার জনগন ওলীপুরী এই আন্দোলনকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখানের ফলে তিনি জঘন্য মিথ্যার আশ্রয় নেন। আর হযরতজী সাদ সাহেবকে নিয়ে মিথ্যা বক্তৃতা দিয়ে তা অনলাইনে ভাইরাল করে জনগন ও মাদরাসার ছাত্রদের উস্কানী দেয়ার চেষ্টা করেন। এখানেও মিথ্যা ধরা খেয়ে জনগন তা ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করে। উল্টো স্যোসাল মিডিয়ায় “মিথ্যুক ওলীপুরী” খেতাবে তিনি ভুষিত হন।

(৫)হবিগঞ্জ মকবুল জেলা ইজতেমার শুরু থেকেই প্রোপাগান্ডাই ছিল ওলীপুরী ও তার প্রধান মিথ্যুক কমান্ডার অকালপক্ক জবাবের আল হুদা উরফে গন্ডগোল হুদার মূল পুঁজি। বুধবার দুপুরে ইজতেমার ছবি তুলিয়ে নিয়ে লোক নাই বলে শুক্রবারে প্রচারনা চালায়। এর আগে দুদিন ইজতেমা বন্ধ করে এতেয়াতিরা পালিয়েছে বলে এমন জলজ্যান্ত মিথ্যা এই দুই উস্কানীদাতা অনলাইনে ভাইরাল করেন। প্রসাশনকে ধন্যবাদ বুধবার যোহর থেকে শুক্রবার আছর পর্যন্ত শত জমহুর নাটকীয়তার ভিতরেও হবিগঞ্জ জেলা ইজতেমা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ করে দেয়ায়।

ওলীপুরীর মিথ্যুক বাহিনী কেবল ইজতেমা বন্ধের মিথ্যা সংবাদ ও গুজব ছড়িয়ে নিজেদের লজ্জা ঢাকার হীনচেষ্টা ও মিথ্যা ঢেকুরে নিজেদের পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার চেষ্টা করেছে।

(৬)
হুমকী ধমকী ও সকল মিথ্যাচার ও ফেসবুকে গুজব ছড়িয়েও যখন কোন কাজ হচ্ছিল না, তখন সারা জেলার সকল কওমী মাদরাসার আলেমদের আবার বৃহস্পতিবার শহরে মারকাজে ডাকা হয়। আগের দিনের মানববন্ধন থেকে আরো কমে আলেম আসেন সেখানে। পুলিশের এ্যকশনে সবার পায়জামা গরম হয়ে যায়। ৩০জনও উপস্থীত হয় নি অবস্থান ধর্মঘটে। এর আগে প্রসাশন উভয় পক্ষকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে কারো কাজে কেউ বাঁধা না দিয়ে স্ব স্ব কাজ করতে নির্দেশ প্রদান করে। এসময় হবিগঞ্জ ওজাহাতি মারকাজের ইমাম ও এই সংঘর্ষিক আন্দোলনের মূল পান্ডে মাওলানা মাশাদুর রহমান চৌধুরী বেলাল পুলিশ সুপারের কথা রেকর্ড করতে থাকে। তখন এই অপরাধে তৎক্ষনাৎ পুলিশ তার মোবাইল নিয়ে গিয়ে আইসিটি আইনে মাওলানা বেলাল, মজলিস জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকীলপুরী, মাওলানা আবু সালেহ সাদী, জঙ্গী মাওলানা সুহানসহ ৫হেফাজতী নেতাকে চরম অপমান করে আটক করলে মুসলেখা দিয়ে ছাড়া পায়। পরে পুলিশের পেদানীতে ফেসবুকে পোষ্ট করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। কয়েজন দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে পুলিশের তাড়া খেয়ে লেজ ঘুটিয়ে পালিয়ে যায়। ওলীপুরী এই ব্যার্থ আন্দোলনের লজ্জা- শরমে খোদ ক্ষোভ বেড়েছে হেফাজতের অঙ্গনে। স্থানীয় হেফাজত কিংবা ইসলামী সংগ্রাম পরিষদের কেউ নেন নুরুল ইসলাম ওলীপুরী। তাবলীগ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তার নতুন করে নেতা হওয়ার শেখ জেগেছিল। জনগনের ইমোশনালকে কাজে লাগিয়ে মিথ্যা বলে আন্দোলন চেতানোর চেষ্টা করে চরম অপমানিত ও লজ্জা পেতে হলো। আর ইজতেমায় কোন প্রভাবই পরে নি।

(৭)বৃহস্পতিবার সকল প্রচেষ্টা ব্যার্থ হলে, নুরুল ইসলাম ওলীপুরী আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেন। ঘোষনা করেন আশে পাশের গ্রামের লোকজন যেন মসজিদের মাইকে এলান/মাইকিং করে ইজতেমার মাঠ ঘেরাও করে মুসল্লীদের মেরে তাড়িয়ে দেয়। ওলীপুরীর ভ্রাতৃঘাতি এই জঙ্গী ঘোষনা শুনে জনগন আরো বিস্মৃত হয়ে। ঘৃনায় থু থু ফেলে। একটি মসজিদেও তার এই ঘোষনা বাস্তবায়িত হয়ে নি। একজন লোকও গ্রাম থেকে লাঠিসোটা নিয়ে ইজতেমা বন্ধ করতে আসে নি।

জনবিচ্ছিন্ন ওলীপুরী সর্বশেষে অপমান, অপদস্থ ও কোন কোল-কিনারা না পেয়ে শহরে বসেই হুমকী ধামকী ও নিজের ফেসবুক আইডি থেকে মিথ্যাগুজব ছড়াতে থাকে। শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ইজতেমার স্থলে আসার মতো ওলীপুরী সন্ত্রাসী বাহিনী সাহস পায় নি। যদিও এই রক্তলিন্সো মৌলভী আজ সারাদেশে ভ্রাতৃঘাতি ধর্মীয় সংর্ঘাত তৈরির মুল খলনায়ক। টঙ্গীর মাঠের মতো তাবলীগের সাথীদের খুনের ভয়ংকর পরিকল্পনা হয়তো তার ছিল।

কিন্তু আল্লাহ হেফাজত করেছেন। এই নেক্কারজনক কাজের জন্য ইতিহাস তাকে কোনদিন ক্ষমা কারবে না। “মিথ্যুক ওলীপুরী” হিসাবে ইসলামপ্রিয় জনগনের মাঝে স্মরনীয় হয়ে থাকবে। সারাদেশে তাবলীগ ও মাওলানা সাদ কান্ধালভীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ওজাহাতি করে সংঘাত-সংঘর্ষ তৈরি করে তাবলীগের কাজে বাঁধা দেয়ার মূল হোতা নিজ জেলায় চরমভাবে ব্যার্থ হন,এটি ছিল খোদা পাকের ফায়সালা।

আর শহরে বসে হুমকী ধামকী গুজব ছড়ালেও ওলীপুরী বাহিনী ঘোষনা দিয়েও জনগনের দরদভরা হনিগঞ্জ জেলা ইজতেমার আস-পাশে আশার সাহস পায় নি। এর একটি কারণ ছিল, হবিগঞ্জ ইজতেমার মাঠের পাশে তুরাগ নদী ছিল না,যে প্রয়োজনে একটু ঝাপ দিবে!

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!