সোমবার, ১৫ Jul ২০১৯, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
দেওবন্দের ফতোয়া, মানছেন না খোদ দেওবন্দিরাই

দেওবন্দের ফতোয়া, মানছেন না খোদ দেওবন্দিরাই

স্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডিটকম

ছবিতোলাকে নাজায়েজ ও পাপ বলে ফতোয়া দিয়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসা দারুল উলুম দেওবন্দ। আজ এবিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ গনমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলোও একটি বড় নিউজ করেছে। খবরে বলা হয়,
আজ বুধবার প্রতিষ্ঠানটির মোহতামিম (উপাচার্য) মুফতি আবদুল কাসিম নোমানি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, আলোকচিত্র তোলা নাজায়েজ। শরিয়ার বিচারে পরিচয়পত্র কিংবা পাসপোর্ট ব্যবহারের প্রয়োজন ছাড়া মুসলমানেরা ছবি তুলতে পারে না।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়ে হল, দারুল উলুম দেওবন্দের এই ফতোয়া খোদ মানছেন না দেওবন্দিরাই। বাংলাদেশে আলেমদের যে কোন ঘরোয়া অনিষ্ঠানেও এখন ব্যাপকহারে ছবি তুলতে দেখা যায়। এছাড়া মহিলা মাদরাসা, খতমে বোখারী, মহিলাদের সাথে টকশো, তারাবির নামাজ পড়িয়ে হাদিয়া নেয়া সহ দেওবন্দের অনেক ফতোয়াই আছে যা খোদ দারুল উলুম দেওবন্দের কট্টর অনুসারী যারা তারা মানছেন না। এবিষয়ে বাংলাদেশের এক শীর্ষ আলেম বলেন, দেওবন্দের ফতোয়া কিংবা অষ্টম মূলনীতি এদেশের অধিকাংশ আলমেরা না মানলেও নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে  কোন কোন ছোটখাট বিষয়কে অনেক বড় করে এদেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সংর্ঘাত তৈরি করতে দেখা যায়।

ছবির বিষয়ে মুফতী নোমানী আরো  বলেন, ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য ছবি তোলা কিংবা বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠান ভিডিও করার অনুমতি দেয় না ইসলাম।
সৌদি আরবের পবিত্র নগর মক্কায় ছবি তুলতে এবং হজের দৃশ্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের অনুমোদন হলেও ভারতে এমন ফতোয়া কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নোমানি বলেন, ‘তারা এটা করুক। আমরা এটা অনুমোদন করি না। তারা যা করে, তার সবকিছুই সঠিক নয়।’
দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ দারুল ইফতা ফতোয়াটি দিয়েছে প্রকৌশলে স্নাতক একজন ছাত্রের এক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে। ওই ছাত্র মুফতি নোমানিকে বলেন, তিনি আলোকচিত্রের প্রতি আগ্রহী এবং আলোকচিত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। জবাবে মুফতি বলেন, ‘আলোকচিত্র অবৈধ এবং পাপ। হাদিসে এটিকে কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তুমি আলোকচিত্রের ওপর কোর্স কোরো না। তুমি প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট কোনো পেশা বেছে নাও।’
প্রকৌশলের ওই ছাত্রের উত্তর সংবলিত ফতোয়াটি দারুল ইফতা বিভাগের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। ফতোয়াটি সমর্থন করেছে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম ল পার্সোনাল বোর্ড’-এর সদস্য মুফতি আবুল ইরফান কাদরি রাজ্জাকি। তিনি বলেন, ‘ইসলাম মানুষ ও প্রাণীর ছবি তোলা নিষিদ্ধ করে। কেউ এটা করলে তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
সৌদি আরবে ছবি তুলতে দেওয়ার প্রসঙ্গে রাজ্জাকি বলেন, ‘একমাত্র ধনী হওয়ার কারণে তারা (সৌদি আরব) ছবি তোলা জায়েজ ঘোষণা করলেই তা সঠিক হয়ে যায় না। তারা ছবি তোলা জায়েজ ঘোষণা করলে এ ব্যাপারে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!