শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

দেওবন্দের মুহতামিমকে মোদি- সরকার ও ‘র’ এর যথার্থ মূল্যায়ন

দেওবন্দের মুহতামিমকে মোদি- সরকার ও ‘র’ এর যথার্থ মূল্যায়ন

বিশেষ প্রতিনিধি:তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম
দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামীম মুফতী আবুল কাসেম নোমানীকে ভারতের সেনা প্রধান সামরিক সম্মাননা প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দেওবন্দ অনুসারী আলেমদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল, আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, মুফতী নোমানী ভারত সরকার থেকে এমন সম্মাননা পাওয়া তার অধিকার ও পাপ্য।

হ্যা মুফতী আবুল কাসেম নোমান মোদি সরকারের অনুকূল্য ও সম্মাননা পাওয়ার যথাযথ যোগ্য ব্যাক্তি ও হকদার। এমন একটা সময় ভারত সেনাপ্রধান খোদ দারুল উলুৃম দেওবন্দ গিয়ে তার হাতে সম্মাননা তুলে দিলেন, যেই মুহুর্তে কট্টরপন্থী হিন্দু বিজিবি মোদী সরকার ক্ষমতায় আহরনের মধ্য দিয়ে ভারতজুড়ে সেনারা মুসলিম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। ভারতজুড়ে মুসলমানদের মাঝে স্মরন কালের ভয়াবহ সংখ্যালঘু নির্যাতন ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত একবছরে ভারতের ১২ টি প্রদেশে ৪৪ জনকে মুসলমানকে কেবল ধর্মের পরিচয়ে হত্যা করা হয়। আসাম থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিমের নাগরিকত্ব বাতিল করে দিয়ে সেনা নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের রোহিঙ্গাদের মতো দেশছাড়া করতে চুড়ান্ত সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে মোদি সরকার। মোদি সরকারে ক্ষমতায় দ্বীতিয়বার আসা নিয়ে যে মুহুর্তে ভারতের মুসলমানদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে সেই মুহুর্তে দেওবন্দের মুহতামিমের সাথে এমন সখ্যতা ভারতজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের মাঝে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

যেদিন মুফতী আবুল কাসেম নোমানীকে সম্মাননা দিতে মোদি সরকার সোনাপ্রধান মেজর জেনারেল সুভাষ শেরনকে দেওবন্দে পাঠাল সেদিনও ভারতের সবোর্চ্চ পার্লামেন্টে দাড়িয়ে আসাদুদ্দীন ওয়াইসি হুংকার দিয়ে বলেছেন, “বিজেপির ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক ‘বন্য’ রাষ্ট্র। অবলা প্রাণী গরু নিয়ে বর্বর সব কারবার আর কদিন পরপরই জন্তু-জানোয়ারের কায়দায় মুসলিম হত্যা। সেগুলোর ভিডিও দেখা যায় না। সহ্য করা যায় না।” দিল্লীতে মুসলমানরা সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথে মানববন্ধন করেছেন।

এসব পরিস্থিতিতে মুফতী আবুল কাসেম নোমানী সবসময়ই নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তিন তালাক বিল নিয়ে ভারতের মুসলিম নেতার সোচ্চার হলেও তিনি মোদি সরকারের গুনকীর্তনে পঞ্চমূখর।

মুসলিম নিধন নিয়ে যখন খোদ আসামের মুসলিম নেতা দারুল উলুম দেওবন্দের শূরা সদস্য মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল সোচ্চার আন্দোলন করছেন ঠিক সেই মুহুর্তে মুফতী নোমানীর এই সম্মাননাকে বিচক্ষন আলমেরা তার কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে পাপ্য বলেই মনে করছেন। প্রথম দিকে স্বাধীনতা আন্দোলনে দেওবন্দের অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এই সামরিক পদক দেয়া হয়েছে বলে, প্রচার চালালেও, ভারতীয় মিডিয়াতে উঠে এসেছে এই সম্মাননা পদক দারুল উলুৃম দেওবন্দকে দেয়া হয়নি বরং মুফতী আবুল কাসেম নোমানীকে দেয়া হয়েছে তার কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ।

মোদি সরকার ও ভারত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা সংস্থার “র” এর সাথে মুফতী নোমানীর সখ্যতার খবর বেশ পুরানো। “র” এর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিত নানান ফতোয়া প্রদান করে আজ ভারতের মুসলমানদেরকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছেন এই নোমানী। শুধু তাই নয়, মুসলিম বিশ্বকে তিনি খন্ড বিখন্ড করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। স্ট্যাম্প ও তার সহযোগী সৌদি যুবরাজ সালমানের প্রসংশায় তিনি মত্ত থাকেন। এসবের ফলে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন খোদ দারুল উলুৃমকে। তার আমলে দেওবন্দ মাদরাসা যতোটা সমালোচিত হয়েছে অতীতে কখনো এমন হয়ে নি। আজ ভারতের কোটি কোটি মুসলমান একই সূরের এই কথা বলার পরিবেশ নেই যে, ” এহ হ্যামারা দেওবন্দ হ্যায়”। দেওবন্দের সবোর্চ্চ পদকে ব্যাবহার করে তিনি মোদি সরকার ও “র” এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে সবসময় তৎপর থেকে দেওবন্দের উঁচু সম্মানক অনেকটা নিচু করে দিয়েছেন। ফলে ভারতের অনেক শীর্ষ আলেম বাধ্য হয়েছেন নোমানী নামা ও দেওবন্দকে নিয়ে মূখ খোলতে ও কট্টর সমালোচনা করতে।

এজন্য ভারতের শীর্ষ আলেম সাইয়্যিদ সালমান হুসাইন নদভী স্পষ্ট করেই বলেছেন, তাগুতের গোলামে তাঁরা পরিণত হয়েছেন। বাদশাহ সালমান ও আমেরিকার চাটুকারিতা করে দেওবন্দের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে থেকে তারা ছিটকে পড়েছেন। এটি আর আমাদের আকাবিরদের আপোষহীনতার সেই দেওবন্দ নেই। এখন একটি সরকারী দেওবন্দ, আরেকটি কাসেম নানুথভী রহ এর আওলাদদের পরিচালিত হাকীকী দেওবন্দ। কোন বিল্ডিং এর নাম দেওবন্দ নয়, দেওবন্দিয়ত একটি চেতনার নাম, যা আজো আপোষহীনভাবে বানি-য়ে দেওবন্দ হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানুথভী রহ ও আনোয়ার শাহ কাশ্মিরেী রহ ও হাকীমুল ইসলাম ক্বারী তাইয়্যাব সাহেব রহ এর আওলাদদের দ্বারা দারুল উলুৃম দেওবন্দ (ওয়াকফ) নামে পরিচালিত হচ্ছে।

এই লেখার বিপক্ষে হয়তো নোমানীর অন্ধ অনুসারীরা নানান যুক্তি দাড় করাবেন। তারা নানান কথা বলে তাকে সেভ করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু আজ মোদি সরকারের সেনা প্রধান যদি আবুল কাসেম নোমানীর বিরোধী পক্ষ বা তাদের মতের উল্টো কোন ভারতীয় মুসলিম মনীষাকে এই পদক তুলে সম্মাননা দিতেন, তাহলে স্যাসাল মিডিয়ায় কথিত দেওবন্দি ফেরকাবাজরা সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় তুলতেন। মোদির দালাল, দালাল বলে রব তুলতেন। নরেন্দ্র মোদির সাথে ব্যাবসা বানিজ্যের কাল্পনিক নানান আষাঢ়ের গল্প এতোক্ষনে বাজারে ছেড়ে দিতেন। মুফতী নোমানীদের মোদি সখ্যতা ও “র” এর মিশন বাস্তবায়নকে আড়াল করতেই, তারা ভারতের অনেক মুখলেস আলেমদের সাথে মোদি সখ্যতার মিথ্যা গল্প বাজারে চালিয়েছেন নানান সময়ে।

কিন্তু আজ এতো বাস্তব একটি বিষয় কেও কেবল আসাবিয়তের অন্ধত্বে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এজন্য পাকিস্তানের মাওলানা তারিক জামিল বলেছেন, ভাই দেওবন্দি না বনো, উম্মত বনো।

ভারতীয় মুসলমানদের কঠিন দু্র্দিন মুহুর্তে, মুসলিম উম্মাহর গভীর সংকট কালে, কতোটা নিখাদ দালালী করলে ভারতীয় সেনা প্রধান ও নরেন্দ্র মোদির সবচেয়ে বিশ্বস্থ ও ডানহাত খ্যাত মেজর জেনারেল সুভাষ শেরন এভাবে সম্মাননা দিতে পারেন একটা শীর্ষ মুসলিম নেতাকে তার ভাবতেই গাঁ শিউরে উঠে। এর আগে আমাদের আকাবির হযরতরা দেওবন্দকে নানান সময় ভারত সরকার বিভিন্ন সহযোগীতা ও সম্মান দেয়ার প্রস্তাব দিলে তারা তা মুখের উপর ঈমানী চেতনায় বলিয়ান হয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আজ সেই দেওবন্দের কর্ণধাররা মুসলিম বর্বর মুসলীম খুনী মোদি সরকারের কাছ থেকেও সম্মাননা নিতে কুণ্ঠিতবোধ বা লজ্জাবোধ তো করছেন না বরং তা স্বগৌরভে মিডিয়ায় প্রচার করছেন।

আল্লাহ এসব দুনিয়া দ্বার আলেম ও তাগুতের চাটুকার উলামাদের থেকে মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুণ।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!