বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

দাওয়াতের পথ: দাঈদের যেসব মুসীবতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

দাওয়াতের পথ: দাঈদের যেসব মুসীবতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম।

দাওয়াতের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। ইসলাম যতটা কাফেরদের পক্ষ থেকে আক্রান্ত হয়, স্বয়ং ঘরের শত্রুদের থেকেও কম হয় না। দাঈদেরও একই অবস্থা। কাফের-মুশরিকদের চেয়ে ঘরের লোক মুসলিমরা কম যায় না। আপনি যত মুখলিস হোন, জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ হোন, সম্মানিত হোন, দরদী কথা বলেন, একদল মানুষ আপনার বিরোধিতা করবেই করবে। এজন্য দাওয়াতী কাজে নামার আগেই এটা মাথায় রাখতে হবে। নবীদের কথা তো জানাই আছে। উম্মতের বড়বড় কিছু মানুষের আলোচনা করা যাক:

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. অত্যন্ত খুশু-খুজূর সঙ্গে নামাজ পড়তেন। এটা একটা প্রসিদ্ধ ব্যাপার ছিল। কিন্তু এক শ্রেণীর মুসলমানরা তাঁকে ছাড়েনি। তাকে ‘রিয়াকার’ (লৌকিকতা প্রদর্শনকারী) বলতো! চিন্তা করুন সাহাবীদের যুগে সাহাবীকে রিয়াকার বলা হচ্ছে! একদল লোক ইবনে আব্বাস রা. কে বলতো ‘সে না জেনে কুরআন তাফসীর করে’! জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাসের ব্যাপারে কুফার একদল লোক বলতো, ‘সে ভালো করে নামাজ পড়াতে পারে না’। এগুলো শিয়াদের কথা না। তারা তো ১৬/১৭ জন সাহাবী বাদ দিয়ে আর সবাইকে কাফের/মুরতাদ মনে করে। এগুলো মুসলিমদের ভেতরের কাহিনী।

যুন-নুন মিসরী র. কে ‘যিন্দীক’ (মুনাফিক) গালি দেয়া হয়েছে। শিকল বেধে এক শহর থেকে আরেক শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাহল বিন আব্দুল্লাত তস্তরী র. কে কাফের বলে শহর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। জুনায়েদ বাগদাদী র. কেও অনেকবার কাফের আখ্যা দেয়া হয়েছে। ইমাম গাযালীকে কাফের বলা হয়েছে। তাঁর কিতাবগুলো পুড়িয়ে ফেলার ফাতওয়া দেয়া হয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া র. কে কাফের বলা হয়েছে। তাকে যে শাইখুল ইসলাম বলবে সেও কাফের এমন ফাতওয়া দেয়া হয়েছে! ইয ইবনে আব্দিস সালাম, তাজ সুবকী- এদেরও কাফের বলা হয়েছে! (আল-ইনতিসার গ্রন্থ থেকে)

কি বিচিত্র ইতিহাস আমাদের। সুতরাং হকের দাঈদের এসব মনে রেখেই এখলাসের সাথে কাজ করতে হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!