শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:০১ অপরাহ্ন

মালফুজাতে :হযরতজী সাদ কান্ধলবী

:হযরতজী মাওঃ মুহাঃ সা-আদ কান্ধলবী
 
 
১/সবচেয়ে বড় হুকুম হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনা!
মানুষ সব ফরয সম্পর্কে জানে কিন্তু ঈমানের ফরয সম্পর্কে জানেনা…
অথচ সমস্ত হুকুম আহকামের ভিত্তি ঈমানের উপর!
ঈমান ছাড়া কোনো ইবাদতই কবুল হয়না………..!!
 
২/এক হচ্ছে ঈমানের হরফঃ এর স্থান কিতাব!
আরেক হচ্ছে ঈমানের কথাঃ এর স্থান জবান!
আরেক হচ্ছে ঈমানের ভাব বা মর্মঃ এর স্থান মস্তিষ্ক!
আরেকটি হলো ঈমানের এখলাসঃ এর স্থান দিল তথা অন্তর!
 
৩/আ’মালে এখলাস ও নিষ্ঠা, আ’মালের এস্তেকামাত ও দৃঢ়তা, আ’মালের উপর মহান আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা পূরন হওয়া এবং আ’মালের প্রতিদান পাওয়া এ চারটি বিষয় ঈমান ব্যাতিত হাসিল হতে পারেনা…………!!
 
৪/আমাদের ভিতর থেকে ঈমানের দাওয়াত খতম হয়ে গেছে!
দাওয়াতের পরিবর্তে আমাদের ভিতর ঈমানের দাবী সৃষ্টি হয়েছে…
ঈমানের দাবীর কারনে এখন আমরা নিজেদের ভিতর ঈমানের দাওয়াতের প্রয়োজন মনে করছিনা!
ঈমানী দাওয়াতের প্রয়োজন শুধু অমুসলিমদের জন্য মনে করে বসে আছি, অথচ ঈমানের দাওয়াত খোদ ঈমানদারদের জন্যই বিধান দেওয়া হয়েছে!
অমুসলিমদেরকে তো ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে…….!!
দেখুনঃ(বুখারী শরিফ/হাদীস নং৭৩৪৮)
 
৫/এতটুকু ঈমান শিক্ষা করা প্রত্যেকের জন্য ফরয ফরযে আঈন, যতটুকু ঈমান শিরিকের থেকে বাঁচাবে!
তার কারন শিরিক করা হারাম, (আর হারাম থেকে বাচার ব্যাবস্থা করা ফরয)………..!!
 
৬/যদি প্রতিদিন তাওহীদের কথা আলোচনা না হয় তাহলে শিরিক এমন ভাবে শেকড় গেড়ে বসবে যে, আমরা তো মনে করবো আমরা তাবলীগের কাজ করছি অথচ আমাদের ভেতর শিরিকের শেকড় উৎপন্ন হচ্ছে………!!
 
৭/যদি মুসলমান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহানত্বের আলোচনা ছেড়ে দেয়, তাহলে অন্যরা শিরিকের আলোচনায় আমাদের বাধ্য করবে…….!!
 
৮/আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে শুকর, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দিকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে শিরিক………!!
 
৯/আল্লাহ ছাড়া সবকিছুরকে অস্বীকার করার দ্বারাই আল্লাহ তায়ালা পর্যন্ত পৌছা যায়……….!!
 
১০/গাইরুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কিছুর প্রভাব যতটুকু থাকবে সেই হারেই আল্লাহর মহান সত্তা থেকে ফায়দা হাসিল করার পথ কঠিন হয়ে পড়বে………..!!
 
১১/হুকুম-আহকামের ইলিম হাসিল করে ফারেগ (অবসর বা মুক্ত) হওয়া সম্ভব, তার কারন আহকামের ইলমের উদ্দেশ্য আ’মাল করা…
ইলিম হাসিল করে আ’মালে লেগে যাওয়াই সেখানে লক্ষ্য!
এর বিপরীত তাওহীদের ইলিম থেকে ফারেগ হওয়ার কোনো অবকাশ বা সুযোগ নেই, কারন তাওহীদ তো সত্ত্বাগতভাবেই মূল মাকসাদ!
তাওহীদের ইলিম অন্য মাকসাদ হাসিলের মাধ্যম নয়, বরং সে নিজেই মাকসাদ……….!!
 
১২/দ্বীনের কল্যাণের কাজে আল্লাহ তায়ালা অনেক সময় নবীদের ইচ্ছাই পূরন হতে দেননি শুধু ইনশাআল্লাহ না বলার কারনে!
আর আমরা তো দুনিয়ার কাজেও বলে ফেলি, ওমুক দেশ ওমুক মন্ত্রী দিয়ে কাজ হয়ে যাবে………!!
 
১৩/চার পদ্ধতিতে এয়াক্বীন শিক্ষা করোঃ
১)কুরআনের আয়াত!
২)হাদীসে রসুলুল্লাহ!
৩)হযরতে নবী(আঃ)দের ঘটনা!
৪)হযরতে সাহাবায়ে কিরাম(রাঃ)দের মদদ ও নূসরত!
যতদিন পর্যন্ত উম্মত এ চার পদ্ধতিতে এয়াক্বীন শিক্ষা করবেনা, ততদিন পর্যন্ত ভুল এয়াক্বীন অন্তর থে‌কে বের হওয়া এবং বিশুদ্ধ এয়াক্বীন অন্তরে গেঁথে যাওয়ার উপায় তৈরি হবেনা………..!!
 
১৪/হযরতজী মাওঃ মুহাঃ ইলিয়াস সাহাব রাহিঃ এর সামনে কেউ একজন বললোঃ ঘটনাচক্রে এমনটি হয়ে গেছে!
হযরতজী রাহিঃ তাকে বললেন, দেখো! এটা বেদ্বীনদের কথা হলো…
দ্বীনদার ব্যাক্তিদের ভাষা (বিশ্বাস) এমন হতে পারেনা, কোনো কাজই ঘটনাচক্রে হঠাৎ করে হয়ে যায়না, বরং পূর্বে খোদায়ে তায়ালার নির্ধারণ দ্বারাই প্রতিটি কাজ হয়………..!!
 
১৫/ঈমানকে তার আলামত সহ বর্ণনা করো, এরদ্বারা নিজেদের ঈমানের দূর্বলতা গুলো চোখে পড়বে!
আলামত ছাড়া ঈমান তো একটি কল্পিত বিষয়ের বেশি কিছু নয়……….!!
 
১৬/ঈমান যতো পূর্নতা পাবে, ততবেশি নেফাকের ভয় বাড়বে………!!
 
১৭/নবী, সাহাবা ও অলীদের ভিতর কেউ আসবাব ত্যাগ করেননি!
আসবাব এখতিয়ার করো, কিন্তু জেনে রেখো! আল্লাহ্ তায়ালা পরীক্ষা করেন, এয়াক্বীন কিসের উপরে আছে, আসবাবের উপর নাকি আল্লাহর জাতের উপর…………!!
 
১৮/মুমিনের ভিতর থেকে ঈমান এতো দ্রুত বেরিয়ে যায়, যতোটা দ্রুত শরীর থেকে জামা খোলা যায়…………!!
 
১৯/সাহাবায়ে কিরাম(রাঃ) কুফর ও শিরিকের অন্ধকার বুঝতে পেরেছেন ঈমানের মহলে এসে…………..!!
 
২০/হযরতজী মাওঃ মুহাঃ ইউসুফ সাহাব রাহিঃ বলেনঃ চীজ ও আসবাবে দৃষ্টি রেখে আল্লাহর কাছে আশা রাখা হচ্ছে একধরনের কুফরির রাস্তা…………!!
 
২১/প্রতিটি সময়ের প্রয়োজন বা সমস্যায় সে সময়ের উপকরণ বা আসবাবের তুলনায় সে সময়ের আ’মালকে অগ্রাধিকার দেওয়া আদতে এসে যায়, এটাই আমাদের এই মেহনতের উদ্দেশ্য!
আমরা আগে ডাক্তারের কাছে যাই তারপর সদকা করি, যখন দেখি সব ডাক্তার অপারগতা প্রকাশ করছে তখন আ’মাল করি…
বলো রোগীর চিকিৎসা কোথায়(??)
 
২২/সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ধারণা ঠিক করা!
ধারনা ঠিক করার অর্থ এই যে, আল্লাহর ওয়াদার উপর এয়াক্বীন এসে যাক!
আমরা মানুষের ওয়াদার উপর বিশ্বাস করেও ফেলি, অথচ আল্লাহ তায়ালার ওয়াদার উপর বিশ্বাস রাখতে পারিনা! কি নির্বুদ্ধিতার কথা…………!!
 
২৩/যে ব্যাক্তি আল্লাহ তায়ালার ওয়াদার উপর এয়াক্বীন করে, আল্লাহ তায়ালা পুরো পৃথিবীকে তার অনুগত বানিয়ে দেন!
আর যে ব্যাক্তি পৃথিবীর বস্তু সমূহের উপর এয়াক্বীন রাখে, আল্লাহ তায়ালা তাকে বস্তুর হাওয়ালা করে দেন…………..!!
Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!