সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:২১ অপরাহ্ন

মুশফিক ভাই! আমি ক্ষমা করে দিয়েছি: ওয়াসিফুল ইসলাম

মুশফিক ভাই! আমি ক্ষমা করে দিয়েছি: ওয়াসিফুল ইসলাম

আমি ১৯৭২-৭৩ সাল থেকে মুশফিক ভাইকে জানতাম চিনতাম। কাকরাইল শবগুজারীতে বৃহস্পতিবারের এক রাতে নাঈম ভাই তার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল। তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি ছিলেন তবে আত্নকেন্দ্রীকতা বজায় রাখতেন। তিনি হাস্যজ্বল কিন্তু শান্তিপ্রিয় ছিলেন। আমি তাকে খুবই বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিসাবে জানতাম। নাঈম ভাই আমাকে বলেছিল মুশফিক ভাই সম্প্রতি ফ্রান্স থেকে ফিরে এসেছিলেন। তিনি সদ্য পি এইচ ডি সম্পন্ন করেছিলেন । দাওয়াতের কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন তাই আমি তার ব্যাপারে খুবই আকর্ষিত ছিলাম।

আমরা প্রতি বৃহস্পতিবার রাত্রে কাকরাইল মসজিদে একত্রিত হতাম এবং আমরা একসাথে রাতের খাবার গ্রহণ করতাম। মুশফিক ভাইকে বরাবরই আমরা একজন সহজ ব্যক্তি হিসেবে পেতাম। তিনি রসিক ব্যাক্তি ছিলেন । কখনও কখনও তিনি ধানমন্ডিতে আমাদের বাড়িতে আসতেন। তিনি আমার মায়ের রান্না উপভোগ করতেন এবং সবসময় প্রশংসা করতেন। আমার মনে পড়ে যখন তার প্রথম মেয়ে সুমাইয়া জন্মগ্রহণ করেছিল। আমি সস্ত্রীক ক্লিনিকে তাদের দেখতে যাই। প্রায়শই আমরা তাদের পশ্চিম ধনমন্ডি রোড ১৯ এ তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখা করতাম। আমার স্ত্রী ও ভাবির মধ্যে খুবই আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। একবার তিনি মাস্তুরাত জামাত এ তিন দিন সময় দেন, যে জামাতে হাজী সাব রহঃ ও তার পরিবার ছিলেন। আর তার পরিবারের সাথে তিনদিন কাটানোর পর। আমরা আত্নীয়তার সম্পর্কে যুক্ত হই তার কন্যা আমার কাজিনের পুত্র আদনানের বিয়ের মাধ্যমে।
মুশফিক ভাই চিরদিনই একজন নিবেদিত দ্বায়ী ছিলেন। তিনি নির্ভীক ছিলেন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের লোকদের দাওয়াত দিতে কখনও দ্বিধা করতেন না।

তিনি অনেক খাওয়াস ব্যাক্তির উপর মেহনত করতেন যার ফলে তাদের অনেকেই দাওয়াতি কাজে যুক্ত হন।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন এবং একটি বিরাট সংখ্যক ছাত্ররা তার অনুসারী ছিল। তার সাথে ছাত্রদের ভালো সখ্যতা ছিল তার বয়ানের দ্বারা ছাত্ররা খুবই উদ্দীপনা পেত তবে সাধারণ মানুষ তার বয়ান বুঝতে কষ্ট হতো। হাজী আব্দুল মুকিত সাব রহঃ তাকে খুব ভালোবাসতেন কারণ তিনি সর্বদা তাকাজা পুরা করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাআলা ইচ্ছা মুশফিক ভাই রহমতুল্লাহি আলাইহি হাজী সাব রহমাতুল্লাহ এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দোষ খোঁজা শুরু করলেন। প্রথম দিকে সে খুবই নম্র এবং বিনয়ীভাবে শুরু করেছিল। কিন্তু দিনে দিনে এটি ঘুরে আক্রমনাত্মক হয়ে যায়। একদিন তিনি হাজী সাব রহঃ এর হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে যান যখন তিনি মিম্বরে বসে কথা বলছিলেন। সেদিন থেকে এই অবস্থার অবনতি শুরু হয় তার। তার সম্পর্কে আমার যা ধারনা ছিল এই কর্মকান্ডের কারণে আমি সম্পূর্ণভাবে বিপরীত দেখতে পাই। তারপরে মুশফিক ভাই কাকরাইল বা রাজশাহী মার্কাজের মাশরাওয়ার ছাড়া 50/60 জন মানুষের জামাত দেশজুরে চালাতে শুরু করেন। তার এই কাজ নেহেজ থেকে আরেকটি বিচ্যুতি ছিল। মুশফিক ভাই আমাদের জন্য উদাহরণস্বরূপ, কিভাবে মশওয়ারার মেনে চলতে হয়, কিন্তু ….
নিজামউদ্দিনের এক জামাত তাকে একত্রে একসাথে কাজ করার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন। তার পরামর্শক ছিলেন ডঃ সানাউল্লাহ। অনেকবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোনো ভাল সমাধান করতে পারেননি। একবার মাওঃ সাদ সাব তাকে বলেছিলেন, একটি স্রোত ততক্ষণ শক্তিশালী থাকে যতক্ষণ সে সমুদ্রের সাথে যুক্ত থাকে !

তারপর ২০১৩ সাল থেকে মুশফিক ভাই ও তার ছেলেরা কাকরাইলের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করে এবং আমার বিরুদ্ধে লিফলেট প্রচারণা শুরু করে। আমি তাদের এই অভিযোগে হতবাক ও হতভম্ব হলাম। আরো বেশি অবাক হলাম যখন দেখলাম মুশফিক ভাই এর পিছনে। যিনি আমাকে বহু বছর ধরে আমাকে চিনতেন। হারুন ও কিছু “অন্যদের” দ্বারা তিনি বিভ্রান্ত হন এবং তাদের মিথ্যা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
আমি রেকর্ড রাখা চাই এক জিনিস। মুশফিক ভাইয়ের বাহিনীকে মারধর কিংবা তাদেরকে জেলে পাঠানো আমি কখনোই সমর্থন করি নি। কিংবা মসজিদ থেকে কাউকে বের করাকে সমর্থন করিনি।

শেষ মুহুর্তে মুশফিক ভাইয়ের সাথে মাওঃ নূর হোসেন কাসেমী সাব এর মাদ্রাসায় দেখা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ শুনে আমি তাদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। তখন মুশফিক ভাইকে প্রমাণ আনতে বলা হয়েছিল। নূর হোসেন সাব তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার অভিযোগের প্রমাণ আছে কি? “তিনি বলেন , আমার কাছে কোন প্রমান নেই। তাহলে ওয়াসিফ সাবের বিরুদ্ধে এসব কথা আপনি কীভাবে বললেন? তিনি বলেন, “আমি সন্দেহ করি”। মাওলানা বলেন, শরিয়ত আপনাকে সন্দেহের ভিত্তিতে অভিযোগ করার অনুমতি দেয় না। আরও আলোচনার পর মাওলানা মুশফিক ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি কাকরাইলের মাশরাওয়ার এবং নিজামউদ্দীনের নির্দেশিকাগুলি পালন করতে ইচ্ছুক? মুশফিক ভাই বললেন, “আমাকে এটা ভাবতে দিন, আমার কিছু সময় দরকার। “মাওলানা বলল,” ঠিক আছে এবং আমাদের জানান। ”

তিনি আর কখনো ফিরে যাননি এবং কয়েক মাস পর তিনি রংপুরের জামাতে ভ্রমণ করার সময আল্লাহ় তাকে নিজের কাছে নিয়ে যান। আমরা গুলশান আজাদ মসজিদে তাঁর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম এবং তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করি। মাওঃ সাদ সাব সবসময়ই আরজ করেন যে ভাই, সাথীর পূর্ববর্তী কুরবানী দেখ, সাথীর খারাপি দেখবে না। আমি এখনও তাকে তাবলীগে আমার পরামর্শক হিসাবে গণ্য করি। তিনি আমার সম্পর্কে যে ভুল ধারনা করেছিলেন তার জন্য আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। এছাড়াও তাদের ক্ষমা করে দেই যারা হিংসাত্মক ভাবে প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে অসত্য প্রচারে ব্যস্ত। এমনকি তারা টঙ্গীতে আব্দুর রহিমের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে খুনী হিসাবে আমাকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। এমনকি তারপরও আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। কারণ একদিন আমরা সবাই আল্লাহর কাছে ফিরে যাই। হে আল্লাহ আপনি আমাদের সাহায্য করুন আমাদেরকে দয়া করুন।

-ওয়াসিফুল ইসলাম
আহালে শুরা কাকরাইল মসজিদ।
তথ্য সংগ্রহ -BD Group Nizamuddin.

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!