বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

দ্বীনের পথে ও মসজিদে বাঁধা প্রদানকারীকে আল্লাহ জালিম বলেছেন

দ্বীনের পথে ও মসজিদে বাঁধা প্রদানকারীকে আল্লাহ জালিম বলেছেন

মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম |
মসজিদ মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান। মসজিদ মুমিনের হৃদয়ের স্পন্দন। মসজিদ বাইতুল্লাহর শাখা। নামাজ, গাশত তালিম এবাদতের ও দ্বীনী কাজের প্রানকেন্দ্র। ইদানিং ভিন্ন মতের কারনে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ,জিকির,গাশত তালিম করতে মসজিদে বাধা প্রদান এক ধরনের ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এমনকি জুমআর নামাজে যেতে, আল্লাহর পথে,তাবলীগের কাজে,ইজতেমায় যেতে ব্যাপকহারে মুসলমানদেরকে বাধা দিচ্ছে একদল উগ্রপন্থীলোকজন।

কিন্তু রাসুল সা.এর জামানায় কাফেরদেরকে মসজিদে প্রবেশ করার ও রাত্রী যাপনের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। আজকে যাদেরকে মসজিদ থেকে, আল্লাহর রাস্তায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে তারা কী মদীনার ইহুদী মুশরীকদের চেয়েও খারপ হয়ে গেল। বরং মসজিদে বাঁধাপ্রদান, দ্বীনী কাজে বাধার ব্যাপারে ইসলামে কটোর হুশীয়ারী আছে। ধর্মীয় , রাষ্ট্রী, সামাজিক কোন আইনেই এহেন অনৈতিক গর্হিত কাজকে সমর্থন করে নয়। কলন ভদ্র সমাজের মানুষ, কোন সভ্য জগতের বাসিন্দা মুসলমানকে বাঁধা প্রদান মারাত্নক অন্যায়। আল্লাহ কুরআন পাকে তাদের জালেম বলেছেন।

যারা আল্লাহর ঘরে প্রবেশে বাধা দেয় আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সবচেয়ে বড় জালেম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাছাড়া যুগে যুগে অসংখ্য অত্যাচারী শাসকবর্গ আল্লাহ তাআলার পবিত্র নিদর্শন মসজিদ এবং আসমানি গ্রন্থসমূহ আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের বাড়াবাড়ির ফলে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ یُّذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗ وَ سَعٰی فِیْ خَرَابِهَا .

‘আর তার চেয়ে বড় জালেম কে হবে, যে আল্লাহর ঘরে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে মানুষকে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালায়, এই ধরনের লোকেরা এসব ইবাদাত গৃহে প্রবেশের যোগ্যতা রাখে না। আর যদি কখনো প্রবেশ করে, তাহলে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রবেশ করতে পারে। তাদের জন্য রয়েছে এ দুনিয়ার লাঞ্ছনা এবং আখিরাতের বিরাট শাস্তি। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১১৪)

৬ষ্ঠ হিজরিতে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৪০০ (চৌদ্দশত) নিরস্ত্র সাহাবি নিয়ে মদিনা হতে বাইতুল্লাহ জিয়ারতে রওয়ানা হয়ে হুদাইবিয়া নামক স্থানে আসলে মক্কার কাফের পৌত্তলিকরা তাঁকে মক্কা প্রবেশে বাধা দেয়।

বিশ্বনবির এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল বাইতুল্লাহ জিয়ারাত, তাওয়াফ এবং নামাজ আদায়। কোনো প্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহ চিন্তা ছিল না। এ কথা জানানো সত্ত্বেও পৌত্তলিকরা বিশ্বনবিকে বাইতুল্লায় প্রবেশে বাধা দেয়। যার ফলে আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেন। (ইবনে জারির)

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, খ্রিস্টান রাজা তাইতুস ইবনে আছিয়ানুস ইয়াহুদিদের বিরুদ্ধে যু্দধ করতে গিয়ে বাইতুল মুকাদ্দাস তছনছ ও তাওরাত কিতাব পুড়িয়ে দিয়েছিল, এ ঘটনার স্মরণে আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেন।
যরত আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

إِنّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ عَزّ وَجَلّ، وَالصّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ.

অর্থাৎ মসজিদ হল নামায, যিকির ও কুরআন পড়ার জন্য। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮৫)

তাই নিয়ম হল, ফরয নামাযের সময় ছাড়াও মসজিদকে প্রয়োজন মোতাবেক ইবাদত, তালীম ও যিকিরের জন্য উন্মুক্ত রাখা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ বন্ধ রাখা ঠিক নয়। মসজিদ দ্বীন কাজের মারকাজ। এই মসজিদ দখলে রাখা এবং দ্বীন কাজ করতে বাঁধা প্রদান করে তারা, সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُواْ وَصَدُّواْ عيْلِ اللّهِ قَدْ ضَلّاَلاً اً- ‘যারা কুফরী অবলম্বন করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধার সৃষ্টি করেছে, তারা সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে’ (নিসা ৪/১৬৭)।

ইবনুল হুমাম রাহ. বিনা প্রয়োজনে মসজিদ বন্ধ রাখাকে- মানুষকে মসজিদ থেকে নেক কাজে বাধা প্রদান করার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ مَنْ آمَنَ تَبْغُوْنَهَا عِوَجاً وَأَنْتُمْ شُهَدَاءَ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ- ‘বলুন, হে কিতাবধারীগণ! কেন তোমরা আল্লাহর পথে ঈমানদারদেরকে বাধা দান কর, তোমরা তাদের দ্বীনের মধ্যে বক্রতা অনুপ্রবেশ করানোর পন্থা অনুসন্ধান কর, অথচ তোমরা এ পথের সত্যতা প্রত্যক্ষ করছ। বস্ত্ততঃ আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবগত নন’ (আলে-ইমরান ৩/৯৯)।

সর্বোপরি এ আয়াত যখন যে কারণেই নাজিল হোক, মসজিদে প্রবেশে বাধা প্রদান শুধু ইসলামের প্রাথমিক যুগেই হয়নি বরং যুগ যুগ ধরে মসজিদে প্রবেশে বাধার কার্যক্রম চলে আসছে, এখনো চলছে, ভবিষ্যতেও ইসলাম বিদ্বেষীরা এ কাজ অব্যাহত রাখবে। আর তাদের ব্যাপারেই কুরআনে দুনিয়ার লাঞ্ছনা-অপমান এবং পরজগতের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

দ্বীনে হক্বের কাজ মূলতঃ আল্লাহর নির্দেশ। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) তাকে বিভিন্নভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বীনী কাজে বাধা প্রদান করতে মহান আল্লাহ কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেন, وَلاَ تَقْعُدُوْا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوْعِدُوْنَ وَتَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُوْنَهَا عِوَجاً وَاذْكُرُوْا إِذْ كُنْتُمْ قَلِيْلاً فَكَثَّرَكُمْ وَانْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِيْنَ- ‘তোমরা পথে-ঘাটে একারণে বসে থেকো না যে, আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের’ (আ‘রাফ ৭/৮৬)।

** একটু ভাবুনতো! আজ যারা মুবাল্লীগ মুসলমানদের মসজিদে আমল করতে বাধা প্রদান করছেন তারা ঐ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল কিনা একটু ভাববেন কী?

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!