রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৯, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
আবারও জামাত-হেফাজতের যৌথ মিছিলে কাশ্মীর নিয়ে ছবি জালিয়াতি ঈদের ছুটিতে মুবাল্লীগদের করণীয় ও কিছু কথা জয়পুরহাটে অ্যাসিড খাওয়ানোর মামলায় ইমামসহ ২ জন রিমান্ডে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নিন্দা ও প্রতিবাদ মসজিদের ভিতর শীর্ষ আলেমদের উপর হামলায় দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় আল্লামা মুফতি ইজহারের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুনঃ ১০১ আলেমের বিবৃতি মসজিদের ভিতরে মুফতি ইজহারের উপর নৃশংস হামলা: আহত ৩ মুফতি উসামা ! ক্ষমা করে দিবেন… বিদেশী মেহমানদের এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টায় দেশব্যাপি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জয়পুরহাটে ইন্ডিয়ার জামাতকে এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টাঃ ইমামসহ ২জন গ্রেপ্তার
বিদেশী মেহমানদের এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টায় দেশব্যাপি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ

বিদেশী মেহমানদের এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টায় দেশব্যাপি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ

বিশেষ  প্রতিনিধিঃ তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম:

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা  জামে মসজিদে এসিড পান করিয়ে এক ভারতীয় নাগরিকসহ তাবলীগ জামায়াতের দুই সদস্যকে হত্যার  চেষ্টা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন সারা দেশের তাবলীগের সাথী ও মুহাকীক শান্তিপ্রিয় উলামায়ে কেরাম। তারা এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। পাশাপাশি পুলিশের সন্তুষজনক ভুমিকা ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে শুকরিয়া জানিয়েছেন।এদিকে এই ঘটনায় স্যোসাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝর উঠেছে।

 

বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমেদ্বীন, বর্ষিয়ান হাদীস বিশারদ ও মুফতী আল্লামা ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, বলেন এরা বর্বরতার শেষ সীমায় পৌছে যাচ্ছে। এর আগে কিশোরগঞ্জে ভাই আব্দুর রহিমকে মসজিদে জামাত তুলার কারণে আগুন লাগিয়ে বর্বর কায়দায় হত্যা করে। টঙ্গীর মাট দখল করতে গিয়ে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করে। এভাবে একের পর এক এই নিশংসতা বাংলাদেশে ভয়াবহ গৃহবিবাদ ও ধর্মীয় সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত এদের সকলকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া দরকার। কাদের ইন্ধন ও উস্কানিতে এসব ঘটনা একের পর এক হচ্ছে তা খাতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করি।

 

খ্যাতিমাম আলেমেদ্বীন মারকাজুল উলুম আশ শরীয়্যাহ এর মহাপরিচালক, জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা আত-তাহকীক এর প্রধান সম্পাদক, মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেন, পাকিপন্থী এই জুবায়েরগ্রুপের একের পর এক বর্বরতা আইয়য়ামে জেহালতকে হার মানিয়েছে। রমজানে হাফেজে কুরআনের গায়ে পেট্টল ঢেলে হত্যা করল। এখন ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের ভিতর এসিড খাইয়ে আল্লাহর রাস্তার মেহমানদের হত্যার চেষ্টার মতো ঘটনা কতোটা বর্বরতা তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দ্রুত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

কাকরাইল মসজিদের ইমাম, জামেয়া রাহমানীয়া  ব্যাংক টাউনের মুহতামিম মাওলানা মুফতী আজিমুদ্দীন বলেন,  যে মেওয়াতিদের দ্বারা আল্লাহ তায়ালা সারা দুনিয়াতে এই তাবলীগের কাজকে জিন্দা করছেন। সেই মেওয়াতি মুবাল্লীগদের মসজিদের ভিতরে এসিড খাইয়ে হত্যার চেষ্টা নিসন্দেহে নিকৃষ্টতম লোকদের কাজ। ইসলামের নামে এদের এই বর্বরত ও অপকর্মগুলো শক্ত হাতে রাষ্টিয়ভাবে দমন না করলে  ইসলাম ও দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। সম্প্রতি একেরপর এক নামদারী এসব উলামায়ে ছুদের অপকর্মগুলো আলেমসমাজের মাথাকে নিচু করে দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য যে,ভারতীয় এই জামাতের সাথীদের এসিড পান করিয়ে হত্যার চেষ্টায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে দুজন হাসপাতালে। এঘটনায় ক্ষতলাল থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাতেই মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমীনসহ জুবায়েরপন্থী পাকিস্তানি আলমী শুরার ৭জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা যায়।

 

মূলধারার তাবলীগ জামায়াতের সাথীদের জুবায়েরপন্থীরা এবার তাদের কৌশলে এসিড পান করিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এসিড পান করে অসুস্থ ওই তাবলীগ সদস্যরা হলেন, ভারতের রাজস্থান এলাকার মৃত রহমতুল্ল্যাহর ছেলে মাওলানা শাহাবুদ্দিন ও বাংলাদেশের ময়মনসিংহের জালাল উদ্দিনের ছেলে মাওলানা এমদাদুল হক।

 

পুলিশ জানায়, তাবলীগ জামায়াতের মারকাজে নিজামুদ্দিন অনুসারী ও শুরাপন্থী নামে বিবাদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছু দিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে শূরাপন্থী জুবায়ের গ্রুপের সদস্যরা নিজামুদ্দিন অনুসারীদের ১২ জন সদস্যকে দাওয়াত দিয়ে ক্ষেতলাল নিয়ে যান। পরে এশার নামাজ শেষে বয়ানের পর নিজামুদ্দিন গ্রুপের সদস্যদের রাতের খাবার দেওয়া হয়। এ সময় এই গ্রুপের নেতা ভারতের শাহাবুদ্দিন ও বাংলাদেশের এমদাদুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে পানির বোতলে এসিড মিশিয়ে পান করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

অসুস্থ হয়ে পরলে তাদের প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাদের জয়পুরহাট ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

 

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছালাম কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, তদন্দ সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে গতকাল ভোর রাতে ক্ষোতলাল থানার পুলিশ, মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমীন, সহ ৭জনকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। এসময় মসজিদ থেকে দুটি এসওড ভর্তি বোতল উদ্ধার করে।

বর্বর ও নির্মম এই ঘটনায় তাবলীগের সাথী ও মুহাক্কীক উলামায়ে কেরাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এসিড পান করিয়ে হত্যার চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন চিন্তাশীল আলেম সমাজ ও শান্তিপ্রিয় দ্বীনদ্বার মানুষ।

 

 

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!