রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৯, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
আবারও জামাত-হেফাজতের যৌথ মিছিলে কাশ্মীর নিয়ে ছবি জালিয়াতি ঈদের ছুটিতে মুবাল্লীগদের করণীয় ও কিছু কথা জয়পুরহাটে অ্যাসিড খাওয়ানোর মামলায় ইমামসহ ২ জন রিমান্ডে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নিন্দা ও প্রতিবাদ মসজিদের ভিতর শীর্ষ আলেমদের উপর হামলায় দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় আল্লামা মুফতি ইজহারের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুনঃ ১০১ আলেমের বিবৃতি মসজিদের ভিতরে মুফতি ইজহারের উপর নৃশংস হামলা: আহত ৩ মুফতি উসামা ! ক্ষমা করে দিবেন… বিদেশী মেহমানদের এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টায় দেশব্যাপি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জয়পুরহাটে ইন্ডিয়ার জামাতকে এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টাঃ ইমামসহ ২জন গ্রেপ্তার

ঈদের ছুটিতে মুবাল্লীগদের করণীয় ও কিছু কথা

মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ: তাবলীগ নিউজ  বিডিডটকমঃ

ঈদুল আজহাতে লম্বা ছুটিতে যারা শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তারা এলাকার কাজের একটু ফিকির করবেন। এটি একটি কঠিন বাস্তবতা যে,শহর থেকে গ্রামের একেকটি মসজিদ ও মহল্লায় হালত বেশি বিগড়ানো। মসজিদ ও স্থানীয় কওমী মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকের ভুল তথ্য ও অপপ্রচারে গ্রামের মূলধারার একেকজন সাধারান সাথী কতোটা কোনটাসা তা ভাষায় বুঝানো যাবে না। কতটা সীমাহিন নির্যাতনের স্টিমরোলার বয়ে যাচ্ছে তার উপর দিয়ে এতেয়াতের পরিক্ষা দিতে গিয়ে। এই মুহুর্তে আপনি একটু ফিকির ও নুসরত করলে গ্রামের সহজ সরল এই তাবলীগী ভাইদের শেষরাতের রোনাজারির সওয়াবের অংশিদার আপনিও হয়ে যাবেন।

 

”””””””””””””””””””

একেকজন ইমামের অপপ্রচারের কাছে পুরে গ্রাম জিম্মি। আপনার একটু ফিকির ও নুসরত এই হালতকে বদলে দিতে পারে। প্রথমত মহল্লার ইমাম সাহেবের জন্য  ঈদ উপলক্ষে একটু নগদ হাদিয়া তোহফা নিয়ে জিয়ারত করে  সাড়া দুনিয়ার হালত ও নিজামুদ্দিন মারকাজ এবং শহরের কাজের কারগুজারী শুনিয়ে দিলে ভাল হয়। ঈদের দিন মাদরাসার ছাত্র-উস্তাদগন চামড়ার বাড়িতে এলে  এলে তাদেরকে খুব আখলাকের সাথে চামড়াটি দিয়ে দিবেন। নিজে মাদরাসায় গিয়ে না দিতে পারায় দু:খ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে নিবেন। এটি গরীব আহলে এলেমদেরকে পৌছে দেয়া আপনার হক ও জিম্মাদারী ছিল। চাামড়ার সাথে রিস্কা বাড়া দিয়ে দিবেন। ঈদের দিন আল্লাহর রাস্তার নবীর মেহমান এই ত্বালেবে এলেমরা আপনার বাড়িতে এসেছে, পেটভরে ফিন্নি সেমাই, ছটপটি খাইয়ে দিবেন। পাড়লে ভাত খাওয়াবেন। বিদায়ের সময় সবাইকে ঈদের বকশিশ কিছু হাদীয়া তোহফা সুন্নত হিসাবে দিয়ে দিবেন। আদবের সাথে কিছু কারগুজারী শুনালে উত্তম হয়।

 

তারপর এলাকার সাথীদের কোথাও জমা করে বা বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে এনে এলাকার সার্বিক কারগুজারী জেনে নেয়া। নিজ এলাকাতে হালকার জোড়, মাশওয়ারা, মহল্লার গাশত তালিমকে আগ বাড়ানোর ফিকির করবেন। হালকা, ইউনিয়ন বা থানায়  আরো কিছু সাথী বা এতেয়াতের ফিকিরমন্দ উলামায়ে কেরাম মিলতে পারে যারা বাহিরে থাকেন ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসেছেন তাদের গাশত করে এই ফিকিরে লাগাতে পারেন।

———————————

আমি নিজের একটু কারগুজারী শুনাই…

 

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল  উপজেলার সদর ৪নং ইউনিয়নের দুই নং হালকায় উত্তরসুর গ্রামে আমার মহল্লা। (যেখানে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে আলেম উলামা বেশি) ঢাকা থেকে গত বুধবারে স্বপরিবারে বাড়িতে এসেছি। ঢাকা থেকেই রাতে হালকার জিম্মাদার সাথীদের পাশের গ্রামের এক সাথীর বাড়িতে একত্র হতে দাওয়াত দিলাম।  ৯জন সাথী এলেন। কারগুজারী হল বিগত দুই মাস জেলা ইজতেমা উপলক্ষে আলেমদের চাপে সাথীরা হালকার জোড় করতে পারেন নি। তাদের নিয়ে আজ শনিবার বাদ যোহর জয়নাবাদ গ্রামের জামে মসজিদে জোড়ের তারিখ হয়।

 

কে কখন কোন কোন গ্রামে কোন কোন সাথীর কাছে গাশত করবেন তার জিম্মাদারী দেয়া হয়। এলাকার একজন এতেয়াতের আলেম আছেন।তাকে নিয়ে আমি বৃহস্পতিবার সকালেই বড় বড় মসজিদের ইমাম সাহেবদের সাথে দেখা করলাম। অনেক পজিটিভ অবস্থান দেখলাম। আগের সেই উত্তেজনা নেই। এখন কথা শুনেন ও বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করছেন অনেকেই।

 

এরই ভিতরে মাওলানা সাহেব বললেন, এলাকায় আরেকজন আলেম কথিত আলমী শুরার দিকে কট্টর ছিলেন (যার সাথে আমার বেশ বড় ধরণের তর্ক ও ঝগড়া হয়েছিল ফেতনার শুরুর দিকে) তিনি নাকি এখন মূলধারায় আসতে চান। গেলাম তার বাড়ি। দেখে অবাক হলেন। জড়িয়ে ধরলাম। বাচ্ছাদের ডেকে এনে হাদীয়া তোহফা দিলাম। নিজ ঘরে বসালেন অনেক কথা হল। চোখের পানি ফেললেন। তওবা করলেন। বিকেলে আমার সাথে মারকাজে গেলেন। বললেন আমার লজ্জা হচ্ছিল আপনাদের সামনে কিভাবে দাড়াই। (এজন্য ভাই কোন গায়রে এতেয়াতী সাথীর সাথে ককনো এমন আছড়ন করব না, যাতে সে আর ফিরে আসতে লজ্জাবোধ করে।)

 

শুক্রবার ও শনিবার সকালে মটর সাইকেল দিয়ে কয়েক সাথী মিলে পুরো হালকায় দাওয়াত দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আজ বাদ যোহর হালকার জোড় হল। থানা থেকে জেলার আহলে শুরা বর্ষিয়ান আলেমেদ্বীন, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস,  উস্তাদুল উলামা মাওলানা আব্দুল হক সাহেব দামাত বারাকাতুহুম, ও সাল ওয়ালা আলেম মাওলানা মঈনুল ইসলাম সাহেব এসেছিলেন। হালকার প্রায় সকল মসজিদ থেকে সাথী এসেছিল।

 

তিনটি নগদ জামাত ঈদের পর বের হবে ইনশআল্লাহ। মাস্তুরাতের একটি জামাত। সব মসজিদ থেকে ঈদের পরের সাপ্তাহে তিনদিনের জামাত বের করার আজাইম দিয়েছেন। নিজামুদ্দিন জোড়ে তিনজন সাথী যাবেন। সবল মসজিদগুলোকে ২য় গাশতের মাধ্যমে দুর্বল মসজিদের দায়িত্ব দেয়া হয়। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিম্মাদারা সাথী আমাদের হালকার, আবুল কাশেম ভাই বাড়িতে এসেছেন, তিনি চমৎকার কারগুজারী ও তরগীবী কথা বললেন।

 

যে মসজিদে জোড় হল, তিন মাস আগে এই মসজিদ থেকে ইমাম সাহেব সিরাজগঞ্জের ডাক্তারদের জামাতকে বের করে দিয়েছিলেন। সেই   ইমাম সাহেব খানাতে শরিক হলেন। বললেন, আমারতো বসতে মন চায়, কিন্তু হুজুররা শুনলেতো বিরোধীতা করবেন, তাই ভয়ে আপনাদের সাথে বসি না।

 

পুরো হালকায় মাত্র দুটি মসজিদে জামাত যেতে পারে না। দুটি মসজিদে আমি সহ জিম্মাদার সাথীরা কমিঠির কাছে গাশতের ফিকির করেছেন। কয়েকজন আলেম মিলে ইনশআল্লাহ আমরা যাব। আশা করি হালত বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ।

 

এটি হল একটি পাড়াগায়ের সামান্য ফিকিরের কারগুজারী। এভাবেই সারা দেশ একদিন আনুগত্যের বৃষ্টিতে শিক্ত হবে।

 

আল কুরআনের ভাষায়, তোমরা হতাশ হবে না, দুঃখিত হবে না, বিজয় তোমাদেরই নিশ্চিত। যদি তোমরা মুমিন হও।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!