শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:২১ অপরাহ্ন

হেফাজতীদের প্রতিহত করার হুমকি উপেক্ষা করেই ‘ঠাকুরগাঁও ইজতেমা’ শুরু

হেফাজতীদের প্রতিহত করার হুমকি উপেক্ষা করেই ‘ঠাকুরগাঁও ইজতেমা’ শুরু

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাবলীগ জামাতের ৩ দিন ব্যাপী (২২-২৪ আগষ্ট) জেলা ইজতেমা বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কাকরাইলের শীর্ষ মুরব্বিগণ ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন।
যোহরের নামাজের পর ঢাকার মুরব্বি আতাউর গনী বয়ান শুরু করেন। বাদ মাগরিব বয়ান করেন মুফতি জিয়া বিন কাসিম। শুক্রবার ফজরের পর মুফতি আজিম উদ্দীন বয়ান করবেন।

জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ২২, ২৩, ২৪ আগষ্ট জেলা ইজতেমা সম্পন্ন করতে রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তাবলীগের মূলধারার সাথীগণ। এদিকে যেকোনো মূল্যে জেলা ইজতেমা প্রতিহত করার হুমকী দিয়ে মানববন্ধন করেছে ইজতেমাবিরোধী জুবায়েরপন্থিরা। এদিকে ইজতেমা প্রতিহত করার ঘোষণাটি বে-আইনী বলে উল্লেখ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে কোনো অপতৎপড়তা শক্তহাতে প্রতিহত করতে পুলিশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

পূর্বেই ঠিক হওয়া এই ইজতেমা সম্পন্ন করার একদিন আগে মঙ্গলবার ইজতেমা স্থান রাণীশংকৈল শিবদিঘী মোড়ে বিশ্বআমীর মাওলানা সা’দ কান্ধলবীর অনুসারীদের জেলা ইজতেমা ঠেকাতে হেফাজতী ও জুবায়েরপন্থিরা ঠাকুরগাঁও জেলা ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তাওহীদী জনতার ব্যানারে মানব বন্ধন করে। ব্যনারে সর্বস্তরের তাওহীদী জনতা লেখা থাকলেও বাস্তবে ঠাকুরগাঁওয়ের মুসলিম জনসাধারণ ইজতেমা প্রতিহতের এই ঘোষণায় বিষ্মিত হয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, মুসলমান হয়েও কিছু ধর্মধারী লোক কিভাবে একটি আখেরাতমুখী ইজতেমা বন্ধের অপচেষ্টা করতে পারে সেটা আমাদের বুঝে আসে না। অনেকেই বলছেন, বাঁধার পর এই ইজতেমার আয়োজন ঠাকুরগাঁওয়ের গণমানুষের দাবীতে পরিণত হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “সাদপন্থীদের জেলা ইজতেমা যেন না করতে পারে এজন্য প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি সেখানে ইজতেমা হয় প্রয়োজনে মাথার পাগড়ি কোমরে বেঁধে আমরা প্রতিহত করবো । চট্রগ্রামের হাটহাজারী থেকে আল্লামা শফি সাহেবকে এনে গণজমায়েত করবো।” বক্তারা আগামি ২২ আগষ্ট ইজতেমার একই স্থান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নেকমরদ ওলামা পরিষদ সম্পাদক মৌঃ রাজিউল ইসলাম রাজু, ওলামাদের মুরব্বি মাহমুদুল্লাহ, লাহিড়ী জামে মসজিদের খতিব মজিবুর রহমান, পীরগঞ্জ ইমাম ওলামা পরিষদ সম্পাদক নুরুজাম্মানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও মারাক্কাজ মসজিদের ইমাম জামিল আহাম্মেদ, তাবলীগ জামাতের জেলা জিম্মাদার বদরুজাম্মান কামাল, প্রারম্ভিক বক্তা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ইমাম ওলামা পরিষদ সভাপতি উবাইদুল মতিন প্রমুখ।

উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়ে ওঠে জেলা পুলিশ। জেলা ইজতেমা সম্পন্ন করতে বুধবার বিকালে থানা চত্তরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ বাহিনীকে দিকনির্দেশনা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (পিপিএম সেবা)। এসময় পুলিশ সুপার বলেন, জেলা ইজতেমা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এতে পুলিশ বাহিনীর যা করণীয় তাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করা হবে না। আজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চেকপোষ্ট বসানো হবে এবং ছাত্রাবাস ও ম্যাসগুলো তল্লাশি করা হবে। পুলিশ বাহিনীকে তিনি আরো বলেন, যেখানে যতটুকু বল প্রয়োগ করা দরকার সেখানে ততটুকু বল প্রয়োগ করবেন। প্রথমে লাঠিচার্জ এরপর গ্যাস গান, সটগান এরপরেও নিজেরা অথবা অন্যেরা আক্রান্ত হলে ফায়ার করার নির্দেশনা দেন। আর এ ইজতেমা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারলে পুলিশ বাহিনীকে পুরষ্কৃত করা হবে। ইজতেমাবিরোধী হেফাজতপন্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ইজতেমা প্রতিহত করার ঘোষণাটি বেআইনী। যারা এ ঘোষণাটি দিয়েছেন তারা বেআইনী কাজ করেছেন। আমরা এ বেআইনী কাজটি করতে দিতে পারি না। আশা করি, আপনাদের এ ঘোষণাটি প্রত্যাহার করবেন। যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহাফুজুল ইসলাম।

রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মোবারক হোসেন বুধবার রাতে টেলিফোনে জানান, “ইজতেমার স্থানে লোকজন জমায়েত হতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত জুবায়েরপন্থীদের কোনো তৎপড়তা বুধবার চোখে পড়েনি।” তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম এর নিজস্ব প্রতিবেদক বারবার চেষ্টা করেও প্রতিহতকারীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে নি। রানীশংকৈল আলিয়া মাদরাসার একজন সিনিয়র শিক্ষক এ ব্যপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, তাবলীগের বিরুদ্ধে লাগার পর থেকে হেফাজতপন্থীদের অবস্থা হয়েছে সুকুমার রায়ের ‘বাপুরাম সাপুড়ে’র মত। “যে সাপের চোখ নেই, শিং নেই নোখ্‌ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে শুধু ফোঁসফাঁস, মারে কিছু ঢুঁশঢাঁশ, যদি করে উৎপাত, দেওয়া হয় দুধ ভাত ……..। তেড়ে মেরে ডাণ্ডা, ক’রে দেই ঠাণ্ডা।” তিনি আরো বলেন, আমাদের পুলিশ সুপারের ভাষণ থেকে আমরা বুঝেছি, দুধভাতে কাজ না হলে ডাণ্ডা দিয়ে ঠাণ্ডা করে হলেও ইজতেমা আয়োজন করা হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!