বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৯, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

বিশ্বের সেরা ১০মনীষার একজন ছিলেন তিনি

বিশ্বের সেরা ১০মনীষার একজন ছিলেন তিনি

তাবলীগ জামাতের অন্যতম শীর্ষ মুরুব্বী হযরত হাজী আব্দুল ওয়াহাব রহ ছিলেন গোটা পৃথিবীর শীর্ষ ১০মনীষার অন্যতম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাতে গোনা দুএকজন মুসলীম বিশ্ব মনীষার তিনি ছিলেন একজন।

২০১৪ এবং ১৫ তে একটি পরিসংখ্যানে বিশ্বের ১৫০ শীর্ষ মুসলিম ব্যক্তিদের তালিকায় হাজী আব্দুল ওয়াহাব ১০ নম্বরে উঠে আসেন। তাবলিগ জামতের নেতৃস্থানীয় নেতা হওয়ার কারণে এ তালিকায় তার নাম খুব ফলোয়াপ করে প্রচার করা হয় নি কখনো।

হাজি আবদুল ওয়াহাব রহ. ১৯২২ সালে তৎকালীন হিন্দুস্তানের রাজধানী দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ বিভাগের সময় তার পরিবার পাকিস্তানে হিজরত করে। তিনি লাহোর ইসলামিয়া কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং সরকারি কালেক্টর পদে যোগদান করেন।

তিনি তার জীবনের প্রায় পুরোটা সময় তাবলিগের মেহনতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাবলিগি মেহনতের অসামান্য ত্যাগ তাকে প্রথমে পাকিস্তান তাবলিগ জামাতের আমিরের মর্যাদা এনে দেয় এবং পরবর্তীতে তিনি তাবলিগ জামাতের আলমি শুরার আমির নির্বাচিত হন।

তাকে বলা হয় পাকিস্তান তাবলিগ জামাতের তৃতীয় আমির। তার পূর্বের দুজন আমির হলেন মুহাম্মদ শফী কুরাইশি এবং হাজি মুহাম্মদ বশির।

হাজি আবদুল ওয়াহাব রহ. ১৯৪৪ সালে তাবলিগ জামাতের সাথে সম্পৃক্ত হন। যুবক বয়সে হাজি আবদুল ওয়াহাব রহ. আহরারে ইসলাম-এর কর্মী ছিলেন। দেশবিভাগের পর তিনি এই দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৪৪ সালে তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি রহ.-এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তার সঙ্গে তিনি তাবলিগের মেহনতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন।

মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি রহ.-এর সাক্ষাৎলাভের পর হাজি আবদুল ওয়াহাব রহ. তাবলিগের কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেন এবং তার জীবন উৎসর্গ করেন কালেমার দাওয়াতের জন্য।

একসময় তাবলিগের কাজের স্বার্থে কালেক্টরের চাকরি ছেড়ে দেন এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে জীবনযাপন শুরু করেন। আল্লাহ তার তাওয়াক্কুলে এমন বরকত দেন যে সারা দুনিয়া তার সুবাস ছড়িয়ে যায়।

হাজি আবদুল ওয়াহাব রহ. মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি রহ.-এর সেই প্রথম পাঁচ সাথীর একজন ছিলেন যারা তাদের পুরো জীবন ইসলামের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন।

হজরত মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি রহ. ১৯২৭ সালে তাবলিগের কাজ শুরু করেন এবং ১৯৪৪ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভি রহ. ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এবং তারপর মাওলানা এনামুল হাসান রহ. ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।

মাওলানা এনামুল হাসান রহ.-এর ইন্তেকালের দুই মাস পর ১০ জুন ১৯৯৫ সালে হাজি আবদুল ওয়াহাব রহ. তাবলিগ জামাতের পাকিস্তানের আমীর নিযুক্ত হন এবং আমৃত্যু তথা ১৮ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

সারা জীবন তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও যে কোনো দ্বীনি আন্দোলনে তার প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকতো। বিশেষত তিনি পাকিস্তানে খতমে নবুওয়াত আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে করেন।

এছাড়াও ২০১৩ সালে সরকার ও পাকিস্তান তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার অংশগ্রহণে একাধিকবার পাকিস্তান বড় ধরনের জাতীয় সংকটের হাত থেকে রক্ষা পায়।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!