শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৫ অপরাহ্ন

ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষমা ও উদারতা

ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষমা ও উদারতা

আদর্শ মানুষ তথা খাঁটি মুমিন হওয়ার জন্য কোরান শরিফে বর্ণিত গুণাবলির মধ্যে ক্ষমা ও উদারতাকে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, …যারা রাগ দমন করে, অন্যের দোষ মাপ করে দেয়, এমন মানুষকে আল্লাহ খুব ভালোবাসেন। [সুরা ইমরান, আয়াত ১৩৪]। আরো ইরশাদ হচ্ছে, তাদের মাপ করে দেয়া উচিত, দোষ না ধরা উচিত। তোমরা কি চাও না আল্লাহ তোমাদের মাপ করুন? তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াময়। [সুরা আন-নুর, আয়াত ২২]। একই মর্মে আল্লাহ মহান বলেছেন, আমি আসমান-জমিন এবং এ দুইয়ের মধ্যে সব কিছুই হক ভিত্তিতে সৃষ্টি করেছি। ফয়সালার সময় অবশ্যই আসবে, আপনি তাদের ভদ্রভাবে মাপ করে দিন। [আল হিজর, আয়াত ৮৫]।প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষমতা ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করলে সেটাই প্রকৃত ক্ষমা। এটাই নবিজির আদর্শ। আমাদের নবিজির [সা.] শিক্ষা। এ ধরনের ক্ষমার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। প্রিয় রাসুল মুহম্মদ [সা.] এবং সাহাবায়ে কেরামদের জীবনে এমন অসংখ্য ঘটনা ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। হজরত আয়েশা [রা.] বলেন, প্রিয় নবি [সা.] কখনো নিজের ব্যাপারে কারো প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। আল্লাহর দীন ও বিধানের অবমাননা হলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতেন। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন শর্তহীন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে প্রিয় নবি [সা.] বলেছিলেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো প্রতিশোধ নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। হজরত উমর [রা.] বলেন, মহানবি [সা.]-এর এমন উদার মন দেখে সেদিন লজ্জায় নুয়ে পড়েছিলাম। আমি প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, আনন্দ করছি, এদিকে তিনি চিরশত্র“দের ক্ষমার সংবাদ শোনাচ্ছেন। মক্কা বিজয়ে কোনো বনি আদমের রক্ত ঝরেনি। আলোকিত সমাজ, দেশ ও দুনিয়া নির্মাণে ক্ষমা ও উদারতার গুণের চর্চা বাড়ানো দরকার। এই দুটি গুণ যে কোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা বাড়ায়। নবিজির [সা.] খাঁটি অনুসারী হিসেবে আমাদের উচিত ক্ষমা ও উদারতার চর্চায় এগিয়ে আসা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা ও উদারতার গুণে গুণান্বিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!