বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

ভাই আব্দুল ওয়াহাব ছিলেন লাখো আলেমের শায়েখ

ভাই আব্দুল ওয়াহাব ছিলেন লাখো আলেমের শায়েখ

আবদুল্লাহ শাকিল,নির্বাহী সম্পাদক তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম |গতকাল প্রায় ১৫লক্ষ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ভাই হাজী আব্দুল ওয়াহাব রহ এর জানাযার নামায অনিষ্ঠত হল। এতে পাকিস্তানসহ গোটা দুনিয়া থেকে লক্ষাধিক আলেম উলামা অংশ নিয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। সারা দুনিয়ার আলেমরা হাজী সাহেবের মৃত্যতে সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেছেন।

হাজী ভাই আব্দুল ওয়াহাব টহ এমন এক সময় পুরো দুনিয়াকে কাঁপিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন যখন দাওয়াত ও তাবলীগের নেতৃত্ব থেকে জেনারেল উচ্চ শিক্ষিত ব্যাক্তিদের তাড়ানোর আন্দোলন করছেন একদল অতাবলীগী আলেম। তারা নতুন চটকদার এক আওয়াজ তুলছেন, “আপনি আলেমদের সাথে না আওয়ামদের সাথে?

কিন্তু মজার ব্যাপার হল তারা যে আল মি শুরা বাস্তবায়নের জন্য এতো এতো আন্দোলন সংগ্রাম করলেন সেই আলেমদের মূল কান্ডারী বা আলমি শুরার প্রথম ব্যাক্তি হিসাবে অসুস্থ শয্যাসায়ী হাজী ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের নাম ব্যবহার করতে থাকেন। কারন তিনি জেনারেল শিক্ষিত মানুষ হলেও তার অনন্য উচ্চতাকে পাকিস্তানীরা অস্বীকার করতে পারেন নি। এই জেনারেল শিক্ষিত মানুষটি তাবলীগের মেহনতের বদলে হাজার হাজার আলেম উলামার তিনি ছিলেন শায়েখ।

জেনারেল শিক্ষিত একজন মানুষ তাবলীগের মেহনতের বদৌলতে কোথায় গিয়ে পৌছতে পারবে ভাই আব্দুল ওয়াহাব রহ ছিলেন তার উৎকৃষ্ট প্রমান। একজন জেনারেল লাইনের একজন মানুষ তাবলীগের বিশ্ব নেতৃত্ব দিতে পারেন সুনাম ও মকবুলিয়তের সাথে তা তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেলেন।

উপমহাদেশে সনদধারী আলেমের বাহির অনেক বুজুর্গ দ্বীনের অসামান্য খেদমত করেছেন ইতিহাস তার জলন্ত সাক্ষি। হাজী সাহেব রহ তেমনি একজন ছিলেন, যেন হাজী এমদাদুল্লাহ মক্কার প্রতিচ্ছবি।

হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী ছিলেন পুরো মিল্লতের জন্য এক পরম সম্পদ ও নেয়ামত। কালির অক্ষরে বড়ো বড়ো কিতাব পড়া আলেম তিনি ছিলেন না । কিন্তু তিনি ছিলেন শায়খুল উলামা । উলামায়ে হিন্দের মাতার মুকুট ছিলেন
হাজি ছাহেব। দারুল উলুম দেওবন্দের তিনিই ছিলেন মুল প্রেরণা ।

আজ একবিংশ শতকে এসে আল্লাহ তায়ালা হুবহু এমনি আরেক মনীষাকে মিলিয়ে দিয়েছিলেন উম্মতের সামনে পাকিস্তানের হাজি আবদুল ওয়াহাব
ছাহেব রহ । যুগে যুগে হাজী মক্কী রহ এর উত্তরসুরীরা এভাবেই গোটা উম্মতের দ্বীন সকল কাজের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। এরজন্য তাদের সনদধারী কোন ডিগ্রি নিতে হয় নি। বরং তাদের কাছে তাস উফ বা সংশোধনের ডিগ্রি নিতেই হাজির হতাম সনদ ধা রী আলেমরা। নিকট অতিতে আরেকজন ছিলেন আটক বিল্লাহ ডা. আব্দুল হাই রহ, যিনি মুফতি ত্বকী ওসমানীর শায়েখ ছিলেন।

ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেব রহ ছিলেন পথহারা উম্মতের পথের দিশা। তিনি ছিলেন মুসলিম মিল্লাতের এক আলোর মিনার। আলেম সমাজের কাছে তিনি কতোটা ব্যাপক গ্রহনযোগ্য ছিল তা নিম্নের ঘটনার দ্বারা বুঝা যাবে।

আল্লামা মনজুর নোমানীকে আরব আজমের শিক্ষিতজনদের কে না চিনে। তিনি তাযকীয়ার ছবকের জন্য রায়পুরীর কাছে গেলেন। রায়পুরী রহ থাকে পাঠালেন মদনী রহ এর কাছে । কূতবে আলম মাদানী থাকে নিয়ে গেলেন চির রাজনৈতিক বিরোধী থানবী রহঃ এর কাছে । মাদানী থানভীকে বললেন আপনার দরবারে নিয়ে এসেছি , এই জ্ঞানের জাহাজ মাওলানাকে আপনি বাইয়াত করান। থানভী বললেন . বাইয়াত আপনি করান আর সবক ও তরবিয়ত আমি দেব । আবুল আলা মওদুদীর সাথে তিনিও জামাত ইসলামির অন্যতম প্রতিষ্টাতা । মওদুদী এক সময় লিখেছিলেন , নোমানী আমার বৈপ্লবিক চিন্তা চেতনার তরজুমান ।

এই মনজুর নোমানী শেষ বয়েসে চলে এসেছিলেন হযরতজি মাওলানা ইলিয়াছ রহ এর কাছে। থাকতেন নিজামুদ্দীনের মারকাজে । ছিলেন মার্কাজের আহলে শূরা। তখন ইলিয়াছ রহ কাছে হাজী আব্দুল ওয়াহাব ছাহেবও থাকতেন । থাকতেন সৈয়দ সুলায়মান নদভী , সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী , শায়খুল হাদীস জাকারিয়া, মুফতি কেফায়তুল্লাহ, হাকীমুল ইসলাম ক্বারী তাইয়্যিব ছাহেব রহঃ। উপমহাদেশের রতি মহারতিদের প্রানকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল হযরতজির দরবার ।

হযরতজী চলে গেলেন ওপারে নিজামুদ্দীনের শূন্য মসনদে বসলেন জগতখ্যত দাঈ ছাহেবজাদা মাওলানা ইউসুফ রহ ।মাওলানা ইউসুফ রহ নজর দিলেন
পুরো পৃথিবীর দিকে । হাজী ছাহেব কে পাঠিয়ে দিলেন পাকিস্তানে। রায়ভেন্ড
মারকার্যে । রায়ভেন্ড থেকেই পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরলো এই দাওয়াতি নববী মেহনত।

মাওলানা মনজুর নোমানীও একপর্যায়ে চলে গেলেন রায়বেন্ড হাজি সাহেবের সোহবতে । নোমানী একদিন তাযকিয়ার ছবক পুরা করতে করতে তার ভেতর এক অন্যরকম আধ্যত্বিক ভাব অনুভব করলেন। হাজি ছাহেবকে অবস্হা জানালেন । তিনি বললেন তোমার ছবকে তরক্কী কর । নোমানী বললেন আপনি এখন সে ছবক দিয়ে দিন । হাজি আবদুল ওয়াহাব ছাহেব বললেন , ‘আমিতো আলিমও নই , শায়েখও নই’ ।

যাকে মাদানী থানভী রায়পুরী মিলে খেলাফত দিয়েছেন সেই মন্জুর নোমানী রহ একথা শুনে বললেন , আপনি আলেমদের আলেম , শায়খদের শায়েখ। আমার পরম শ্রদ্ধেয় পীর ও উস্তাদ। মনজুর নোমানীর দুই ছেলে দেওবন্দ থেকে উচ্চতর এলেম হাছিলের পর দুজনকেই পরবর্তিতে তরবিয়তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলেন হাজী ছাহেবর দরবারে । (বিস্তারিত দেখুন , তাবলীগ জামাতের সমালোচনার জবাব , লেখকঃ শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রহ)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!