রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন

আসুন তিন হযরতজীর উসুলকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি …

Exif_JPEG_420

একক ইমারাহ

 হযরতজী ইলিয়াস (রহঃ) এর জামানায় মারকাজ থেকে মসজিদ পর্যন্ত একক আমীর।
হযরতজী ইউসুফ সাব (রহঃ) এর জামানায় মারকাজ থেকে মসজিদ পর্যন্ত একক আমীর।
হযরতজী ইনামুল হাসান (রহঃ) এর জামানায় মারকাজ থেকে মসজিদ পর্যন্ত একক আমীর।
 
وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ
তাদের কাছে যখন কোনো সংবাদ আসে—তা শান্তির হোক বা ভীতির—তারা তা (যাচাই না করেই) প্রচার শুরু করে দেয়। তারা যদি তা রাসুল বা যারা ইমারাহর অধিকারী, তাদের কাছে নিয়ে যেত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধানী তারা তার বাস্তবতা জেনে নিত।
যেহেতু শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা করা ও ইসলামি খিলাফাহ পুনরুদ্ধার করা মুসলিম উম্মাহর ওপর অপরিহার্য, আর মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ছাড়া বাহ্যত তা সম্ভব নয়, এ জন্য এই মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে উম্মাহর জামাআতবদ্ধ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। আর এ কথা স্পষ্ট যে, ইমারাহ ছাড়া কোনো জামাআত হয় না। কারণ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকলে কোনোভাবেই ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় না। জামাআতের মধ্যেই শরিয়াহ বাস্তবায়ন করা যায় না। আমিরুল মুমিনিন উমর রা. বলেন :
إِنَّهُ لَا إِسْلَامَ إِلَّا بِجَمَاعَةٍ ، وَلَا جَمَاعَةَ إِلَّا بِإِمَارَةٍ ، وَلَا إِمَارَةَ إِلَّا بِطَاعَةٍ ، فَمَنْ سَوَّدَهُ قَوْمُهُ عَلَى الْفِقْهِ ، كَانَ حَيَاةً لَهُ وَلَهُمْ ، وَمَنْ سَوَّدَهُ قَوْمُهُ عَلَى غَيْرِ فِقْهٍ ، كَانَ هَلَاكًا لَهُ وَلَهُمْ
জামাআত ছাড়া কোনো ইসলাম হয় না। ইমারাহ ছাড়া কোনো জামাআত হয় না। আর আনুগত্য ছাড়া কোনো ইমারাহ হয় না। সম্প্রদায় যাকে ফিকহের ভিত্তিতে নেতা বানায়, সে তার নিজের জন্য ও সম্প্রদায়ের লোকদের জন্য প্রাণের সঞ্জীবনী হয়। আর যাকে তার সম্প্রদায় ফিকহ ছাড়া অন্য কিছুর ভিত্তিতে নেতা বানায়, সে তার নিজের জন্য ও তাদের সবার জন্য ধ্বংসের কারণ হয়।[44]
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. বলেন :
وَلِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَوْجَبَ الْأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيَ عَنْ الْمُنْكَرِ وَلَا يَتِمُّ ذَلِكَ إلَّا بِقُوَّةِ وَإِمَارَةٍ. وَكَذَلِكَ سَائِرُ مَا أَوْجَبَهُ مِنْ الْجِهَادِ وَالْعَدْلِ وَإِقَامَةِ الْحَجِّ وَالْجُمَعِ وَالْأَعْيَادِ وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ. وَإِقَامَةِ الْحُدُودِ لَا تَتِمُّ إلَّا بِالْقُوَّةِ وَالْإِمَارَةِ؛ وَلِهَذَا رُوِيَ: {أَنَّ السُّلْطَانَ ظِلُّ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ}. وَيُقَالُ {سِتُّونَ سَنَةً مِنْ إمَامٍ جَائِرٍ أَصْلَحُ مِنْ لَيْلَةٍ وَاحِدَةٍ بِلَا سُلْطَانٍ} . وَالتَّجْرِبَةُ تُبَيِّنُ ذَلِكَ.
যেহেতু আল্লাহ তাআলা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ অপরিহার্য করে দিয়েছেন, আর (রাষ্ট্রীয়) শক্তি ও ইমারাহ ছাড়া তা পরিপূর্ণ হয় না। একইভাবে আল্লাহ আরও যেসব বিষয় অপরিহার্য করেছেন—যেমন : জিহাদ, ন্যায়পরায়ণতা, হজ জুমআ ও ঈদ কায়েম করা, মাজলুমের সাহায্য করা এবং দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা—এর কোনোটিই প্রতাপ ও ইমারাহ ছাড়া পূর্ণতা পায় না। এ জন্যই বর্ণিত হয়েছে, শাসক পৃথিবীতে আল্লাহর ছায়াস্বরূপ। কথিত আছে, শাসক ছাড়া যাপিত এক রাত অপেক্ষা জালিম শাসকের সঙ্গে ৬০ বছর যাপন করা অধিক উপযুক্ত। অভিজ্ঞতা এ বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।[45]
তিনি আরও বলেন :
وَأَمَّا ” رَأْسُ الْحِزْبِ ” فَإِنَّهُ رَأْسُ الطَّائِفَةِ الَّتِي تَتَحَزَّبُ أَيْ تَصِيرُ حِزْبًا فَإِنْ كَانُوا مُجْتَمِعِينَ عَلَى مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ وَرَسُولُهُ مِنْ غَيْرِ زِيَادَةٍ وَلَا نُقْصَانٍ فَهُمْ مُؤْمِنُونَ لَهُمْ مَا لَهُمْ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَيْهِمْ. وَإِنْ كَانُوا قَدْ زَادُوا فِي ذَلِكَ وَنَقَصُوا مِثْلَ التَّعَصُّبِ لِمَنْ دَخَلَ فِي حِزْبِهِمْ بِالْحَقِّ وَالْبَاطِلِ وَالْإِعْرَاضِ عَمَّنْ لَمْ يَدْخُلْ فِي حِزْبِهِمْ سَوَاءٌ كَانَ عَلَى الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ فَهَذَا مِنْ التَّفَرُّقِ الَّذِي ذَمَّهُ اللَّهُ تَعَالَى وَرَسُولُهُ فَإِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أَمَرَا بِالْجَمَاعَةِ والائتلاف وَنَهَيَا عَنْ التَّفْرِقَةِ وَالِاخْتِلَافِ وَأَمَرَا بِالتَّعَاوُنِ عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَنَهَيَا عَنْ التَّعَاوُنِ عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.
মুমিনরা যে দলে আবদ্ধ হবে, সেই দলের একজন প্রধান থাকবেন। যদি তারা কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়া আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা কিছুর আদেশ করেছেন তার ভিত্তিতে দলবদ্ধ হয়, তাহলে তারা মুমিন। মুমিনদের জন্য যা কিছু প্রযোজ্য, তাদের জন্য তার সবকিছু প্রযোজ্য। মুমিনদের ওপর যা কিছু অবধারিত, তাদের ওপরও তার সবকিছু অবধারিত। তবে যদি তারা হ্রাস-বৃদ্ধি করে—যেমন, তাদের দলে যারা অন্তর্ভুক্ত হবে, হক ও বাতিল সব ব্যাপারে তাদের প্রতি সাম্প্রদায়িকতা লালন করে আর যারা তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবে না, তারা হকের ওপর থাক বা বাতিলের ওপর, তাদেরকে উপেক্ষা করে—তাহলে এটা সেই বিভক্তি বলে বিবেচিত হবে, যার নিন্দা করেছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ। কারণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ জামাআত ও সম্প্রীতির আদেশ করেছেন। বিভক্তি ও মতবিরোধ থেকে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ সৎকাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারে পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে কেউ কারও সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন।[46]
যখন পৃথিবীতে ইসলামি খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তখন ইসলামের সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত দীনি জামাআতসমূহের আমির তো সাধারণভাবে খলিফাই নির্ধারণ করে দেবেন। কিন্তু যখন ইসলামি খিলাফাহ থাকবে না কিংবা কোনো অপারগতার কারণে খলিফার সঙ্গে পরামর্শ করে তার সিদ্ধান্ত জানা সম্ভব হবে না, তখন মুসলমানদের ওপর কর্তব্য হবে পারস্পরিক পরামর্শ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো একজনকে আমির হিসেবে মেনে নেওয়া।
খলিফার অনুপস্থিতিতে যে জিহাদ ও অন্যান্য দীনি জামাআত পরিচালনা করার জন্য মুমিনরা নিজেদের পক্ষ থেকেই আমির নির্ধারণ করে নিতে পারবে, এর সবচে প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো মুতা যুদ্ধের ঘটনা।
Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!