সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

শরীয়ত বিরোধী কথিত জমহুরিয়াত!

  • বরং যারা জমহুরিয়াতের বাইরে… কারণ হাদীসে পাকে তো এটাই এসেছে সব জামানায় (বিশেষ করে শেষ জামানায়) একটা দল থাকবে যারা হকের উপরে পরিপূর্ণ ভাবে টিকে থাকবে। এবং যত মানুষই তাদের অপমান করার চেষ্টা করুক, কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। এবং যত মানুষই তাদের বিরোধিতা করুক, এই বিরোধীতা করে কেউ টিকবে না। এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো কিছু কথা বলেছেন, যদি সকলেই গোমরাহ হয়ে যায় তবুও আল্লহ তায়ালা এক দলকে হকের উপরে বিজয়ী রাখবেন। এরা কিয়ামত পর্যন্ত টিকবে। কোন মুখালিফাতকারী বা লাঞ্ছনাকারী তাঁদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।
– এখানে বুঝা যায় জমহুর কখনো কখনো হকের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে, কারণ এই হাদীসে জমহুর হকের উপরে থাকবে তা বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে সকলে হকের বিরুদ্ধে গেলেও মাত্র এক দল হকের উপরে থাকবে। এর দ্বারা বুঝা যায় শেষ জামানায় জমহুরিয়াতের কোন যৌক্তিকতা নেই। বরং এখানে দেখতে হবে হকের উপরে কে আছেন।
সারা দুনিয়ার সকল জমহুর মিলেও যদি হারামকে হালাল বলে, হালালকে হারাম বলে তবুও হালাল হারাম হবে না, হারাম হালাল হবে না।
এখন ওঁরা যে জমহুরিয়াত কায়েম করেছেন, এই জমহুরিয়াত কায়েম হয়েছে ইমারতের বিরুদ্ধে, আলমী শূরার পক্ষে। অথচ কুরআনেও ইমারতের কথা আছে, হাদীসের, সীরতেও। এমনকি ইতিহাসেও।
ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন মাদ্রাসা মূহতামিম ছাড়া চলে নি। এখানেও একজন আমীর আছে। কোন স্কুল/কলেজ/গার্মেন্টস/অফিস/আদালত ইমারত ছাড়া চলে নি। কোথাও দেখাতে পারবেন না। এটা সম্পূর্ণ বাস্তবতা ও শরীয়ত বিরোধী।
– এখানে বুঝা যায় জমহুর কখনো কখনো হকের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে, কারণ এই হাদীসে জমহুর হকের উপরে থাকবে তা বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে সকলে হকের বিরুদ্ধে গেলেও মাত্র এক দল হকের উপরে থাকবে। এর দ্বারা বুঝা যায় শেষ জামানায় জমহুরিয়াতের কোন যৌক্তিকতা নেই। বরং এখানে দেখতে হবে হকের উপরে কে আছেন। আয়াত। এই আয়াতের শানে নুযুলে আছে, তাফসীরে ইবনে কাসীরে। আমরা সবাই চিনি, হাতেম তাঈ অনেক বড় দাতা ছিলেন। তাঁর ছেলে আদী ইবনে হাতেম। তিনি অত্যন্ত ভদ্র সভ্য সম্ভ্রান্ত। যখন তাঁর নিকট দাওয়াত পৌঁছল, তিনি দাওয়াত কবুল করতে না পেরে লজ্জায় শামে চলে গেলেন। তাঁর বোন এবং কওমের কিছু লোক রসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে আল্লহর রসূল যদিও সে শামে চলে গেছে কিন্তু আপনি হাল ছাড়বেন না। সে ভালো মানুষ, ইসলামে দাখিল হতে পারে।
— রসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জামাত পাঠালেন। ঐ জামাত তাঁকে নিয়ে আসলেন। যখন তিনি রসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর গলায় ক্রুশ ঝুলছিল। রসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখা মাত্র বললেন, তারা তো তাদের আলেমদের এবং সন্যাসীদের আল্লহর বিপরীতে রব বানিয়ে নিয়েছে। এ কথা শুনে আদী ইবনে হাতেম (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি তখনও খৃস্টান ছিলেন) বললেন, তারা তো রব বানায় নাই। রব বানালে তো ইবাদত করত। রসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রব বানানোর অর্থ ব্যাখ্যা করলেন। আল্লহ তায়ালা যা হারাম বলছেন তাদের আলেম ও সন্ন্যাসীরা তা হালাল বলে এবং তারা সন্ন্যাসীদের কথায় হারামকে হালাল গ্রহণ করছে। এবং একই ভাবে হালালকে হারাম করেছে। রসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এটাই তো ইবাদত সমতুল্য।
উলামাকেরামের দাবি আলমী শূরার পক্ষে যা কুরআন হাদীস সুন্নত সীরত সবকিছুর বহির্ভূত এবং সমস্ত ইসলামী এবং সাধারণ জ্ঞান বিরোধী। আমরা যদি এটা মেনে নিই তাহলে আমরা সরাসরি কুরআন, সুন্নাহ, সীরত, সাহাবা কেরামের আকা, ইতিহাস তথা সকলের বিরুদ্ধে চলে যাবো।
আমি তো আগে বেড়ে বলি, কুরআনে আলমী শূরা বা আমীর বিহীন শূরার পক্ষে একটি আয়াতও নেই। একটা হাদীসও নেই, সীরতে একটি নজীরও নেই। এমনকি একটা জাল হাদীসও নেই। এইটা আমরা মানতে বাধ্য হব কেন? এই যে জমহুরিয়াত কায়েম হয়েছে এটা মানা কতটুকু জায়েজ বা নাজায়েয তা তো সূরাহ তওবার ৩১ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যাই পরিষ্কার করে দিচ্ছে।
 তারপরে আমি দ্বিতীয় আরেকটি কারণ বলি যে কারণে জমহুরিয়াত মানা আমাদের জন্য জরুরি না। তা হল, তাবলীগ বিশ্বব্যাপী চলে। তাবলীগের ব্যাপারে জমহুরিয়াত কায়েম করতে হলে বিশ্বব্যাপী করতে হবে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের গুটিকয়েক, একেবারে হাতে গোনা কয়েকজন মিলে জমহুরিয়াতের দাবি করলেও শরীয়ত তো দূরে থাক সাধারণ বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতেও তা জমহুরিয়াত হিসাবে সাব্যস্ত হবে না। তাই মানা জরুরী না।
 তিন নম্বর বিষয়, আমরা হাত বাঁধি নাভীর নিচে, শাফেয়ীরা হাত বাঁধে বুকের উপরে। আমাদের মাসআলার ব্যাপারে জমহুর উলামাকেরাম আছেন, আবার শাফেয়ী রহঃ এর মাসআলার ব্যাপারেও জমহুর উলামাকেরাম আছেন। এভাবে একই মাসআলার ক্ষেত্রে যদি একাধিক জমহুরিয়াত কায়েম হয়, যেমন হাত বাঁধা, আমীন জোরে বা আস্তে বলা। কেউ যদি যে কোন এক জমহুরিয়াতের পক্ষে থাকে, তখন বাকি জমহুরিয়াত মানা তার জন্য জরুরী না।
 ওঁরা নিজামুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমহুরিয়াত কায়েম করেছেন, আমরা নিজামুদ্দিনের পক্ষে জমহুরিয়াতের উপরে আছি। এতএব আমাদের জন্য আমাদের জমহুরিয়াতের পাশাপাশি, তাদের জমহুরিয়াত মানা জরুরী না। কারণ একই সাথে দুইটা মানা সম্ভব না। একই সাথে আপনি যদি আমীন আস্তে এবং জোরে বলতে চান কিভাবে বলবেন? দুইবার বলবেন? আপনি যদি একই সাথে নাভীর উপরে নিচে হাত বাঁধতে চান, কিভাবে বাঁধবেন? এক হাত নাভীর উপরে আরেক হাত নাভীর নিচে বাঁধবেন? এমন করার সুযোগ বা সুরত নেই।
ঠিক একইভাবে দুই জমহুরিয়াত মানার সুযোগ নেই।
(মুফতী মিজান সাহেব দাঃবাঃ এবং মাওলানা মুয়াজ সাহেব দামাত বারকাতুহুম এর মুজাকারা অবলম্বনে)
Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!