শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ১১:২৭ অপরাহ্ন

মেহনতের মওসুমঃ এই নেয়ামতের কদর কর চাই

মেহনতের মওসুমঃ এই নেয়ামতের কদর কর চাই

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুটি জেলা দিনাজপুর ও বান্দরবন জেলা ইজতেমা শেষ হয়েছে সফল ভাবে। বিগত সকল রেকডকে ভঙ্গ করে মুসল্লীদের বাধভাঙ্গা জোয়ার ছিল চোখে পড়ার মতো। জামাত বের হওয়া ছিল চোখে পরার মতো। এতেই প্রমান করে তাবলীগের সাথীদের বিরামহীন চেষ্টা কুরবানী ও দোয়া -মোনাজাত কতোটা হয়েছে। মেহনতের এই মৌসুমে আমাদের করনীয় কি?

সব কিছুর একটি মওসুম থাকে। ব্যবসায়ীদের জন্যে ব্যবসার মওসুম, চাষী ভাইদের জন্য ফসল কাটার মওসুম, ছাত্রদের জন্য পরীক্ষার মওসুম।
ব্যবসায়ীগন ব্যবসা তো সারা বছর করেন। কিন্তু যখন ব্যবসার বিশেষ সিজন আসে, তার সবকিছু বাদ দিয়ে দেন। এমনকি খাওয়ার কথাও ভুলে যান। নিকট আত্মীয়-স্বজনদের বিয়েশাদিতেও তখন যোগ দেন না। তখন ব্যবসাই হয়ে উঠে তাদের একমাত্র ব্যস্ততা। তারা এ-কথা ভাবেন, এখন যদি ভালো একটা ব্যবসা হয়ে যায়, সারাবছরের জন্য একটা গতি হয়ে যাবে। বরং তারা সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন এই মওসুমের জন্য। চাষী ভাইগন ফসল কাটার দিনে এমন ব্যস্ত হয়ে যান, কথা বলারও সময় পান না।সারা বছরের মেহনতের ফসল ঘরে উঠবে। তাদের অঙ্গভঙ্গিই বলে দেয় তারা এখন কতটুকু ব্যস্ত। কারন এ দিনের অপেক্ষায়তো ছিলেন সারা বছর। ছাত্র পড়াশুনা সারা বছরই করে।কিন্তু পরীক্ষা ঘনিয়ে এলে সে সিরিয়াস হয়ে যায়। রাতের ঘুম কমে যায়। পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নই কেবল মাথায় ঘুরতে থাকে। খেলার মাঠে তাকে পাওয়া যায় না, আড্ডাস্থলে তাকে পাওয়া যায় না।কারন এখন যে তার পড়ার মওসুম চলছে। আমাদের দাওয়াতের কাজের সাথীদের জন্যে এখন মেহনতের মওসুম। কাজের এত বেশি তাকাজা যে অকাজে মুহুর্তের জন্য মনোযোগ দেয়ার সুজোগ কোথায়? বিভিন্ন জেলার সাথীরা ইজতেমাকে সফল করতে মসজিদে বিছানা ফেলে মেহনত করছেন, ইজতমা শেষ করে বাসাতে যাবেন। হালতের মোকাবেলায় সাথীদের কাছে চোখের পানি ও কুরবানী চাওয়া হচ্ছে।
.
সারা দুনিয়াতে , দেশে দেশে চলছে ইজতেমা। আফ্রিকার ৫টি দেশের ইজতেমা শেষ হল। ভারত,ইউরোপ, আমেরিকা রাশিয়াসহ সারা দুনিয়াতে ইজতেমার কাজ চলছে। ২৬,২৭,২৮ ঢাকা জেলার ইজতেমা। টঙ্গীর ইজতেমা ও ইন্ডিয়ার বুলন্দ শহরে ৫কোটি মানুষের মজমার আলমি ইজতেমার প্রস্তুতিতো আছেই। নিজামুদ্দিনের তৈমাসিক জেড়ের পর গেল সাপ্তাহে বাংলাদেশের তৈমাসিক জোড় শেষ হল। এখন চলছে থানা জেলার তৈমাসিক জোড়। নভেম্বরে তিন চিল্লার সাথীদের ৫দিনের জোড়। জেলায় জেলায় চলছে আঞ্চলিক ইজতেমার ব্যাপক প্রস্তুতি। দিনাজপুর ও পার্বত্য জেলার ইজতেমা সফলভাবে শেষ হয়েছে আল্লাহর মেহেরবানীতে।

এই মৌসুমে চারদিকে কেবল তাকাজা আর তাকাজা। ইতোমধ্যে নানান দেশের ইজতেমা থেকে বিদেশিদের স্রোত বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে। মহল্লায় মহল্লায় ফরেনদের দাওয়াতের কাজ শিখিয়ে দেয়া এটা বড় একটি জিম্মাদারি। তাছাড়া সাড়া দুনিয়াতে জামাত পাঠানোর তাকাজাতো আছেই। সামনে জর্ডানে, আফ্রিকা, ইন্ডিয়া ,চীন সহ বিভিন্ন দেশের ইজতেমাকে ঘিরে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর জামাত পাঠানোর তাকাজা।

যে সব জেলাতে ইজতেমা। সেসব জেলা ইজতেমা জ্বরে কাপছে। কত কাজ আর তাকাজা কেবল জিম্মাদার সাথীরাই জানেন। থানা ইউনিয়ন হালকা ও নানান পেশাজিবিদের নিয়ে চলছে জোড়ের পর জোড়। আপনি তাবলীগে তিন চিল্লা দিয়েছেন, আপনি একাজের মূল পুজি। সারা বছর যে ভাবেই চলেছেন অন্তত এখন একটু দৌড়ঝাপে শরিক হোন। আপনি চিল্লার সাথী মেহনতের এই মৌসুমে আপনাকে খুজছে সাথীরা। আপনার একটু সহযোগীতায় অনেক কাজ হয়ে যাবে।

কারন ইজতেমা বৃষ্টির মত। দিনের মেহনত আর রাতের রোনাজারি মানুষের দ্বীলের জমিনকে ভিজিয়ে নরম করে দেয়। আপনার একটি কথায় যদি কোন আল্লাহর বান্দা চিল্লাতে বের হয়ে যায় ইজতেমা উপলক্ষে, আর সে হেদায়ত পেয়ে যায় এটা আপনার জন্য বড় একটি কামাই হয়ে যেতে পারে। আপনার চার পাশের তাবলীগের জিম্মাদার সাথীদের দিকে একুটু থাকান। দেখুন তাদের কুরবানী। ৭/১০ দিনের জামাত আর নাওয়া খাওয়াহীন রাতদিন তারা ছুটে ছলছেন বিরামহিন। তাকাজার উপর তাকাজা। তাদের একটু সহযোগীতা করা অন্তত এই মৌসুমে একজন দ্বীনী ভাই হিসাবে আপনারও তো কতব্য।

আমাদের সবাইকে হে আল্লাহ এই মেহনতের জন্য কবুল কর, হেদায়তকে আম করে দাও, আমাদেরকে হেদায়ত দাও এবং হেদায়তের জড়িয়া হিসাবে কবুল করুন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!