সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হযরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধলভী হাফিজাহুল্লাহর মুক্তাখচিত বাণীসমূহ

হযরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধলভী হাফিজাহুল্লাহর মুক্তাখচিত বাণীসমূহ

১. এক হচ্ছে ঈমানের হরফ; এর স্থান কিতাব। আরেক হচ্ছে ঈমানের কথা; এর স্থান জবান। আরেক হচ্ছে ঈমানের ভাব বা মর্ম; এর স্থান মস্তিষ্ক। আরেকটি হচ্ছে ঈমানের ইখলাস; এর স্থান দিল তথা অন্তর।
২. এতটুকু ঈমান শেখা প্রত্যেকের জন্যই ফরজে আইন যতটুকু ঈমান শিরিক থেকে বাঁচাবে। তার কারণ শিরিক করা হারাম। (আর হারাম থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করা ফরজ।)

৩. ঈমান যত পূর্ণতা পাবে ততই নেফাকের ভয় বাড়বে।

৪. সাহাবায়ে কেরাম কুফর ও শিরিকের অন্ধকার বুঝতে পেরেছেন ঈমানের মহলে এসে।

৫. হযরত ইউসুফ রহ. বলতেন, চিয আসবাবে দৃষ্টি রেখে আল্লাহর কাছে আশা রাখা হচ্ছে একধরনের কুফুরির রাস্তা।

৬. যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার ওয়াদার উপর ইয়াকিন করে, আল্লাহ তায়ালা পুরো পৃথিবীকে তার অনুগত বানিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীর বস্তুসমূহের উপর ইয়াকিন রাখে, আল্লাহ তাকে বস্তুর হাওয়ালা করে দেন।

৭. হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলতেন, আমার কাজের মাকসাদ সুন্নাত জিন্দা করা।

৮. বেশি থেকে বেশি সুন্নাতের সম্মান কর। কারণ সুন্নাত ছাড়া কোন বুুযুর্গী বা বেলায়েত নাই।

৯. সুন্নাতের ইত্তিবা ছাড়া হেদায়াত নাই।

১০. যে আমলই সুন্নাতের পরিপন্থী হবে তা-ই উম্মতের ফাসাদের মাধ্যম হবে।

১১. ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে সুন্নাতের ইত্তিবা।

১২. প্রচলন বলা হয় যা কিছু ফাজায়েলের ধ্যান ও সুন্নাত শূন্য হয়।

১৩. সুন্নাতের ভেতর এক আকর্ষণ রয়েছে। তায়েফের বাগানে নবীজী সা. আঙ্গুর খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বললেন, তো আদ্দাস (বাগানের মালি) প্রভাবিত হয়ে ইসলাম কবুল করলেন।

১৪. সুন্নাতকে নিজের জীবনে বাস্তবায়নে যে লজ্জা বা সংকোচ অনুভব করে সে তাদের দলভুক্ত যারা সুন্নাত মিটাতে চায়।

১৫. যেই আমল ও মেহনত সুন্নাত অনুসারে হবে তাকে বলা হবে মুজাহাদা (সাধনা)। আর যেই আমল ও মেহনত সুন্নাত ছাড়া হবে সেটাকে বলা হবে মুশাক্কাত (কষ্ট)। আল্লাহ তায়ালা মুজাহাদার উপর হেদায়েতের ওয়াদা করেছেন; মুশাক্কাতের উপর করেননি।

১৬. ঈমানের প্রকাশ হচ্ছে ইত্তিবায়ে সুন্নাত।

১৭. হযরত বলতেন, ঐ সব আলামত আজ মুসলমানদের ভেতর থেকে খতম হয়ে গেছে যেগুলোর কারণে মুসলমানদেরকে দূর থেকে দেখেই আল্লাহর কথা স্মরণ হতো। এখন তো খতনার ভিত্তিতে মুসলিম পরিচয় দেওয়া হয়।

১৮. মুসলমানদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সুন্নাতের সম্মান রক্ষায়। তা না হলে আপনি দেখতে পাবেন, কোথাও ট্রেন এক্সিডেন্ট হয় বা ভূমিকম্প হয় তো মুসলমানদের পৃথক করতেই লোকদের কেমন বেগ পেতে হয়।

১৯. মানুষ মনে করে, ফারায়েজ (নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ্ব) আদায় করাই ইসলাম। অথচ এসব ফরজ কেবল ইসলামে দাখিল হবার জন্যই শর্ত। ইসলাম তো নবীজীর সুন্নাতের অনুরসণ।

২০. যদি মেহনতের ক্ষেত্রে নবীজী ও সাহাবায়ে কেরাম রা. এর পদ্ধতি গ্রহণ না করা হয় তাহলে মেহনত করনেওয়ালারা সাওয়াব ও প্রভাব উভয়টি থেকে মাহরুম থাকবে।

২১. যদি জীবনে সুন্নাতের অনুসরণ না থাকে তাহলে দাওয়াতের কাজ করনেওয়ালা হবার একটি আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আসলে আর কোন অর্জন নেই।

২২. আমাদের আর সাহাবায়ে কেরামের মাঝে একটি পার্থক্য হচ্ছে এই, সাহাবায়ে কেরাম সুন্নাতের উপর আমল করতেন সুন্নাত হবার কারণে আর আমরা সুন্নাত ছাড়ি সুন্নাত হবার কারণে। (অনেক সময় বলে ফেলি, এটা তো কোন ফরজ-ওয়াজিব নয়; এ তো একটা সুন্নাত মাত্র।) আল্লাহ পানাহ!

২৩. যেসব সুফি-মাশায়েখের নিকট সুন্নাতের অনুসরণের খুব গুরুত্ব দেখা যেত তাদের খলিফা কম হতো।

২৪. এখন সুন্নাতে অবহেলা বাড়ছে আর মানুষ কেবল সহজতা তালাশ করছে।

২৫. কথা পৌঁছানোর প্রচলিত সকল রেওয়াজি পদ্ধতি সুন্নাতের পরিপন্থি হবার কারণে তার ভেতর কোন আসর নাই।

২৬. হযরত রহ. বলতেন, যদি গাধার পিঠে আরোহণের তুলনায় দাওয়াতের কাজে শরিক হওয়ার কারণে অধিক গর্ব না হয় তাহলে দিলের ভেতর ঈমান নাই ধরতে হবে।

২৭. নামাজ পরিত্যাগ করা যেমন হারাম; নামাজকে নষ্ট করাও হারাম।

২৮. হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন এক বড় আলেম এসে বললেন, আমি ফতোয়া দিচ্ছি, আপনি পৃথকভাবে একাকী কামরায় নামাজ পড়বেন। হযরতজী রহ. তাকে বললেন, মরার সময় এখন মুনাফিক হয়ে মরব?

২৯. যে ব্যক্তি রুকুর পরে কোমর পুরোপুরি সোজা না করে, আল্লাহ্ তায়ালা তার নামাজের দিকে তাকান না।

৩০. বিগড়ানো নামাজ বদ দুআ করতে থাকে। এখন ভাবুন, নামাজের বদ দুআ কবুল হবে নাকি নামাজির দুআ কবুল হবে? নিঃসন্দেহে নামাজের বদ দুআ কবুল হবে; নামাজির দুআ কবুল হবে না। তার কারণ, আমরা নামাজকে যেনতেন ভাবে আদায় করে নামাজের উপর জুলুম করেছি। নামাজ মজলুম। আর মজলুমের দুআ দ্রুত কবুল হয়; জালিমের দুআ কবুল হয় না।

৩১. ইবাদতে মন না বসা বদনজরির পাপের কারণে হয়ে থাকে।

৩২. খোদার কসম! আল্লাহর নবী সা. নামাজকে কখনও ভাগ করেননি। এটা আলেমদের নামাজ, এটা আওয়াম সাধারণ মানুষের নামাজ আর এটা দোকানদারদের নামাজ।

৩৩. মানুষ মনে করে, নামাজ ছুটে যাওয়া গাফলত, অথচ খুশু-খুজু ও ধ্যান ছাড়া নামাজ আদায় করাও গাফলত।

৩৪. কারো নামাজ কামেল (পরিপূর্ণ) হবে আর তার দ্বীন নাকেস (অসম্পূর্ণ) হবে তা হতে পারে না।

৩৫. দ্বীনদারদের অন্যায় ও পাপকর্মের কারণ হলো তাদের ইবাদতের ত্রুটি।

৩৬. নামাজের মধ্যকার (রুকু, সেজদা, কওমা ও জলসায় পঠিতব্য) দুআসমূহ আমরা নিজেরাও পড়ি না; অন্যদেরও পড়তে বলি না। অথচ এসব দুআ ও যিকির নামাজে পড়া সাবেত রয়েছে।

৩৭. এক সাহাবি আরজ করলেন, আমি ব্যবসার জন্য বাহরাইন যেতে চাচ্ছি। নবীজী সা. তাকে বললেন, আগে দু’রাকাত নামাজ পড়ে নাও। তারপর ব্যবসা কর। ব্যবসা করতে বারণ করেননি;; শুরুতে নামাজ পড়ার আদেশ করেছেন।

৩৮. হযরত মাওলানা ইউসুফ রহ. বলতেন, আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে তোমরা নামাজকে জরুরি মনে কর। পাঁচ ওয়াক্ত তো ফরজ। এ ছাড়া ইশরাক, চাশত, আওয়াবিন এবং তাহাজ্জুদেরও খুব গুরুত্ব দাও।
৩৯.  ইলম হাসিল করো আলেমদের মজলিস থেকে আর তারবিয়াত হাসিল করো আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে থেকে। কেবল কিতাব পড়ে আমল করা সাহাবায়ে কেরাম রা. এর পদ্ধতি ছিল না। বরং হুজুর সা. এর সোহবতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরাম রা. ইলম হাসিল করতেন। ইবাদতের পথে ইলম হাসিল করো; মেধার দ্বারা ইলম হাসিল করার চেষ্টা কারো না।. কুরআন শিক্ষা দেওয়া এং দ্বীনের মৌলিক বিষয়াদি শেখানোর ব্যবস্থা করা প্রত্যেক মহল্লাবাসীর কাজ। প্রত্যেক মসজিদের মুসল্লি এর জিম্মাদার।

৪০. ছয় নম্বরের মধ্যে তৃতীয় নম্বরের উদ্দেশ্য হচ্ছে উম্মতের মধ্যে উলামায়ে কেরামের আজমত পয়দা করা। তৃতীয় নম্বর হচ্ছে ইলম ও যিকির।)

৪১. হযরত রহ. বলতেন, উলামাদের কাছে জিজ্ঞেস করে কাজ করা ঈমানের দলীল। যার কাছে ঈমান থাকবে না, ইলমের প্রতি তার কোন আগ্রহ থাকবে না।

৪২. হযরত রহ. বলতেন, উলামাদের মহব্বত করো, ভালবাসো। আলেমদের সাক্ষাৎকে ইবাদত মনে করো।

৪৩. ইমামতির হকদার আলেমরাই। ইমামতি অর্থ নেতৃত্ব। আলেমরা নেতৃত্ব দিবে অর্থাৎ দ্বীনী বিষয়ে সকলের রাহবারি করবে।
আমার তো মন চায়, প্রত্যেক আলেম ও মুফতি মসজিদে সময় দিবেন আর উম্মত মসজিদে এসে তাদের কাছ থেকে মাসআলা-মাসায়েল জানবে।

৪৪. অনেকে আছেন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় নিজের মসজিদে দাওয়াতের কাজে সময় দেন, তারপর কখনও কোন আলেমের মজলিসে চলে যান অথবা কোন ফিকহের বা হাদিসের দরসে শরিক হতে যান। তখন আমাদের দাওয়াতের কাজের কোনো কোনো সাথী না বুঝে বলে ফেলেন, ও হো! আমাদের দাওয়াতের কাজ কি কোন সামান্য কাজ যে, অন্য কোথাও যেতে হবে? তারা বলেন, আমাদের কাজ তাবলীগ করা; তাদের কাজ পড়ানো।

৪৫. পরামর্শে সবসময় আলেমদেরকে অগ্রসর করা উচিত, যাতে করে এই কাজ সীরাত থেকে সরে না যায়।

৪৬. উলামায়ে কেরামের ভুল ধরার কারণে তাদের উপর রাগ না করে আনন্দিত হওয়া উচিত। কারণ যার ভুল ধরা হলো, তার উপর তো ইহসান করা হলো। আলেমদের সতর্কবার্তাকে নিজের জন্য তাদের অনুগ্রহ মনে করতে হবে।

৪৭. এটা একটা বড় ভুল যে, যেসব আলেম তাবলীগে সময় লাগিয়েছেন, তাদেরেকে সময় না লাগানো আলেমদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা হয়। (কে শ্রেষ্ঠ তা বিচারের ভার আল্লাহ আপনাকে আমাকে দেননি। সব আলেমকেই তা’জিম করা উচিত।)

৪৮. আলেমদের উচিত জাহেল-মূর্খদের কাছে যওয়া, যাতে করে নিজেদের ইলমের মাসরাফ (ইলম খরচের স্থান) বুঝে আসে।

৪৯. ফারেগ হয়ে যাওয়া আলেমরা একসাথে তিন কাজই করুক। দাওয়াত, তা’লীম এবং ব্যবসা। তা’লীম ও তাবলীগ উভয়টিই জরুরি। এ দুইয়ের মাঝে যে ফরক করে সে জাহেল।

৫০. কখনও কখনও শয়তান মেহনত করে দাওয়াতের সাথীদের ভেতর এমন এক মন্দ চিন্তা ঢুকিয়ে দেয় যে, সে বলে ফেলে, আমাদের কোনো আলেমের প্রয়োজন নাই। এ হচ্ছে শয়তানের ওয়াসওয়াসা। কু-মন্ত্রণা।

৫১. যন্ত্রের আবিষ্কার (ওয়াটসঅ্যাপ, ইন্টারনেট ইত্যাদি) সাধারণ মানুষকে আলেমদের থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। (এ মোটেও ভাল কথা নয়।)

৫২. একজন তালিবুল ইলমের আল্লাহর সাথে যতটুকু সম্পর্ক হবে সেই পরিমাণেই উম্মতের মাঝে তার ইলমের ফায়দা পৌঁছানোর তাওফিক হবে।

৫৩. ইলম প্রবেশের স্থল (চোখ, কান, জবান) পবিত্র করো। আল্লাহর নূর অপবিত্র পথে কস্মিনকালেও হাসিল হবে না।

৫৪. কিতাবের নকশা (পাঠ) আল্লাহর এতায়াত পর্যন্ত পৌঁছা এবং তার নূর হাসিলের কেবল মাধ্যম। কিতাব পড়ার দ্বারাই মাকসাদ হাসিল হয়ে যায় না। ইলমের নূর শুধু সেই তালিবুল ইলমই অর্জন করতে পারবে যে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ও ইত্তিবায়ে সুন্নাতের প্রতি লক্ষ্য রাখবে।

৫৫. ইলম অর্জনের তিনটি বড় আসবাব (উপকরণ) রয়েছে। ইস্তিগফার, তেলাওয়াত এবং তাহাজ্জুদ নামাজ।

৫৬. ইলম অর্জনের সর্বোত্তম জায়গা হচ্ছে মসজিদে। হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর একটি উক্তি রয়েছে যে, কালের বিবর্তন এবং দুর্যোগ ইলমকে মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছে।

৫৭. সাধারণভাবে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মসজিদ থেকেই শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে তালিবুল ইলমদের সংখ্যা বাড়ার কারণে পৃথক বিল্ডিং বানাতে হয়েছে।

৫৮. অনেক তালিবুল ইলমের মুখেও আমি শুনেছি, যে কথা মসজিদে বসে পড়ার সময় বুঝে আসে তা মাদরাসার হোস্টেলে বুঝতে পারা যায় না। যখনই সময় হয়, কিতাব নিয়ে মসজিদে চলে আস।

৫৯. ফারেগ হবার পর আমলের সময় শুরু হবে এমন কথা ভাবা শয়তানে একটা চাল। এর ফলে অনেক ছাত্র ইলম অর্জনের সময়ে যিকির ও সুন্নাত নফলের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়।

৬০. আলেমদের সংস্পর্শ ছাড়া ইলম হাসিল করার দৃষ্টান্ত আমার দৃষ্টিতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে কোন অষুধ নিয়ে খেয়ে ফেলোনোর মত। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অষুধ খাওয়া যতটা ক্ষতিকর, তারচেয়ে বেশি ক্ষতিাকর হবে আলেমের সোহবত ছাড়া ইলম হাসিলের চেষ্টা করা।

৬১. আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া ইলমের পথে অন্তরায় নয়। বরং তাবলীগে বের হলে ইলম হাসিলে আরও সহায়ক হবে। নবুওয়াতের এক আমল আরেক আমলের জন্য প্রতিবন্ধক হতে পারে না।

৬২. নাফরমানি থেকেই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। (ইসয়ান থেকে নিসয়ান পয়দা হয়)। এর চিকিৎসা হচ্ছে, বেশি বেশি ইসতিগফার করা।

৬৩. এখন কোথায় পাবে সেই শিক্ষক ও তালিবুল ইলম? এক সময় সমাজে তাদের এমন প্রভাব ছিল যে, কখনও কারো বকরি কোনো মাদরাসার ঘাস খেয়ে ফেললে বকরির মালিক বলত, আজকে বকরির দুধ মাদরাসায় পাঠিয়ে দাও।

৬৪. যদি কোনো তালিবুল ইলম কোনো শাইখের সঙ্গে ইসলাহী তাআল্লুক রাখতে চায়, তো তাকে বলা হয়, না তুমি এখন কারো সঙ্গে ইসলাহী তাআল্লুক করো না। এখন তোমার পড়ার সময়। অথচ এখন থেকেই তো তার পাবন্দ হবার সময়।

৬৫. দ্বীনী মাদরাসাগুলোকে ইসলামের দূর্গ ইয়াকিন করো।

৬৬. নিজের সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষা দাও। দ্বীনী মাদরাসায় ভর্তি করাও।

৬৭. মাদরাসা হচ্ছে তাবলীগের আমদানী।

৬৮. মাদরাসায় সাহায্য করাকে নিজের সম্পদ ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত মনে করো।
৬৯. মাদরাসায় ব্যয় করা সবচেয়ে বড় সদকায়ে জারিয়া।

৭০. প্রত্যেক জায়গার সাধারণ মানুষকে আলেমদের সাথে জোড়া এবং প্রতিটি জায়গার সাধারণ মানুষকে মাদরাসা-মক্তবেবর সাথে জুড়ে দেওয়া আমাদের মেহনতের এক বুনিয়াদি মাকসাদ।

৭১. মাদরাসা হলো সমুদ্রের মত। এখান থেকে যেই মেঘ আকাশে উঠবে (আলেমগণ) তা সর্বত্র বর্ষিত হবে।

৭২. নিজেদের চাহিদা মেটাতে যে অর্থ ব্যয় করা হয় সেগুলো জমিয়ে মাদরাসায় ব্যয় করো।

৭৩. ফারেগ হয়ে যাওয়া ফুজালা যার যার এলাকার মসজিদগুলোকে মাদরাসা বানাতে হবে।

৭৪. হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর পত্রাবলিতে নিয়মতান্ত্রিক মক্তবের প্রয়োজনীয়তা, মক্তব প্রতিষ্ঠা এবং মক্তবের শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করার তাগিদ পাওয়া যায়।

৭৫. মসজিদে মসজিদে মক্তবের শেকেল সৃষ্টি করতে হবে।
প্রতিদিনের গাশতে ঘরে ঘরে এ কথা ছড়াতে হবে যে, আপনারা আপনাদের সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষার জন্য মসজিদে পাঠান।

৭৬. মক্তব শুধু ছোট বাচ্চাদের জন্যই নয়; বরং বড়রাও সেখানে বসতে পারে।

৭৭. আল্লাহর হুকুম-আহকামে ধ্যানের সাথে নিমগ্ন হওয়াকেই যিকির বলে।

৭৮. নবীজী সা. এর অনুগ্রহের বদলা দেওয়া অসম্ভব- এই ধ্যান রেখে নবীজীর উপর দরুদ পাঠানো উচিত।

৭৯. সাথীদের দেখা যায়, হাতে তাসবীহ নিয়ে বসলেই ঘুম এসে যায়। অথচ ভেতরের গাফলত দূর করার উদ্দেশ্যে যিকিরের কথা বলা হয়। ঘুমে ঢলে পড়ার জন্য নয়। (অনেকে এটাকে সাকিনা মনে করে।)

৮০. মাসনুন দুআসমূহের ইহতিমাম করো। হযরত রহ. বলতেন, মাসনুন দুআয় কবুলিয়াতের পথ দেখা যায়।

৮১. আল্লাহ তাওফীক দিলে সুবহে সাদিকের আগেই কুরআনুল কারীম দেখে কিছুটা হলেও তেলাওয়াত করবে। তিনটি আয়াত হলেও সুবহে সাদিকের আগে তেলাওয়াত করবে।

৮২. হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলতেন, আমি সব বুযুর্গের ওয়জিফা দেখেছি। কিন্তু সুবহে সাদিকের পূর্বে কুরআন তেলাওয়াতের দ্বারা আল্লাহ তায়ালার যে পরিমাণ নৈকট্য লাভ হতে দেখেছি তা আর কিছুতে কোনো আমলেই দেখিনি। অন্য কোনো ওয়জিফায়ও আমি এমনটি অনুভব করিনি।

৮৩. আল্লাহর কালাম থেকে আছর গ্রহণের রেওয়াজ উম্মত থেকে খতম হয়ে যাচ্ছে। সরকার কোনো কথা বললে তার কথার আছর গ্রহণ করে কিন্তু আহকামুল হাকিমীনের কথার আছর গ্রহণ করে না।

৮৪. সকালে উঠে কুরআন পড়ার সেই আগ্রহ নাই, যেমন আগ্রহ দৈনিক পত্রিকা পড়ার হয়। অথচ সংবাদপত্রে অনেক মিথ্যা খবর ছাপানো হয়। আর কুরআন শরীফে তো কেবল সত্য এবং উত্তম কথাই রয়েছে।

৮৫. যারা তেলাওয়াতের ইহতিমাম করে না দেখা যায়, তাদের ইলম ও আমল সংক্রান্ত কথা মনে আসে না।

৮৬. তেলাওয়াতের কারণে কল্যাণের কথা ইলহাম করা হয়।

৮৭. কুরআন পড়ো এবং বুঝে বুঝে পড়ো।

৮৮. আল কুরআন তেলাওয়াতের দ্বারা হৃদয়ে ইলমের ঝর্ণা প্রবাহিত হতে থাকে।

৮৯. না বুঝে কুরআন তেলাওয়াতের কারণেই কুরআনের প্রভাব গ্রহণের বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে।

৯০. কুরআন বিশুদ্ধভাবে পড়া ফরজ। বেশি বেশি পড়া ফরজ নয়।

৯১. তেলাওয়াতে মন না বসা অন্তর অপবিত্র হবার আলামত। অন্তর পরিচ্ছন্ন না হলে আল্লাহর কালাম পড়ে কেউ তৃপ্ত হতে পারে না।

৯২. হযরতজী ইলিয়াস রহ. বলতেন, গোনাহগার থেকে গোনাহগার মুসলমানকেও ভাল দৃষ্টিতে দেখার মশক (অনুশীলন) করো।

৯৩. কারো কাছ থেকে কোন মন্দ আচরণ পেয়ে তাকে ত্যাগ করা আর কেউ অনুগ্রহ করলে তাকে মনে ধারণ করা এর দ্বারা ফেরকা তৈরি হয়; উম্মত তৈরি হয় না।

৯৪. ইকরামুল মুসলিমের মুজাহাদা (সাধনা) এই যে, যাদের সঙ্গে তবিয়তের মিল হয় না, তাদেরও কাছে টানার চেষ্টা করো। তাদের ঘনিষ্ট হবার চেষ্টা করো।
আদনা একজন মুসলমানের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যও মানুষকে গোমরাহির দিকে নিয়ে যায়।

৯৫. হযরত বলতেন, স্বার্থের জন্য কোনো উদ্দেশ্য সামনে রেখে কারো সাথে কোনো ভাল আচরণ করা আখলাক নয়।

৯৬. আমরা যাদেরকে চিনি ও জানি, তাদেরকে সালাম করি; যাদেরকে চিনি না এবং জানি না তাদেরকে সালাম করি না। অথচ চেনা-জানার ভিত্তিতে সালাম করা কেয়ামতের আলামত।

৯৭. মুআমালাত (অন্যের সঙ্গে আচার-আচরণ) ঠিক না করে দুনিয়াতে যারা ইবাদত-বন্দেগি করে, তারা নিজেদের সব ইবাদাত অন্যের জন্য করছে।

৯৮. আল্লাহ তায়ালার আদেশকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করাকে ইখলাস বলা হয়।

৯৯. মূর্তিকে আল্লাহর সাথে শরীক করলে যেমন জাহান্নামে নিয়ে যাবে, আমলে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করলেও জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

১০০. হযরত বলতেন, আমলে রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা (লোক দেখানোর মানসিকতা) সৃষ্টি হয় ঈমানের দুর্বলতার কারণে।

১০১. মেহনতের পর কাম করনেওয়ালাদের ভেতর আমার কী অবস্থান তৈরি হলো তা দেখা, মনে রেখো, এখান থেকেই রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছার সূচনা হলো।

১০২. রিয়া বা প্রদশৃনেচ্ছার দৃষ্টি থাকে মাখলুকের উপর; কেউ তার আমলের প্রশংসা করলে তার হিম্মত বেড়ে যায়। আর প্রশংসা না পেলে বসে যায়।

১০৩. এই দাওয়াতের কাজ হচ্ছে ইজতিমায়ী কাজ। আর ইজতিমায়ী কাজে রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছার খুব সম্ভাবনা থাকে। এজন্য চেতনায় বারবার এই চিন্তাটি উপস্থিত রাখতে হবে যে, আমি এ কাজ কেন করছি।

১০৪. ইখলাস হলো আমলের সৌন্দর্য ও শোভা।
মুখলিস হচ্ছে সে যে মেহনত করে কারো কাছ থেকে কোনো ধন্যবাদ (সাবাসি)-ও আশা করে না। পুরাতন সাথীদের নৈকট্য কামনা করাও মুখলিস হবার পরিপন্থী।

১০৫. যাদের ভেতর ইখলাস নাই তারা প্রসিদ্ধি দেখে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে গেছে বলে মনে করে। এটা শয়তানের একটা ধোঁকা।

১০৬. মুখলিস ব্যক্তি কখনো সাবাসি বা বাহ বাহ প্রত্যাশী হয় না।
মানুষের কেনাবেচা আজকাল সব জায়গায় হয়। রাজনীতি, ব্যবসা, সরকার ইত্যাদি সবখানেই মানুষ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে একমাত্র বাঁচতে পারে মুখলিসরা।

১০৭. যে নিজের পরিচয় করাতে চায় সে মুখলিস হতে পারে না।

১০৮. হযরতজী ইলিয়াস রহ. বলতেন, এই কাজ মানুষকে আল্লাহর ওলি বানিয়ে দেয়।

১০৯. যে কাজ ছুটে যাওয়া সাহাবায়ে কেরামের যামানায় বড় অপরাধ মনে করা হতো, আজকের দিনে আমরা সেসব কাজ ছুটে যাওয়াকে সাধারণ কোনো গুনাহও মনে করছি না।

১১০. একেকজন মুসলমানকে দাওয়াতের মাধ্যমে দ্বীনের দিকে আনা-ই হচ্ছে দ্বীনের নুসরত। দ্বীনকে সাহায্য করা।

১১১. চারমাস লাগানোর পর সারা আলমে দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে বুঝতে হবে, কাজের সঙ্গে তার কোনো মুনাসাবাত (হৃদ্যতা) তৈরি হয়নি।

১১২. মাওলানাা ইলিয়াস রহ. বলতেন, নিজের ব্যক্তি জীবনে পুরো দ্বীনের উপর যিনি চলেন তিনি দ্বীনদার বটে; কিন্তু দ্বীনের মদদগার (সাহায্যকারী) নন।

১১৩. সাহাবায়ে কেরামের যুগে খুরুজের (আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার) মাহওল বা পরিবেশ এমন ছিল যে, মুনাফিকরা পর্যন্ত খুরুজ না করার জন্য উযর পেশ করত, খুরুজকে অস্বীকার করতে পারত না।

১১৪. সময় লাগানো অধিকাংশ সাথী কাজ ছেড়ে দিয়েছে। তার কারণ, তারা এই দাওয়াতের কাজকে দ্বীন শেখার সাময়িক মাদরাসা মনে করছেন। দ্বীন শেখা হয়ে গেছে, এখন আর যেন এ মেহনতের প্রয়োজন নাই।

১১৫. আমীর ছাড়া হক কখনও বিজয়ী হতে পারে না এবং আমীর মানা ছাড়া হকওয়ালাদের মাঝে ঐক্য সৃষ্টি হওয়াও সম্ভব নয়।

১১৬. ইমারতের দ্বারা উম্মতপনা সৃষ্টি হবে।

১১৭. মাশওয়ারার আদব রক্ষা কর। হযরত উমর এমনভাবে নিজের মত দিতেন যে, নবীজীর তাকে বলতে হতো, জোরে আওয়াজ করে মত দাও।

১১৮. নিজের মতকে হক মনে করা সিয়াসাত (রাজনৈতিক মানুষদের স্বভাব)।

১১৯. আমাদের মাশওয়ারার বুনিয়াদ হচ্ছে, দ্বীন মিটে যাবার গম বা দুঃখ সৃষ্টি করা। কেবল উমুর তয় করা নয়।

১২০. দিল্লির লোকেরা হযরতজীকে বললো, বাইরে পার্কে ও হোটেলে লোকেরা বসে থাকে, তাদের মাঝে কাজ শুরু করি? হযরত হেলান দিয়েছিলেন, সোজা হয়ে বসে বললেন, আমরা তো মসজিদের দাওয়াত দেই।

১২১. পাঁচ কজ মসজিদের কাজের প্রারম্ভিকা; সর্বোচ্চ পর্যায় নয়।

১২২. আমরা চাই, ২৪ ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্ত যেন মসজিদের আগন্তুকরা তারবিয়াত, ইলম ও ঈমানের হালকা পায়।

১২৩. মসজিদের আমল হচ্ছে নবুওয়াতের আমল, হেদায়াতের আমল এবং তারবিয়াতের আমল।

১২৪. মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া মূলত আল্লাহর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আলামত।

১২৫. মাওলানা ইউসুফ রহ. বলতেন, সারা পৃথিবীর শৃঙ্খলাকে মসজিদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

১২৬. মসজিদ আবাদের মেহনতকারীদের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত আযাব পর্যন্ত দূর হয়ে যায়।

১২৭. সাহাবায়ে কেরামের যুগে ইলমের ঘোষণা মসজিদ থেকে হতো যার ফলে লোকদের জন্য ইলমের উপর আমলে উৎসাহী হওয়া সহজ হয়ে যেত।

১২৮. মাওলানা ইলিয়াস রহ. বয়ানের চেয়ে তা’লীমের গুরুত্ব বেশি দিতেন।

১২৯. রহমত নাযিল হওয়া, বরকত হওয়া এবং সমস্যা দূর হয়ে যাওয়া এগুলো তা’লীমের দ্বারা হাসিল হয় কিন্তু এগুলো তা’লীমের মাকসাদ নয়।

১৩০. ঘরে কুরআন সহিহভাবে পড়ার হালকা কায়েম করা হযরত উমরের হেদায়তের মূল সবব (মাধ্যম) ছিল।

১৩১. হযরত আয়েশা ঘরের তা’লীমের দ্বারা এমন ইলম হাসিল করেছেন যে, বড় বড় সাহাবি জটিল সব মাসআলায় হযরত আয়েশা রা. এর দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন।

১৩২. হযরতজী ইলিয়াস রহ. বলতেন, ঘরের যেই সদস্য হকের উপর আমল করবে না, তার দ্বারাই ঘরের ভেতর বাতিল প্রবেশ করবে।

১৩৩. নারীকে যেমন উম্মত থেকে বের করে দেওয়া যায় না তেমনিভাবে দাওয়াতের দায়িত্ব থেকেও তাকে সম্পর্কচ্যুত করা যাবে না। পুরুষের চেয়ে নারীর দায়িত্ব দাওয়াতের ক্ষেত্রে কম নয়। নারী পুরুষ উভয়েই যেমন উম্মত; উভয়েই সমানভাবে দাঈও।

১৩৪. যেই তাকাজা পুরুষ পুরো করতে পারে, দাওয়াতের কাজের সেই স্তরে নারী কখনো উঠতে পারবে না- এ এক অবান্তর চিন্তা। এধরনের কথা চিন্তা করা ঠিক নয়। এটা এক গলত খেয়াল।

১৩৫. নারীর যোগ্যতার ব্যবহার যদি দাওয়াতের কাজে না করা যায় তাহলে বাতিল তাদেরকে ব্যবহার করবে। মক্কা বিজয়ের মৌলিক কারণসমূহের ভেতর একটি এটিও ছিল যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময়ে আম্মাজান হযরত উম্মে সালামা রা. প্রিয় নবীজী সা. কে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি সাহাবিদের কিছু না বলে নিজের মাথা মুগুন করে ফেলুন।

১৩৬. বিভিন্ন দেশে (বিশেষত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে) স্থানীয়দের এ কাজে না থাকা কাজের ভেতর দুবর্তলতার এক মৌলিক কারণ।

১৩৭. পুরো পৃথিবীর অবস্থা সাথীদের সামনে তুলে ধরো, যাতে করে সাথীদের ভেতর আলমি ফিকির তৈরি হয়।

১৩৮. অধিকাংশ সাথী পৃথিবীর দেশসমূহের অবস্থা সম্পর্কে বেখবর।

১৩৯. বিভিন্ন দেশের মেহনতে দুর্বল জামাত গেলে সেসব দেশের অবস্থা ও তাকাজাগুলো সাথীদের সামনে আসবে না।

১৪০. আমরা ছয় নম্বর খুব দ্রুত বলে ফেলি। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বয়ান করি। এত দীর্ঘ বয়ানেও ছয় নম্বর থাকে না।

১৪১. হযরত মাওলানা ইউসুফ রহ. বলতেন, আমার যা কিছু বলার ছিল তা আমি হায়াতুস সাহাবায় লিখে দিয়েছি।

১৪২. কাজ বোঝানোর জন্য হায়াতুস সাহাবা পড়ানো উচিত। এজন্যই হায়াতুস সাহাবার তা’লীম যে করবে তাকে অবশ্যই সাল লাগানো যোগ্য আলেম হতে হবে এবং দাওয়াতের কাজে নিমগ্নতার অধিকারী হতে হবে।

১৪৩. হায়াতুস সাহাবা পড়তে মজমার মানুষকে উৎসাহ দিতে হবে।

১৪৪. হযরত বলতেন, আমি হায়াতুস সাহাবা এ উদ্দেশ্যে লিখেছি, যাতে করে ধারাবাহিকভাবে এ কিতাব পড়া হতে থাকে।

১৪৫. তোমরা হায়াতুস সাহাবা পড়া ছাড়া হযরতের উদ্দেশ্য বুঝতে পারবে না।

১৪৬. যে হায়াতুস সাহাবা পড়বে না, সে এই কাজকে সাহাবায়ে কেরামের নকল ও হরকতের সাথে জুড়তে পারবে না। সাহাবাদের কর্মধারার সাথে এই মেহনতকে মিলাতে পারবে না।

১৪৭. আমি বলি, হায়াতুস সাহাবা প্রতিদিন পড়ো। খুব পড়ো। এ কিতাব পড়া ছাড়া দাঈর মেজায ও রুচি তৈরি হবে না।

১৪৮. হায়াতুস সাহাবাকে অনেকে আরবদের কিতাব মনে করেছে। অথচ যখন কিতাবটি লেখা হচ্ছিল তখনও আরবরা কাজেই লাগেনি।

১৪৯. হায়াতুস সাহাবা কিতাবটি পড়লে এমন মনে হয় যেন, এ কিতাব কাজ করনেওয়ালাদের হালাত সামনে রেখে লেখা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামনে আসবে তো কী করবে? এই কিতাবে আমাদের জন্য সব রাহবারি (নির্দেশনা) দেওয়া আছে।

১৫০. মুস্তাখাব হাদীস পড়ো। হযরত মুস্তাখাব থেকে ছয় নম্বর মুখস্ত করাতে চাইতেন।

১৫১. মাওলানা ইউসুফ সাহেবের অন্তরে যা কিছু ছিল তার সব মুন্তাখাব হাদিস ও হায়াতুস সাহাবা কিতাবে রয়েছে। দাওয়াতের কাজকে নবীজীর হাদীস ও সাহাবাদের জীবনধারা থেকে প্রমাণিত করার যে চিন্তা হযরতজীর হৃদয়ে ছিল তা এই দুটি কিতাবের মাধ্যমে তিনি করে গেছেন।

১৫২. এ কথা বলা যে, এখনও এ কিতাবের তা’লীমের মাশওয়ারা হয়নি- এধরনের কথা এই দাওয়াতের মেহনতকে নষ্ট করার চক্রান্ত ছাড়া কিছু না।

১৫৩. প্রত্যেক মুসলমানের মনের ভেতর এই প্রেরণা ও জযবা থাকা উচিত যে, আমার কাজ হচ্ছে দুনিয়াতে আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত লাভের স্থানগুলো তালাশ করা। এটা সমস্ত সাহাবির জযবা ছিল।

১৫৪. হযরত বলতেন, যার মাল তোমরা নিয়ে নিলে, তার জান নেওয়া আর তোমাদের জন্য সম্ভব হবে না। কারো কাছ থেকে অর্থসাহায্য গ্রহণ করলে পরে তাকে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে উৎসাহিত করা খুব মুশকিল।
১৫৫. হযরত রহ. বলতেন, সহজতা ও আরামের দ্বারা কুফুর ছড়ায়; মুজাহাদার দ্বারা ঈমান ছড়ায়।

১৫৬. সবচেয়ে বড় মুজাহাদা হচ্ছে উম্মতের সামনে আমলি দ্বীন পেশ করা। অমুসলিমদের হেদায়াত হয় আমলি দ্বীনের দ্বারা। কিতাব কখনও আমলি দ্বীন পেশ করতে পারে না।

১৫৭. যদি ইহতিসাব (সাওয়াবের প্রত্যাশার অনুশীলন) না থাকে তাহলে মানুষ কষ্টের কারণে এই মেহনত ছেড়ে দিবে।

১৫৮. বিভিন্ন প্রদেশের তাকাজা ত্রৈমাসিক মাশওারায় নিয়ে এসো। মাঝখানে নিয়ে আসবে না।

১৫৯. মসজিদওয়ার জামাত তখনই সক্রিয় হবে যখন মসজিদে তাকাজা দেওয়া হবে।
১৬০. এক হচ্ছে সাধারণ মজমা, আরেক হচ্ছে আমলা বা কর্মী। মজমার কাজ হচ্ছে তারা বের হবে, দ্বীন শিখবে, তারপর বাড়িতে চলে যাবে। আমলা হচ্ছে তারা যারা কেন্দ্রীয় জায়গায় তাকাজা পুরা করার জন্য মারকাজে অবস্থান করে।

১৬১. আমাদের বড় জিম্মাদারী হচ্ছে আমলা তৈরি করা।

১৬২. হকের দাওয়াতে যে সব কষ্ট বরদাশত করতে হয় তা দাঈ’র দৃঢ়তা যাচাইয়ের জন্যই হয়ে থাকে।

১৬৩. আল্লাহর কাছে যে ক্ষমার প্রত্যাশী হয় সে যেন মাখলুককে ক্ষমা করা শেখে।

১৬৪. হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলতেন, এই কাজ একটা সমুদ্রের মত। যেই মাছটি সমুদ্রে মরে; পানি সেটিকে উপরে নিক্ষেপ করে।

১৬৫. এই দাওয়াতের রাস্তায় অমুখাপেক্ষিতা ও ইসতিগনার দ্বারা যতটা উন্নতি করা যায়, অন্য কিছুর দ্বারা ততটা হয় না।

১৬৬. যেই সম্পদ তাকওয়ার পথে অর্জিত হয় সেই সম্পদ তাকওয়ার পথেই ব্যয় হয়। (মানুষের সম্পদের ব্যয়ের খাত দেখেই বলে দেওয়া যায়, তার সম্পদ কী পন্থায় উপার্জিত হয়েছে।)

১৬৭. আমাদের স্বভাব হচ্ছে, কারো একটি ভুলের কারণে আমরা তার প্রতিটি কাজকেই ভুল মনে করতে থাকি। আমাদের সামনে তার একটি অনিয়ম আছে। কিন্তু আল্লাহর সামনে না জানি তার কত নেক আমল রয়েছে।

১৬৮. কারো ভেতর ভাল গুণ দেখলে তাকে হিংসা করো না। কারো ভেতর দুর্বলতা দেখে তাকে ঘৃণা করো না।

১৬৯. মানুষ কারো কোনো দোষ পেলে অন্যদের জানানোর জন্য তাড়াহুড়া করে। অথচ ফেরেশতাও গুনাহ লিখতে ডান কাঁধের ফেরেশতার অনুমতির অপেক্ষা করে। যতক্ষণ অনুমতি না পাওয়া যায় ততক্ষণ দেরি করে।

১৭০. আল্লাহ তায়ালা কবে কার দ্বারা কী কাজ নিবেন বলা যায় না। নবীয়ে কারীম সা. থাকতেই আযানের পদ্ধতি একজন সাধারণ সাহাবীর অন্তরে ঢেলে দেওয়া হলো।

১৭১. মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলতেন, আল্লাহ তায়ালা আবাবিল দ্বারা আবরাহার সেনাবাহিনী ধ্বংস করার কাজ নিয়েছেন বলে কি তোমরা পাখিকে হিংসা করবে?

১৭২. ঐ ব্যক্তির দ্বারা আল্লাহ কখনোই ইসলাহের কাজ নিবেন না, যে মুমিনের দোষ প্রকাশ করে দেয়।

১৭৩. মুসলমানের দোষ প্রকাশকারী সেই দোষে আক্রান্ত না হয়ে মরবে না।

১৭৪. কারখানার মালিকদের যদি এই অধিকার থাকতে পারে যে, তারা যাকে দিয়ে ইচ্ছা তাদের কারখানার কাজ নিবে, যাকে দিয়ে ইচ্ছা কাজ নিবে না তাহলে আল্লাহর কেন এই এখতিয়ার থাকবে না? আল্লাহ যাকে দিয়ে ইচ্ছা কাজ নিবেন আর যাকে দিয়ে ইচ্ছা হয় না, কাজ নিবেন না।
১৭৫. মাজমার সাথে থাকো; নিজের ভেতর পৃথক কোনো ভাব সৃষ্টি করো না। আলাদা হয়ে থাকার বাসনা ত্যাগ করো।

১৭৬. বয়ান, মিম্বার, চেয়ার ইত্যাদি ইজ্জতের জিনিস দ্বারা প্রসিদ্ধি হয়; কবুলিয়েেতর আলামত নয়।

১৭৭. মুখলিস নিজের ভালো আমলের ব্যাপারে শঙ্কায় থাকে, রিয়াকারী নিজের আমলে খুশি হয়।

১৭৮. কাজের ভিত্তি ইতায়াতের (অর্থাৎ আনুগত্যের) উপর; সালাহিয়াত (যোগ্যতা) এর উপর নয়।

যতটুকু আর যেভাবে বলা হবে সেভাবে করাটাই নবুওয়াতের মেজায।

১৭৯. ইতায়াতের তাকাজা হলো, কথা মানতে খুব চিন্তা-ভাবনা বা বিলম্ব করা যাবে না; কারণও খোঁজা যাবে না। হযরত ইবরাহিম আ. নিজের সন্তানকে কুরবানীর হুকুমের কারণ জিজ্ঞেস করেননি এবং হুকুম পালন করতে দেরীও করেননি।

১৮০. আল্লাহ তায়ালা কখনও অভ্যাস কখনও আবেগ এবং কখনও অবস্থানের পরিপন্থী হুকুম দিয়ে আনুগত্যের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন।

১৮১. এখানে নির্দেশনা আমানত। এ আমানত আদায়ের জন্য দুটি কাজ করতে হবে। এক. যা শুনেছ তা অন্যেদের কাছে পৌঁছাতে হবে। দুই. নির্দেশনাগুলো কার্যকর করতে নিজের কর্মক্ষেত্রে নেমে পড়তে হবে।

১৮২. এই মারকাজের সাথে আমাদের সম্পর্ক এতটাই গভীর হওয়া চাই যেন কেউ আমাদেরকে এই জায়গার প্রতি কুধারণা সৃষ্টি করতে না পারে।

১৮৩. মারকাজের দিকে আসাটা কারো জাতের দিকে আসা নয়; বরং ইজতিমাইয়্যাতের দিকে আসা।

১৮৪. কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকলে ও কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে বৈশ্বিক চিন্তা ও ফিকির পয়দা হয়।

১৮৫. বাতিলের ঐক্য দ্বীনের এতটা ক্ষতি করতে পারে না যতটা ক্ষতি আহলে হকের বিভেদের দ্বারা হয়।

১৮৬. যারা কল্যাণের কাজ করে, তাদের ভেতরও আবেগের সীমা লঙ্ঘনের কারণে বিক্ষিপ্ততা সৃটি হয়; যা বহু অকল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; শরিয়তের উপর দৃষ্টি রেখে চলতে হবে।

১৮৭. হযরতজী ইলিয়াস রহ. বলতেন, এই কাজকে সহিহ পন্থায় না করা হলে যেসব ফিতনা শত বছর পর আসতো তা সপ্তাহর ভেতরে এসে যাবে।

১৮৮. কাউকে নষ্ট হতে দিয়ো না; বুঝিয়ে সমঝিয়ে নিয়ে আসো। সে দয়ার উপযুক্ত; রাগের নয়।

১৮৯. ছোট-খাটো বিষয়ে ক্ষেপিয়ে তোলা শয়তানের কাজ।

১৯০. যে হকের উপর হবে সে কখনো বেয়াদব হবে না। আর যে হকের উপর থাকবে না সে বেয়াদব হবে; তার আওয়াজ হকের উপর হোক না কেন?

১৯১. হযরত রহ. এর মামুল ছিল, এক দেড় বছর পর ইজতিমার তারিখ দিতেন। আযায়েম পুরো হলে ভালো, তা না হলে তারিখ এগিয়ে দিতেন।

১৯২. উপস্থিত মজমার ভেতর থেকে মানুষ আল্লাহর রাস্তায় বেরিয়ে যায়, ইজতিমায় সেই ভাবে মেহনত ও ফিকির করতে হবে।

১৯৩. উম্মতের নেককাররা এক কোনে পড়ে থাকলে উম্মতের ভেতর ইরতিদাদ এসে যাবে।

১৯৪. দাওয়াতের কাজকে হালকা করে দেখা মুসলমানদের ধর্ম ত্যাগের আসল কারণ।

১৯৫. ইনফিরাদি বা একক দাওয়াত স্বাতন্ত্র্য অবস্থান পয়দা করতে পারে না।

১৯৬. খাওয়াসদের যদি আওয়াম থেকে আলাদা করে দেওয়া হয় তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায়, দুধ থেকে মাখন আলাদা করে দেওয়া হলো। দুধের শক্তি তো মাখন মিশে থাকার কারণে। এখন মাখন শরশূন্য দুধে কি ফায়দা হবে ?

১৯৭. ইনফিরাদি দাওয়াত রাসূল সা. এর আসল মামুল ছিল।

১৯৮. যারা পিছনে পড়ে থাকে তাদের দ্বারা ক্ষতি হয় না; ক্ষতি হয় সাথে থাকা মানুষের অবাধ্যতার কারণে।

১৯৯. হযরতজী ইউসুফ রহ. বলতেন, ঘরের কুমারি মেয়ের সুরক্ষার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে এই কাজের হেফাজতের চিন্তা করো।

২০০. হযরতজী ইউসুফ রহ. বলতেন, যদি তোমরা বাতিলের মামুলি কোনো কথাও মেনে নাও, তাহলে একসময় তারা তোমাদের সেইসব কথা মানিয়ে নিবেÑ যার দ্বারা তোমাদের দ্বীনের শেকড় ছিন্ন হয়ে যাবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!