সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::

গাজিপুর ইজতেমায় বৈর আবহাওয়ার ডিঙ্গিয়ে  জনস্রোত

 গাজিপুর প্রতিনিধি: একদিকে হেফাজত নেতাদের গত ১সাপ্তাহ ধরে হুমকী ধমকী, বাঁধা, হামলার প্রস্তুতির ভিতর দিয়ে প্রসাশনের সাথে বারবার বৈঠক অপর দিকে ঘুনিঝরের প্রভাবে বৈর আবহাওয়ার মধ্য দিয়েই গতকাল থেকে গাজিপুর জেলা ইজতেমার মূল আমল শুরু  হয়েছে।

এরআগে বৃহস্পতিবার থেকেই চারটি শবগুজারী পয়েন্টে হাজার হাজার সাথী ইজতেমা করার জন্য জড়ো হতে থাকে।৭, ৮ ও ৯ই নভেম্বর তিন দিনব্যাপী গাজীপুর জেলা ইজতেমা শ্রীপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শ্রীপুর পৌর শহরের আমতলা মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন একটি মাঠে ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল তারা ময়দানে পৌছে। গাজিপুরের শ্রীপুরে আয়োজিত এই ইজতেমায় গতকাল বাদ মাগরিব বয়ান করেন কাকরাইলের মুরুব্বি মাওলানা জিয়া বিন কাসেম।
আজ বাদ ফজর কাকরাইলের আহলে শূরা মাওলানা মোশাররফ হোসেন, সকাল ১০টায় আলেমদের মজমায় কথা বলবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসেম। বাদ আছর বয়ান করবেন  মাওলানা মুনির বিন সাকীম, বাদ মাগরিব মাওলানা মোশাররফ হোসেন,  হেদায়তী কথা মাওলানা জিয়া বিন কাসেম, দোয়া মাওলানা মোশাররফ হোসেন।
গাজীপুর জেলা ইজতেমা থেকে চিল্লার জন্য ২০ জামাতের আজাইম ছিল। আলহামদুলিল্লাহ আজ সকালেই বিশ জামাত পুরো হয়ে যায়। আরো জামাতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ইজতেমার অন্যতম আয়োজক প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই ইজতেমা থেকে জামাত বের হয়ে বিশ্ব ইজতেমার জন্য কাজ করবে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যাতে বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য এই ইজতেমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তেও প্রস্তুতি চলছে। যাবতীয় কাজ প্রশাসনের অনুমতি ও সহযোগিতা নিয়েই করা হয়েছে। কিন্তু মাওলানা জোবায়েরপন্থীরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন- আমাদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার জন্য। আমরা আশা করি, আমাদের ইজতেমা সম্পন্ন করার জন্য সবার সহযোগিতা পাবো, ইনশা আল্লাহ। তাদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও আমরা পূর্ণ সমর্থন দেবো।’
উল্লেখ্য যে গত কয়েকদিন ধরে এনিয়ে গাজীপুরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হেফাজত ইসলামের নেতারা কোনভাবেই এই ইজতেমা করতে দিবে চাচ্ছে না। জীবন দিয়ে হলেও ইজতেমা প্রতিহতের ঘোষনা দেন হেফাজতের একধিক নেতা। এনিয়ে উভয় পক্ষের সাথে প্রশাসন বারবার বৈঠকে বসে। সর্বশেষ হেফাজত নেতাদের কঠোর হুশিয়ারী শুনিয়ে দেয়া হয়। কারো ধর্মীয় কাজে এভাবে বাঁধা দেয়া ও হামলার হুমকী দেয়া সংবিধান ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার বলেন, ‘কাউকে বাধা না দিয়ে দু’পক্ষকেই ভিন্ন সময়ে ইজতেমা করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে দু’পক্ষকে নিরাপত্তা দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
হেফাজতীদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে শ্রীপুর পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ইজতেমা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!