সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
মাওলানা আব্দুল মালেক ! নিজের ওপর রহম করুন

মাওলানা আব্দুল মালেক ! নিজের ওপর রহম করুন

আবু সাফওয়ান

চিন্তার বৈচিত্র্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। পৃথিবীর সবাইকে একটি চেতনায় নিয়ে আসা অসম্ভব। আমাদের দেওবন্দি আকাবিরদের মাঝেও দেখেছি এমন বৈচিত্র্য। শাইখুল হিন্দ রহ.-এর ঘনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন মাওলানা আশরাফ আলি থানভী রহ.। শাইখুল হিন্দ ও মাওলানা থানভী ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি। কিন্তু দুজনের চিন্তা ছিল দুই মেরুর। একজন ইংরেজ খেদাও আন্দোলন সংগ্রামে জীবন দিয়েছেন।

অপরজন এ থেকে সতর্ক দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন আমৃত্যু। তখন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত দেওবন্দি মাসলাকের আলেম উলামার মাঝে দুটি প্রধান ধারা গড়ে উঠেছে। এক ধারায় আছেন মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী, উবায়দুল্লাহ সিন্ধি, মুফতী কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা হিফজুর রহমান সিওহারভী, মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মাদ মিঞা প্রমুখ। অন্য ধারায় আছেন মাওলানা শিব্বির আহমাদ উসমানী, মুফতী শফী, মাওলানা জফর আহমাদ উসমানী, মাওলানা সুলাইমান নদভী প্রমুখ। শাইখুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া রহ., মাওলানা আলি মিয়া নদভী, মাওলানা মন্জুর নুমানি প্রমুখ তৃতীয় আরেক ধারার আলেম উলামা ছিলেন মাঝামাঝি অন্য এক অবস্থানে। যারা উভয় ধারার মনীষীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন। গভীর চিন্তা ও চেতনাগত বিষয়কে তারা তাদের গবেষণার বিষয় বানাননি। দূরে থাকতে চেয়েছেন বিতর্ক থেকে।

বাংলাদেশ আমলেও এই ত্রিধারার মাশায়েখদের দেখেছি আমরা। একদিকে ছিলেন শামসুল হক ফরীদপুরী, হাফিজ্জি হুজুর, মাওলানা আযীযুল হক, মুফতী আমিনি প্রমুখ। অন্যদিকে ছিলেন মুশাহিদ আলি বায়ামপুরি, শাইখে কৌড়িয়া, শাইখে বাঘা, মুফতী নুরুল্লাহ, মাওলানা কাজি মুতাসিম বিল্লাহ রহ. ও মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ প্রমুখ। তৃতীয় ধারার অনেক আলেমও ছিলেন, যারা মাসলাকে দেওবন্দের চেতনাগত বৈচিত্র্যের স্পর্শকাতরতা বুঝতে পেরে আজীবন মাঝামাঝি থাকার প্রয়াস চালিয়েছেন। কেউ এদিকে ঝুঁকেছেন তো কেউ আরেকদিকে ঝুঁকেছেন। কিন্তু উভয় ধারার মনীষীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলেছেন।

  • এখন যে চতুর্থধারার সূচনা হয়েছে তার দেখা মেলেনি ইতোপূর্বে। হ্যাঁ, এখন কাউকে কাউকে দেখছি নতুন এক ধারার অনুসরণ করা শুরু করেছেন। সেটি হচ্ছে তাজলিল তাফসিক ও তাকফিরের ধারা। সম্প্রতি মাওলানা আব্দুল মালেক ছাহেব হাদাহুল্লাহ এ ধারার গোড়াপত্তন করেছেন। এধারাটি তিনি আমদানি করেছেন আরবের কট্টর সালাফিদের কাছ থেকে। মূলত তিনি প্রথম দু ধারার লোক নন। তিনি ছিলেন তৃতীয় ধারার উপযোগী। কিন্তু উপরে উঠতে উঠতে তিনি পতিত জমিন বেছে নিলেন। এটা আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কারও সঙ্গে মতানৈক্য হলে দেওবন্দি আলেমরা তার ভুল ধরিয়ে দেন। আকাবিরদের ক্ষেত্রে হলে অবশ্যই আদবের সাথেই তা করেন। কিন্তু চিন্তার বৈপরিত্বের কারণে কখনও একধারার লোক অন্য ধারার কাউকে গোমরাহ ফতোয়া দেন না। মেনে নিচ্ছি, সাতচল্লিশে কিছু অতিরঞ্জন হয়েছে। কিন্তু সেটা স্বাভাবিক অবস্থা ছিল না। মুসলিমলিগিরা নষ্ট করে রেখেছিল পরিবেশ। চরম উন্মাদানার অবস্থা ছিল পুরো ভারতবর্ষে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সবাই চেষ্টা করেছেন বিপরীত পক্ষকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে।

আমরা কখনও দেখিনি পরস্পর একে অপরকে কাফির বা গোমরা বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এক মাসলাকের মানুষের ভেতর আমরাই যদি একতাকে এভাবে অসম্ভব করে তুলি তাহলে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য কী করে সম্ভব হবে?

মাওলানা আবুল ফাতাহ রহ.এর স্মারকে মাওলানা আব্দুল মালেক ছাহেব লিখেছেন,

“মাওলানা ফাতাহ ছাহেবের খাস উস্তাদ হচ্ছেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ ছাহেব। কিন্তু আমার যতটুকু জানা আছে ফরীদ ছাহেবের কোনো শায ও বিচ্ছিন্ন মত, মুনকার ও ভিত্তিহীন কোনো কাজ ও চিন্তার ক্ষেত্রে তিনি তার সঙ্গ দেননি। বরং তার এটাও জানা ছিল যে, ফরীদ ছাহেবের দ্বীনী মেজায পরিবর্তন হওয়ার পেছনে কোন্ ব্যক্তি বা কাদের সুহবতের প্রভাব ছিল।”

ফরীদ ছাহেবের দ্বীনী মেজায পরিবর্তন হওয়ার যে আজগুবি কথা বললেন ধরে নিলাম তার ভেতর এমন একটা ধারণা জন্ম নিতে পারে কিন্তু এ কথাটি মাওলানা আবুল ফাতাহ সাহেবের মৃত্যুর পর তার দিকে সম্পৃক্ত করা তার জন্য কতটুকু ঠিক হয়েছে? ভেবে দেখার বিষয়। তার লেখাটি একটু খেয়াল করুন। তিনি লিখছেন.. আমার যতটুকু জানা। এর অর্থ তিনি মাওলানা আবুল ফাতাহ সাহেবের মুখে সরাসরি শোনেননি। তাহলে কার কাছ থেকে কী শুনে মাওলানা আব্দুল মালেক কী বুঝে একথা লিখলেন তা তার স্পষ্ট করা নৈতিক কর্তব্য ছিল। মরা মানুষকে নিয়ে নিকৃষ্ট রাজনীতি তিনি কীভাবে করলেন তা যেমন বোধগম্য নয়; স্মারক সংশ্লিষ্টরা কি করে এমন আজে বাজে কথা ছাপল তা-ও ভেবে পাই না।

মাওলানা ফাতাহ সাহেব বেঁচে থাকলে সবার আগে তিনিই একথার প্রতিবাদ করতেন। ফরীদে যামান উস্তাদের চিন্তা চেতনার উচ্চতা তার অনেক ছাত্র বুঝতে পারেনি সত্য; কিন্তু তারা কখনও এভাবে “উস্তাদ বিভ্রান্ত হয়ে গেছেন” বা “শুযুযে আক্রান্ত হয়েছেন” এমন কাঁচা কথা বলেননি। মূলত মাওলানা আবুল ফাতাহসহ অন্য ছাত্ররা চিন্তার বৈচিত্র্যে বিশ্বাস করতেন। এটা মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দা. বা.-এর শিক্ষাও। আকাবিররা আমাদেরকে ইখতিলাফের আদব শিক্ষা দিয়েছেন। পৃথিবীর সব মানুষকে নিজের চিন্তায় এক করার মানসিকতা সৌদির গোঁড়া সালাফিদের পদ্ধতি। এ ধারার কোনো আলেম বাংলাদেশে আব্দুল মালেক ছাহেবের আগে জন্মেছেন কি না বলা মুশকিল।

প্রশ্ন হচ্ছে কাদের সোহবতে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গোমরা হবেন? আওয়ামি লীগের সোহবতে? তাহলে তো আহমদ শফী সাহেবসহ শুকরানা মাহফিলের জমহুরকেও গোমরা ফতোয়া দিতে হবে। এর আগে মাওলানা মাদানী রহ.কেও হয়ত তিনি কংগ্রেসের সোহবতে গোমরা হয়েছেন বলে ফতোয়া দিতে চাচ্ছেন। তার উচিত তার বক্তব্য স্পষ্ট করা। কোনো রাখ ঢাক না রাখাই তার কাছে আমাদের কাম্য। খোলামেলা সামনে আসুন। সাহস থাকলে হুজুরের সামনে এসে হুজুরের গোমরাহিগুলি ধরিয়ে দিন।

এরপর আরও স্বনামধন্য পাঁচজন আলেম যারা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা. বা.-এর ছাত্র, তাদের নাম উল্লেখ করে লিখেছেন,

“এদের কেউ ফরীদ ছাহেবের স্পষ্ট কোনো বিভ্রান্তিকর চিন্তার সাথে একমত হওয়া তো দূরের কথা কোনো শায মতের সাথেও একমত নন। এটা তাদের ফাকাহাত ও তাকওয়ার প্রমাণ।”

ঐ পাঁচ মনীষী যখন এ লাইনগুলি পড়বেন আমার ধারণা তারা লজ্জায় ডুবে যাবেন। “মাওলানা আব্দুল মালেক এ কী করলেন?” বলে বিলাপ করবেন। আমি সৌভাগ্যক্রমে এ পাঁচজনকেই ঘনিষ্ঠভাবে চিনি। তাদের অধিকাংশই আমার উস্তাদ। তারা মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা. বা.-এর তাকওয়া ও ফাকাহাত সম্পর্কে ভালই জানেন। হুজুরের নামের পাশে তাদের এমন প্রশংসা বাণী পড়ে তারা লজ্জিত না হয়েই পারেন না। আমাদের অপেক্ষা রইল এরপর তাদের প্রতিক্রিয়া কী হয় দেখার জন্য। পৃথিবী থেকে এখনও শারাফাত উঠে যায়নি বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আর কোনো মনীষীকে তার ছাত্ররা তার সম্পর্কে কী বলল তা দিয়ে মূল্যায়ন করতে হয় না। তার উস্তাদরা তার সম্পর্কে কী বলল তাই দিয়ে মূল্যায়ন করতে হয়। ইমাম বুখারীকে ইমাম তিরমিযির মূল্যায়ন দিয়ে মাপা নয় বরং ইমাম তিরমিযির প্রয়োজন ছিল বুখারীর মূল্যায়ন। আল্লামা ফরীদ মাসঊদ সম্পর্কে তার ছাত্ররা কী বলল তা দিয়ে তাকে মাপতে যাওয়া চরম মূর্খতা। তার উস্তাদ ও পীর তার সম্পর্কে কী বলেন তা খুঁজে দেখুন। হ্যাঁ, যেসব ছাত্রের নাম বলেছেন তাদের সামগ্রিক মূল্যায়নের সময় অবশ্যই দেখতে হবে তাদের সম্পর্কে তাদের উস্তাদরা কী বলেছেন। আপনার মূর্খ শিষ্যরা আপনার সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছে তা দিয়ে আপনাকে চিনাতে চাচ্ছেন হয়তো। মূলত আপনার উস্তাদ মুফতী তাকি উসমানী আপনার সম্পর্কে যা বলবেন সেটাই হবে আপনার আসল মূল্যায়ন। আপনি যতটুকু উচ্চতাসম্পন্ন তার চেয়ে এক ইঞ্চিও অধিক হবেন না আপনার মূর্খ ছাত্রদের স্তববাক্যে।

উস্তাদ ছাত্র মতভেদ আছে সত্য কিন্তু না মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কখনও তার ছাত্রদের বিভ্রান্ত গোমরা বলে গাল দিয়েছেন, না তার ছাত্ররা তাকে পথভ্রষ্ট বলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। আমি অধমও মাওলানা আবুল ফাতাহ রহ.-এর ছাত্র। একান্ত আলাপেরও সুযোগ হয়েছে বহুবার। তার মুখে কখনওই তো এমন কথা শুনলাম না। কোত্থেকে মাওলানা আব্দুল মালেক ছাহেব এমন একটা মিথ্যাচার করার প্রেরণা পেলেন তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না।

তাবলিগের দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের সময় জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ায় মাওলানা আব্দুল গাফফার সাহেব হাঙ্গামিভাবে একটা বক্তব্য দিয়েছিলেন। তখন প্রপাগা-া ছড়ানো হয়েছিল যে, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব দেওবন্দের ফতোয়া মানেননি। পরে যখন স্পষ্ট হয়ে গেল, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা. বা. দেওবন্দ থেকে একচুল সরেননি তখন মাওলানা আব্দুল গাফফার সাহেব তার বক্তব্যটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। মাওলানা আব্দুল গাফফার সাহেবের সেদিনের বক্তব্য থেকে একথাও বুঝে আসে উস্তাদের কোনো বিষয় যদি তিনি স্পষ্ট বিভ্রান্তি দেখতেন তাহলে অবশ্যই তারা জাতির সামনে স্পষ্ট করতেন। মাওলানা আব্দুল মতীন সাহেব দুবছর আগেও ইকরার উস্তাদ ছিলেন। যদি কোনো বিষয় স্পষ্ট দালালাত পেয়ে থাকতেন তাহলে অবশ্যই তারা প্রকাশ করতেন।

মূলত চিন্তার বৈচিত্র্য ছাড়া এখানে আর কিছু নেই। প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা আছে কোনো একটি ধারা বেছে নেওয়ার। মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমি দা.বা.-এর কর্মপন্থা গ্রহণ করবেন, না মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দা. বা.-এর কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করবেন প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাপার। উল্লিখিত মনীষীরা সেই কাজটিই করেছেন। কখনও কোনো উস্তাদকে অসম্মান করেননি।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দা.বা. আমার মুরুব্বি। আমার বাবা যেমন ইকরায় এসে তার হাতে সোপর্দ করেছেন। আমার রূহানি পিতা মাওলানা কাজি মুতাসিম বিল্লাহ রহ.ও আমাকে সপে দিয়েছিলেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা.-এর কাছে।

তো যে বিষয়টি শুরু থেকেই লক্ষ্য করেছি, আমাদের হুজুর আকাবির আসলাফের অনন্য সুন্দর দিকগুলি সমাজের সবখানে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ লক্ষ্যেই তিনি সারা দেশ সফর করছেন। এই বার্ধক্যেও তার আর কোনো ভাবনা নেই। কী করে উদভ্রান্ত মানুষকে আকাবির আসলাফের পথে ফেরানো যায় সেই এক ফিকির। মাওলানা কাসিম নানুতুবি, শাইখুল হিন্দ ও শাইখুল ইসলাম মাওলানা মাদানী রহ.-এর মত পথে পথে এক ডাক নিয়ে ঘুরে ফিরছেন। নেক হও এক হও। দ্বীন বুঝতে স্বমত ছাড়ি আকাবিরের সমঝ ধরি। এই স্লোগান নিয়ে আমরা সারা বাংলাদেশে কাজ করছি। ইসলামের শান্তিবাদি ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছি আমরা।

আমাদের কর্মপন্থা কারো অপছন্দ হলে আমরা তাকে বাধ্য করছি না বা ফতোয়াবাজিও করছি না। আমাদের সমালোচনা ছেড়ে মাওলানা আব্দুল মালেক ছাহেব গঠনমূলক কিছু করলে তাই তার জন্য নিরাপদ ছিল। মূলত যারা গঠনমূলক কিছু করার ক্ষমতা রাখেন না তারাই এমন আকাবিরদের সাথে ধৃষ্ঠতামূলক অনর্থক কথা বলে বেড়ান। সৃজনশীলতার শক্তি যে কোনো যদুমদুর হলে এর কোনো মূল্যই থাকত না।

মাওলানা আব্দুল মালেক ছাহেব আমার উস্তাদ নন। কিন্তু ঘনিষ্ঠভাবে তার চিন্তা চেতনা জানার বোঝার সুযোগ আমার হয়েছে। তিনি যখন তরুণ মুদাররিস তখন থেকেই তিনি আমাকে চিনেন।

তার যে বৈশিষ্ট্য আমার ক্ষুদ্র চোখে ধরা পড়েছে তা হচ্ছে, তাকে দেখেছি, খুঁজে খুঁজে আমাদের আকাবিরদের ভুলগুলো বের করে তালিবুল ইলমদেরকে আকাবির বিমুখ করেন। মাওলানা আশরাফ আলি থানভী কখনও কোনো তাকরিরে কোনো মওজু হাদীস আনতে পারেন। অসম্ভব নয়। কিন্তু তাই বলে কোনো মুহাক্কিক তাদের ভুল বের করাকেই সারা জীবনের কাজ বানিয়ে নিতে পারেন না। বসে বসে ঘেটে ঘেটে আকাবিরদের ভুলগুলি বের করে তাদের থেকে মানুষের ভক্তি নষ্ট করা কোনো সুস্থ লোকের কাজ হতে পারে না।

  • পরিশেষে বলব, মাওলানা ছাহেব! আপনি হয়ত আরেক আবু বকর বাগদাদি হতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশকে আপনার শিষ্যরা আরেক সিরিয়া বানানোর সংকল্প করেছে। এতে শেষমেষ আপনার ফায়দা কী? সেই তো আত্মঘাতি বোমায় নিজেকে উড়িয়ে দিবেন। আল কাউসার পত্রিকায় আত্মঘাতি বোমা হামলার পক্ষে এজন্যই কি আগ থেকে দলীল প্রমাণ লিখে দিয়ে পথ প্রস্তুত করে রেখেছেন? আপনার উস্তাদ মাওলানা তাকি উসমানি ও রফি উসমানী দা. বা. স্পষ্টই আত্মঘাতের বিরুদ্ধে গিয়েছেন। উস্তাদকে মানা আপনার ধর্মে নাই কিন্তু ছোট হয়েও একটা অনুরোধ করবো। বেয়াদবী মাফ করবেন।দেওবন্দী আকাবিরদের ধারার বাইরে গিয়ে জিহাদি সালাফিদের কর্মপদ্ধতি এদেশে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন না। এই কাদা মাটির দেশ তার ভয়াবহতা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। ধন্যবাদ।

লেখক : সিনিয়র মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!