রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
আবারও জামাত-হেফাজতের যৌথ মিছিলে কাশ্মীরের ছবি জালিয়াতি ঈদের ছুটিতে মুবাল্লীগদের করণীয় ও কিছু কথা জয়পুরহাটে অ্যাসিড খাওয়ানোর মামলায় ইমামসহ ২ জন রিমান্ডে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নিন্দা ও প্রতিবাদ মসজিদের ভিতর শীর্ষ আলেমদের উপর হামলায় দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় আল্লামা মুফতি ইজহারের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুনঃ ১০১ আলেমের বিবৃতি মসজিদের ভিতরে মুফতি ইজহারের উপর নৃশংস হামলা: আহত ৩ মুফতি উসামা ! ক্ষমা করে দিবেন… বিদেশী মেহমানদের এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টায় দেশব্যাপি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জয়পুরহাটে ইন্ডিয়ার জামাতকে এসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টাঃ ইমামসহ ৭ জন গ্রেপ্তার
গোপনে দান করার উপকারিতা

গোপনে দান করার উপকারিতা

সুরা বাকারাহ’র ২৭৩ ও ২৭৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
“খয়রাত ঐ সকল গরীব লোকের জন্যে যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে-জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা যাঞ্চা না করার কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি-মিনতি করে ভিক্ষা চায় না। তোমরা যে অর্থ ব্যয় করবে, তা আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই পরিজ্ঞাত।” (সূরা বাকারাহ; আয়াত:২৭৩)

“যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাত্রে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাদের জন্যে তাদের সওয়াব রয়েছে তাদের পালনকর্তার কাছে। তাদের কোন আশংঙ্কা নেই এবং তারা চিন্তিত ও হবে না।” (সূরা বাকারাহ; আয়াত:২৭৪)

ইসলাম মুসলিম সমাজে ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব পরামর্শ দেয় , সে সবের মধ্যে অন্যতম হলো দান-খয়রাত। অর্থাৎ ইসলাম ধনী ও সম্পদশালীদেরকে তাদের সম্পদের কিছু অংশ দরিদ্র ও বঞ্চিতদের দান করতে বলে। এই আয়াতে দান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও অভিবাসন বা হিজরতের কারণে সম্পদ হারিয়েছে এবং আয়-উপার্জনের কোন ক্ষমতাও যাদের নেই তাদেরকে যেন দান করা হয়। সংযমী হবার কারণে এই শ্রেণীর মানুষ অন্যদের কাছে কিছু চায় না এবং নিজেদের অভাবের কথাও তুলে ধরে না । তাই সাধারণ মানুষ তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে । কিন্তু মুমিনদেরকে এই শ্রেণীর সম্মানিত মানুষের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে এবং এই সব দ্বীনি ভাইয়েরা যেন কষ্ট না পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। ইসলামের ইতিহাসে দেখা গেছে ইসলামের প্রাথমিক যুগে নবী (সাঃ)র অনেক সহযোগী তাঁর সাথে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিলেন। মদীনায় তাদের ঘরবাড়ী ,অর্থ-সম্পদ কিছুই ছিল না। কারণ, মক্কার মুশরিকরা তাদের সমস্ত ধন-সম্পদ দখল করে নিয়েছিলেন । মদীনার মানুষ তাদের অনেককে নিজেদের ঘরে স্থান দেয় ও তাদের ব্যয়ভার বহন করতে থাকে। তবে মুহাজিরদের অধিকাংশই মসজিদে নব্বীর
সুফফাহ নামক স্থানে আশ্রয় নেয় । এই দুই আয়াতে তাদের অভাব মোচনের জন্য মুমিনদেরকে আহবান জানানো হয়েছে।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো-

প্রথমত : ধনীদের সম্পদের মধ্যে আল্লাহ দরিদ্রদের অধিকার রেখেছেন।

দ্বিতীয়ত : মুসলিম সমাজে দরিদ্ররা তাদের অভাবের কথা বলার আগেই যেন তাদের অভাব মেটানো হয়। এতে করে মুমিনের সম্মান ক্ষুন্ন হবার কোনো সুযোগ থাকবে না। মুসলিম সমাজে মুমিনের সম্মান ক্ষুন্ন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তৃতীয়তঃ কোরআনের দৃষ্টিতে, তারাই দরিদ্র বা ফকীর যারা বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা যেমন- রোগ, বার্ধক্য, প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা যুদ্ধ প্রভৃতি কারণে জীবিকা অর্জনের ক্ষমতা রাখে না। অথচ তারা বৈষয়িক চাহিদা পূরণের চেয়ে সম্মান রক্ষাকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই যারা বিভিন্ন সমাজে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে অর্থ দেয়ার জন্যে মানুষকে পীড়াপীড়ি করে তারা দরিদ্র নয় বরং ভিক্ষুক।

চতুর্থতঃ যারা আল্লাহর রাস্তায় দান খয়রাত করে, আল্লাহ তাদেরকে ভবিষ্যতে দারিদ্র্য থেকে দূরে রাখবেন এবং তাদের কোনো ভয় নেই। কারণ , আল্লাহর ওপর ভরসা করার কারণে তারা নিজেদের দানের জন্য কখনও অনুতপ্ত বা দুঃখিত হবে না।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!