মঙ্গলবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে জেলা ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে মুসল্লিদের জনসমুদ্র

সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে জেলা ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে মুসল্লিদের জনসমুদ্র

জুমার নামাজে অংশ নিতে সকাল থেকে কক্সবাজার ও এর আশপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিরা হেঁটে ও দূরদুরান্ত থেকে গাড়ি নিয়ে ইজতেমা ময়দানে আসেন। বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইজতেমায় আসছেন হাজার হাজার মুসল্লি। কেউ গাড়ীতে, আবার কেউ পায়ে হেটে আসছেন ইজতেমা মাঠে নিজেদের স্থান ঠিক করে নিতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে এবারের জেলা ইজতেমা।   চলবে ৯ নভেম্বর শনিবার  পর্যন্ত। তবে এই মাঠে হাজার হাজার মানুষ থাকলে কোথাও কোন শোরগোল লক্ষ্য করা যায়নি সবার মুখে শুধু দরুদ আর আল্লাহু আকবর ধ্বণী। আয়োজকদের মতে এবার অন্তত ১ লাখ মুসল্লি ইজতেমায় সমবেত হবেন।

শনিবার দুপুরের আগে আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে কক্সবাজারে তিনদিন ব্যাপী এই ইজতেমা। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে সমবেত হবেন লাখো মুসল্লি। আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মূখরিত হয়ে উঠবে ইজতেমা ময়দান। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুসল্লিরা কাঁধে-পিঠে প্রয়োজনীয় মালামালের গাঁইট ও ব্যাগ নিয়ে মাঠের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিচ্ছেন। আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। সৈকত শহর কক্সবাজারের এই বালিয়াড়ীতে ইজতেমাস্থল এখন মুসল্লিদের আগমণে মুখরিত।

ইজতেমায় প্রথম দিনে জেলার ৮ উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন।  এখান থেকে আবার ৪০ দিনের চিল্লায় চলে যাব। দুনিয়াটা দুদিনের তাই এই দিনে আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার লক্ষ্যে ইসলামের হুকুম আহকাম নিজে মেনে চলে সমাজেও প্রতিষ্টা করতে হবে। আয়োজকরা জানান, ‘ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো তাবলিগে যাওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।’ এবারের ইজতেমার পর প্রায় ২০/৩০ হাজার মানুষ তাবলিগের চিল্লায় যাবেন বলেও তারা আশা করছেন।

এদিকে ইজতেমার মাঠে সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজতেমা মাঠের প্রবেশ দ্বারে ৩ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইজতেমার নিরাপত্তায় প্রায় ২০০ পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া আনসার ও তাবলীগ জামাতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন প্রায় ১০০০। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ হয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। পুরো ময়দানকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। ইজতেমা উপলক্ষে ৪৫০ ফুট বাই ১৪৫০ ফুট সাইজের প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে কমপক্ষে ১ লক্ষ লোক ৩ দিন থাকতে পারবেন। এছাড়া ৭৫০ টি টয়লেট, ১ হাজার প্রসাবখানা, ১০০ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। পয়:নিস্কাশনে যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিআইপি ও ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে আসা মেহমানদের থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসা : ইজতেমা ময়দানে ৫টি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আগত লোকজন খুব দ্রুততম সময়ে এই ক্যাম্প থেকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। এ ছাড়াও পানির সমস্যা সমাধানে অস্থায়ী ভাবে বসানো হয়েছে অগভীর নলকুপ।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন সম্পুর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!