বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৯, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

কোন পথে প্রাণের কওমী মাদরাসা?

কোন পথে প্রাণের কওমী মাদরাসা?

মুফতী এহিয়া মাহমুদ,অতিথি লেখক তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম|
বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধ কালে কতিপয় অদূরদর্শি ওলামাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে প্রকাশ্য ভূমিকার কারনে স্বাধীনতা লাভের পর ওলামাদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ হয়ে গিয়ে ছিল। রাস্তাঘাটে সাধারণত চলাফেরা করা ছিল দুস্কর।

ক্বওমী মাদ্রাসা গুলো তেল বিহিন বাতির মত নিভু-নিভু অবস্থায় পৌঁছে গিয়ে ছিল । আল্লাহ পাকের অশেষ অনুগ্রহে কতিপয় দুরদর্শি, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের
আহলে হক্ব ওলামায়ে কিরামদের অশেষ ত্যাগ ও চোখের পানির বরকতে এই ক্বওমী মাদ্রাসা গুলো পুণরায় স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে পুর্ণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে ।

কিন্তু ছাত্র শূণ্যতায় এবং আর্থিক সংকটের কারনে বছর কে বছর শিক্ষক ও স্টাফদের বেতন বাকি পড়ে থাকতো । কিন্তু আমাদের জানবসজ আকাবিরগন ভূখা ফাখা, না খেয়ে না দেয়ে দ্বীনের এই দুর্গ গুলোকে শক্ত হাতে ধারন করে রেখেছেন । কোন অবস্থাতেই তাঁরা দ্বীনের এই দুর্গ গুলো ছেড়ে দুনিয়ামূখী বা আর্দশচূত্য হন নি । কওমি মদরাসাগুলোতে কেবল গ্রামের গরীব ছেলেরা পড়ত। আভিজাত্য শ্রেনী তখন এর দিকে নিজেদের জড়ায়নি।

ধীরে-ধীরে দাওয়াতও তাবলীগের এই মাক্ববুল ও মোবারক মেহনত যখন দিন দিন ব্যাপকতা লাভ করতে শুরু করলো ,তখনই এই মেহনতের বরকতে জনসাধারণের মাঝে ইলেম ও ওলামাদের মর্যদা ফুটে উঠতে শুরু করলো এবং
দাওয়াত ও তাবলীগের সাথীরা নিজেদের জান মাল মাদ্রাসায় দেয়া আরম্ভ করলেনএবং নিজেদের ছেলেদের কে ক্বওমী মাদ্রাসায় ভর্তি করতে শুরু করলেন । বড় বড় ব্যবসায়ী,ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, অধ্যাপকরা তাবলীগে লেগে উলামাদের মহব্বতে নিজেদের কলিজ্বায় টুকরো সন্তানদের মাদ্রাসায় দিয়ে নিজেরাও এসব দ্বীন প্রতিষ্ঠানে দান খয়রাত ও মন প্রাণখুলে সহযোগীতা করতে আরম্ভ করল।

বাস্তবতা হলো এই যে, ইসলাম এবং মুসলিম জাতির এই দুর্দিনে দাওয়াত ও তাবলীগের এই সাথীরাই ক্বওমী মাদ্রাসাকে আবাদ রাখার অন্যতম কাণ্ডারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যে কতিপয় ক্বওমী ওলামারাই আজ কতিপয় ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে দাওয়াত ওতাবলীগের বিরোদ্ধে উঠে পড়ে লেগে গেলেন ।

সেই অভিজোগ গুলোর বাস্তবতা কি এবং এসব গুলোর মূল কোথায় তা তাঁরা খুজে বের করার কোন প্রয়োজনিয়তা অনুভব করলেন না!

অতএব দাওয়াত ও তাবলীগ এবং হজরতজী মাওঃ সা’দ কান্ধলভীর বিরোদ্ধে তাদের কথিত ওজাহাতী জোড় অপর দিকে ইজতেমা বন্ধ করা ,মাসজিদে
জামাত ঢুকতে না দেয়া ইত্যাদি আচরণে প্রসাশন হতে সর্ব মহলের বিবেক সম্পর্ণ লোকেরা আজ ত্যাক্ত ও বিরক্ত বোধ করছে ,যদি ও প্রশাসন কোন অজানা কৌশলে নিরবতা অবলম্ভন করে তাদেরই একক ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে ।

এহেন আগ্রাসী মনোভাব ও উগ্রতার কারনে দ্বীনদ্বার জনগনের নজরে ক্বওমী মাদ্রাসার ঐতিহ্য এবং ক্বওমী মাদ্রাসার ওলমায়ে কেরাম ও ত্বোলাবাদের থেকে আহমিয়ত,শ্রদ্ধা,ভক্তি, ভালবাসা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। ভাবতে অবাক হই কোন পথে চলছ প্রিয় কওমি মাদরাসা

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!