সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
সম্পাাদকীয়; রক্তাক্ত টঙ্গী: শহীদরে রক্ত বৃথা যাবে না

সম্পাাদকীয়; রক্তাক্ত টঙ্গী: শহীদরে রক্ত বৃথা যাবে না

সৈযদ আনোয়ার আবদুল্লাহ

ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কি বাদ (ইসলাম জিন্দা হয় প্রত্যেক কারবালার পরে) আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানী ৬,৭,৮,৯,১০ ডিসেম্বও ২০১৯ ঐতিহাসিক ‘পাঁচ দিনের জোড়’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দাওয়াত ও তাবলীগের লক্ষাধিক তিন চিল্লার সাথী, চিল্লা ও সাল লাগানো ওলামায়ে কেরাম জোড়ে অংশগ্রহন করছে। দাওয়াতের মেহনতকে ধ্বংস করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যকে বিনষ্ট করতে মারকাজিয়্যত ও ইমারত বিরোধী চক্র অসংখ্য গুজব ও মিথ্যাচার চালিয়ে আসছে। পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের কথিত আলমী শুরা নামক বিষক্রিয়া, নব্য বেদায়াতী ফেতনা ও গোমরাহী মতবাদ সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও আন্তর্জাতিক বাতিল চক্র বাংলাদেশকে ফেতনার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয়। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক ,ওয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব,ম্যাসেঞ্জার) নতুন ও অনভিজ্ঞ আলেম সমাজ ও মাদরাসার ছাত্রদেও ব্যবহার কওে এই ফেতনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নেট ও অনলাইনের এই জাল ও ফাদ থেকে যারা ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারলেন না দাজ্জালী শক্তির এই ধোকা থেকে তারা কিভাবে আগামি দিনে সরাসরি দাজ্জালের ভয়াবহ ধোকা ও ফেতনার জাল থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:হে লোক সকল! নিশ্চই দুনিয়াতে দাজ্জালের ফেতনা অপেক্ষা ভয়াবহ আর কোন ফেতনা নেই (মুসলিম )।
নেট অর্থ জাল বা ফাঁদ তেমনি দাজ্জাল অর্থ ধোকা বা ফাঁদ । নেটের ফাঁদ মূলত দাজ্জালী শক্তির এমন একটি ফাঁদ যা দাজ্জালকে আমন্ত্রন জানানোর পূর্ব প্রস্তুতি বলা চলে। দাজ্জাল আসার পূর্বে মুসলমানদেরকে এর অপব্যবহারের মাধ্যমে ঈমান ধ্বংসকরাই মূলত বাতিলদের অন্যতম টার্গেট । আল্লাহ তাআলা কুরআন পাকে বলেন,‘হে মুমিনগন যদি কোন ফাসেক বা পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন খবর প্রেরণ করে তোমারা তা যাচাই/তাহাকীক কর যাতে অজ্ঞতাবশঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্থ না করো এবং তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও’(সূরায়ে হুজরাত,আয়াত নং-৬)

একজন মুসলমানের জন্য পাঠানো কোন খবর তাহাকীক না কওে প্রচার ও বিশ্বাষের কোন সুযোগ নেই। ফেসবুকের বিভিন্ন চটকদার কওমিয়ানা পেইজ ও ওয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন অজ্ঞাত নাম্বার থেকে আসা খবর প্রচারের আগে জেনেনিতে হবে সংবাদটির উৎস সঠিক কিনা । এসব পেইজ বা নাম্বার কারা চালাচ্ছে? তাদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য কী? নেটের কথাকে শুধু কাটপিস করে অর্থ বদলানো যায় না বরং কন্ঠও বদলানো যায়, প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্ঠ তৈরি করা যায়। তাহাকীক ছাড়া নেটে কিছু পেয়েই ছড়িয়ে দেওয়া ও ময়দানে প্রচার করা এটি নিঃসন্দেহে ধোকা প্রতারণা ও দাজ্জালী শক্তির ফাঁদ ছাড়া কিছুই নয়। উপরোক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বাংলাদেশের সরলমনা আলেমদের কান ভারী করা হয়েছে। এর একটা কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশে যেসব আলেম নেট ব্যবহার করেন ,তারা মাত্রই এর সংস্পর্শে এসেছেন । ফলে বাহির থেকে খুব সহজে বাতিল শক্তি দ্বীনের নামে বিভ্রান্ত করছে।

যেমন গত পহেলা ডিসেম্বর ২০১৮ পাঁচ দিনের জোড় বানচাল করতে গিয়ে মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহার, বাঁধা প্রদান ও মাঠ দখলের ঘৃণিত রাজনীতি এবং জোড়ে আসা তাবলীগের সাথীদেও উপর উগ্র ও নৃশংস হামলার পরপরই ‘আলমী শূরা ’নামক ফেসবুক পেইজ থেকে ১১জন মাদরাসা ছাত্র নিহত হওয়ার খবর মূহুর্তে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। (নিচে স্কীনর্শট সহ এর প্রমান দেয়া হলো) তুরাগ নদীতে শতশত লাশ ভেসে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে দিয়ে সারা দেশে মিছিল মিটিং করে অপপ্রচার চালানো হয়। সোমালীয়া ,আফ্রিকা ,বার্মা ,আরকান/রোহিঙ্গা মুসলমান নির্যাতন ও ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরের নানান ছবি দিয়ে রংবেরঙ্গের কোটি কোটি টাকার পোষ্টার ছাপিয়ে সারা দেশে টাঙ্গিয়ে নিরপরাদ আলেম ও মুরুব্বিদের ফাঁসি চাওয়া হলো। যার পুরোটাই ছিল মিথ্যার উপর এবং পহেলা ডিসেম্বরের খুনিদের আড়াল করার রাজনীতি।

আমরা যদি পেছনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই একই কায়দায় হেফাজত ইসলামের ৫ই মে শাপলা চত্বরের ট্রাজেডি তৈরি করে সরলমনা আলেম উলামা ও অবুঝ মাদরাসা ছাত্রদের দিয়ে ঈমানি আন্দোলনের নামে সরকার পতনের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল।হাজার হাজার লাশের দাবী তোলা হয়েছিল একই কায়দায়। পরবর্তীতে গত —-তারিখে হেফাজতে ইসলামের আমীর  আহমদ শফি দা.বা.সহ দেশের জমহুর শীর্ষ উলামায়েকেরামের উপস্থিতিতে শুকরিয়া মাহফিল থেকে এসব অপপ্রচার ও গুজবকে মিথ্যা প্রমাণিত করে বলা হলো ৫ই মে কোন হতাহত হয়নি। একটি চক্র সরকার ও আলেম উলামার মাঝে দূরত্ব তৈরি করতে চেয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবে তখন সাধারণ জনগন বিভ্রান্ত হন উলামায়ে কেরামের কোন কথাটি সঠিক ছিল? অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আলেম উলামাদের পক্ষ থেকে ‘কওমী জননী’ উপাধির মধ্যদিয়ে বিরল সম্মাননায় ভুষিত করা হয়।

আমরা একই বিষয় দেখতে পাই গত পহেলা ডিসেম্বর ২০১৮ ‘টঙ্গি ট্রজেডি’এর মাঝে। সে দিন নিজামুদ্দীন অনুসারী তাবলীগের সাথীদের পূর্বনির্ধারীত জোড় ছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগথেকে মাঠের কাজের নামে মাদারাসার অবুঝ ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে মাঠ দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এনিয়ে তাবলীগের মুলধারার সাথীরা দুদিন আগে—-তারিখে সাংবাদিক সম্মেলন করে (শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করে ইজতেমার মাঠ দখলের অপরাজনীতি যা আন্তর্জাতিক শিশু আইনে মারাত্মক অপরাধ) তাদের কে মাঠ ছাড়ার অনুরোধের পাশাপাশি সরকারের হস্তক্ষেপও কামনা করেন। আমরা যুগযুগধরে দেখে আসছি কেবল শক্রবার বা বন্ধের দিন মাদরাসার কিছু ছাত্র ময়দানে এসে কাজ করে। কিন্তু সে দিন সপ্তাকাল ব্যাপী ছাত্রদেরকে সশস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন গেটে পাহাড়ায় বসানো হয়। তাবলীগের সাথীরা তাদের নির্ধারিত তারিখের জোড় করতে ফজরের পরে ময়দানে গিয়ে দেখেন সকল গেট তালাবব্ধ ভেতরে দেশী অস্ত্রশস্ত্র সহ পাহাড়া। তখন তাবলীগের সাথীরা রাস্তার পাশে চতুর্দিকে ফুটপাতে বসে ফাজায়েলে আমালের তালিম শুরু করেন।

দীর্ঘ ৫ঘন্টা আমলে কাটানো অবস্থায় প্রশাসনের কাছে ময়দান খুলে দেয়ার দাবী জানাতে থাকেন। এঅবস্থায় ময়দানের চারপাশে থাকা ৩/৪ তলা উচু টয়লেটের উপর থেকে মাদরাসার ছাত্ররা বাবা, চাচার বয়সী মুরুব্বীদের উপর বৃষ্টির মত ইটপাটকেল মারতে থাকে।এতে করে লক্ষাধিক ভরা মজমায় খোলা আকাশের নীচে শত শত সাথী আহত হতে থাকে।এঅবস্থায় তাদের আক্রমনে সেখানে শাহাদাত বরণ করেন মুন্সিগঞ্জের তাবলীগের জিম্মাদার সাথী ভাই মো: ঈসমাইল মন্ডল রহ.। সাথীদের রক্তাত্ব আহত ও নিহত অবস্থায়দেখে যুবকসাথীরা সহ্য করতে পারেনি তখন খালি হাতেই লোহার গেট ধাক্কাদিয়ে ভেঙ্গে প্রবেশ করলে দ্বীমুখী সংর্ঘষ বাধে। ছাত্রদের আঘাতে হাজার হাজার সাথী জখম হন সাথে কিছু মাদরাসার ছাত্রও। সামছুদ্দিন বেলাল নামে নোয়াখালীর মুলধারার আরেক মুবাল্লিগ ভাই ছাত্রদের আক্রমনে মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। অপরদিকে ১১জন ছাত্র নিহত হওয়ার খবর ও শতশত ছাত্রের লাশ তুরাগ দিয়ে ভেসে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে দিয়ে কথিত আলেমরা আন্দোলন ও পোষ্টারিং করলেও আজ পর্যন্ত একজন ছাত্রও নিহত হওয়ার প্রমান দিতে পারেননি।

যাদের প্ররোচনায় মাদরাসার ছাত্ররা মাঠে এসে বাবা চাচার বয়সী মুরুব্বিদের উপর হামলা চালিয়ে ইতিহাসের নিশংসতম বেয়াদবী ও অপরাধ করে শাপলার সেই খলনায়কদের কাউকে খোজে পাওয়া যায়নি।এমনকি তাদের কারো সন্তানদেরকেও মাঠে পাঠায়নি। চিহ্নিত গুটি কয়েক অপকর্মকারীদের কারণে বদনামী হয় গোটা কওমি অঙ্গন। এদের বিষয়ে সতর্ক সচেতন হওয়া সময় ও ঈমানের দাবী।

এদের ইন্দনেই পরবর্তিতে দারুল উলুম দেওবন্দের ‘মসজিদ থেকে নিজামুদ্দীনের অনুসারীদের বের করা যাবেনা’ ফতোয়া উপেক্ষা করে সারা দেশে মসজিদে তাবলীগ জামাতে বাধা প্রদান ,কিশোরগঞ্জে রমযান মাসে তারাবীর নামাজের পর হাফেজ আব্দুর রহীমকে বর্বরও নিশংসকায়দায় পেট্টল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে । খাওয়ারেজদের অনুকরণে মসজিদ থেকে আল্লাহর মেহমানদের মারধর করে বের করে দেওয়া, ইজতেমা বন্ধে কাফনের কাপড় পরে মাঠে নামা, পুড়িয়ে হত্যা করা কিংবা এসিড পান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করার মত জঘন্যতম সীমালঙ্ঘন কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমনকি তাদেরকে হক্বপন্থী বা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী বলারও কোন সুযোগ থাকে না। কেননা, আজ যারা বিশ্বআমীরের বিরোধিতা করে আসছে তারা সাহাবাদের যুগের খাওয়ারেজদের পথই অনুসরণ করে চলছে।

ভাই মো: শহীদ ঈসমাইল মন্ডল রহ., শহীদ সামছুদ্দিন বেলাল রহ., শহীদ হাফেজ আব্দুর রহীম রহ.,আব্দুর রহীম রহ এর রক্ত বৃথা যাবেনা। এই চার শহীদের রক্তের নজরানার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা ই’লায়ে কালিমাতুল্লাহকে প্রতিষ্ঠিত করে হেদায়াতকে আম করবেন।বাতিল শক্তির সকল ফেতনাকে খতম করে হকের পতাকাকে বুলন্দ করবেন (ইনশাআল্লাহ)। আল্লাহ তাআলার ওয়াদা, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা মনোবল হারা হয়ো না এবং চিন্তিত (দুঃখিত) হয়ো না। যদি প্রকৃত মুমিন হও, বিজয় তোমাদেরই হবে। (সূরা আলে-ইমরান : ১৩৯)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!