সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:১৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
ফিরে দেখা টঙ্গী ট্যাজিডিঃ যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আজো অজানা

ফিরে দেখা টঙ্গী ট্যাজিডিঃ যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আজো অজানা

টঙ্গীর সংঘর্ষ সম্পর্কে কয়েকটি প্রশ্নঃ

—————————————-

১) মূল ধারার তাবলীগের সাথীদের জোড় হওয়ার কথা ছিল গত ৩০শে নভেম্বর থেকে ৪ঠা ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর হেফাজতপন্থীদের তিন চিল্লার সাথীদের জোড় হওয়ার কথা  ৭ই ডিসেম্বর হতে আগামি ১১ই ডিসেম্বর  পর্যন্ত। তাহলে হেফাজতপন্থীরা তাদের জোড়ের নির্ধারিত সময় হতে আগেই ২৭শে নভেম্বর হতে মাঠ দখল করতে এলো কেন? এটা কি গায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার প্রথম ধাপ নয়?

 

২) মাঠের কাজ প্রতিবছর সাধারণত তাবলীগে সময় লাগানো সাথীরাই করে এসেছে। সাধারণ লোকেরাও এই কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ক্ষেত্রে বড়দের নির্দেশনা হলঃ তারা পড়াশোনা করাকে প্রাধান্য দিবে। তাই ক্লাস চলাকালীন দিনগুলিতে তারা ময়দানে আসবে না। আর এই সময়টা (২৭শে নভেম্বর থেকে ১লা ডিসেম্বর) কোন সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ছুটি ছিল না। তাহলে তাদেরকে ক্লাস বন্ধ করে ময়দানে নিয়ে আসা হল কেন? তাহলে কি বলতে হবে যে, হেফাজতিদের সাথে কোনোই তাবলীগওয়ালা নাই?

 

৩) মুল ধারার তাবলীগের সাথীরা তাদের মুরুব্বিদের নির্দেশনা অনুযায়ী ফযরের নামায নিজ এলাকায় আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করে ৬ঃ০০টার দিকেই ময়দানে পৌছে যায়। মুরুব্বিদের নির্দেশক্রমে তারা তাদের সাথে শুধু একটি জায়নামাজ, একটি গামছা, ও একটি লুংঙ্গি নিয়ে যায়। এমনকি হেফাজতিরা কোনো গেইট না খুললে মুরুব্বিদের নির্দেশ অনুযায়ী তারা প্রতি গেইটের সামনে বিভিন্ন আমাল (যেমনঃ তালিম, জিকির, নামাজ, দুয়া, ঈমানি আলোচনা ইত্যাদি) করতে থাকে। এভাবে বেলা ১১ঃ০০ টা বেজে যায়। সংঘর্ষ করার ইচ্ছা থাকলে সংখ্যায় এতো সংখ্যক হওয়া সত্ত্বেও এতো সুশৃঙ্খল ও শান্ত-শিষ্ট থাকা কি সম্ভব? তারা কেন নিজেদের সাথে কোনো অস্ত্র, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে এলো না? পুলিশ-প্রশাসন ও মিডিয়ার জন্য তারা কেন অপেক্ষা করল? এসেই দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ল না কেন?

 

৪) হেফাজতিদের যদি তাবলীগের কাজে বাধা দেয়ার ইচ্ছা নাইই থাকতো তবে তারা প্রত্যেকটা গেট তালা মেরে রাখলো কেন? প্রতি গেইটে শত শত লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে পাহাড়ার নামে গেইট আটকে রাখলো কেন?

 

৫) প্রতি গেইটে পাহাড়ার জন্য লাঠি লাগে ৪টা থেকে ৮টা। তাও কেবল রাখতে হয় বলে রাখা। তাহলে এত শত শত লাঠি মাঠে কেন ব্যবস্থা করা হল? তাহলে কি বলতে হবে যে, হেফাজতিরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ছিল?

 

৬) হেফাজতিদের সংখ্যা ছিল ২ থেকে ৩ হাজার। তাদের থেকে ছাত্র ও উস্তাদদের কিছু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাদের কেউ নিহত হয় নাই। আর তাবলীগের সাথীদের সংখ্যা ছিল ৩ থেকে ৪ লাখ। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও হেফাজতিরা তাবলীগের মুল ধারার একজনকে নিহত করল (নামঃ ভাই ইসমাইল মণ্ডল, বয়স ৭০)। আরও শত শত তাবলীগের মুল ধারার সাথী হাসপাতালে মারাত্মকভাবে ইনজিউরড। হাজার হাজার সাথী সাধারণভাবে আহত। তাহলে কারা হিংস্র ছিল? কারা জঙ্গী দর্শন লালন করছে?

 

৭) জোড়টি ছিল তিন চিল্লার সাথীদের। মাঠের মধ্যে যারা ছিল তারা ছিল মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক ( আর খুবই নগন্য সংখ্যক তাবলীগের মুল ধারা বিচ্যুত সাথী)। এমনকি নাবালক শিশু (যারা মাঠের কাজ করতেই অপারগ) -দেরকে তাদের মা-বাবার কাছে না জানিয়ে ময়দানে নিয়ে আসার পিছনের প্রেক্ষাপট কী হতে পারে?

 

৮) পুলিশ যখন প্রশাসনের তরফ থেকে গেইট খুলে দেয়ার নির্দেশনা পায় (বেলা ১১টার পর), তখন অতর্কিতভাবে ছাত্ররা ওপাশ থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এটা কি সংঘর্ষ উস্কে দেয়া নয়? তাদের ইট নিক্ষেপে আহত হয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে যেতে বলে। দোষটা কি এরপরেও মুলধারার তাবলীগওয়ালাদেরই হবে?

 

৯) আলেম ও তোলাবাদেরকে মারধর করা অন্যায়। এটা অবশ্যই স্বীকৃত। কিন্তু যেই সমস্ত আলেম ও তোলাবারা সাধারণ তাবলীগওয়ালাদেরকে আগে পিটালো, রক্তাক্ত করলো, এমনকি হত্যাও করল, তাদের ব্যাপারে কী বলবেন? যারা কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী তাবলীগ করতে চায়, তাদেরকে মারলে কি জিহাদ হবে? মুসলমানের সাথে মুসলমানের কি জিহাদ হয়? আল্লাহ তায়ালা কী আলেম ও আওয়ামদের জন্য আলাদা আলাদা শরীয়াত নাযিল করেছেন? আল্লাহর শরীয়াত কি এমন যে, হেফাজতিরা যা বলবে বা করবে তাতেই সওয়াব? আর সাধারণ মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ হাতের দ্বারা করাটা কি গুনাহ?

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!