বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

ফলোআপ সোনারগাঁও: তাবলীগের কাউকে বাধা দিতে পারবে না- প্রশাসন

ফলোআপ সোনারগাঁও: তাবলীগের কাউকে বাধা দিতে পারবে না- প্রশাসন

সোনারগাঁও প্রতিনিধি ॥
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাওঁয়ে তাবলীগ জামাতের মূলধারার সাথীদের উপর জুবায়েরপন্থীদের সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত শেষে দুই পক্ষের প্রত্যেকেই সকল মসজিদে তাবলীগের আমল করার ফায়সালা করে দেন সোনারগাঁও পুলিশ প্রশাসন। থানার ওসি (তদন্ত) উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বলেন, প্রত্যেকেই সকল মসজিদে তাবলীগের আমল করবে, কেউ কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না।
থানার ওসি (অপারেশন) মো: আলমগীর বাড়িমজলিস মসজিদে এবং এসআই- মো: আজাদ হাতখোপা মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির উপস্থিতিতে আলাদা করে একই ঘোষণা দেন, ”তাবলীগের প্রত্যেকেই সকল মসজিদে নিজ নিজ আমল করবে, কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না, কেউ কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এদিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সুষ্ঠু-সুন্দর ও সমযোতার ফায়সালা করায় সোনারগাঁও পুলিশ প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে তাবলীগের মূলধারার সাথীরা বলেন, সারা দেশের মতো সোনারগাঁও পুলিশ প্রশাসনও তাবলীগের কাজে সহযোগিতা করছেন যা সত্যি প্রশংসনীয়। প্রশাসন মসজিদে মসজিদে গিয়ে সকলকে সচেতন ও সহযোগিতা করার মতো কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তাবলীগের মূলধারার সাথীরা এবং প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ তাবলীগের মধ্যেকার সমস্যার আশু সমাধানে বিড়াট ভূমিকা রাখবে বলে আশা রাখেন তাবলীগের মূলধারার সাথীরা।

জানা যায়, গত শনিবার উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িচিনিষ এলাকার হাফেজ মীর মোবারক হোসেনের মাদ্রাসা মসজিদে তাবলীগ জামাতের বিশ^ আমীরের অসুসারীরা জোড় করার অনুমতি নেয়। খবর পেয়ে তাবলীগ থেকে বিচ্ছুত পাকিস্তানী শুরাপন্থী যুবায়ের গ্রুপের বিপুল সংখ্যক লোক এসে হাফেজ মীর মোবারক হোসেনের দেয়া অনুমতি বাতিল করে এবং তাদের অনুমতিকৃত জোড়কে বানচাল করে দেয়।

এদিকে ইশার নামাজের পর তাবলীগের নিয়মিত তালিমে জুবায়েরপন্থী আনোয়ার ও সোহেল এসে আবারো বাধা দিলে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জুবায়েরপন্থী দুইজনকে নিজেরা আমল না করে সা’দপন্থীদের আমলে বাধা দেয়ার প্রতিবাদ করেন এবং মিলেমিশে আমল করার আহ্বান জানালে সা’দপন্থীরা তা মেনে নেন। কিন্তু জুবায়েরপন্থীরা তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করে ইশার নামাজের পর তালিম শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা জুবায়েরপন্থী নেতা মাওলানা সাদেক, মাও. শামীম ও মাও. মহিউদ্দিনের নির্দেশে ১) কালা জাহাঙ্গীর পিতা-মৃত আব্দুর রহমান, ২) আনোয়ার পিতা-মৃত গোলাম হোসেন গামু, ৩) হাজী মোস্তফার পুত্র আকবরের নেতৃত্বে ৪) রফিক পিতা-মৃত হারুন, ৫) কাউসার পিতা-মৃত গোলাম হোসেন গামু, ৬) মিরাজ পিতা-গিয়াস উদ্দিন গেসু, ৭) নির্জর পিতা-সোহবান প্রধান ৮) মাজারুল পিতা-আমীর আলী মুন্সি, ৯) মাহাদী পিতা-সোনা খোকন, ১০) আক্তার হাজী, ১১) জমির আলীর পুত্র, ১২) হারুন, ১৩) আকবর (কাইকারটেক), ১৫) কাঠমিস্ত্রি বাবুল, ১৬) মুড়ি সালাউদ্দিন ও ১৭) তারেক, ১৮) রিয়াদ, ১৯) সাইদ, ২০) গিট্টু নয়ন, ২১) সোলেমানসহ প্রায় ৫০/৬০ জনের একটি বখাটে সন্ত্রাসী দল মূল তাবলীগের ৭/৮ জনের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

হামলাকারী সন্ত্রাসীরা মূলধারার তাবলীগের সাথী নাঈম, মিজানুর রহমান, আমিনুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব, রমজান ও বেলালকে কিল, ঘুষি, লাথিসহ লাঠিসোটা দিয়ে বেদম প্রহার করলে এক পর্যায়ে নাঈম, মিজানুর রহমান, আমিনুর রহমান সজ্ঞা হারায় এবং মাটিতে লুটিয়ে পরে। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা তাবলীগের সাথী নাঈম ও মিজানুর রহমানকে বেদরক মারতে থাকে এবং মিজানুর রহমানকে মারতে মারতে ময়লার ড্রেনে ফেলে দেয়।

এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব জানান, আমাদেরকে মসজিদে আমল করতে বাধা দেয়ার পর আমরা সবই ওখান থেকে চলে যাই। কিন্তু জুবায়েরপন্থীরা তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করে ইশার নামাজের পর তালিম শেষে আমরা কয়েকজন মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে জুবায়েরপন্থী নেতাদের নির্দেশে ৫০/৬০ জনের একটি বখাটে সন্ত্রাসী দল কোন কারণ ছাড়াই আমাদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায় এবং আমাদের সাথীদেরকে মারাত্বকভাবে আহত করে চলে যায়।

এদিকে মূল তাবলীগ থেকে বিচ্ছুত পাকিস্তানী শুরাপন্থী যুবায়ের গ্রুপের নেতা মাওলানা সাদেক হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং দু:খ প্রকাশ করে জানান, আমি সা’দপন্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার খবর শুনেছি। এভারে মারামারি করাটা খুবই অন্যায় হয়েছে। তাবলীগে এ ধরনের মারামারির কোন স্থান নেই।

মাদ্রাসা মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মীর মোবারক হোসেন বলেন, সা’দপন্থীরা আমার মাদ্রাসা মসজিদে জোড় করার অনুমতি চাইলে আমি অনুমতি দিই। কিন্তু জুবায়েরপন্থীরা বিপুল সংখ্যক লোক এসে আমাকে বলে তাদেরকে জোড় করতে দেয়া যাবে না। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য আমি অনুমতি বাতিল করি। তারপরও আমার মাদ্রাসা মসজিদের গেইটের বাইরে জুবায়েরপন্থীরা অন্যায়ভাবে সা’দপন্থীদেকে বেদরক মারধর করে। তিনি জুবায়েরপন্থীদের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, তারা কিসের তাবলীগ করে, তারা তো তাবলীগের লোক নয়, তারা সন্ত্রাসী।

মাদ্রাসা মসজিদের কমিটির সদস্য ও এলাকার মেম্বার মাজহারুল ইসলাম মানিক বলেন, মারামারি করা কখনো তাবলীগের কাজ নয়, যারা মারামারি করছে তারা আসলে আলেমদের নাম বিক্রি করছে আলেমদের সম্মান নষ্ট করছে, এরা তাবলীগের লোক হতে পারে না।

উল্লেখ্য যে, উক্ত বখাটে সন্ত্রাসীরা ইতিপূর্বে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়শিয়া থেকে আসা বিদেশী তাবলীগ জামাতের সাথীদেরকে এবং দেশী তাবলীগ জামাতের সাথীদেরকে একাধিকবার মসজিদ থেকে মেরে মেরে বেড় করার মত জঘন্যতম কাজ করে আসছে। জুবায়েরপন্থীর মাও. সাদেক, মাও. শামীম ও মাও. মহিউদ্দিনের নির্দেশে ১) কালা জাহাঙ্গীর পিতা-মৃত আব্দুর রহমান, ২) আনোয়ার পিতা-মৃত গোলাম হোসেন গামু, ৩) হাজী মোস্তফার পুত্র আকবরের নেতৃত্বে ৪) রফিক পিতা-মৃত হারুন, ৫) কাউসার পিতা-মৃত গোলাম হোসেন গামু, ৬) মিরাজ পিতা-গিয়াস উদ্দিন গেসু, ৭) নির্জর পিতা-সোহবান প্রধান ৮) মাজারুল পিতা-আমীর আলী মুন্সি, ৯) মাহাদী পিতা-সোনা খোকন, ১০) আক্তার হাজী, ১১) জমির আলীর পুত্র, ১২) হারুন, ১৩) আকবর (কাইকারটেক), ১৫) কাঠমিস্ত্রি বাবুল, ১৬) মুড়ি সালাউদ্দিন ও ১৭) তারেক, ১৮) রিয়াদ, ১৯) সাইদ, ২০) গিট্টু নয়ন, ২১) সোলেমানসহ একটি বখাটে সন্ত্রাসী দল একাধিকবার মূলধারার তাবলীগ করার কারণে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়শিয়া থেকে আসা বিদেশী সাথীদেরকে মসজিদ থেকে মেরে বেড় করে দেয়।

চলে যাওয়ার পথে বিদেশীরা আক্ষেপ করে বলেন, তোমাদের দেশে তো আমারা খেতে আসিনি, এসেছিলাম ইলম, দ্বীন ও দ্বীনের মেহনত শিখতে। কিন্তু তোমরা আমাদেরকে মসজিদ থেকে বেড় করে দিচ্ছ, ঠিক আছে- আমরা চলে যাচ্ছি, আর বলে যাচ্ছি, আমরা কোনদিন বাংলাদেশে আসবো না- হাশরের ময়দানে আমরা আল্লাহ্্ কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দেব যে, হে আল্লাহ্্ তারা আমাদেরকে তোমার ঘর মসজিদ থেকে বেড় করে দিয়েছিল, আমরা এর বিচার চাই !!!!

সা’দপন্থীদের উপর জুবায়েরপন্থীদের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগের পর সোনারগাঁও থানা তদন্ত শেষে, দুই পক্ষের প্রত্যেকেই সকল মসজিদে তাবলীগের আমল করার ফায়সালা করে দেন। প্রশাসন থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয় যে, ” তাবলীগের প্রত্যেকেই সকল মসজিদে নিজ নিজ আমল করবে, কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না, কেউ কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!