শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

বিতর্কিত আলমীশুরা আবারো বিতর্কিত–

বিতর্কিত আলমীশুরা আবারো বিতর্কিত–

মোহাম্মদ  সায়েম আহমদ, প্রতিবেদ, তাবলীগ  নিউজ বিডিডটকম।হযরত হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেব রহ. সমস্ত মোবাল্লেগদের আলমী মারকাজ নিজামুদ্দিন ও মেওয়াত সফর করার জন্য সারা জীবন তার বয়ানে তরগীব দিতেন এবং এই কথা বলতেন যে নিজামুদ্দিন মারকাজের চার দেওয়ালের ভিতর যে নিঃশ্বাস নিবে সেও হেদায়েত পাবেন।

কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে গত প্রায় ২/৩  বছর যাবত হাজি আঃ ওহাব  সাহেব রহঃকে একটি স্বার্থপর গোষ্ঠি মেহনত করনেওয়ালা তাবলীগের সাথীদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখে যেমন তার মোবারক সোহবাত থেকে বঞ্চিত করে তেমনি ভাবে ঐ স্বার্থপর গোষ্ঠি তাবলীগের মেহনতকে নষ্ট করার জন্য মাশোয়ারা ছাড়া তথাকথিত  আলমীশুরা নামক ফেতনার মাধ্যমে উম্মতকে দ্বিধা-বিভক্ত করে মসজিদে মসজিদে বিশৃংখলা সৃস্টি করে দ্বীনের তথা নবী ওয়ালা এই মোবারক মেহনতের মধ্যে এক অকল্পনীয় ক্ষতি করে।

এই শুরাওয়ালা ফেতনার ফলে বিধর্মীদের এক গভীর ষড়যন্ত্র আলেম আর আওয়ামের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করার চেস্টা করা হয়।

এই তথাকথিত আলমীশুরার বাস্তবায়ন করার জন্য পাকিস্তান, হিন্দুস্তান, বাংলাদেশের কিছু তবলীগ বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগন চক্রান্ত করে। আর এই আলমীশুরার ফেতনাওয়ালারা তাদের নিরাপদ ঘাটি হিসাবে পাকিস্তানের রাইবিন্ড মারকাজকে বেছে নেয় আর মুমূর্ষু হাজি সাহেব রহঃকে তার অজান্তে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে উম্মতকে বিমুখ করার ষড়যন্ত্র করে। এমনকি সারা দুনিয়ার এস্তেমার  চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী নিজামুদ্দিনের জামাতের আমলের ফয়সালায় করে কিন্তু এ বছর রাইবিন্ড এস্তেমায় নিজামুদ্দিনের জামাতকে দাওয়াত না দিয়ে রাইবিন্ড এস্তেমাকে বিতর্কিত করে। যার ফলে  পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যক ওলামায়ে কেরাম রাইবিন্ড এস্তেমা বয়কট করেন।

হাজি সাহেব রহঃ ইন্তেকালের পরে সারা দুনিয়ার মোবাল্লেগদের ভিতর এক শোক নেমে আসে এবং জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষ শরিক হয়। হাজি সাহেব রহঃ এর ইন্তেকালের পর সারা  দুনিয়ার মারকাজগুলো থেকে পাকিস্তানের সাথীদের সমবেদনা জানিয়ে তাজিয়া নামা পাঠায় এবং আলমী মারকাজ নিজামুদ্দিন থেকে হজরতজি মাও সাদ সাহেব দাঃবাঃ নিজামুদ্দিনের মাশোয়ারায় লম্বা সমায় হাজি সাহেব রহঃ তাবলীগের মেহনতে অবদানের কথা  আলোচনা করে সাথীদেরকে হাজি সাহেবের জন্য বিভিন্ন আমল করে দোয়া করার জন্য তরগীব দেন এবং জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য নিজের বড় সাহেবজাদা মাওলানা ইউছুফ বিন সাদ কান্ধলভী দাঃবাঃ সহ এক জামাত পাকিস্তানে পাঠায়।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে তথাকথিত আলমী শুরা নামক ফেতনার ভারত এবং বাংলাদেশের কোন সাথী যারা এতদিন  হাজী আব্দুল ওহাব সাহেব রহঃ কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে  উম্মতকে বিভ্রান্ত করেছেন তারা কেউ হাজী সাহেব রহঃ জানাজায় শরিক হন নাই এমনকি তারা কোন সমবেদনা  জানাবার জন্য তাজিয়া নামা পাঠান নাই। অথচ ভারতের তথাকথিত আলমীশুরার নেতা মাও  ইব্রাহিম সাহেব,আহমদ লাট সাহেব,মাও যোহায়রুল হাসান সহ অন্যরা কিছুদিন আগে পাকিস্তানের এস্তেমায় শরিক হন এবং তাদের পাকিস্তানের  ভিসা মজুদ ছিল এবং বাংলাদেশের তথাকথিত আলমীশুরার  কোন সাথী তার জানাজায় শরিক হয় নাই বা তাদের কোন প্রতিনিধি পাঠায় নাই। এর ফলে তাবলীগ দুনিয়ার সাথীদের মধ্যে বিভিন্ন  প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

তথাকথিত আলমীশুরার অন্যতম রুপকার পাকিস্তানের বিতর্কিত মাওলানা ফাহিম হাজি সাহেব রহঃ জানাজার নামাজের আগে হাজী সাহেবের ওসিয়াত নামা হিসাবে পাকিস্তানের জন্য ফয়সাল ঘোষণা করে মাওলানা নাজরুর রহমান সাহেবকে তার অবর্তমানে মাও আহমেদ বটলার তার অবর্তমানে মাও ওবায়েদুল্লাহ খুরশিদ সাহেবকে। এই ফয়সালার ফলে সাধারণ সাথীদের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ হয় যে হাজি সাহেব রহঃ এর অনুপস্থিতিতে আবারো মাও নাজরুর রহমান সাহেবের মত মুমূর্ষু ও একলাস ওয়ালা সাথীকে ঢাল বানিয়ে পাকিস্তানের যোগ্যতা সম্পন্ন আকাবিরদের বাদ দিয়ে তথাকথিত আলমীশুরার রুপকার মাও ফাহিমের অানুগত্য মাও আহমদ বাটলার ও মাও ওবায়েদুল্লাহ খুরশিদ সাহেবকে মাশোয়ারা ছাড়া  সহকারী ফয়সাল ঘোষনা করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।

 

এই ফয়সালা নিয়ে খোদ পাকিস্তানেই বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারন তাবলীগের উছুল হিসাবে জিম্মাদার ফয়সালা করা হয় মাশোয়ারার মাধ্যমে আর এর আগে পাকিস্তান সহ বিশ্বের যে কোন দেশের শুরা বা জিম্মাদার বানানো হয়ছে নিজামুদ্দিনের মাশোয়ারায়। এমন কি হযরতজি ইলিয়াস সাহেব রহঃ, ইউছুফ সাহেব রহঃ হায়াতের জিন্দিগিতে এই কথা বলে যায় নাই যে আমার পরে কে জিম্মাদার হবে। আর এনামুল হাসান সাহেব রহঃ ইন্তেকালের আগে মাশোয়ারা করে এক জামাত বানায় যে এই জামাত আমার ইন্তেকালের পর পরবর্তী জিম্মাদার ঠিক করবেন। তাই হাজি সাহেব রহঃ এই বিষয় ভালভাবেই জানতেন যে আমাদের কোন হযরত তার মৃত্যুর আগে পরবর্তী জিম্মাদার ঠিক করেন নাই। তাই সন্দেহ করা হচ্ছে যে ফেতনা বাজ তথাকথিত আলমীশুরার রুপকার বিতর্কিত মাও ফাহিমের ঘোষনা করা (হাজি সাহেব রহঃ অসিয়তের নামে) ফয়সাল নির্ধারণ করা শুরাওয়ালাদের আরেক মিথ্যাচার। আর তথাকথিত  আলমীশুরারা কথা অনুযায়ী এখন থেকে কোথায়ও জিম্মাদার থাকবে না শুরা থাকবে কিন্তু পাকিস্তানে হাজি সাহেব রহঃ এর ইন্তেকালের পর যদি  তথাকথিত শুরা ওয়ালারা পাকিস্তানে শুরা বানাতে যায় তাহলে বিশৃঙ্খলা সৃস্টি হতে পারে এই ভয়ে  আলমীশুরার সদস্যরা হাজি সাহেবের জানাজায় শরিক হয় নাই বলে ধারনা করা হয়।

 

আর তারা শরিক না হয়ে তাদের পছন্দমত লোককে বিতর্কিত মাও ফাহিমের দ্বারা ফয়সাল ঘোষনা করে। হাজি সাহেব রহঃ জানাজার আগে মাও তারেক জামিল সাহেব উপস্থিত মজমাকে সমবেদনা জানাবার জন কথা শুরু করলে বিতর্কিত মাও ফাহিম মজমার সামনে তার কাছ থেকে মাইক নিয়ে পাকিস্তানের নতুন বিতর্কিত ফয়সাল ঘোষনা করে। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে হাজি সাহেব রহঃ ইন্তেকালের পর রাইবিন্ড মারকাজের আকাবিরদের সাথে কোন মাশোয়ারা না করে জানাজায় উপস্থিত মজমার কাছে হাজি সাহেবে রহঃ নামে ফয়সালা ঘোষণা করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেন। এর ফলে পুরা পাকিস্তানের সাথীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সোস্যাল মিডিয়ায়।

মাধ্যমে বিদ্রোহের আলামত প্রকাশের লক্ষন দেখা যাইতেছে। আল্লাহ পাকিস্তান সহ সারা দুনিয়ার তাবলীগের মেহনতকে ফেতনাবাজ আলমীশুরার খারাপি থেকে হেফাজত করে আলমী মারকাজ নিজামুদ্দিনের উছুল মত মেহনত পরিচালিত করুক। আমীন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com